চাঁদপুর, সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮০। ইহা জগৎসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।


৮১। তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?


৮২। এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছো!


 


 


 


 


 


assets/data_files/web

হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ফুসফুসে তরল সঞ্চয়ন
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ধরিত্রীর এক অনন্য শ্বাসযন্ত্র বলা হয় অ্যামাজোন ঘন অরণ্যকে। তাই এর নাম পৃথিবীর ফুসফুস। অ্যামাজোন অরণ্যের দাবানলে শঙ্কিত আমরা ধরিত্রীর সন্তানেরা। কেননা, এই বন পুড়ে গেলে পৃথিবীর অক্সিজেন চাহিদা মিটানোর মতো বৃক্ষ যাবে কমে। ফলে আমরাও আমাদের প্রশ্বাস বায়ুতে চাহিদা মোতাবেক অক্সিজেন পাবো না, যা আমাদের দেহের শ্বসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। অ্যামাজোনকে কেন্দ্র করে ফুসফুসের উপমা যখন আসলোই তখন জেনে নেয়া যাক আমাদের দেহের ফুসফুস সম্পর্কে।

ফুসফুস কী :

ফুসফুস হলো মানুষের দেহে বুকের খাঁচায় থাকা শ্বাসতন্ত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের শ্বাসনালীকে বলে ট্রাকিয়া। ক্ষুদ্র শ্বাসনালিকা হলো ট্রাকিওল। ট্রাকিয়া কণ্ঠনালী হয়ে নিচে বুকের খাঁচার শুরুতে এসে দুটো ভাগ হয়ে গেছে। একটা বাম ব্রঙ্কাস আর অন্যটা ডান ব্রঙ্কাস। উভয় ব্রঙ্কাস প্রবেশ করেছে এক একটা ফুসফুসে। বাম দিকেরটা গেছে বাম ফুসফুসে আর ডান দিকেরটা গেছে ডান ফুসফুসে। বালিশের যেমন কাভার বা ওয়্যার থাকে তেমনি ফুসফুসেরও ওয়্যার বা কাভার আছে। একে বলে প্ল্যুরা। প্ল্যুরা আর ফুসফুসের মাঝখানে থাকে ফাঁপা স্থান যেমনটা বালিশ ও বালিশের কাভারের অন্তর্বর্তী শূন্যস্থানের মতো। ফুসফুসে ছোট ছোট থলির মতো প্রকোষ্ঠ থাকে যাদের বলে বায়ুথলি।

ফুসফুসের কাজ :

ফুসফুস শ্বাসনালী বা ট্রাকিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস পরিবেশ হতে প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় টেনে নেয় এবং দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস রক্ত হতে সংগ্রহ করে নিঃশ্বাস বায়ুর মাধ্যমে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়। এর মাধ্যমে ফুসফুস একদিকে যেমন দেহের শ্বসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তেমনি অন্যদিকে রক্তকে কার্বন ডাই-অক্সাইড মুক্ত করে বিশোধিত করে।

ফুসফুসে তরল সঞ্চয়ন :

মাঝে মাঝে শরীরের বিভিন্ন রোগে ও অবস্থায় প্ল্যুরা ও ফুসফুসের অন্তর্বর্তী ফাঁপা স্থানে তরল জমা হয়। তা হতে পারে রক্ত, পুঁজ, তরল চর্বি বা রক্ত ও বাতাস একত্রে কিংবা হতে পারে হলদে খড়ের রঙের মতো তরল পদার্থ। জমা হওয়া কিছু কিছু তরলে আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থের পরিমাণ লিটারে পঁচিশ গ্রামের অধিক থাকে। এদের বলে একজুডেট। জমা হওয়া যে সব তরলে  প্রোটিন বা আমিষের মাত্রা এর চেয়ে কম থাকে তাদের বলে ট্রানজুডেট।

তরল সঞ্চয়নের কারণ:



ক) রক্তবাহী শিরার চাপ বেড়ে গেলে

যেমন : হার্ট ফেইলিওর, পেরিকার্ডিয়াম বা হৃদপি-ের আবরণীর সঙ্কোচনমূলক প্রদাহ, দেহে তরলের পরিমাণ বৃদ্ধি ইত্যাদি।

খ) রক্তে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ হ্রাস পেলে

যেমন : লিভার সিরোসিস (লিভারের রোগ), নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম (কিডনির রোগ), খাদ্যসার শোষণে অসামর্থ (ম্যালঅ্যাবজর্পশন) ইত্যাদি।

গ) হরমোন ঘাটতিজনিত সমস্যা

যেমন : হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড গ্রন্থির অকর্মণ্যতা), ডিম্বাশয়ের টিউমার (ওভারিয়ান ফাইব্রোমা) ইত্যাদি।

ঘ) বিভিন্ন ইনফেকশন বা জীবাণুর সংক্রমণ ও প্রদাহ যেমন : নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা বা টিবি, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস (রসবাত), ফুসফুসের ক্যান্সার, লিম্ফোমা ( লসিকা গ্রন্থির ক্যান্সার), দূরাগত ক্যান্সার ( মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার) ইত্যাদি।

ঙ) ফুসফুসীয় রক্তনালীতে ছিদ্রের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে রক্তনালী হতে তরল প্ল্যুরার ফাঁপা স্থানে চলে আসা।

লক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ :

ক্স কখনো কখনো কোন লক্ষণ থাকে না

ক্স শ্বাসকষ্ট ও অগভীর ঘন ঘন শ্বাস গ্রহণ

ক্স প্ল্যুরার প্রদাহ বা ব্যথা

ক্স বুকের খাঁচার প্রশ্বাসকালীন স্ফীতি হ্রাস পাওয়া

ক্স শ্বাসগ্রহণের শব্দ কমে আসা বা না পাওয়া

ক্স বুকের খাঁচায় শব্দের অনুরণন কমে যাওয়া

ক্স হাতের নখ ঢাকের কাঠির অগ্রভাগের মতো হয়ে যায়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা :

ক্স বুকের এক্স-রে

ক্স সিটি স্ক্যান

ক্স পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করার সময় দুই পাশের বুকের খাঁচা ও প্ল্যুরার অংশে জমে থাকা তরল সনাক্ত করা যায়।

ক্স বুকের খাঁচায় যেখানে তরল জমেছে বলে মনে হয় সেখানে সুঁই ঢুকিয়ে তরলের নমুনা সংগ্রহ

ক্স সংগৃহীত তরলের আণুবীক্ষণিক পরীক্ষণ ও কারণ নির্ণয়

ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা :

ক্স প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় দুই লিটারের কম হারে সঞ্চিত তরল অপসারণ

ক্স টেট্রাসাইক্লিন, ব্লিওমাইসিন বা ট্যালক জাতীয় পদার্থ প্ল্যুরোডেসিস প্রক্রিয়ায় ফুসফুস ও প্ল্যুরার মাঝখানে প্রয়োগ যাতে পরবর্তীতে আর তরল সঞ্চয়ন না হয়।

ক্স অন্তর্নিহিত মূল কারণ (ক্যান্সার, টিবি, হাইপোথাইরয়েডিজম, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথিম্যাটোসাস ইত্যাদি) নিরূপণ করে চিকিৎসা প্রদান।

সঞ্চিত তরলের বর্ণ ও রোগ :

ক্স অস্বচ্ছ হলদে তরল : পুঁজ, প্যারানিউমোনিয়া

ক্স রক্তাভ বর্ণের তরল : আঘাতজনিত ক্ষতি, ক্যান্সার, ফুসফুসের ইনফার্কশন(রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচন ধরা)

ক্স স্বচ্ছ হলদে তরল : যক্ষ্মা বা টিবি

ক্স দুধসাদা তরল : ট্রাইগ্লিসারাইডসমৃদ্ধ চর্বির দ্রবণ যা থোরাসিক নালিকা ছিঁঙে গেলে পাওয়া যায়।

ক্স কালো বর্ণের তরল : প্যাপিলারি থাইরয়েড ক্যান্সার (বিরল)।

ফুসফুস আমাদের বিশোধন যন্ত্রবিশেষ। ফুসফুস রোগ সংক্রান্ত হলে জীবনধারণ কঠিন হয়ে যায়। কঠিন হয়ে যায় স্বাভাবিক চলাফেরা। ফুসফুসের রোগে থেমে যায় জীবনের চাকা। তাই ফুসফুসে তরল সঞ্চিত হলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। নিজে সুস্থ থাকুন, অপরকে সুস্থ রাখুন।

 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০২৯৩৬
পুরোন সংখ্যা