চাঁদপুর। বুধবার ২৩ নভেম্ববর ২০১৬। ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২২ সফর ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৮। যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন। 


৭৯। তিনিই আমাকে দান করেন আহার্য ও পানীয়। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় বন্ধু। 


                               -দাওয়ানি।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।   


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুরে উচ্চ ফলন উৎপাদন জিংক সমৃদ্ধ ধান কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে নেমেছে কৃষি বিভাগ
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
২৩ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরে হার্ভেস্ট প্লাস, বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬-২০১৭ মৌসুমের জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান ৬২, ৬৪ ও ব্রিধান ৭৪ মিনিকেট প্রদর্শনীর উপজেলাওয়ারী বোরো প্রদশর্নীর বিভাজন। উচ্ ফলন উৎপাদন জিংক সমৃদ্ধ ধান চাঁদপুরে। কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে নেমেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। চাঁদপুরের ৮ উপজেলার কৃষকদের মাঝে চাঁদপুর সদরে মিনিকেট প্রদর্শনীর (জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান-৬৪) ১০ জন। মতলবে উত্তরে ২০ জন, মতলব দক্ষিণে ১০ জন, হাজীগঞ্জ ১০ জন, শাহরাস্তি ১০ জন, কচুয়া ২০ জন, ফরিদগঞ্জ ১০ জন, হাইমচর ১০ জন। মিনিকেট প্রদর্শনী জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান ৭৪ কৃষকদের মাঝে চাঁদপুর সদরে ২০ জন, মতলব উত্তর ২০ জন, মতলব দক্ষিণ ১০ জন, হাজীগঞ্জে ২০ জন, শাহরাস্তি ১০ জন, কচুয়া ১০ জন, ফরিদগঞ্জ ১০ ও হাইমচর ১০ জন। বীজ সহায়তা জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান ৬২ কৃষকের মাঝে চাঁদপুর সদরে ৪০ জন, মতলব উত্তর ৪০ জন, মতলব দক্ষিণ ২০ জন, হাজীগঞ্জে ৩০ জন, শাহরাস্তি ২০ জন, কচুয়া ২০ জন, ফরিদগঞ্জ ২০ ও হাইমচর ২০ জন কৃষককে এ উচ্চ ফলন উৎপাদনে বীজ বিতরণ করা হবে।



নতুন উদ্ভাবিত ১০ জাতের ধান নিয়ে উচ্ছ্বসিত ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, এর মাধ্যমে ধান ও চালের উৎপাদনে ঘটতে যাচ্ছে নতুন বিপ্লব। এসব ধানের মধ্যে কোনো কোনোটি আগে উদ্ভাবিত যে কোনো ধানের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় খরা সহনশীল, কোনোটি লবণাক্ততা সহনশীল; কোনোটি আবার সহ্য করতে পারবে বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা। এমনকি একই সঙ্গে বন্যা ও লবণসহিষ্ণু ধানও উদ্ভাবিত হয়েছে এ বছর। আছে ভয়াবহ বস্নাস্ট রোগ প্রতিরোধী ও উচ্চমাত্রার জিংকযুক্ত ধান। কোনোটিতে আছে অন্য জাতগুলোর তুলনায় নতুন সুগন্ধি। উৎপাদন দেখে বিজ্ঞানীরাও অভিভূত। কোনো কোনো ধানের উৎপাদন তো হেক্টর প্রতি ৯ টনও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম।



 



দেশের বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ৭৮টি জাতের বিধান উদ্ভাবন করেছেন। নতুন ১০টি জাত হলো তাঁদের সর্বশেষ সংযোজন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সরকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এবারই প্রথম নতুন জাতের এসব ধান চাষাবাদের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আগেও কোনো কোনো জায়গায় মাঠে এসব জাত দেখা গেছে, তবে তা ছিলো পরীক্ষামূলক চাষাবাদ। এবার সরাসরি চাষের জন্যে লাগানো ধান আর কয়েক দিনের মধ্যেই কাটা শুরু হবে।



 



বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মোঃ শাহজাহান কবীর বলেন, 'চলতি বছরে রিলিজ হওয়া চারটি নতুন জাতের ধানের ফলন দেখে সাধারণ কৃষকরা তো বিস্মিত হয়েছেই, আমরা বিজ্ঞানীরাও অভিভূত। কোথাও কোথাও ফলন তো পরীক্ষামূলক সময়ের চেয়েও ভালো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাতের ধান সবচেয়ে বেশি বিস্ময়কর।'



 



নতুন উদ্ভাবিত বোরো জাতের হাইব্রিড-৫ ধানও এবার চাষের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতটি এখন পর্যন্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ ফলনশীল। হেক্টর প্রতি এর ফলন সাড়ে আট থেকে ৯ টন পর্যন্ত হতে পারে; যা কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বেও বেশ বিরল।



 



ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মোঃ শাহজাহান কবীর বলেন, 'সামপ্রতিক খরার মধ্যে উত্তরাঞ্চলে বি-৭১-এর ফলন দেখতে গিয়েছিলাম। জমিতে গিয়ে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না এত ফলন কী করে হলো। কৃষকরাও অবাক।'



 



ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক প্রধান ড. মোঃ ইব্রাহিম বলেন, 'বি-৭৩ জাতের নতুন ধানের ৮০০ কেজি বীজ দিয়েছি চাষীদের মধ্যে। এতেই যে ফলন দেখছি, তা অবাক হওয়ার মতো। এবার কেবল সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটেও এ ধান দেয়া হয়েছে। কৃষকরা সবাই এখনো এ ধান সম্পর্কে জানতে পারেনি। সামনে হয়তো এর আরো প্রসার ঘটবে।'



 



বস্নাস্ট রোগ প্রতিরোধী ধান : গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে সফল গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে মধ্যম পর্যায়ের বস্নাস্ট রোগ প্রতিরোধী ধান বি-৭৪। বোরো জাতের এ ধান আধুনিক উফশী ধান। এ জাতের ধানের চাল দেখতে মাঝারি মোটা আকৃতির। ধানটির জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৪৭ দিন। এ জাতের ধানের চালে ৮.৩ শতাংশ প্রোটিন এবং প্রতি কেজি চালে ২৪ দশমিক ২ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে। প্রজনন পর্যায়ে ২১ থেকে ২৮ দিন বৃষ্টি না হলেও এর ক্ষতি নেই। প্রতি হেক্টরে এ ধান ৭ দশমিক ১ থেকে ৮ দশমিক ৩ টন পর্যন্ত ফলন দেয়। বীজ বপনের সময় ১৫-৩০ নভেম্বর।



 



বীজ সহায়তা জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান ৬২ : জিংক সমৃদ্ধ বি ধান ৬২ এর বাম্পার ফলন হয়। প্রতি হেক্টরে এ ধান ৫.৭ টন উৎপাদন হয়। এ জাতের ধানের আবাদ সম্প্রসারণে এ বছর জেলায় প্রদর্শনী প্লট ২১০টি করা হবে। আশা করা যায়, এ ধরনের বাম্পার ফলনে কৃষকরা লাভবান হবে।



জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান ৬৪ : জিংক সমৃদ্ধ বি ধান ৬৪ মিনিকেট প্রদর্শনী একটি উৎপাদনশীল ফসল। প্রকল্পের সহায়তায় ১০০ জন কৃষকের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান ৬৪ বীজ ও পযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রতি বিঘায় এ জাতের ২২-২৩ মণ ফলন পাওয়া যায়। অন্যান্যদের ধানের চেয়ে ব্রিধান ৬৪ ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা এ ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছে।



 



হেক্টর প্রতি উৎপাদন সাড়ে সাত টন : বি-৭২ জাতটি বিআর ৭১৬৬-৩-৫-৩ ও বিআরআরআই ব্রিধান ৩৯-এর সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত। এটি একাধারে অধিক ফলনশীল ও জিংক সমৃদ্ধ আমন জাতের ধান। চালের আকৃতি লম্বা, মোটা ও সাদা। এ জাতের ধানের জীবনকাল ১২৫ থেকে ১৩০ দিন। স্বাভাবিক চাষাবাদের মাধ্যমে প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ৭ টন এবং অধিকতর পরিচর্যার মাধ্যমে হেক্টর প্রতি সাড়ে সাত টন ধান পাওয়াও সম্ভব। বীজ বপনের সময় ২৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত। ধান কাটার সময় ১ থেকে ৩০ নভেম্বর।



 



খরায়ও টিকে থাকবে : ব্রি-৭১ জাতের ধানটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। ২০১৩ সালে দেশের ব্রিভিন্ন এলাকায় খরাপ্রবণ জমিতে চাষাবাদের মাধ্যমে এ জাতের আঞ্চলিক উপযোগিতা যাচাই করা হয়। এতে সফলতা পেয়ে সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এ জাতের ধান দেখতে মাঝারি মোটা আকৃতির। জীবনকাল ১১৪ থেকে ১১৭ দিন। খরা সহনশীল জাতটি প্রজনন পর্যায়ে ২১ থেকে ২৮ দিন বৃষ্টি না হলেও টিকে থাকবে। অতি খরা বা মাটির আর্দ্রতা ২০ শতাংশের নিচে থাকলেও প্রতি হেক্টরে সাড়ে তিন টন, মধ্যম মানের খরায় চার টন এবং খরা না থাকলে পাঁচ থেকে ছয় টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। বীজ বপনের সময় ৫ থেকে ১৫ জুলাই, ধান পাকা ও কাটার সময় ১ থেকে ১৫ নভেম্বর।



 



সুগন্ধভরা : সুগন্ধি এ জাতের নাম বি-৭০। আমন জাতের নতুন এ ধানের বৈশিষ্ট্য হলো এটি অধিক ফলনশীল, লম্বা, চিকন ও সুগন্ধি। রং সাদা। এটি প্রতি হেক্টরে ফলন হয় ৪ দশমিক ৮ টন। জীবনকাল ১৩০ দিন, যা অন্য সব ধানের চেয়ে ১০-১৫ দিন কম। স্বল্পমেয়াদি এ ধান কাটার পর সহজেই ওই জমিতে রবি শস্য আবাদ করা যায়। এ জাতের ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেক কম। এ ধানের বীজ বপনের সময় ২৯ জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে। ধান কাটার সময় ১০ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে।



 



তবে কোনো কোনো বিজ্ঞানী বেশি ফলনের পাশাপাশি এসব ধানে খাদ্যমান ও পুষ্টিগুণের দিকে আরো নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পুষ্টি ও শস্য মান বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, সব ধানে খাদ্যমান ও পুষ্টিগুণ একই রকম থাকবে বা হবে, এটা বলা যায় না। একেক জাতের ধানে একেক মাত্রায় গুণাগুণ থাকে। তবে যেকোনো ধান উদ্ভাবনের জন্যে গবেষণার সময় প্রয়োজনীয় মাত্রার গুণগত মান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। যদিও অনেক সময় দেখা যায়, পরবর্তী সময়ে ওই মানের হেরফের ঘটে থাকে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৩৬৯৫
পুরোন সংখ্যা