চাঁদপুর, রোববার ৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৪ শাওয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


১। বল, আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হইয়াছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করিয়াছে এবং বলিয়াছে, 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করিয়াছি,


২। যাহা সঠিক পথনির্দেশ করে; ফলে আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি। আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করিব না,


 


 


assets/data_files/web

প্রার্থনা ও প্রশংসা এই দুটো জিনিস স্বয়ং বিধাতাও পছন্দ করেন।


-সুইডেন বাগ।


 


 


 


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম-আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


 


ফটো গ্যালারি
বাজেটে শিক্ষা, যুবকর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যখাতকে স্বাস্থ্যবান দেখার প্রতীক্ষায়
জাহাঙ্গীর হোসেন
০৭ জুন, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এবার বাজেটে নতুন সংযোজন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে করোনা-উত্তর করণীয় বিষয় নিয়ে। প্রায় ৩-৪ মাস অদৃশ্য ঘাতকের মহীরূহ রূপ দেখতে পেয়েছে গোটাবিশ্ব। ধরাশায়ী বিশ্বের মোড়ল দেশগুলোর প্রধানগণ। এ দেশে করোনার তুমুল আস্ফালনে আমফান ঝড়ের হুংকারও নিমজ্জমান। করোনা ভাইরাসের দাপটে সাধারণ জনগণ টের পেয়েছে ঢের। তারপরও কথা থেকে যায়, পুঁজপতি ধনীরা কিন্তু করোনাকে থোরাই কেয়ার করেছে। আবার লকডাউনের অনিশ্চয়তায় ভাবনায় নিমজ্জিতও হয়েছে। তাই নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা টেনে ধরতে একাট্টা হয়েছে। সরকারকে বিব্রত করেছে এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদনপ্রণালী ধরে রেখেছে। এ দেশের সরকার করোনা মোকাবেলার চেয়ে পুঁজিপতিদের সামলাতেই বেশি হিমশিম খেয়েছে। পুঁজিপতিদের ছা-পোষা খুচরা-পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম অন্তত দেড়গুণ/দুইগুণ বৃদ্ধি করেছে। এতেই প্রমাণ হয়, এদের মধ্যে ধর্মীয় মর্মবাণী মোটেও অাঁচড় কাটেনি। দেখা গেলো ধর্মীয় অপব্যাখ্যাকারী কথিত আলেমগণ করোনার অবস্থান নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এতে করে করোনার বিধ্বংসী রূপকে ধর্মান্ধ লোকজন প্রথমাবস্থায় পাত্তাই দেয়নি।



করোনা ভাইরাসের বৈচিত্র্যময় তা-বে গোটা বিশ্বের লৌহমানব শাসকেরা লজ্জা পেয়েছে। এদিকে শঙ্কিত হয়েছিল এদেশের সরকার ও জনগণ। বাজেট ঘোষণার আগমুহূর্তে এ ধাক্কা বড়ই উপশমের ছিল। তাই জুন মাসে বাজেট প্রণয়নের মুহূর্তে করোনা মোকাবেলার আনুষঙ্গিক উপকরণের আয়োজনের হিসাব কষতে ভুলে যাবে না নিশ্চয়ই। করোনা মহামারিতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের নাজুক পরিস্থিতির চিত্র ভালো করেই ফুটে উঠেছে। তাই এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাত অধিকতর গুরুত্ব পাওয়ার আশায় আছে সকলে। চিকিৎসাসেবা ও ডাক্তার-নার্সদের ভূমিকা সংকুলান করতে না পারার যে অবস্থা আপদকালীন সময়ে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তাতে সবাইকে চিন্তন প্রভাবে নিবিষ্ট হতে হয়েছে। পরিষ্কার হয়ে গেছে, বিজ্ঞান না হাঁটলে যে সভ্যতাও হাঁটে না। তাই স্বাস্থ্যখাত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কতই না উন্নত হওয়া দরকার।



এদিকে বেকায়দা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। সরকার যখন করোনাকালে কোটি শ্রমজীবী পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল ঠিক সে মুহূর্তে শ্রমজীবী মানুষ বাঁচার তাগিদে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে জীবিকার জন্য নতুন নতুন পথ ধরেছিল। মাঝারি ব্যবসায়ীরাও হকারি করেছে। তাই সরকারকে ভবিষ্যতে এ দিকটির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে যুবক তথা কর্মক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থান নামে নতুনখাত সৃষ্টি করে অন্তত ১০% বাজেট বরাদ্দ রাখা উচিত। তাহলে অন্তত ২০ লক্ষ শ্রমিক রাষ্ট্রের আওতায় কাজ পাবে। পর্যায়ক্রমে বেকারত্ব গুছে যাবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে গিয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিল সমৃদ্ধ হবে। আর এদিকে ইতঃমধ্যে করোনা প্রাদুর্ভাব আরো মহামারীতে যাবে এ শঙ্কায় ভবিষ্যতে দেশে লকডাউন হলে আপদকালীন ব্যবস্থায় আসন্ন বাজেটে ১৬ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেয়ার সরকার কর্তৃক প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এ অবস্থায় থোক বরাদ্দ অন্তত দ্বিগুণ করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



আমরা লক্ষ্য করছি, বাজেট হলে মানুষের সুখ দুঃখের বাজেটও প্রণয়ন হয়ে যায়। জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের গুরুত্ব কমিয়ে চিকিৎসা সেবা ও কর্মসংস্থান খাতকেই প্রধান করে আনা আবশ্যক। গত বারের বাজেট ছিল ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত আয় প্রায় ছিল ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট প্রস্তাবিত ছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এবারের বাজেট প্রস্তাব হতে পারে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষাধিক কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে যুব কর্মসংস্থানের জন্য মাত্র ১০০ কোটি টাকা ১০ বছর মেয়াদী বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। প্রতি বেকারের জন্য ২০ টাকারও কম বরাদ্দ। বিনোদন ও সংস্কৃতিখাতে বরাদ্দ ছিল ৫৭৫ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ০.০১ শতাংশ। শিল্পখাত বরাদ্দ পেয়েছিল ০.০৭%। যা নিতান্তই অপ্রতুল।



২০১৯-২০ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে সন্তোষজনক বরাদ্দ হয়েছে। তবে ইউনেস্কোর সুপারিশে বাজেটের ২০ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা মানা হচ্ছে না। ২০ ভাগ বরাদ্দ দিলে লক্ষ কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বরাদ্দ রয়েছে অনেক কম। যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা জিডিপির প্রায় তিন শতাংশের কিছু বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ১৪.৩৯ ভাগ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এতে ১৪.৬ ভাগ নির্ধারণ হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে সংশোধিত বাজেট প্রস্তাবে যা ছিল তা-ই অর্থাৎ ১৫.২ ভাগ।



শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি প্রণোদনা, বিনা বেতন ও আধুনিক উপকরণ ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ আরো বাড়ানো উচিত। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্বল্প বেতনে দৈনন্দিন খরচ নির্বাহ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিএড ব্যতীত একজন শিক্ষক চাকুরিতে প্রবেশ করলে বর্তমানে পান প্রায় ১৩,০০০ টাকা। বিএডসহ সর্বসাকুল্যে ১৬,৮০০ টাকা। টাইম স্কেল প্রাপ্তরা সর্বসাকুল্যে পান ২২ হাজার টাকা। এ দিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও বাড়ি ভাড়াসহ ১৫/২০ দিন চলা কঠিন। পিতা-মাতা ভাই-বোনতো আছেই। অনটনে থেকে জীবিকা নির্বাহ করে পাঠদান করতে গেলে কতটুকু শিক্ষা বাস্তবায়ন হবে, সেটাই বলা বাহুল্য। বেসরকারি পর্যায়ের মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ। নতুন যুক্ত হচ্ছে ৫০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। এ স্তরে শিক্ষার ৯৮ ভাগ বেসরকারি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গণমাধ্যমে দেয়া বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশের চেয়ে শিক্ষা খাতে বেশি ব্যয় করে নেপালে জিডিপির ৫.১৫ ভাগ ও মালদ্বীপে ৪.২৫ ভাগ। আর ফ্রান্সে ব্যয় হয় জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে বরাদ্দ জিডিপির তিন শতাংশের বেশি। যা নেপাল, মালদ্বীপ, ফ্রান্সের চেয়ে কম। বাজেটে শিক্ষাখাতকে আরো উৎসাহিত করা দরকার। ননএমপিওভুক্ত ৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও করা নতুন সংযোজন। তাও মরণপণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দাবি আদায় হয়েছে, সরকারের সদিচ্ছায় নয়। তারপরও বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রসারিত করতে ২৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করেছে। বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সঠিক সময়ে বিতরণ করায় শিক্ষার্থীদের মাঝে অগাধ আনন্দ লক্ষ্য করছি। এই দিবসে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা যখন হাসে, পুরো দেশটাই যেন হাসে। শিক্ষাকে আরও প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে নিতে গোটা শিক্ষাব্যবস্থায় 'ডিজিটাল কনটেন্ট' বিষয়টিও পজিটিভ আলোচনার দাবি রাখে।



মাত্র ৪/৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেই মাধ্যমিক স্তর সরকারিকরণ করা যেত। এ টাকার সিংহভাগই উঠে আসতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদকে সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে। এখানে সরকারের সুদৃষ্টি নিবদ্ধ করা জরুরি। অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের নামে নির্বাচনের আগে ৫ ভাগ দিয়ে অতিরিক্ত ৪ ভাগ কর্তন করা হয়েছে। মোট ১০ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি দশ মাস পর পর শিক্ষক-কর্মচারীর এক মাসের বেতন কেটে নেয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ না করলেও অন্তত সরকারি চাকুরিজীবীদের মতো বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা সমান করা উচিত। স্বল্প আয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এভাবে বিপদে ফেলে দেয়া মোটেও কাম্য নয়। তাই শিক্ষকদের আর্থিক জীবনমান উন্নয়নের জন্যে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল।



করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের করোনা চিকিৎসা করতে অনেকেরই অনীহা ছিলো। কেবলমাত্র পিপিই ব্যবস্থাটুকু এ সরকার যথাসময়ে করতে পারেনি। তারপরও ডাক্তারসহ অন্যান্য সেবক মৃত্যুবরণ করেন। জাতি তাদের আজীবন স্মরণ করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ যেভাবে জীবনবাজি রেখে করোনা মোকাবেলায় কাজ করেছেন, তাতে তাদের প্রতি অতীতের বিরূপ ধারণা জনমনে পাল্টে দিতে পেরেছেন। প্রসঙ্গক্রমে বলতে হচ্ছে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট ছিল ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এবার বরাদ্দ হবে আরও কম অর্থাৎ ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। যা আগের থেকে ২২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা কম। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বরাদ্দ না বাড়িয়ে বরং কমে যাওয়া পুরোদস্তুর হতাশারই। স্বাস্থ্যখাতে কমপক্ষে ৪% বরাদ্দ হলে জনগণ ভালো চিকিৎসা পাবে। বর্তমানে চিকিৎসাঙ্গনে চিকিৎসা সংক্রান্ত উন্নত যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানদের সংকট খুবই বেশি। এমতাবস্থায় প্রস্তাবিত বাজেটে ৪% বরাদ্দের দাবি অযৌক্তিক নয়।



এবার আসা যাক যুবকদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে। আড়াই কোটি শিক্ষিত যুবক, সব মিলিয়ে সাড়ে তিন কোটি বেকার যুবক। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে তাদের জন্যে বিশেষ বরাদ্দ মাত্র ১০০ কোটি টাকা, যা বাজেটের শতকরা ০.০৫ ভাগ। তাও আবার ১০ বছর মেয়াদী। তিন কোটি যুবককে পুনর্বাসন করবে এ টাকা দিয়ে! প্রতি যুবকের ভাগে পড়ে ১০ বছরে প্রায় ২০ টাকা! অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পেতে যুব কর্মসংস্থানখাতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০% বরাদ্দ রাখা উচিত।



যুবকরা হতাশ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে করে পারিবারিক কলহ, খুন-খারাবি বাড়ছে। আর যাই হোক, এ বছর ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা যুবকর্মসংস্থানখাতে বরাদ্দ করলে অন্তত ২০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হয়ে যেত। দেখা যেত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বেকার খুঁজে পাওয়া যেত না। নিজ ভূমি ছেড়ে টগবগে যুবক এবং মেধাবীরা বিদেশে পাড়ি জমাতো না, মেধা পাচার হতো না। তাই সরকারের উচিত যুবকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দটি বিশেষভাবে দেখা এবং প্রতিটি উপজেলায় বেকার নিবন্ধন কেন্দ্র খোলা এবং বেকারদের বেকারভাতার প্রচলন শুরু করা। হতাশার বিষাদ নিয়ে যুবকগণ মাদকের ছোবলে পড়ে ধ্বংস হচ্ছে। তাই যুবকরা উদাসীন হয়ে পড়ায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্বিষহ পরিস্থিতি আরও পেয়ে বসেছে। দেশে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ জন ঋণখেলাপী। দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। গত কয়েক বছর ৬ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হলো। পুঁজিবাজারে সম্পদ ও অর্থ আকাশচুম্বীতো হয়েছেই, গরিবের আমানতের টাকাগুলোও ঋণখেলাপীদের পকেটে। এ কারণেই গরিব আমানতকারীদের সুদের হার কমানোর ফর্মুলা। আর এদিকে মোট খেলাপী টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ টাকাগুলো আদায়ের পদক্ষেপ নিয়ে কলকারখানা স্থাপন করলে ধীরে ধীরে কোটি কোটি যুবকের চাকরি হতো। একদিকে জিনিসপত্রের উৎপাদন বাড়তো, আরেকদিকে ক্রয় ক্ষমতার বৈষম্য কমে যেতো, মানুষের সামর্থ্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকতো। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমে যেত। প্রবৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে সমতায় চলে আসতো। অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা পেতো। যুবকদের কর্মসংস্থান এবং সেখানেই প্রতিরক্ষা ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমে আবদ্ধ করলে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতের আলাদা প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেত।



বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে লোকসংস্কৃতি ও উৎকৃষ্ট সংস্কৃতির চর্চা দেশের প্রাান্তিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। সে নিরিখে বিনোদন-সংস্কৃতিতে অন্তত পাঁচ বছর যাবৎ বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ অত্যন্ত প্রয়োজন। গ্রামীণ পর্যায়ে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- বিস্তার ঘটাতে শিল্পকলা একাডেমি ও সাহিত্য একাডেমি নির্মাণ সময়ের দাবি। সংস্কৃতি চর্চা ব্যতীত দেশ পথভ্রষ্ট হবে। মূল্যবোধের অভাব মোচনে শিক্ষা-সংস্কৃতি-কর্মসংস্থান এ তিনটিকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট প্রণয়ন হলে বড় ধরনের সমস্যা কেটে যেতে বাধ্য। শিল্প, সংস্কৃতি ও যুব খাতে কোনো রকম বাজেট বরাদ্দ দেয়ায় এবারের বাজেট 'কসমেটিক বাজেট' বনে যাচ্ছে। কেননা ক্ষতস্থান নিরাময় না করে শুধু কসমেটিক লেপ্টে দিলে মৌলিক সৌন্দর্য ফিরে পাওয়া যায় না।



আমরা ৯৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আপাতত পাতাল ট্রেন চাই না। আমরা কাজ চাই। আপাতত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এ বছর না করলেই ভালো হয়। তবে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে যতপরিমাণ অর্থ দরকার এবার তা বরাদ্দ হোক। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যুবকর্মসংস্থান-এ তিনটি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দেশটি এগিয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা আমাদের।



রচনাকাল : ৩ জুন ২০২০।



লেখক : জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রাবন্ধিক; সাধারণ সম্পাদক, মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি, চাঁদপুর। মোবাইল ফোন : ০১৬২৭-৮৪০৪৯৫।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৭৫৪৯
পুরোন সংখ্যা