চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮। ২৬ আশ্বিন ১৪২৫। ৩০ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩০। তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদেরই হাতের কামাইয়ের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন।


৩১। তোমরা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, সাহায্যকারীও নেই।


৩২। তাঁর মহা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো পর্বত সদৃশ সমুদ্রে চলমান নৌযানসমূহ।


৩৩। তিনি ইচ্ছা করলে বায়ুকে স্তব্ধ করে দিতে পারেন; ফলে নৌযানসমূহ অচল হয়ে পড়বে সমুদ্র পৃষ্ঠে। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


প্রাচীন মহিলার দেহের গহনা অবশ্যই খাদবিহীন হবে।


-জুভেনাল।


 


 


ধরেন যদি সদ্ব্যবহার করা হয় তবে তা সুখের বিষয় এবং সদুপায়ে ধন বৃদ্ধির জন্য সকলেই বৈধভাবে চেষ্টা করতে পারে।


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বাংলাদেশের উন্নয়নে নৌকা মার্কায় ভোট দিন
অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান
১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার, আওয়ামী লীগ সরকার বারবার দরকার।' মাত্র কমাস পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যা নিয়ে এখনই জনসাধারণের মাঝে নানারকম আলোচনা চলছে। যারা নতুন ভোটার হয়েছেন তারাও ভাবছেন কাকে ভোট দেবেন। তবে নতুন বা পুরাতন আপনি যে ভোটারই হোন না কেনো আপনাদের উদ্দেশ্য বলছি, বাংলাদেশ মানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ মানে শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ মানে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ মানে নৌকা। যাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের তুলনা কেবল তারা নিজেরাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ যাবৎকালে বাংলাদেশে যতো সরকার এসেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক, বিশ্বে প্রভাবশালী নারী প্রধানমন্ত্রী, অনুকরণীয়-অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি সফলতার প্রমাণ রেখেছেন বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে।



তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর শাসনামলে দেশে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, মূল্যবোধ, কৃষি, অর্থনীতি, রেমিটেন্স, বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশবাসীকে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। আর্থিক বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়েছে, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্নরকমের সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। যে দেশে মানুষের খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি ছিলো সে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বর্তমানে রপ্তানি করছে। শিক্ষার হার বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এক দশক আগেও শিক্ষাব্যবস্থার এতো উৎকর্ষ লক্ষ্য করা যায়নি। একসময় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র টিটকারি বিরূপ মন্তব্য করতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ এখন শেষ হওয়ার পথে। এখন আমরা এখন একটি অগ্রসর জাতি।



শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের স্বীকৃতি মিলেছে। বাংলাদেশের সফলতা ও নেতৃত্বগুণের জন্যে তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন ও নানাবিধ সম্মানে ভূষিত হয়ে বাংলাদেশের নাম বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল করেছেন। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। বিশ্ব গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা এখন বহুল আলোচিত ও প্রশংসিত নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনা ছাড়া এমন গুণাবলীসম্পন্ন আর কোনো নেতা বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। এ কারণে তাঁর সাথে অন্য কোনো নেতার তুলনা চলে না, শেখ হাসিনা নিজেই নিজের তুলনা। জননেত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় আসবেন_এই আশাবাদ বিশ্ব নেতাদের।



এবার আমরা একটু পেছনে ফিরে দেখি, ঘটনাকাল ১৯৭৫, ১৫ আগস্ট। সপরিবারে জাতির জনকের হত্যাকা- এবং সেই সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। সংবিধান নষ্ট হলো ঘাতকের বুলেটের খোঁচায়। জিয়াউর রহমানকে স্বধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলো। ধর্মের রাজনীতির উত্থান হলো। ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মনে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢেলে দেয়া হলো। ধর্মান্ধতাকে উস্কে দেয়া হলো। গোলাম আযমের মতো কুখ্যাত রাজাকারকে নাগরিকত্ব দেয়া হলো। সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হলো। জিয়াউর রহমানের সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকুরি দিলো। আর' ৯১ সালে বিএনপির শাসনামলে আমরা আরও ভয়াবহ দৃশ্য দেখলাম। যুদ্ধাপরাধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা মন্ত্রী হয়েছে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকাকে গাড়িতে উড়িয়েছে। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মতো একজন রাজাকারকে প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করা হয়। দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করা হলো, মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছিত হলো। ধর্মান্ধতাকে এমনভাবে ছড়ানো হলো যা পরবর্তীতে জঙ্গিবাদের জন্ম দেয়। হরকাতুল জিহাদের মতো জঙ্গিদলের জন্ম দিলো, যারা উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর উপর হামলা করে। আর বাংলাদেশ উন্নতির পথে যাত্রা রেখে অবনতির দিকে যাত্রা শুরু করে। আমরা এসব দুঃসহ অতীত থেকে মুক্তি পেলাম' ৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের মাধ্যমে।



আমাদের সৌভাগ্য আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। ৩য় বারের মতো তিনি দেশ পরিচালনা করছেন। এদেশের মানুষের ভাগ্য ভালো তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসেছিলেন, তা না হলে একাত্তরের ঘাতক-দালাল জামাতগোষ্ঠীকে আমাদের আজীবন সহ্য করতে হতো। বিএনপি-জামায়াত জোটসরকারকে আজীবন ক্ষমতায় দেখতে হতো। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত হতো। বাংলাদেশের কা-ারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যদি আওয়ামী লীগের হাল না ধরতেন তবে আজকে দেশ অধঃগতির চূড়ান্ত ধাপে দাঁড়িয়ে থাকতো হেনরী কিসিঞ্জারের 'তলাবিহীন ঝুঁড়ি'তে পরিণত হতো।



বলতে গেলে জীবনকে উৎসর্গ করার নিমিত্তে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কারণ তাঁর ফিরে আসা এতো সহজ ছিলো না। প্রবাসে যাওয়ার পূর্বে বাবা-মা-ভাই সব ছিলো। ফিরে এসে দেখলেন কেউ নেই। তৎকালীন সামরিক শাসকের বাধা উপেক্ষা করে দেশে ফিরলেন শোককে শক্তিতে পরিণত করলেন। শপথ নিলেন জাতির জনকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার। আর কোনো নেতার পক্ষে সব হারিয়ে এমন স্থির থাকা সম্ভব হতো কিনা তা আমার জানা নেই। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে এদেশের মানুষকে বঙ্গবন্ধুর মতই ভালোবেসে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এসেছেন। তিনি পরিবার হারিয়ে বাংলার মানুষকে পরিবার হিসেবে নিয়েছেন। জীবন বাজি রেখে রাজনীতিতে আসা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকেও দেশের মানুষও ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন। 'এদেশের মানুষের জন্যে কাজ করতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যুও হয় তবুও আমি পিছ পা হবো না।' রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদেশে শেখ হাসিনা সরকার এলে স্বাধীনতার চেতনা অক্ষুণ্ন থাকে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। মুক্তিযোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মান দেয়া হয়। সেই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং জঙ্গিবাদ, মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভোটের আগে সাধারণ জনগণকে এগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। আপনারা চিন্তা করুন, আপনারা কি যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা দেখতে চান? আলবদর-রাজাকারদের পুনর্বাসন চান? দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দেখতে চান? নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুণ্ন ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান? সে বিবেচনার ভার দলের একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের হাতেই তুলে দিলাম।



বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৭১সহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। সফল হয়েছে। দেশ ও মানুষের জন্যে বিগত একশ' বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীবৃন্দ রাজপথে থেকেছেন, রক্ত দিয়েছেন, দমন-পীড়ন-জেল-জুলুম সহ্য করেছে। আগেই বলেছি, আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহাসিক সাফল্যম-িত দল আর একটিও নেই এদেশে। এ কারণে কেউ যদি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সফল নিবেদিত দলকে ভোট দিতে চান তবে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আবার জনগণ যদি দেশের সবচেয়ে সফল নেতাকে ভোট দিতে চান তাহলে জননেত্রী শেখ হাসিনাকেই ভোটটা দিতে হবে। দল ও দলপ্রধান বিবেচনায় সচেতন বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীককে ভোট দিতে পারবে না।



আবারও বলছি, আাপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও জয়যুক্ত করুন। বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই।



 



লেখক : সদস্য,



বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।



 



 



 



 



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০০১৩৫
পুরোন সংখ্যা