চাঁদপুর, বুধবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৯ মাঘ ১৪২৬, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • শাহরাস্তিতে ডাকাতি মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। || 
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, আধিপত্য তাঁহারই এবং প্রশংসা তাঁহারাই; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।


 


যদি মৃত্যুহীন হতে চাও, তোমাকে সৎভাবে দেশের কাজ করতে হবে।


-জে, জি হল্যান্ড।


যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে (অথাৎ মুসলমান বলে দাবি করে) সে ব্যক্তি যেন তার প্রতিবেশীর কোন প্রকার অনিষ্ট না করে।


 


ফটো গ্যালারি
ভিন্ন স্বাদের কবিতার বই 'কিছু অন্ধ কবিতা'
সাকি আনোয়ার
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ভিন্ন রস ভিন্ন গন্ধ/ কবিতা হয়েছে অচিন অন্ধ। মনে কাটবে দারুণ দাগ/ আসবে হুংকার ভাঙবে রাগ। এ কথাগুলো শতভাগ প্রযোজ্য ভিন্ন স্বাদের একটি কবিতার বইয়ের ক্ষেত্রে। বইটির নাম 'কিছু অন্ধ কবিতা'। লেখক শাহাদাত হোসেন শান্ত। দলমতের সাধারণ সমীকরণের ফ্রেম থেকে বেরিয়ে ভিন্ন স্বাদের এ কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন তিনি। 'কিছু অন্ধ কবিতা' নামের সাথে রয়েছে কবিতার ছন্দরসের অসাধারণ মিল। ব্যতিক্রমি এই বইটির লাইনে ছন্দে ছড়িয়ে আছে বিশ্বাসের নির্মলতা আর অন্যায়ের প্রতিবাদের লাভা। ভিন্ন স্বাদের কবিতাগুলো পাঠককে দিবে ভিন্ন ভাবনা। দিবে সমাজকে চেনার নতুন রোডম্যাপ।



কবিদের থাকে তৃতীয় নয়ন। তাই সাধারণের তুলনায় তাদের দৃষ্টির রাডারে বেশি ধরা পড়ে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা অসঙ্গতি, অন্যায়, অনিয়ম, অবিচার। আবার তাদের মায়াভরা চোখের কম্পাস-কাঁটা আটকে যায় গভীর প্রেম, ভালোবাসা, আদর, স্নেহ, মায়া, মমতায়। তাই প্রকৃতি, নারী, নদী, ঝরনা, তারাভরা আকাশ ইত্যাদি তাদের কবিতার অনুপম উপাদান। কবিদের ভাষাশৈলীতে মরা গাঙে জোয়ার আসে। উত্তাল নদে জমে খা খা মরু সাইমুম। জোসনার কবি শাহাদাত হোসেন শান্তর কবিতায়ও এসব ফুটে ওঠেছে সমানভাবে। কিন্তু সেগুলো ভিন্ন স্বাদের। ভিন্ন বলয়ের। অলস মস্তিষ্কে ঘাপটি মেরে বসে থাকা বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি সমাজকে দেখেছেন ভিন্ন চোখে। ভেবেছেন নতুন ঢঙে। নতুন রঙে। খাওয়ার মাঝে সালাদ কিংবা লেবুর মতোই নতুন স্বাদ পাওয়া যাবে তার গদ্য ও পদ্য কবিতায়।



তরুণ কবি শাহাদাত হোসেন শান্তর কবিতায় অন্যায়ের প্রতিবাদই ফুটে ওঠেছে বেশি। গণতন্ত্র সম্পর্কে নির্দ্বিধায় লিখেছেন_



মানুষের ওপর মানুষের দ্বারা মানুষের সেবার ব্যবস্থা



সেই মানুষ মরে যদি পেট্রোল বোমায়



এ আবার কোন গণতন্ত্র?



এ যে নহে গণতন্ত্র এ যে খাঁটি ধোঁকাযন্ত্র



'হারামজাদি' কবিতায় লিখেছেন_



রোহিঙ্গাদের আর্তচিৎকার যেন ইসরাফিলের বাঁশি



নরখেকো সূ চির মুখে ফুটে হিটলারের অট্টহাসি!



বন্ধ কর হারামজাদি!



নাফ নদীর বেদনার অশ্রুপ্রবাহ মানবতার আহাজারি



নতুবা পোষা কুকুর দিয়েই তুই সম্ভ্রম হারাবি!



'রাজনীতিক এবং সাংবাদিক' কবিতায় লিখেছেন_



রাজনীতিতে চলে এখন ধনীর টাকার খেলা



পেশীশক্তি ষ-া গু-ায় জনগণের জ্বালা।



নষ্ট যখন হয়ে পড়ে রাজনীতিক আর সাংবাদিক



জাতির ললাটে থাকে তখন হন্যে ছোটা দিগ্বিদিক।



'চ্যাংদোলাই রথ' কবিতায় লিখেছেন_



চ্যাংদোলাই করে পানিতে নিক্ষেপের সাথে



নিক্ষিপ্ত হয়েছে যখন শিক্ষকের মর্যাদা



তখন! ঠিক তখন জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে



পরিবর্তন হচ্ছে সব কিছুর;



'হাসি-কান্নার ঈদ' কবিতায় কবি প্রতিবাদী হয়ে লিখেছেন_



ঈদের চাঁদে ফোকলা হাসে প্রভাবশালী খান



ব্যাংকের টাকা দুর্নীতি করেও যায়নি তার মান।



রাজনীতির পাতিনেতার মুখে হাসি অতি



ডাগর নেতার তেল মালিশে সে আজ কোটিপতি।



রক্তঝরা স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সরস দেশপ্রেম ফুটে ওঠেছে কবির প্রথম কবিতা 'রক্তাক্ত পতাকা'য়_



একাত্তরের বিভীষিকাময় অন্ধকার জাল ছিঁড়ে



রক্তনদীর লাল সবুজের পাল এনেছি তীরে।



এসেছি এই সূর্যোদয়ের চিররাঙা পথে



উড়িয়েছি পতাকা নবানন্দে শপথ নবরথে।



স্বাধীনতার নামে পরাধীনতার শৃঙ্খলে মোরা বন্দি



মিরজাফর আর ঘসেটিদের গোপন অাঁতাত সন্ধি।



বঞ্চিত পীড়িত লাঞ্ছিত মোরা নির্যাতিত মানবতা



আহাজারিতে বাতাস ভারি থামেনি নির্মমতা!



'শপথ' কবিতায় লিখেছেন_



একাত্তরের বিজয়ের উর্মি তরঙ্গে



বঞ্চিত জনতার হৃদয় আনন্দে দুলছে।



 



স্বাধীনতার রজতজয়ন্তিতে এসে



শ্রেণি বৈষম্য আজ



সাগরের জলরাশির মতো ফুলছে।



'হ্যাপি পহেলা বৈশাখ' কবিতায় মনের অন্তদহন তুলে ধরেছেন এভাবে_



আমজনতার জননেতা চাইনিজখোর মন্ত্রী



তিনিও আজ পান্তা খান সাজেন গণতন্ত্রী।



সারা বছর যিনি খান চাইনিজ থাই ফুড



এক দিনে আসে কি তার খালেস বাঙালি মুড?



'গণতন্ত্রের জন্য' কবিতায় তুলে ধরেছেন সরস উক্তি_



রাজুরা যায় না; যুগে যুগে আসে শক্তি হয়ে



প্রেরণা হয়ে; আসে হায়েনার দাঁতভাঙা জবাব দিতে।



'কিছু অন্ধ কবিতা'। বইটির নামের সাথে রয়েছে মলাটবদ্ধ শব্দগাঁথুনির গভীর মিল। নিজ নাম শান্ত'কেও ছাপিয়ে তিনি চোখ বুজে দলমত পথের ঊধর্ে্ব ওঠে বুকভরা সাহস নিয়ে এর সরস জমিতে একদিকে অশান্ত আত্মায় অসঙ্গতি ও অনিয়মের জাল ছিন্ন করেছেন। অন্যদিকে ফলিয়েছেন প্রেমের লাল গোলাপ। আবার শান্ত নামের নরম দিলের সাম্পান নোঙ্গর করেছে বঞ্চিত মানবনদের অথৈ তীরে। শব্দের মায়ার জালে ধরা পড়েছে ছিন্নমূল, টোকাই, পথশিশু, বঞ্চিত মানবতা। 'টোকাই' কবিতায় এভাবে তুলে ধরেছেন ছিন্নমূল মানুষের কথা_



ভাবছ মোরা মানুষ কিনা এই সমাজের তরে



নিয়তি আর ভাগ্য মোদের ছিনিমিনি করে।



ছিন্নমূল, শ্রমজীবী উপাধি মোদের টোকাই



দিন রাত ঘুরি ফিরি উচ্ছিষ্ট করি বোঝাই।



ধনী গরিব সৃষ্টি প্রভুর ঘোষণা তো তাঁর



তোমাদের মতো আমাদেরও আছে বাঁচার অধিকার।



আর প্রেম ভালোবাসা! সে আর বলতে! বইটির পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে অমর প্রেম সমর প্রেম। 'ফাল্গুনের দহন' কবিতায় বিরহ চুইয়ে পড়েছে এভাবে_



তুমি না বলেছিলে



ফাল্গুন শেষে খুব বেশি দেখা হবে আমাদের!



ফুলে ফুলে ভরা ভ্রমরের গুঞ্জন, ভেজা অন্ধকার,



যে বছর প্রেমে পড়ি মনে আছে তোমার?



আবার 'অন্তদহন'-এ বিরহজ্বালা ফুটে ওঠেছে এভাবে_



কিভাবে বলব ঠিক আজ আর জানা নাই



স্মৃতির অ্যালবামটা আনমনে হাতড়ে যাই।



যাতনার নাগপাশ করে নিত্য ফোঁসফাঁস



বেদনার নীলকষ্ট শুধু বাড়ায় সর্বনাশ।



'লাবণ্য' কবিতায় আশা জাগানিয়া অভিব্যক্তি ফুটে ওঠেছে এভাবে_



লাজুক ভাবের লাবণ্য



রাতের নিঃস্তব্ধতায় কথা হয় দূরালাপনে



দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে



মনের জানালায় কিংবা ভাবনার অথৈ সাগরে



তাকে নিয়ে কল্পনার পাখায় ভর করি।



কবি তার বইটির দুটি সূচিপত্র নির্ধারণ করেছেন। একটি নানা রূপ-বৈচিত্র্য নিয়ে। আরেকটি 'শাকিল-রোজি অধ্যায়' শিরোনামে। প্রেমের অমৃত রস চুইয়ে পড়েছে দ্বিতীয় অধ্যায়ের পদ্য ও গদ্য আখ্যান থেকে।



তার প্রতিবাদী কলম হতে ঝরে পড়েছে তপ্ত আগুন। বিদ্রোহী অনলে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে ওঠেছে শক্ত উঁচানো হাত। কাব্যের তীরে এফোঁড় ওফোঁড় হয়েছে স্বৈরাচার, মানবতার শত্রু, ভুঁইফোড় গণতন্ত্রী, নোবেল হন্তা, চাটুকার, ধোঁকাবাজ, ধাপ্পাবাজ। প্রাণের সমীরণ মিলিত হয়েছে স্রষ্টার অপার কদমে। সুরের মূর্ছনায় লহরিত হয়েছে গীতি আলেখ্য।



খ্যাতনামা প্রচ্ছদশিল্পী রাজীব দত্তের দক্ষ তুলির অাঁচড়ে সজীব প্রাণ পেয়েছে চমৎকার প্রচ্ছদ। উদীয়মান কবি শান্ত তার বইয়ের সরস বক্ষে দক্ষতার সাথে সমাজের নানা চিত্র অঙ্কন করেছেন শব্দের কোমল তুলিতে। কাব্যের গাঁথুনিতে গড়েছেন সুরম্য অট্টালিকা। প্রেম-ভালোবাসা, মমতা, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, অমর একুশ আর মহান স্বাধীনতার রক্তঝরা পথ, বৈশাখী উৎসব, জন্মভূমি, চেতনা, অহংকার সবই নকশি কাঁথার মাঠের মতো ছড়িয়ে আছে গ্রন্থটির পাতায় পাতায়। ভিন্নস্বাদের এই কবিতার বইটি পাঠককে নিয়ে যাবে পরম ভালো লাগায়; চরম অনুপ্রেরণায়।



বইটি প্রকাশ করেছে খ্যাতনামা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'বইঘর'। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৯৩নং স্টলে। মূল্য ১৮০ টাকা।



_সাকি আনোয়ার, গবেষক ও প্রাবন্ধিক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৩৮১০৯
পুরোন সংখ্যা