চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৮ এপ্রিল ২০২১, ২৫ চৈত্র ১৪২৭, ২৪ শাবান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
আমাদের রাজনীতিই হলো মানবসেবা
শেখ মোঃ জয়নাল আবদিন
০৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি অনেকটা ভয়াবহতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার যে পরিমাণ ছিল, বর্তমান সময়ে তার চেয়ে অধিক মাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/মাননীয় জেলা প্রশাসক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রাত ৮টার মধ্যে শপিং মল, মার্কেট দোকানপাট বন্ধসহ জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত লোকজনদেরকেও রাত ৮টার পর বাসা থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি ৫ এপ্রিল ২০২১ থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।



গতবছর করোনা রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ ফেসবুক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়ায় যেভাবে প্রচার হয়েছে, করোনা আতঙ্কে সারাদেশ এমনিতেই কাবু হয়ে গিয়েছিল। গত বছর করোনার প্রাথমিক পর্যায়ে একাত্তর টিভির একটি টকশোতে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিষয় ছিল করোনা পজিটিভ রোগী মারা গেলে তাদেরকে কীভাবে দাফন, সৎকার বা সমাহিত করা হবে।



ডাক্তার সাহেব বললেন, করোনা পজিটিভ নিয়ে কোনো লোক মারা গেলে তার দেহে কোটি কোটি ভাইরাস বিদ্যমান থাকে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ)-এর মতে, মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর আর ভাইরাস সক্রিয় বা জীবিত থাকে না। তখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন, সৎকার বা সমাহিত করতে পারবে। কিন্তু সঞ্চালক বারবার ডাক্তারকে প্রশ্ন করেন, আবেগের জায়গা থেকে সরে এসে আমরা যদি করোনায় মৃত সকল মরদেহ পুড়িয়ে দেই, তাহলে কি বেশি নিরাপদ হবে না? ডাক্তার সাহেব তাকে বারবার বুঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, এটা আমার বিষয় নয়। একজন মৃত মুসলমানকে পোড়াবে এ কথা আমি বলতে পারি না, এটা দেশের ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের বিষয়। যে মুহূর্তে একজন মুসলমানের মৃতদেহ পোড়ানো হবে, না গর্তে ফেলে চাপা মাটি দেয়া হবে, কোনো সিদ্ধান্তে পেঁৗছা কঠিন বিষয় ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে মানবতার চরম দুর্দিনে দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে মানবতাবাদী নেতা পীরসাহেব চরমোনাই ঘোষণা দিলেন, মুসলমানের মরদেহ এভাবে অপবিত্র এবং অপমানজনক অবস্থায় দাফন করতে দেয়া যায় না। প্রয়োজনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা তাদের দাফনের দায়িত্ব নিবে। কারণ সব লাশই তখন প্রায় বেওয়ারিশ ছিল। আলহামদুলিল্লাহ পীরসাহেব চরমোনাইর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশে কয়েকশ লাশ দাফন করা হয়। শুধু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমেই ১৫৮টি মরদেহ কাফন-দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আর সৎকার ও সমাহিত করার কাজে সহায়তা করা হয়েছে ৬ জন হিন্দু এবং ৩ জন খ্রিস্টান ভাইয়ের মৃতদেহ।



করোনা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি আতঙ্ক ও অদৃশ্য মহাশক্তির নাম। যা দুনিয়ার সকল পরাশক্তিকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। তাই বিশ্ববাসী আতঙ্কগ্রস্ত শতভাগ। করোনা নামক মহামারি নিয়ে মানবজাতি একবছর দুনিয়াবি সকল কর্মকা- পরিচালনা করার পর তার চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ এ সময়ে গত বছরের চাইতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি হওয়ার পরেও আতঙ্ক কমে গেছে শতকরা নব্বই ভাগ। করোনা সেফটির জন্যে শুধু মাস্ক ব্যতীত অন্য কোনো পোশাক নজরে মোটেও পড়ছে না। কাফন-দাফনের বিষয়টাও অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। করোনা নিয়ে সরকারি কর্মতৎপরতা যত বৃদ্ধি পায় সাধারণ মানুষও অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত হয় এবং এর অধিকাংশ প্রভাবটা এসে পড়ে আমাদের উপর। কয়েক মাস কাফন-দাফন থেকে কিছুটা অবসরে থাকলেও সপ্তাহ খানেক থেকে কাফন-দাফনের ফোন আসতেই থাকে। প্রশাসন, স্বাস্থ্যবিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ পরিচিত জন সবাই বলেন, ভাই! প্রস্তুত হন, আবার আপনাদের সামনে বড় কাজ আসছে।



আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে ছিলো, আছে এবং থাকবে। যেহেতু দেশের শোষিত বঞ্চিত অসহায় মানুষগুলো নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি এবং এদেশের মানুষও আমাদের উপর আস্থায় বুক বেঁধে আছে। রাজনীতিতে মসৃণ কোনো পথ তৈরি না হওয়ার কারণে তা হয়তো প্রকাশ পায়নি।



'আমাদের রাজনীতিই হলো মানবসেবা'



আমার একটু পরামর্শ হলো, গত বছরের করোনার আতঙ্ক আর বর্তমান সময়ের করোনার আতঙ্ক একমাপে দেখলে হবে না। কোনো ব্যক্তি যে রোগেই মারা যাক না কেন মৃতের প্রতি স্বজন এবং প্রতিবেশীর হক রয়েছে। তার মধ্যে গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন করে চিরবিদায় দেয়া একটি। গত বছরের বিষয়টি ছিলো পৃথিবীর ইতিহাসে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাবা-মা মারা গেলে সন্তান পাশে থাকবে না, সন্তান মারা গেলে বাবা-মা পাশে থাকবে না, মানুষের সমাজে এরূপ চিত্র দেখতে হবে তা কেউ কোনোদিন কল্পনা করেনি। তাই দেশ এবং জাতিকে চরম সংকট থেকে উদ্ধার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার নিমিত্তে, দেশের ভারসাম্য ঠিক রাখা এবং মানব জাতির মানবতাকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্যই প্রতিকূল পরিবেশে আমাদের মাঠে নামা।



শত লাশ দাফন হওয়ার পরই কেবল কিছু কিছু স্বজন আমাদের কাছাকাছি আসতে সাহস পায়। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে স্বজনরা আমাদের কাজে কিছু সহকারী হয় এবং জানাজায়ও লোক বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। অক্টোবর-নভেম্বর ২০২০ থেকে তো করোনা উপসর্গ নিয়ে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে স্বজন ও প্রতিবেশীরাই তা দাফন সম্পন্ন করে। তখন আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করেছিলাম, আল্লাহ! মানুষের মনে কিছুটা হলেও সাহস জোগাতে পেরেছি। আর মনে হয় জীবনে পিপিই পরতে হবে না, খাটও বহন করতে হবে না।



কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্ত, আমাদের দ্বারা মনে হয় আরো কিছু খেদমত নেবেন। আমার অনুরোধ হলো, আপনজনের মৃতদেহ আপনি দাফন করাটাই উত্তম, মৃতের আত্মার শান্তি এবং মাগফিরাতের জন্য অধিক কার্যকর। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করুন। তারপর একান্ত অসহায় ও নিরূপায় হয়ে গেলে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর স্বেচ্ছাসেবক টিম আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ।।



ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি জরুরি জ্ঞাতব্য বিষয় :



করোনা প্রাদুর্ভাব অধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই বিগত দিনের ন্যায় সেবার মানসিকতা নিয়ে চাঁদপুর জেলার আওতাধীন সকল উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক টিমকে প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। যেখানেই লাশ দাফন হবে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে নোট করে জেলা টিম প্রধানের ম্যাসেঞ্জারে পাঠাতে হবে। যেমন :



(১) মৃত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা, বয়স।



(২) তার করোনা উপসর্গ ছিল কিনা।



(৩) কোথায় মারা গেছে-হাসপাতালে না বাড়িতে।



(৪) কার আহ্বানে আপনারা দাফনে গিয়েছেন-স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি না মৃতের পরিবার।



(৫) টিম সদস্যদের মধ্যে ঐ দাফনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন শুধু তাদের নাম ও সাংগঠনিক পদবী।



(৬) সম্ভব হলে লাশ বহন অথবা জানাজার একটি ছবি ডকুমেন্ট হিসেবে পাঠাতে পারেন।



(৭) দাফন কয়টায় সম্পন্ন হলো তা উল্লেখ করতে হবে।



(৮) কাফন-দাফনের কোনো প্রকার বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না।



আমাদের সবাইকে একমাত্র আল্লাহর জন্য কাজ করার তৌফিক দান করুন।।



লেখক : শেখ মোঃ জয়নাল আবদিন, সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা ও টিম প্রধান, কাফন-দাফনে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক টিম, চাঁদপুর জেলা। joynal.abdin2007@gmail.com 01819 074275



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৮। আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রহিয়াছে যাহারা বলে, 'আমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান আনিয়াছি' কিন্তু তাহারা মু'মিন নহে;


৯। আল্লাহ এবং মু'মিনগণকে তাহারা প্রতারিত করিতে চাহে। অথচ তাহারা যে নিজদিগকে ভিন্ন কাহাকেও প্রতারিত করে না, ইহা তাহারা বুঝিতে পারে না।


 


এমন প্রাসাদ তৈরি করো না, যা তুমি বাসযোগ্য করতে পারবে না।


_আল-ফকরি।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কর্তৃক অভিনন্দিত হবেন।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৬,৪৪,৪৩৯ ১৩,২১,৯৪,৪৪৭
সুস্থ ৫,৫৫,৪১৪ ১০,৬৪,২৬,৮২২
মৃত্যু ৯,৩১৮ ২৮,৬৯,৩৬৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯৩৪৫
পুরোন সংখ্যা