চাঁদপুর, রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • অনিবার্য কারণে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আজকের চাঁদপুর সফর স্থগিত করা হয়েছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০৫। আকাশম-লী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই এবং আল্লাহরই দিকে সমস্ত বিষয় প্রত্যাবর্তিত হইবে।


০৬। তিনিই রাত্রিকে প্রবেশ করান দিবসে এবং দিবসকে প্রবেশ করান রাত্রিতে এবং তিনি অন্তর্যামী।


 


 


 


assets/data_files/web

মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে আমি নিজের অভিভাবক। -নিকেলাস রান্ড।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শোকের মাসে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের স্মরণীয় অভিযাত্রা
কাজী শাহাদাত
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


॥ ছয় ॥

নিমিষেই দেড় ঘন্টা শেষ

বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে বার বার আসার সুযোগ হবে না। সেজন্যে এ কমপ্লেক্সের দৃষ্টিনন্দন প্রতিটি লোকেশনে চাঁদপুর প্রেসক্লাব সদস্যরা গ্রুপ ও সিঙ্গেল বহু ছবি তুললেন। বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের ভেতরে কোনো ফুলের তোড়া বা অন্য কোনো সামগ্রী নিয়ে ঢোকা যায় না। কাগজে-কলমে বিভিন্ন ক্যামেরায় ছবি তোলা নিষেধ থাকলেও স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা ব্যবহারে ছবি তোলার সময় আমাদেরকে কেউ বাধা দেয়নি। যার মনে ন্যূনতম আবেগ আছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যিনি মনেপ্রাণে ধারণ করেন, তিনি এ সমাধিসৌধে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবরের দিকে তাকিয়ে ভাবালুতায় আক্রান্ত হন এবং বিন¤্র শ্রদ্ধায় তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া-দরূদ পড়েন এবং হাত তুলে মোনাজাত করেন। আমাদের মধ্যেও এ বিষয়টি লক্ষ্য করলাম। আবার ২-৪ জন তরুণ-কিশোরকে সেলফি তোলার মতো দৃষ্টিকটু কাজটিও করতে দেখলাম। সেজন্যে সমাধিসৌধের ভেতরে অবস্থানের সময় দর্শনার্থী বা পর্যটকদের করণীয় সংক্রান্ত নির্দেশিকা সঁাঁটানো এবং এ নির্দেশিকা পালনে সার্বক্ষণিক এক/দুজন লোক নিয়োগের ব্যাপারে কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।

সমাধিসৌধের বেদিতে ফুলের তোড়া প্রদান, মোনাজাত ও ভেতরে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর বাবা-মা’র কবরের পাশে অবস্থানেই আধা ঘন্টা সময় যে কখন পার হয়ে গেলো তা টেরই পেলাম না। তারপর গ্রুপ ছবি তোলা, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর বাবা-মা’র স্মৃতিধন্য ভবনটির বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো বঙ্গবন্ধুর পোট্রেটের সামনে ছবি তোলা, ২ নং গেট থেকে ১ নং গেটের দিকে যেতে যেতে বিভিন্ন স্পটে ছবি তোলা, প্রদর্শনী গ্যালারী, লাইব্রেরী কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং উন্মুক্ত সবুজ চত্বরে ঘুরতে সর্বসাকুল্যে আমাদের দেড় ঘন্টা সময় নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী ভোজনরসিক না হলেও তিনি ওইদিন একটু বেশি ক্ষুধাকাতর হয়ে যাওয়ায়, বিশেষ করে ঘড়ির কাঁটার সময় সাড়ে তিনটা অতিক্রম করায় তিনি কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে পড়ার উপর্যুপরি তাগিদ দিয়ে চলছিলেন। আমরা এ তাগিদে কর্ণপাত না করে কমপ্লেক্সের অবশিষ্ট স্থানগুলোতে ছুটে চলছিলাম এবং ছবি তুলতে থাকলাম। এর মধ্যে একটি গ্রুপ ছবি তোলার আমন্ত্রণ পেয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত হলাম। কমপ্লেক্সের লাইব্রেরী ও প্রদর্শনী কেন্দ্র প্রাঙ্গণে গাছতলায় গাঢ় সবুজ ঘাসে বসে এ ছবিটি তুলতে পেরে আমি কেনো জানি অসম্ভব তৃপ্ত হলাম। এ ছবিতে প্রেসক্লাব সেক্রেটারী লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধরকে পেলেও সভাপতিকে আর পেলাম না। কারণ, তিনি হাংগ্রিম্যান হিসেবে অ্যাংগ্রি হয়ে ২নং গেটে চলে যান এবং তার গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে সকলকে কমপ্লেক্স থেকে বেরুবার তাগিদ দিয়ে চলছিলেন।

অতৃপ্তি নিয়ে ফিরতি যাত্রা

বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি ‘নুরু হুজুর’ জানান, দেশের দূর দূরান্ত থেকে সারারাত ভ্রমণ করে প্রায়শই দলগতভাবে ছোট-বড় যানবাহনযোগে ভোররাত বা ভোরে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছেন অনেকে। টুঙ্গিপাড়ার স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁয় তারা নাস্তা সেরে সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন এবং ৪ থেকে ৬ ঘন্টা কিংবা তারচে’ অধিক সময় ধরে ইচ্ছেমত অবস্থান করে তারপর কমপ্লেক্স ত্যাগ করেন। কম সময় হাতে নিয়ে এসে তাড়াহুড়ো করে সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের সব কিছু ভালোভাবে দেখা যায় না এবং জাতির জনককে পরিপূর্ণভাবে আত্মস্থ করা যায় না। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সদস্যদের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে বললে ভুল হবে না। কেননা মাত্র পৌনে দুঘন্টার অবস্থানে তাদের অনেকের মধ্যে ছিলো অতৃপ্তি। আমি নিজেও ছিলাম অতৃপ্ত। সেজন্যে সভাপতির ভয়ে শান্ত সুবোধ বালকের মতো ২ নং গেট অভিমুখী প্রেসক্লাব সদস্যদের সারিতে অনেক পিছুতে হাঁটছিলাম এবং যেনো অনিচ্ছা সত্ত্বেও মাইক্রোবাসে উঠে বসলাম।

মাইক্রোবাসটি বাইগার নদ অভিমুখী বাগিয়া খালপাড় দিয়ে ছুটে চললো গোপালগঞ্জ শহর অভিমুখে। কারণ, সুস্বাদু মধ্যাহ্ন ভোজের উপযুক্ত হোটেলের অবস্থান খুলনা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা হাইওয়ের পাশে ঘোনাপাড়ায়।

ভোজনবিলাস রেস্তোরাঁয় তৃপ্তিপূর্ণ মধ্যাহ্ন ভোজ  

আমরা বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থানকালে কোথায় দুপুরের খাবার খাবো এ নিয়ে যখন সভাপতি ও সেক্রেটারীসহ অন্যরা আলোচনা করছিলেন, তখন বাংলা টিভির গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ আকবর হোসেন জানান, ঘোনাপাড়ায় বাংলা ও চাইনিজ খাবারের জন্যে প্রসিদ্ধ একটি হোটেল রয়েছে। হোটেলটির নাম ‘ভোজন বিলাস রেস্তোরাঁ’। আপানারা একটু দেরি হলেও সেখানে গিয়ে দুপুরের খাবারটি খাবেন, অবশ্যই তৃপ্তি পাবেন।

সৈয়দ আকবর হোসেন যে মোটেও ভুল বলেননি সেটি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের টুঙ্গিপাড়া গমনকারী প্রতিটি সদস্য অকপটে স্বীকার করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

একটি অসম্পূর্ণ মার্কেটের দোতলায় বাহ্যিকভাবে শ্রীহীন এই ‘ভোজন বিলাস রেস্তোরাঁ’র অবস্থান। কালের কণ্ঠের ফারুক আহম্মদ ভোজন বিলাসের বানানে ‘ভ’-এর ওপর চন্দ্রবিন্দু দেখে সভাপতি শহীদ পাটোয়ারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সহাস্যে তিনি বললেন, আপনি আবার কবে থেকে ‘কানাই দা’ হলেন? খাইতে আইছেন, ভালোভাবে খাইয়া লন, পরে ভুল ধইরেন।

আমরা সভাপতির এ কথানুযায়ী রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে দেখলাম, ভেতরের পরিবেশ ছিমছাম, বলা যায় চমৎকার। একসাথে অনেক কাস্টমার দেখে ক্যাশ কাউন্টারে বসা মালিক বললেন, আপনাদের তিরিশের অধিক লোককে খাওয়ানোর মতো তরকারি আমাদের আছে, তবে ভাত নেই। আপনারা ফ্রেশ হোন, আমরাও আপনাদের জন্যে ফ্রেশ ভাত মানে গরম ভাত রান্নার ব্যবস্থা করছি। দয়া করে একটু সময় দিতে হবে।

আমরা মালিকের কথানুযায়ী হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসলাম। আমাদের সামনে প্লেট, পানি ও সালাদ পরিবেশন করা হলো। আমরা অপেক্ষা করতে করতে ১৫-২০ মিনিট পার করে দিলাম, গরম ভাত আসছিলো না। ক্ষুধার তাড়নায় এ পৃথিবীতে শুধু শহীদ পাটোয়ারীরাই যে অ্যাংগ্রি হন না তার প্রমাণ মিললো গরম ভাতের অপেক্ষায় আমাদের কারো কারো অ্যাংগ্রি হওয়ার মধ্য দিয়ে। ভাগ্যিস, এই অ্যাংগ্রি বা ক্ষোভ বাজেভাবে বহিঃপ্রকাশের পূর্বে আমাদের সামনে পরিবশন করা হলো গরম ভাতের ডিশ, সুস্বাদু ভর্তা, ভাজি ও ডাল।

আমরা ভাতের সাথে ভর্তা-ভাজিতে পেট ভরার পাশাপাশি কে কী তরকারি খাবো জানতে চাইলে রেস্তোরাঁর মালিক জানালেন, স্টকে আছে ৫ পিচ বোয়াল, ৬ পিচ রুই এবং পর্যাপ্ত ইলিশ, চিংড়ি ও মুরগী। যার যার রুচি অনুযায়ী ভাগাভাগি করে আমরা তরকারি খেলাম। মালিক নিজ হাতে তরকারি পরিবেশনের সময় জানালেন, বোয়াল, রুই ও চিংড়ি গোপালগঞ্জের বিভিন্ন হাওড় থেকে ধৃত, যা খুবই সুস্বাদু। আপনারা যে বোয়াল মাছ খাচ্ছেন, এটি ১৮ কেজি ওজনের বিশাল এক বোয়াল মাছের টুকরা।

সত্যি কথা বলতে কি, এই রেস্তোরাঁর প্রতিটি তরকারির আইটেম অত্যন্ত ভালোভাবে রান্না হয়েছে এবং সেজন্যে সবাই খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছে।

গামছা কথন

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জি.এম. শাহীনকে আমাদের টুঙ্গিপাড়া অভিযাত্রার শুরু থেকে গলায় গামছা ঝোলানো অবস্থায় দেখছিলাম বার বার, যেমনটি অন্য কারো মাঝে দেখছিলাম না। ভাবলাম, সে হয়তো আঃ কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে সম্পৃক্ত হয়েছেন। যে লীগের প্রতীক হচ্ছে গামছা। এক পর্যায়ে আমি জিজ্ঞেস করে ফেললাম, কী ব্যাপার, তুমি গলায় গামছা ঝুলিয় রাখছো কেন? জবাবে সে বললো, মাথা, মুখম-ল ও গলার গাম যেনো নিচে নামতে না পারে সেজন্যে এমনটি করছি। লক্ষ্য করলাম , সে একটি কালো পাঞ্জাবী পরেছে, যাতে হাল্কা সোনালি গোলাকার চেক আছে। ঘামে আমাদের অনেকের পাঞ্জাবি ভিজে ইস্ত্রী নষ্ট হয়ে গেলেও তার পাঞ্জাবিটি আছে টান টান। অতএব যে যা-ই বলুক আর ভাবুক, গামছার উপকারিতায় সে এটি গলায় ঝুলিয়ে হাঁটবেই।

কিন্তু গামছার কারণে যে কেউ না কেউ আন্ডার এস্টিমেট করে ফেলতে পারে এটি শাহীন আন্দাজ করলেও গুরুত্ব দেয়নি। আঃ কাদের সিদ্দিকী সবসময় নূতন গামছা কিংবা স্মার্ট গামছা গলায় পরেন বলে এটি তাঁর নিজস্ব রুচি, সংস্কৃতি হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করেছে। শাহীনের গামছা সে পরিচিতি লাভ করেনি, কারণ এটি সে সবসময় ব্যবহার করে না এবং মাঝে মাঝে যেটি ব্যবহার করে সেটি থাকে পুরাণ অথবা আধা পুরাণ।

ভোজনবিলাস রেস্তোরাঁয় আধা পুরাণ গামছা গলায় স্মার্ট পাঞ্জাবি পরা শাহীনকে দেখে বয় রমজানের ভালো লাগেনি। তার প্রমাণ হচ্ছে : সে গলা থেকে গামছা নামিয়ে শাহীনকে খেতে বসতে অনুরোধ জানিয়েছে। আর যায় কোথায়! ফোঁস করে উঠলো শাহীন। কিছুটা শোরগোল হচ্ছে দেখে এগিয়ে গেলেন প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তিনি হোটেল বয় রমজানের মুখাবয়বে তাকিয়ে তাকে চেনা চেনা ভেবেই জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাড়ি কোথায়? সে বুক ফুলিয়ে বললো, চাঁদপুরে। চাঁদপুরের কোথায় জানবার আগেই শহীদ পাটোয়ারী বললেন, তুমি কি আগে ঢাকা হোটেলে কাজ করতে ? সে বললো, হ্যাঁ। ‘তো এখানে কতোদিন ধরে আছো’ জিজ্ঞেস করতেই সে বললো, ৯ মাস। আমার এক বন্ধুর সাথে এখানে এসেছি। বন্ধুটি আমার গোপালগঞ্জ শহরে কাজ করে, আর আমি কাজ করি এখানে।  

রমজানের গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জের বাকিলা এলাকায়। জীবন-জীবিকার তাগিদে সে ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা অন্য কোনো বিভাগীয় শহরে কাজ না করে নিশ্চয়ই যে কোনো কারণে হোক গোপালগঞ্জ এসেছে। এখানে তার কর্মস্থল ভোজনবিলাসে প্রতিদিন অনেকেই ভুরি ভোজ করতে আসেন, বলা যায় কাউকেই তার চেনামুখ মনে হয় না। আজ অনেককে চেনামুখ মনে হলেও গামছা সংক্রান্ত যে ঝামেলা হয়ে গেলো, তাতে তাকে অনুশোচনায় ভুগতে দেখা গেলো। তবে এ শিক্ষাও তার হলো, ভোজনবিলাসের মতো রেস্তোরাঁয় গলায় গামছা জড়ানো দিনমজুর, মেহনতী কৃষকরা সাধারণত আসে না; কেউ যদি গামছা জড়িয়ে আসেও, সে তার পাঞ্জাবি বা শার্টকে স্মার্ট রাখতেই আসে।

খোশ মেজাজে ছুটে চলা, তবে-

ভোজনবিলাস থেকে নেমে মাইক্রোবাসে দ্রুত উঠে ফিরবো চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে-এমনটাই আমার অন্তত প্রত্যাশা ছিলো। কিন্তু দেখলাম, ছিপায় চাপায় পান-টানে আয়েস করছেন কেউ কেউ। তাগিদ দিয়ে, এমনকি কমবয়সী ২-৪জনকে খেদিয়ে মাইক্রোবাসে উঠাতে হলো। তারপর বিকেল পাঁচটার কিছু আগে আমাদের মাইক্রোবাসের চাকা সচল হলো। ঘোনাপাড়ায় হাইওয়েতে উঠবো, এমন সময় দেখা গেলো এক বৃদ্ধ কদবেল বিক্রি করছেন। আমাদের গাড়ির তরুণ যাত্রী তালহা জোবায়েরের সখ হলো কদবেল খাবে। দুশ টাকায় কিনলো কয়েকটি। গাড়ির পেছনের আসনে বসে প্রায় সবক’টি ইচ্ছেমতো খেলো। তবে ফারুক আহম্মদ, বাবু বা অন্য কাউকে যৎসামান্য ভাগ দিয়েছে। ভরাপেটে এগুলো খাওয়ার খেসারত তাকে কিন্তু দিতেই হয়েছে। পথিমধ্যে বার বার ছোট ঘর তালাশ করে হয়রান হয়েছে।

হাইওয়েতে ওঠামাত্রই ফারুক আহম্মদ মাইক্রোবাসটি একপাশে থামাতে বললেন। তাঁর সহকর্মী মানে সময় টিভির গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি আমির হামজাকে দেখে তিনি গাড়ি থেকে নামলেন, তার সাথে কথা বললেন এবং আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এতে একটু কালক্ষেপণ হওয়াতে প্রেসক্লাব সভাপতি ফোন করলেন এবং কোনো অসুবিধা হলো কিনা জানতে চাইলেন। তারপর আমাদের মাইক্রোবাসটি ছুটে চললো চাঁদপুর অভিমুখে। সবাই ছিলেন খোজ মেজাজে, তাই জমজমাট আলাপচারিতায় দিবানিদ্রার অভ্যাস সত্ত্বেও কারো মাঝে দেখা গেল না ঝিমানো ভাব। (চলবে)

 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯২১৬০
পুরোন সংখ্যা