চাঁদপুর। রোববার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ৭ ফাল্গুন ১৪২৩। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটোয়ারীর মাতা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে....রাজেউন) || কচুয়ায় সিংআড্ডায় হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড **ফরিদগঞ্জের কড়ৈতলীতে কুড়িয়ে পাওয়া পাথর নিয়ে তোলপাড়**টিলাবাড়ি এলাকায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২১। ‘সে উপযুক্ত কারণ না দর্শাইলে আমি অবশ্যই উহাকে কঠিন শাস্তি দিব অথবা যবেহ্ করিব।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

assets/data_files/web

সৌভাগ্যবান হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া ভালো।


                      -ডাবলিউ জি বেনহাম।

স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর। 


ফটো গ্যালারি
ঋণভারে দিশেহারা কৃষক
হামিদ বিশ্বাস
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

দেশের বেশিরভাগ কৃষকই এখন ঋণভারে জর্জরিত। তারা ফসল উৎপাদনে নেয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। উচ্চ সুদ আর উৎপাদন খরচে তারা লাভ করতে পারছে না। ফসলে লোকসান দিয়ে তারা আবার ঋণনির্ভর হয়ে পড়ছে। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা না থাকায় খেলাপির পরিমাণ বাড়ছে। বকেয়া আদায়ে লাখ লাখ কৃষকের বিরুদ্ধে দায়ের কয়েছে সার্টিফিকেট মামলা।

সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন, ঋণে উচ্চ সুদ, কমিশন বাণিজ্য, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়া ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ দেয়ার কারণে কৃষি খাতে খেলাপির পরিমাণ বাড়ছে। এতে একদিকে ঋণ খেলাপির যন্ত্রণা, অন্যদিকে সার্টিফিকেট মামলার দৌরাত্ম্য; সব মিলিয়ে দিশাহারা হয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। গত ডিসেম্বর শেষে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ খেলাপি হয়েছে। এর বিপরীতে কৃষকের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ লাখ সার্টিফিকেট মামলা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কৃষি খাতে আগে খেলাপি ঋণের কথা শোনা যায়নি। এখন বড় ঋণের পাশাপাশি ছোট ঋণগুলোও খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। খেলাপির ধরন এবং পরিমাণ দেখে মনে হয়, এসব ঋণ যাচাই-বাছাই করে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রসঙ্গে কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বড় খেলাপিরা ছাড় পাচ্ছে। অথচ সামান্য টাকার জন্য কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। এটা অযৌক্তিক। এ ছাড়া কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের জন্য ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ। ঋণ পেতে কমিশন দিতে হয় গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ। সবমিলিয়ে ২০ শতাংশ অর্থ খরচ করে ঋণ নিয়ে বেশিরভাগ কৃষক হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত। যেমন কেউ ১ লাখ টাকা কৃষি ঋণ নিলে ১০ শতাংশ সুদ বাবদ দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। ঋণ নেয়ার সময় দালাল এবং ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের দিতে হয় ১০ শতাংশ কমিশন বাবদ আরও ১০ হাজার টাকা। এতে একজন কৃষক ঋণ নেয়ার শুরুতেই ১ লাখ টাকার জায়গায় পাচ্ছেন ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু তাকে উলি্লখিত ঋণের বিপরীতে শোধ করতে হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বছর শেষে উৎপাদিত পণ্যের যৌক্তিক দাম না পাওয়ায় ব্যাংক ঋণ শোধ করতে পারছে না কৃষকরা। এ ছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে দেয়া বেশিরভাগ ঋণের কোনো হদিস নেই। ফলে গণহারে খেলাপি হচ্ছে কৃষি ঋণ।

তবে ঋণ আদায় কম হলেও প্রতিবছর ঋণ বিতরণ বাড়ছে কয়েকগুণ হারে। এখানেও কৃষকের মাথায় হাত। আগের ঋণ কৃষক পরিশোধে ব্যর্থ হলেও নতুন করে সমপরিমাণ ঋণ দিতে হচ্ছে কৃষককে। নতুন ঋণ থেকে আবার কমিশন নিচ্ছে এক শ্রেণীর অসৎ লোভী কর্মকর্তারা। কয়েক দিনের মাথায় নতুন অনুমোদিত ঋণ দিয়ে অতীতের ঋণ পরিশোধ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নতুন ঋণের সঙ্গে কমিশনসহ কৃষকের নামে বকেয়ার পরিমাণটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ব্যাংক এবং ব্যাংকার লাভবান হলেও এক পর্যায়ে ঘরছাড়া হয় কৃষক। বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি ঋণ বিতরণে এখন বড় ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। দুর্নীতির মাধ্যমে দেয়া অধিকাংশ ঋণ যাচাই-বাছাই করা হয় না। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে কৃষি ব্যাংকে মোটা দাগে দুর্নীতি হয়েছে। সে কারণে কৃষি খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেকই কৃষি ব্যাংকের। যা প্রায় ৪৯ শতাংশ। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি ব্যাংকসহ পুরো কৃষি ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে কৃষি খাতে বিতরণ হওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। যা কৃষি খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা না থাকার পরও খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, কৃষি খাতের সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে। গত বছর ব্যাংকটি ১৩ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা কৃষি খাতে মোট খেলাপি ঋণের ৪৯ শতাংশ।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা করছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে শুধু গত নভেম্বরই ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা আদায়ে ৪৯৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত নভেম্বর পর্যন্ত কৃষকের বিরুদ্ধে ৫৬৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা আদায়ের জন্য সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ১৮ লাখ ২৯ হাজার ২২টি মামলা করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই সার্টিফিকেট মামলা। সূত্র : যুগান্তর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৩৫৮৬
পুরোন সংখ্যা