চাঁদপুর, রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ৯ সফর ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৬-সূরা দাহ্র বা ইন্সান


৩১ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৯। ইহা এক উপদেশ, অতএব যাহার ইচ্ছা সে তাহার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।


৩০। তোমরা ইচ্ছা করিবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


৩১। যিনি যাহাকে ইচ্ছা তাঁহার অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেন, কিন্তু যালিমরা-উহাদের জন্য তো তিনি প্রস্তুত রাখিয়াছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।


 


 


প্রার্থনা হবে দিনের চাবি এবং রাত্রের তালা স্বরূপ।


-টমাস ফুলার।


 


 


 


 


মজুরের গায়ের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।


 


 


ফটো গ্যালারি
মুক্তিযোদ্ধা কমরেড নিরোদ বরণ অধিকারী স্মরণে
---------------------মনীষা চক্রবর্তী---------------------
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'মানুষ মানুষের জন্য' শুধুমাত্র এই ক'টি শব্দই যথেষ্ট। এ কেবলমাত্র সঙ্গীতস্রষ্টা ভূপেন হাজারিকার একার উপলব্ধিই তো নয়, এই আবেদন আমাদের সকলের। এই গভীর মানবতাবোধ কেবল ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, কাজের মধ্য দিয়ে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এই মহান কর্ম সকলের দ্বারা সম্ভব নয়। এ শুধু তিনিই পারেন যার হৃদয় প্রশস্ত, অনুভূতি প্রবল, যিনি মানবদরদী। এক্ষেত্রে অনেক মহান ব্যক্তির মুখাবয়বই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। তবে গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর যাঁকে আমরা চাঁদপুরবাসী হারিয়েছি সেই আমাদের সকলের প্রিয় কমরেড নিরোদ বরণ অধিকারীর মুখাবয়ব এক্ষণে স্পষ্ট মনে হচ্ছে।



মানুষ মাত্রই জীবদ্দশায় মৃত্যুর পরে স্বর্গলাভের মোহে কত আচার-অনুষ্ঠান করে। কত দান-ধ্যান করে থাকেন। এমন কি আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব প্রত্যেকেই জীবিত মানুষটির প্রতি যতো না দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পরে সেই দেহটিকে নিয়ে সযত্নে আদরে-আহ্লাদে সমাহিত করেন। কমডের অধিকারীর ক্ষেত্রে তা ছিলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। জীবিতকালেই তিনি তাঁর মৃতদেহ আর্তমানবতার সেবায় চিকিৎসাক্ষেত্রে গবেষণালয়ে ছাত্রদের প্রশিক্ষণের জন্যে দান করে গেছেন। যেই কারণে তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই মৃতদেহ ধর্মীয়ভাবে চিতাগি্নতে ভস্মীভূত না করে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। জাতির চিকিৎসাবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার জন্যে তাঁর এই অবদান, তাঁর এই দূরদর্শিতা আমাদের জন্যে অনুকরণীয়-অনুসরণীয়। এই বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্যে তাঁকে যেমন আস্তিক বলা যাবে না, নাস্তিকও নয়। লাখো লাখো কণ্ঠে সোচ্চারিত কমরেড নিরোদ বরণ অধিকারী মানবিক, মানবিক এবং মানবিক।



চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলাসাহিত্যের এককালের স্বনামধন্য অধ্যাপক প্রয়াত সৈয়দ আবদুস সাত্তার সাহেব ছাত্রদেরকে শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি রাজনৈতিক আদর্শেও ছাত্রসমাজকে অনুপ্রাণিত করতেন। কমরেড অধিকারীও তেমন অনুপ্রাণিত হয়ে বাম ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। সেখান হতেই তিনি নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলতে চলতে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিজের একটি উপযুক্ত অবস্থান তৈরি করেন। একজন নিরোদ বরণ অধিকারী জীবনের মধ্যগগণে এসে বহুমাত্রিক পরিচয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিকট পরিচিত হন। ব্রিটিশ আমল হতে বাবুরহাট হাইস্কুলের খেলাধুলাসহ সর্ববিষয়ে যথেষ্ট খ্যাতি ছিলো। তিনি সেই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সকলের নিকট একজন সমাজসচেতন প্রিয় ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। একই সাথে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে বিভিন্ন গণআন্দোলন, লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে সহযোদ্ধা প্রয়াত কমরেড আনোয়ার হোসেন আরিফসহ এক শক্তিশালী কৃষক সমিতি গড়ে তোলেন। প্রয়াত কমরেড মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনও পেশাগতভাবে শিক্ষক ছিলেন। কৃষক সমিতির পাশাপাশি কমরেড আরিফ নিজ দায়িত্বে ক্ষেতমজুর সমিতিও গঠন করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক নিরোদ বরণ রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও এগিয়ে যান। তিনি মার্কসবাদ লেনিনবাদ চর্চার মাধ্যমে কমিউনিস্ট ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ঊষালগ্নে ২৫ মার্চের পাকবাহিনীর নারকীয় হত্যাকা-ের পরে চাঁদপুরে বাম ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বোমা তৈরির কাজে দুর্ঘটনায় যেই ৪ তাজা প্রাণ শহীদ হয়েছেন, সেই দুর্বার সাহসী ভূমিকার সাথেও কমরেড নিরোদ বরণ অধিকারী যুক্ত ছিলেন।



রাজনৈতিক কর্মকা-ে তিনি কখনও পশ্চাৎপদ ছিলেন না, এমনকি পঁচাত্তরে জাতির পিতা সপরিবারে হত্যার পরেও যে স্থবিরতা ছিলো তা-ও তিনি কাটিয়ে আবার রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেন। এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে যখন সোভিয়েট সমাজব্যবস্থার এক বিশাল পরিবর্তন ঘটে, তখন বাম মহলে উপর হতে নিচ পর্যন্ত টালমাটাল অবস্থায়ও তিনি দৃঢ় হাতে পার্টির রক্ত-পতাকাকে সমুন্নত রেখেছেন।



কমরেড আনোয়ার হোসেন আরিফ ও কমরেড আঃ রহমানের মৃত্যুতে চাঁদপুরবাসীর মধ্যে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিলো সেই সঙ্কটময় মুহূর্তে নিরোদ বরণ অধিকারী কেবলমাত্র অধ্যাপক কমরেড দুলাল চন্দ্র দাস ও কমরেড চন্দ্রশেখর মজুমদারকে নিয়ে পার্টির কর্মকা-কে প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন। তার এই অদম্য প্রাণ প্রাচুর্যকে স্যালুট জানাই।



খাদ্যরসিক কমরেড নিরোদ বরণ অধিকারী খেতে যেমন ভালোবাসতেন, ঠিক পার্টির নেতা-কর্মীদের সেভাবে খাওয়াতেও ভালোবাসতেন। সেই সাথে তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিণী মঞ্জু চক্রবর্তীও সমানভাবে সকলকে আপ্যায়ন করতেন। কমরেড নিরোদ কাকার একমাত্র পুত্রসন্তান সজীব অধিকারী। এই নিবেদিতপ্রাণ-মেহনতি জনতার দরদী বন্ধু-মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষক-কমরেড নিরোদ বরণ অধিকারীকে জানাই লাল সালাম।



......মণীষা চক্রবর্তী, সভাপতি, সিপিবি।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৮৭,২৯৫ ৩,৯৬,৩৮,১৮৮
সুস্থ ৩,০২,২৯৮ ২,৯৬,৭৮,৪৪৬
মৃত্যু ৫,৬৪৬ ১১,০৯,৮৩৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৪৮২৩৫
পুরোন সংখ্যা