চাঁদপুর, রোববার ৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭, ২২ রজব ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
মি'রাজে রাসূল (সাঃ)-এর কতিপয় দর্শন
মুফতী মুহাঃ আবু বকর বিন ফারুক
০৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(গত শুক্রবারের পর)



 



কলমের লেখার আওয়াজ শ্রবণ



অতঃপর জিব্রাঈল আমীন আমাকে নিয়ে উর্ধ্বপানে অগ্রসর হলেন। অবশেষে আমি এমন এক সমান্তরাল জায়গায় পেঁৗছলাম যেখানে কলমের চড়চড় শব্দ শুনতে পেলাম যা লেখার সময় সৃষ্টি হয়। এখানে ফেরেশতাদের দ্বারা মহান আল্লাহর ফায়সালাসমূহ লেখার কথা বুঝান হয়েছে। কিন্তু উহা দ্বারা অদৃষ্ট লিপির কথা বলা হয়নি। কেননা উহাতে কাদিম তথা অবিনশ্বর। আর ফেরেশতাদের লেখার ব্যাপারটি নশ্বর বা নূতন সৃষ্টি।



এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছ গুলোর সুস্পষ্ট মর্মে বুঝা যায় যে, ভাগ্য লিপি লেখার কাজ হতে লওহে মাহফুজ অবসর প্রাপ্ত এবং আসমান ও যমীন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর পূর্বে লাওহে মাহফুজে যা কিছু আছে উহা হতে কলম শুষ্ক ও মুক্ত হয়ে আছে। কিন্তু মিরাজ রজনীতে তিনি ফেরেশতাদের লেখার যে শব্দ শুনতে পেয়েছেন তা হলো মহান আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তসমূহ তাদের ডাইরীভুক্ত করা যেখানে হা ও না বিদ্যমান রয়েছে।



আল্লামা ইবনুল কায়্যেম বলেন, কলমের সংখ্যা হলো বার। মর্যাদার ক্ষেত্রে সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য আছে



(১) সেগুলোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ও সবোচ্র্চ মর্যাদার অধিকারী হলো ভাগ্য লিপির কলম যদ্বারা মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের তাকদীর (অদৃষ্ট) লিপিবদ্ধ করেছেন যেমনটা সুনানে আবূ দাউদে হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, "আমি হযরত নবী পাক (সাঃ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে প্রথম সৃষ্টি বস্তু হলো কলম।" তিনি কলমকে লক্ষ্য করে বললেন, লিখ। কলম আরজ করল, হে আমার রব! আমি কি লিখব? তিনি বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টিকুলের অদৃষ্ট সমূহ লিখ। এ কলমই হলো সৃষ্টিকুলের প্রথম সৃষ্টি এবং সর্বোৎকৃষ্ট। একাধিক মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন, উক্ত কলম হলো ঐ কলম যদ্বারা আল্লাহ পাক পবিত্র কালামে কসম করেছেন।



(২) দ্বিতীয় কলম হলো অহী (প্রত্যাদেশ) লেখার কলম।



(৩) তৃতীয় কলম হলো আল্লাহ পাক ও তদীয় রাসূলের পক্ষ হতে দস্তখতের কলম



৮) চতুর্থ কলম হলো শরীরের কলম যদ্বারা আমাদের স্বাস্থ্য সংরক্ষণ করা হয়।



(৫) পঞ্চম কলম হলো রাজা বাদশাহ ও তাদের প্রতিনিধিদের পক্ষে দস্তখতের কলম। আর এ কলম দ্বারাই রাজত্ব ও বাদশাহীর ভিত্তি স্থাপন করা হয়।



(৬) যষ্ঠ কলম হলো হিসেব নিকেশের কলম যদ্বারা সম্পদের উৎস, ব্যায়ের খাত ও পরিমাণ বিন্যাশ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।



(৭) হুকুম তথা ফায়সালার কলম যদ্বারা বান্দার অধিকার সাব্যস্ত করা হয় এবং যদ্বারা ফায়সালা (মিমাংসা) জারী করা হয়।



৮) অষ্টম কলম হলো সাক্ষ্যের কলম যা দ্বারা বান্দার অধিকার স্থির করা হয়।



(৯) নবম কলম হলো তাবীরের কলম যা স্বাপি্নক প্রত্যাদেশ এবং উহার ব্যাখ্যা ও মর্ম লিপিবদ্ধ করে থাকে।



(১০) দশম কলম হলো বিশ্বের ইতিহাস ও ঘটনাপুঞ্জের কলম।।



(১১) একাদশ কলম হলো ভাষা ও উহার বিস্তারিত বিবরণ লেখার কলম।



(১২) দ্বাদশ কলম হলো সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ কলম। উহা হলো বাতিল পন্থিদের মতবাদ প্রত্যাখ্যান করার এবং দ্বীন পরিবর্তনকারীদের সন্দেহ বিদূরীত করার কলম। উক্ত বারটি কলমের মাধ্যমে বিশ্বের স্বাভাবিক নিয়ম ও কল্যাণ বজায় থাকে। মাওয়াহেবে লাদুনি্নয়া-৩ / ৮০পৃ: মূল (আকসানুল কুরআন)



 



বায়তুল মামুর দর্শন



অতঃপর হযরত জিব্রাঈল আমীন আমাকে নিয়ে সপ্তম আসমানে গমন করলেন এবং আসমানের দরজা খোলার জন্য দস্তক দিলেন। অপর দিক হতে আওয়াজ আসল, কে? জিব্রাঈল আমীন উত্তর দিলেন, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ! জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহ পাক তাকে পাঠিয়েছেন কি? তিনি বললেন, জি, হ্যাঁ! এতদশ্রবণে আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়। অমনি আমাদের সাথে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর সাক্ষাৎ হয় যিনি বেহেশতের দরজার পাশে উপবিষ্ট ছিলেন। এখানে বেহেশতের দরজা বলতে উহার দিক-প্রান্তের কথা বুঝানো হয়েছে, নচেৎ বেহেশত সপ্তম আসমানের উপরে অবস্থিত। আমরা তাঁকে বেহেশতের দিকে একখানি কুরছীর উপর বসা অবস্থায় দেখলাম, তাঁর পৃষ্ঠদেশ বাইতুল মামুরের দিকে ফেরানো।



হাদীসে বর্ণিত আছে যে, বাইতুল মামুর সপ্তম আকাশের মসজিদ যা কাবা শরীফের বরাবরে অবস্থিত এমন ভাবে যে, যদি বাইতুল মামুর ঘিরে পড়ে তাহলে ঠিক কাবা শরীফের উপর ঘিরে পড়বে। কেহ বলেন, বাইতুল মামুর চতুর্থ আসমানে অবস্থিত। কেহ বলেন, আসমানে, কেহ বলেন, প্রথম আসমানে অবস্থিত। ইতি পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রত্যেক আসমানে বাইতুল মামুর রয়েছে এবং প্রত্যেকটি বাইতুল মামুর পৃথিবীর কাবা শরীফের বরাবরে অবস্থিত। প্রত্যেক দিন বাইতুল মামুরে এক হাজার করে ফেরেশতা প্রবেশ করেন যারা পরবর্তীতে আর ফিরে আসেন। কোন কোন বুজর্গ হতে বর্ণিত আছে-প্রত্যহ বাইতুল মামুরে ৭০ হাজার ফিরেশতা প্রবেশ করেন।



অন্য এক বর্ণনায় আছে, বাইতুল মামুরে ৭০ হাজার সম্ভান্ত ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং তাদের প্রত্যেকের অধীনে ৭০ হাজার ফেরেশতা থাকেন। সম্ভবতঃ হুযুর (সাঃ) হযরত জিব্রাঈল আমীনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন,অন্যথায় তাঁর বর্ণনা দ্বারা একথা স্পষ্ট নয়। তিনি সেখানে দু'রাকাত নামাজ আদায় করেন। জিব্রাঈল আমীন তাকে জানিয়ে দেন যে, প্রত্যহ ৭০ হাজার ফেরেশতা বাইতুল মামুরের এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে যান। যে দরজা দিয়ে তারা প্রবেশ করেন উহার নাম হলো বাবু মাতালেউল কাওয়াকেব অর্থাৎ নক্ষত্ররাজির উদয়াস্থলের দরজা আর যে দরজা দিয়ে তাঁরা বের হয়ে যান উহার নাম হলো বাবু মাগারিবিল কাওয়াকেব অর্থাৎ নক্ষরাজির অস্তাচলের দরজা। প্রকাশ্য কথা এই যে, ঐ সব ফেরেশতার প্রবেশ ঐ দরজার সাথে খাছ যা কেবল সপ্তম আসমানে রয়েছে অন্য আসমানের নয়।



আল্লামা সুহাইলী বলেন, একথা বিশুদ্ধ সূত্রে সাব্যস্ত যে, মুমিন ও কাফেরদের নাবালেগ সন্তান-সন্ততির জামানত তথা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর সোপর্দ করা হয়েছে। হযরত রাসূল করীম (সাঃ) যখন ঐসব সন্তান-সন্ততিকে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর সাথে দেখতে পান তখন তিনি জিব্রাঈল আমীনকে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিব্রাঈল! এসব সন্তান সন্তুতি কারা? তিনি উত্তর দিলেন, এসব সন্তান-সন্তুতি মুমিনদের যারা শৈশবে মারা গিয়েছে। তিনি জিব্রাঈল আমীনকে জিজ্ঞেস করলেন, কাফেরদের নাবালেগ সন্তান-সন্ততির অবস্থা কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কাফেরদের সন্তান সন্তুতিও তাদের মধ্যে শামিল যারা শৈশবে মারা গিয়েছে। বুখারী শরীফ কিতাবুল জানায়েয দ্রষ্টব্য।



মিরাজ রাতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আমাদের নবী করীম (সাঃ) কে বলেন, আপনার উম্মতের উচিত বেহেশতে বৃক্ষ রোপনের সংখ্যা অধিক করা। কেননা, বেহেশতের মাটি হলো পবিত্র এবং উহার যমীন হলো প্রশস্ত।



এ শ্রবণে তিনি তাকে (হযরত ইব্রাহীম কে) জিজ্ঞেস করল, বেহেস্তে বৃক্ষরোপণ কিরূপে হয়? তিনি উত্তর নিলেন, "লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পাঠ করা হলো উহাতে বৃক্ষরোপণ।



অন্য বর্ণনায় আছে, আপনি আমার পক্ষ হতে আপনার উম্মতকে সালাম জানাবেন এবং তাদেরকে এ মর্মে অবহিত করবেন যে, বেহেশতের মাটি হলো পবিত্র, উহার পানি মিষ্ট এবং উহাতে বৃক্ষরোপণ হলো "সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদু লিল্লাহ, ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। হযরত রাসূল মকবুল (সাঃ) হযরত জিব্রাঈল আমীনকে সিদরাতুল মুনতাহায় তাঁর আসল সুরতে দেখেছেন : মহানবী (সাঃ) সিদরাতুল মুন্তাহার নিকট জিব্রাঈল আমীনকে ঐ আকৃতিতে দেখেছেন যে আকৃতিতে মহান আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ আসল আকৃতিতে দেখতে পেয়েছেন। তার ছয়শত পাখা বা বাহু আছে। প্রত্যেকটি পাখা আসমানের দিগন্তকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। পাখাগুলোতে এত সংখ্যক মুক্তা ও ইয়াকুত যা একমাত্র মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেনা। উক্ত বৃক্ষটিকে মেঘে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। জিব্রাঈল আমীন পিছে হটে আসলেন।



অন্য এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর জিব্রাঈল আমীন আমাকে নিয়ে সপ্তম আসমানের শীর্ষদেশে উপনীত হন এবং সেখানকার একটি নদীর কিনারায় পেঁৗছলেন। নদীটি ইয়াকুত, মুক্তা এবং জবরযদের তাবু দ্বারা পরিবেষ্টিত। জিব্রাঈল আমীন বললেন, এটাই হলো কাওসার যা মহান আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন। অমনি তিনি দেখতে পেলেন উহাতে রয়েছে স্বর্ণ রৌপ্যের অগণিত পাত্র। ইয়াকুত ও জমরদ পাথরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরোরাজির উপর দিয়ে হাওজে কাওসারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উহার পানি দুধের চাইতে সাদা। মহানবী (সাঃ) বলেন, আমি উহার একটি পাত্র লয়ে উহা হতে পানি উঠালাম এবং পান করলাম যা মধু হতে মিষ্ট এবং মেশকের চাইতে অধিক সুগন্ধময় অনুভূত হলো। সুবহানাল্লাহ!



 



মৃত নাবালেগ শিশুদের অবস্থা দর্শন



হযরত রাসূল করীম (সাঃ) বলেন, আমি যখন সিদরাতুল মুন্তাহায় পেঁৗছলাম দেখলাম সেই বৃক্ষের উপর কতগুলো সবুজ পাখী। উহাদের কতিপয়কে প্রফুলি্লত এবং কতিপয়কে চিন্তান্বিত দেখলাম। উহাদের পাশে রয়েছে একজন বৃদ্ধ পুরুষ ও একজন বৃদ্ধা মহিলা। আমি জিব্রাঈল আমীনকে জিজ্ঞেস করলাম, এ বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধা মহিলা কে? তিনি বললেন, ইনি হলেন হযরত ইব্রাহীম খলীল এবং বৃদ্ধা হলেন তার স্বনামধন্য স্ত্রী হযরত বিবি সারা (রাঃ)। আর পাখীগুলো হলো মুমিন বান্দাগণের নাবালেগ সন্তান যারা নাবালেগ অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তাদের মধ্যে যারা অল্পদিন পূর্বে মাতা পিতা ছেড়ে এসেছে। তারা নিরানন্দ। আর যারা বহুদিন পূর্বে ছেড়ে এসেছে তারা বেশ আনন্দিত ও প্রফুল্লচিত্ত।



 



মোরগ দর্শন ও মোরগের তাসবীহ পাঠ শ্রবণ



হযরত রাসূল (সাঃ) বলেন, আমি আকাশ পরিম-লের বাইরে তথা সিদরাতুল মুন্তাহায় একটি মোরগ দেখতে পেলাম যার মাথার মুকুট সবুজ রংয়ের এবং পালকগুলো অতিশয় সাদা। উহার পা দু'টি লাল স্বর্ণের যা সপ্তম যমীনে অবস্থিত। লেজ হলো মুক্তার এবং মস্তক হলো মোতির যা আরশের নীচে অবস্থিত। উহার চক্ষু দু'টি ইয়াকুতের, মুকুট শীর্ষস্থ পালকগুলো লাল আকীক পাথরের, ডানাদ্বয় সবুজ রংয়ের। যখন উহা ডানা দ্বয়কে বিস্তার করে তখন উহা মাশরেক ও মাগরেবকে অতিক্রম করে। যখন রাতের তিনভাগের এক ভাগ চলে যায় তখন মোরগটি তার ডানাদ্বয়কে প্রসারিত করতঃ ঝাড়া দেয় এবং চিৎকার দিয়ে মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করতে গিয়ে বলতে থাকে " সুবহানাল মালিকিল কুদ্দু্ছ 'সুবহানাল কারীম।" তখন যমীনের মোরগগুলো উক্ত তাসবীহ ধ্বনির প্রতিধ্বনি করতে থাকে। অতঃপর যখন রাতের অধিক সময় অতিবাহিত হয় তখন মোরগটি আবার উহার ডানাদ্বয় বিস্তারকরত ঝাড় দেয় এবং সরবে আল্লাহ পাকের তাসবীহ পাঠ করতে গিয়ে বলতে থাকে, সুবহানা রাবি্বয়াল আজীম, সুবহানা রাবি্বয়াল আযীযিল কাহহার, সুবহানা রাবি্বয়াল আরশের রাফী। এ সময় পৃথিবীর মোরগগুলো আল্লাহ পাকের তাসবীহ পাঠ করতে থাকে। মহানবী (সাঃ) বলেন, আমি ঐ মোরগটি আবার দেখার জন্য সতত আগ্রহী। সুবহানাল্লাহ!



হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, আরশে আজীমে যে মোরগ, উহার ডানার সংখ্যা আল্লাহ পাকের মাখলুকের সংখ্যার সমান। উহার দরখাস্ত হলো, হে আল্লাহ! আপনি উম্মতে মুহাম্মদির মধ্যে যারা ঈমানদার তাদেরকে ক্ষমা করুন। সাদা বর্ণের মোরগ সম্পর্কে হুযূর (সাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এ ধরনের মোরগ নামাজের জন্য আজান দিয়ে থাকে, ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগরিত করে এবং উহার চিৎকারে অনিষ্টকারী জিন পলায়ন করে।



হযরত কা'ব আল আহবার (রাঃ) বলেন, বেহেশতের অধিকাংশ পাখী হলো মোরগ।



আরাঈস কিতাবে আছে, আল্লাহ পাক হযরত আদম (আঃ)-এর নিকট একটি মোরগ প্রেরণ করেন। ঐ মোরগ যখন ফেরেশতাদের তাসবীহ শ্রবণ করত তখন সে-ও তাসবীহ পাঠ করত। এ শুনে হযরত আদম (আঃ) তাসবীহ পাঠ করতেন। (নুযহাতুল মাজালিস-২ / ১৪০ পৃঃ)



 



হযরত আযরাঈল (আঃ)-এর দর্শন



হযরত রাসূল করীম (সাঃ) বলেন, অতঃপর আমি কুরসীর উপর উপবিষ্ট একজন ফেরেশতা দেখলাম যার হাটু দ্বয়ের মাঝখানে সমস্ত দুনিয়া বিদ্যমান। আর তার হাতে রয়েছে একটি তখ্ত যার মধ্যে তিনি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আছেন, ডানে ও বামে ভ্রুক্ষেপ করছেন না।



জিব্রাঈল আমীন বললেন, হে মালাকুল মওত! আপনি রহমতের নবী ও রাব্বুল আলামীনের হাবীবকে সালাম করবেন না? এ শুনে তিনি আমার দিকে ফিরে চাইলেন এবং বললেন, "আপনার প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা, যাবতীয় কল্যাণ ও সৌভাগ্য আপনার মধ্যে এবং আপনার উম্মতের মধ্যে। অতএব আপনার নয়ন শীতল হোক এবং অন্তর প্রফুল্ল হোক। তখন হুযূর পাক (সাঃ) বললেন, আমাকে অবহিত করুন আপনি কিভাবে মুমিন বান্দার জান কবজ করেন। তিনি বললেন, যখন কোন মুমিন বান্দার পার্থিব জীবনের শেষ ঘণ্টা এবং পারলৌকিক জীবনের প্রথম ঘণ্টা বেজে উঠে তখন আমি আমার সাহায্যকারী ফেরেশতাদেরকে জান্নাতের একগুচ্ছ সুগন্ধি ফুল ও একটি ডাল সহ ঐ বান্দার নিকট পাঠিয়ে দেই। তাঁরা সেই ডাল ঐ বান্দার দু'চক্ষের মাঝখানে রেখে দেন এবং অতি নম্রতার সাথে তার রূহকে বের করতে থাকেন। অতঃপর তাঁর রূহ যখন গলদেশ পর্যন্ত এসে পেঁৗছে তখন আমি তাঁর নিকট অবতীর্ণ হই এবং তাকে সালাম প্রদান করি। অতঃপর তাঁর রূহকে কবজ করত উহা লয়ে আসমানের দিকে গমন করি। সেই ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতাদের যে দলেরই নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তারাই ঐ আত্মার প্রতি অভিনন্দন ও সম্মান জ্ঞাপন করতে থাকেন। এভাবে শেষ পর্যন্ত আমরা মহান আল্লাহর আলীশান দরবারে পেঁৗছে যাই। মহান আল্লাহ তাঁকে দেখে বলেন, মারহাবা, পবিত্র আত্মার প্রতি যিনি ছিলেন পবিত্র শরীরে। ওহে ফেরেশতাগণ! তোমরা আমার সেই বান্দার জন্য ইলি্লয়্যীনদের অন্তর্ভুক্ত করে একখানা পত্র লিখ। এবং তাকে জান্নাতে পেঁৗছে দাও। তখন সেই রূহ তাঁর জন্য তৈরিকৃত জান্নাতের নিয়ামতগুলো দেখতে থাকেন অতঃপর সেই বান্দার রূহকে তার শরীরে ফেরত দেয়া হয়। তখন সে তাঁর গোসলখানা ও সুগন্ধি সাবান ইত্যাদি দেখতে থাকে। জীবিত লোকদের মধ্যে তাঁর নিকট সবচাইতে প্রিয় সব লোক যারা বলে, জলদী তাঁর কাফন ও দাফন কার্য সম্পন্ন কর আর তাদের মধ্যে সবচাইতে অপ্রিয় ও বিরাগভাজন ঐ সব লোক যারা বলে, তোমরা তাঁর জন্য আরো কিছু সময় অপেক্ষা কর অর্থাৎ কাফন দাফন কাজে বিলম্ব কর।



অন্য এক বর্ণনায় আছে, হযরত রাসূল মকবুল (সাঃ) বলেন, অতঃপর আমি একজন ফেরেশতাকে কুরসীর উপর উপবিষ্ট দেখতে পেলাম যার দু'হাটুর মাঝখানে রয়েছে দুনিয়া ও উহার যাবতীয় বস্তু। আর তার হাতে রয়েছে একখানি নূরের ফলক যার মধ্যে তিনি তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আছেন, ডানে ও বামে ঐক্ষেপ করছেন না। তার ডান পাশে আছে এক বিরাট বৃক্ষ। তিনি একবার ঐ বৃক্ষের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং আরেকবার দৃষ্টিপাত করেন সেই নূরের ফলকের প্রতি। আমি জিজ্ঞেস করলাম এ ফেরেশতা কে? জিব্রাঈল আমীন বললেন, ইনি হলেন মালাকুল মওত। এতশ্রবণে আমি তার নিকটবর্তী হলাম এবং তাকে সালাম দিলাম। তিনি তার মস্তকের ইশারায় আমার সালামের উত্তর দিলেন। তখন জিব্রাঈল আমীন ফেরেশতাকে বললেন হে মালাকুল মওত! ইনি হলেন হযরত মুহাম্মদ রহমতের নবী। একথা শুনে উক্ত ফেরেশতা আমার প্রতি অভিনন্দন ও সম্মান জ্ঞাপন করলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা, মংগল ও কল্যাণ আপনার ও আপনার উম্মতের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত কেন্দ্রিভূত থাকবে। তখন আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে তার অসংখ্য নিয়ামত দান করে আমাদের প্রতি বড়ই এহছান করেছেন। অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কিভাবে অসংখ্য সৃষ্টি জীবের আত্মা কবজ করতে সক্ষম হন? তিনি উত্তর দিলেন, আপনি কি দেখেননা যে, গোটা দুনিয়া আমার সামনে বিদ্যমান এবং সমস্ত সৃষ্টি জীব আমার দু'চক্ষের সামনে হাজির। আর এই যে বৃক্ষ ও উহার পত্রগুলো সকল সৃষ্টি জীবের সংখ্যার সমান। প্রত্যেক পত্রে উহার সাথীর নাম লিপিবদ্ধ আছে। আর এই ফলকে রয়েছে সমস্ত সৃষ্টি জীবের নাম। যখন কোন বান্দার জীবিকা শেষ হয়ে যায় তখন তার পত্রটি হলুদ রং ধারণ করে এবং শুকিয়ে যায়। তখন আমি তার নাম ঐ পত্র থেকে মুছে ফেলি। অমনি ঐ বান্দা মৃত্যুবরণ করে।



হাদীছ শরীফে আছে, মহান আল্লাহ যতগুলো রূহ সৃষ্টি করেছেন মালাকুল মওতের ততগুলো হাত আছে। তিনি তার স্থানে বসে জান কবজ করে থাকেন। আল্লামা নাসাফী কৃত যাহরুর রিয়াজ কিতাবে আছে, সৃষ্টি জীবের সংখ্যা অনুযায়ী আযরাঈলের চক্ষু রয়েছে। যখনই তিনি কারো জান কবজ করেন তখই তার একটি চক্ষে অশ্রু প্রবাহিত হয়ে যায়।



রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম মি'রাজে আরো অনেক নিদর্শন দেখতে পেয়েছেন। এখানে সংক্ষিপ্তভাবে কতগুলো বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল মাত্র। যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে সে বিষয়গুলো ইসলামি আলোকে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন।



 



লেখক : ইমাম ও খতিব : বিষ্ণুপুর মদিনা বাজার বাইতুল আমিন জামে মসজিদ, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬। ইহারাই হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রান্তি ক্রয় করিয়াছে। সুতরাং তাহাদের ব্যবসা লাভজনক হয় নাই, তাহারা সৎপথেও পরিচালিত নহে।


 


 


assets/data_files/web

একজন জ্ঞানী প্রশাসক সময়োপযোগী শাসন করেন।


-সিডনি লেনিয়ার।


 


যার মধ্যে বিনয় ও দয়া নেই, সে সকল ভালো গুণাবলি হতে বঞ্চিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৬,৪৪,৪৩৯ ১৩,২১,৯৪,৪৪৭
সুস্থ ৫,৫৫,৪১৪ ১০,৬৪,২৬,৮২২
মৃত্যু ৯,৩১৮ ২৮,৬৯,৩৬৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬৭১৭
পুরোন সংখ্যা