চাঁদপুর। বুধবার ২৬ অক্টোবর ২০১৬। ১১ কার্তিক ১৪২৩। ২৪ মহরম ১৪৩৮
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা শত ছাড়ালো : চাঁদপুরে আরো ১৪ জনের করোনা শনাক্ত, জেলা মোট আক্রান্ত ১৮০
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা’

২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



২৪। মূসা বলিল, ‘তিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।’

২৫। ফিতর ‘আগুন তাহার পরিষদবর্গকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, ‘তোমরা শুনিতেছ তো!’

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


পরিশ্রমী লোকের নিকট সবচেয়ে সুখপ্রদ জিনিস হচ্ছে ঘুম।       

-জন বুলিয়ান।


ধর্মার্থে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদের রক্ত অপেক্ষা বিদ্বান ব্যক্তির কলমের কালি অধিক পবিত্র।


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুরে ভাসমান সবজি চাষে কৃষকের সাফল্য
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ভাসমান সবজি চাষে কৃষকরা সাফল্য পেয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর যেখানে ফসল হয় না এবং জলাবদ্ধতা থাকে, সেখানে ভাসমান সবজি চাষ ও সমম্বিত খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানিতে মাছ চাষ এবং হাঁস পালনে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে রামপুর, শাহমাহমুদপর ইউনিয়নে ভসমান সবজি চাষ ও মৈশাদীতে পানিতে মাছ চাষ এবং হাঁস পালনের সমম্বিত খামার।



জলজ উদ্ভিদ কচুরিপানার ধাপে ভাসমান সবজি ও মসলা চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে। বন্যা ও জলাবদ্ধ প্রবণ এলাকায় পরিবর্তন অভিযানের কৌশল হিসেবে ভাসমান সবজি ও মসলা উৎপাদন প্রযুক্তিতে কাজ করছে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর। এতে কৃষকরা অল্প পুঁজিতে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে।



বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের বিভিন্ন কৃষি জমি ও খাল-বিল পানির নিচে চলে যায়। এ সময় কৃষক-কৃষাণীর কাজ থাকে কম। চাঁদপুরে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনেরর প্রভাব মোকাবেলায় ভাসমান সবজি ও মসলা উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান স্তূপ তৈরি করে সবজি ও মসলা চাষ করে বিকল্প আয়ের সংস্থান করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চাষাবাদের সঙ্গে কৃষকরা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। ভসমান বেডের সবজিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। বাজারে সুস্বাদু ও নিরাপদ এ সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে কৃষক এ সবজির বেশি দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন।



চাঁদপুর সদর কৃষি অফিস জানিয়েছেন, এ প্রকল্পের আওতায় ৩৫ হেক্টরের মতো ভাসমান স্তূপে সবজি ও মসলা চাষ করা হয়েছে। এখানে কৃষকরা ভাসমান স্তূপ তৈরি করে ঢেঁরস, গিমাকলমি, পুঁইশাক, বরবটি, শসা, করলা, বাঙ্গি, হলুদ, লালশাক, ডাঁটাশাক ইত্যাদি ফসল আবাদ করেছেন। এ বছর তারা শুরু করে সফলতা দেখিয়েছে এবং সবজি উৎপাদনে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করেছে। তাদের দেখাদেখি অন্যরা এগিয়ে আসছে।



শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বিমলেরগাঁওয়ের কৃষক ও ইউপি সদস্য মাহমুদ সেলিম বকাউল বলেন, আমি ১৪ টি ভাসমান স্তূপ তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি। একটি বেডেই কয়েকটি ধরনের সবজি চাষ করেছি। এতে আমার পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করেছি। এর আগে আমরা এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতাম না। আমাদের এলাকায় সরকার জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ভাসমান সবজি ও মসলা উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ করে। আমরা এ প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কচুরিপানা স্তূপে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছি। মাটিবিহীন এসব চাষাবাদ দেখতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বিমলেরগাঁও গ্রামে ছুটে আসে। গত ২০ অক্টোবর শাহরাস্তি থেকে প্রায় ৬০ জন কৃষক-কৃষাণী এ ভাসমান সবজির স্তূপ দেখে গেছে।



রামপুর ইউনিয়নের কৃষক লোকমান মিয়া বলেন, এক শতক পরিমাণ স্তূপ তৈরি করতে আমাদের প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আর আয় হয় প্রায় ৮ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি শতক স্তূপ থেকে লাভ থাকে ৪ হাজার টাকা। ভাসমান স্তূপে সবজি উৎপাদন শেষে ওই স্তূপে জমিতে ছড়িয়ে দিয়ে আমরা জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করি। শীত মৌসুমে স্তূপে বিনা চাষে ও রাসায়নিকমুক্ত সবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছি।



হামানকদ্দি গ্রামের কৃষক দেববনাথ বিশ্বাস বলেন, ভাসমান সবজি চাষ আমাদের আর্থ- সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই আধুনিক পদ্ধতিতে স্তূপে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছি। বাজারে এ সবজির চাহিদা ও দাম বেশি। বেশি দামে সবজি বিক্রি করে আমরা লাভবান হচ্ছি।



মৈশাদী ইউনিয়নের হমানকর্দ্দি বস্নকের উপ- সহকারী কৃষি অফিসার বাবু খোকন চক্রবতী বলেন, আমি এ বস্নকে অনেক বছরই কাজ করছি। এলাকায় প্রতিবছরই সবজি চাষ হয়। কয়েক বছরই বছরই ভাসমান স্তূপে সবজি চাষ হচ্ছে। আমার বস্নকের কৃষকরা খুবই কর্মঠ। কৃষি বিভাগের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় আধুনিক ভাসবান চাষাবাদের দিকে ঝুঁকেছে। এখানে বর্ষার সময় ৩-৪ ফুট পানি থাকে। কৃষকরা মাটির স্তূপ উচু করে শাক সবজি উৎপাদন করে।



চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার দিল আতিয়া পারভীন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান সবজি চাষ একটি চমৎকার সমাধান। চাঁদপুরে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা বাড়িয়ে সবজি ও মসলার উৎপাদন প্রায় ৫-৬ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ সবজির আবাদ আবাদ সমপ্রসারিত করা হলে বর্ষাকালে সবজির মোকাবেলা করা সম্ভব।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৪০০৬
পুরোন সংখ্যা