চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৩ মার্চ ২০১৭। ৯ চৈত্র ১৪২৩। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত  || ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৮। তাহাদের উপর ভয়ঙ্কর বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, ভীতি প্রশিতদের জন্যে এই বর্ষণ ছিল কত নিকৃষ্ট।


৫৯। বল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই এবং শান্তি তাঁহার মনোনীত বান্দাদের প্রতি! শ্রেষ্ঠ কি আল্লাহ, না উহারা যাহাদিগকে শরীক করে তাহারা?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা কর তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।   -জেমস এ, গ্যারফিল্ড।


অভ্যাগত অতিথির যথাসাধ্য সম্মান করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।


কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বর্তমান সরকার
ড. মোঃ শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া
২৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

কৃষি এ দেশের অর্থনীতির এক অতি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বর্তমানে দেশে জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অর্জিত হয় কৃষি খাত থেকে। তার চেয়েও বড় কথা কৃষি এ দেশের জনমানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা প্রদানের প্রধানতম উৎস। এখনও এ দেশের বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থান হয়ে থাকে কৃষিকে অবলম্বন করেই। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রায় মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে কৃষিক্ষেত্রে যে অধিকতর মনোযোগ দিতে হবে শুরুতেই ২০০৯ সালে নির্বাচিত হয়ে মহাজোট সরকার সেটি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। গত অর্ধযুগ ধরে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা বর্তমান সরকারের কৃষি ভাবনার এক বাস্তব প্রতিফলন।

শুরুতেই খাদ্যশস্য উৎপাদনে গত অর্ধযুগের ধারাবাহিক সাফল্যের কথা তুলে আনা যুক্তিসঙ্গত হবে। ২০০৮-২০০৯ সালে আমাদের চাল, গম ও ভুট্টার মোট উৎপাদন ছিল ৩৩৩.০৩ লাখ টন। এরপর থেকে প্রতি বছর খাদ্যশস্যের উৎপাদন বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধবনীতি ও কর্মকা-ের ফলশ্রুতিতে ক্রমে বেড়েছে। গত ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ সালে যথাক্রমে ৩৪৫.৯৬, ৩৬০.৬৫, ৩৬৮.৩৩৯ ও ৩৭২.৬৬ লাখ টনে উন্নীত হয়। আলু উৎপাদনের কথা যদি ধরা হয় তাহলে দেখা যায় যে, ২০০৮-০৯ থেকে ২০১২-১৩ সনে এর উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭.৪৬ লাখ টন থেকে ৮৬.০৩ লাখ টনে। এ সময়কালে পেঁয়াজ, গম ও সবজির উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে।

মূলত চারটি প্রধান কারণে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে গত অর্ধযুগ ধরে। এক, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় ফসল আবাদের জন্য কৃষক এখন বেশি পরিমাণ গুণগতমান সম্পন্ন ফসলের বীজ পাচ্ছেন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিএডিসি থেকে বিভিন্ন ফসলের বীজ সরবরাহ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৫৯ টন যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান সরকারের আমলে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৩ টনে। এ বৃদ্ধি চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত হলেও তা আড়াই গুণের বেশি। দুই, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এ সময়কালে অনেক বেশি সংখ্যক জাত উদ্ভিদ প্রজননবিদরা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন আর অনেক বীজ এরই মধ্যে কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন ফসলের মোট ১৪৫টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। তিন, সারের মূল্য হ্রাস ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় কৃষক স্বল্প মূল্যে সুষম সার প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছেন। ২০০৯ সনে মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে সরকার নন-ইউরিয়া সারের মূল্য তিনবার হ্রাস করেছে। ২০০৯ সনে যেখানে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি এর কেজি প্রতি মূল্য ছিল যথাক্রমে ৮৭, ৭০ ও ৯০ টাকা, ২০১০ সালের অক্টোবরে এসে তা যথাক্রমে হ্রাস করা হয়েছে ২২, ১৫ ও ২৭ টাকায়। অন্যদিকে, ২০১৩ সনের আগস্ট মাসে এসে ইউরিয়া সারের মূল্য কৃষক পর্যায়ে কেজি প্রতি ১৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে একটি টেকসই সার বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে যার মাধ্যমে কৃষকের কাছে সব ধরনের সার সময় মতো পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চার, বেসরকারি বীজ আমদানিকে উৎসাহিত করায় দেশে ভুট্টা, সবজি, গোলআলু এবং পাট বীজ সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বীজ ব্যবস্থাকে বিশেষ সুযোগ প্রদান করায় প্রাইভেট সেক্টর দেশে প্রচুর সবজি বীজ আমদানির মধ্য দিয়ে কৃষকের কাছে সবজি বীজের যোগান বৃদ্ধি করতে পেরেছে। ফলে দেশে মুক্ত পরাগী বীজের পাশাপাশি হাইব্রিড সবজি বীজের সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সবজি উৎপাদন বেড়েছে।

বর্তমান সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য হলো কৃষি গবেষণাকে অগ্রাধিকার প্রদান। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ঘঅচঞ-এর আওতায় পরিচালিত প্রতিটি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ল্যাব উন্নয়নসহ নানামুখী গবেষণা পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দেশে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে আণবিক জীববিদ্যা সম্পর্কিত আধুনিক গবেষণাগার গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে পাটের নানা রকম প্রতিকূলতাসহিষ্ণু পাট জাত উদ্ভাবনের গবেষণা চলছে।

দেশে ফসল কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যে বর্তমান সরকার আরও যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ আরও গতিশীল হয়েছে। 'খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি' প্রকল্পের মাধ্যমে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে ২৫% কম মূল্যে ৩৫টি জেলায় ৩৮ হাজার ৩২৪টি বিভিন্ন প্রকার কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। তাছাড়া বিএআরআই এবং বিআরআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতি মোট মূল্যের ৬০% পর্যন্ত ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের নিকট সরবরাহ করে যাচ্ছে।

কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস করার জন্য সরকার বিদ্যুতের রিবেট প্রদান করেছে এবং বীজ, সারসহ ইক্ষু চাষিদের সহায়তা ভর্তুকি বছর বছর বৃদ্ধি করেছে। ২০০৮-০৯ সনে এ রকম ভর্তুকি যেখানে ছিল ৫১৭৮.২৬৯১ কোটি টাকা ২০১২-১৩ সনে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৯৯৯.৯৯৩৮ কোটি টাকায়।

সরকার বন্যা, আইলা, সিডর, মহাসেনসহ নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ফসল উৎপাদনে প্রণোদনা প্রদান করেছে ও কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে ভূ-অভ্যন্তরস্থ পানি উত্তোলন হ্রাস করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র সেচ কার্যক্রম জোরদার করেছে। দেশের জলাবদ্ধ এলাকা, হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র সেচ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারকে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। সেচ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সেচের আওতা বাড়ানো হয়েছে। ড্যাম, পাহাড়ে ঝিরি বাঁধ, রাবার ড্যাম ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে।

কৃষি পণ্যের বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন বর্তমান সরকারের আরেকটি সাফল্য। পাইকারি বাজার সৃষ্টি, গ্রোয়ার্স মার্কেট, কুল চেম্বার স্থাপন, রিফার ভ্যান পণ্য বিপণন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ইত্যাদি কর্মকা-ের মাধ্যমে বিপণন ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়েছে।

সরকার অঞ্চলভিত্তিক ১৭টি সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকা উপযোগী ফসলের জাত উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় কৃষি প্রযুক্তি সমপ্রসারণ, সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করে সেচের আওতা বৃদ্ধি করা, কৃষিজাত পণ্যের বাজার সুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। কৃষি জমি ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে বলে বৃহত্তর বরিশাল, খুলনা ও সিলেট জেলার পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

দেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার কৃষির সার্বিক উন্নয়ন সাধনের জন্য ২০১৩ সনে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ মহাপরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণাঞ্চলের ১৪টি জেলায় সামগ্রিকভাবে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ ১০টি প্রধান ক্ষেত্রে কর্মকা- শুরু হয়েছে।

দেশে বর্তমান সরকারের আমলে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের ১০টি কৃষি অঞ্চলে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষক ফসল উৎপাদন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

দেশে মাটির উর্বরতা অনুযায়ী অনলাইন সুষম সার সুপারিশ করার জন্য ২০০টি উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তাছাড়া দেশে এওঝ ভিত্তিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে ১৭টি শস্য উপযোগিতা বিষয়ক ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি অঞ্চলভিত্তিক শস্য উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করবে।

মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে পৃথিবীর পাঁচটি সর্বাধিক মৎস চাষকারী দেশের একটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৩-১৪ সনে আমাদের দেশে প্রায় ৩.৪৬ মিলিয়ন টন মাছ উৎপাদন করা হয়েছে যার প্রায় ২ মিলিয়ন টনই মৎস্য আবাদ থেকে পাওয়া গেছে। মৎস্য গবেষণার মাধ্যমে দেশে মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং এসব জাতের মাছের পোনা ব্যবহার করার কারণে মৎস্য উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্ধযুগ ধরে মৎস্য উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এদের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের কারণেও মৎস্য উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে। মৎস্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আমলে যেসব কৌশল উদ্ভাবন ও এদের প্রসার ঘটানো হয়েছে সেগুলো হলো- সুপার জাতের মনোসেঙ্ তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদন এবং এর আবাদ করা, থাই পাঙ্গাশের কৃত্রিম প্রজনন এবং পোনা উৎপাদন, পুকুরে পাঙ্গাশ উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন, পুকুরে রুই মাছের প্রজাতির মিশ্র আবাদ করা, মৌসুমি পুকুরে রাজপুঁটি উৎপাদন, উন্নত রুই জাতীয় মাছের রেণু উৎপাদন এবং নার্সারি ব্যবস্থাপনা।

প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে ২০০৭-০৮ সনের তুলনায় ২০১২-১৩ সালে দেশের দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন যথাক্রমে শতকরা ৪৬, ৫৫ এবং ৪.২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১২-১৩ সনে কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে শতকরা ৭.৪ ভাগ বৃদ্ধি ঘটেছে। এ সময়ে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে মুরগির মৃত্যু হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশে এ সময়ে ২৪টি লাইভস্টক কোয়ারেনটাইন স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। প্রাণির ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং হাইব্রিড গবাদিপশু পালন কর্মকা-কে ত্বরান্বিত করা হয়েছে। গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগি পালনে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বেকার যুবক, দুঃস্থ মহিলা, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ২০১১-১২ সনে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় ইনটিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রজেক্ট ত্বরান্বিত করা হয়েছে। দেশি মুরগির ব্রিড সংরক্ষণ করা এবং এদের বাড়তি খাদ্য সরবরাহ করে উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের কৃষিক্ষেত্রে গৃহীত উন্নয়ন কর্মকা-ের ফলে আজ কৃষির প্রত্যেকটি খাতে ধনাত্মক পরিবর্তন হয়েছে। ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রত্যেকটি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হওয়ায় এখন এ দেশের কৃষক কেবল খাদ্য নিরাপত্তা নয় বরং পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে দেশ ক্রমে এগোচ্ছে। খাদ্যশস্য, গোলআলু, ভুট্টা এবং সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে দেশ আজ এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জমি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে জনমানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকার নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছে। কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থেই খাদ্য ঘাটতির দেশকে এক খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত করার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

লেখক পরিচিতি : প্রফেসর, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলানগর, ঢাকা-১২০৭, মোবাইল : ০১৫৫২৪৬৭৯৪৫

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯২৬১
পুরোন সংখ্যা