চাঁদপুর। বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ৫ আশ্বিন ১৪২৪। ২৮ জ‌িলহজ ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত


৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৩। যদি তুমি উহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়া কে ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন। উহার মৃত্যুর পর উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘আল্লাহ’। বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই’। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা অনুধাবন করে না। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

গৃহের শান্তি স্বর্গের শান্তির চেয়ে কম নয়।                       -গোল্ড স্মিথ।


যার মধ্যে বিনয় ও দয়া নেই সে সকল ভালো গুণাবলী হতে বঞ্চিত।


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুরে স্থানীয় সরকারের অধীনে ৮৯টি ইউনিয়নে ১ লাখ গাছের চারা রোপণ
হারিয়ে যাওয়া তাল গাছের হাল ধরেছে স্থানীয় সরকার
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আবহমান গ্রাম-বাংলার চিরচেনা চিত্র হলো সবুজ বন বনানী। মাঠ জুড়ে সবুজের ঢেউ খেলানো নয়নাভিরাম দৃশ্য। বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে, খালের পাড়ে ও রাস্তার পাড়ে তাল গাছ বাংলাদেশের প্রকৃতিকে করেছে বিশ্ব নন্দিত। কিন্ত কালের বিবর্তনে এক পায়ে দাঁড়ানো তাল গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। কবি সাহিত্যিকগণ বাংলার প্রকৃতিকে নিয়ে লিখেছেন চিত্তাকর্ষক সব রচনা। এসব সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে আকর্ষণীয় সব প্রজাতির সমারোহ। এর মধ্যে বাঙালির অতি প্রয়োজনীয় একটি গাছ হলো তাল গাছ। যেটিকে অন্য সব গাছ থেকে আলাদাভাবে দেখা যায়, চেনা যায়। সেজন্যে কবি লিখেছেন : তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে। এখন গ্রাম-গঞ্জে, শহরে-বন্দর থেকে ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে তাল গাছ।



হারিয়ে যাওয়া তাল গাছের হাল ধরেছেন চাঁদপুরের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হাই । ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে একযোগে চাঁদপুরে ৮৯টি ইউনিয়নে ১ লাখ গাছের চারারোপণ করা হয়। বিশেষ করে তাল, নারিকেল, ফলদ ও ঔষুধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এ দিন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হাই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অনলাইন অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুরের সভাপতি প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীন, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আশিক খান, মোঃ বিপ্লব সরকার, বিডি কারেন্ট নিউজ ২৪-এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি সরদার মহসিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নূরুল করিম সুমন, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মহসিন সর্দার, অ্যাডঃ আব্দুল হালিম পাটোয়ারী, মাসুম হোসেন শিপন, আমিনুল ইসলাম খোকন, শুভ কর্মকার, মাহফুজ হোসেন সিহাব, আকাশ ও সফিক মিজি প্রমুখ।



এ কর্মসূচিতে অংশ নেয় চাঁদপুুর সদর উপজেলার ৭নং তরপুরচ-ী ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদ। এ পরিষদে প্রায় ২ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। তরপুরচ-ীতে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধনকালে ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী বলেন, আমাদের দেশের গ্রাম-বাংলার অতি প্রয়োজনীয় গাছ হিসেবে পরিচিত তাল গাছ। তাল গাছে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আমরা আবদুল হাই স্যারের নির্দেশে তাল, নারিকেল, ফলদ ও ঔষুধি গাছ রোপণ করেছি এবং সকল মেম্বারকে গাছের পরিচর্যা ও তদারকির জন্য বলেছি।



১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার উপজেলা পরিষদ চত্বরে গাছ রোপণ করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন, পিআইও বেলাল হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সায়েদুল আলম, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজ মিয়া, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তফাজ্জল হোসেন, মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।



এরপর উপজেলা পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায়, ইউনিয়ন পরিষদের আঙিনায় ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় এ চারাগুলো রোপণ করেন। বিশেষ করে তাল গাছ রোপণের উপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। কারণ তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধ করে।



ইউএনও শারমিন আক্তার বলেন, বিশেষ করে তালগাছের উপর এ কার্যক্রমের জোর দেয়া হয়েছে। মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রতিটি এলাকায় গাছের চারা রোপণের জন্য।



দুর্গাপুর ইউপিতে গিয়ে দেখা গেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আবুল খায়েরের নেতৃত্বে সকল মেম্বার প্রায় ২ হাজার চারা রোপণ করেন। এ সময় ইউপি সচিব মানিক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



গজরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সকালে ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ দর্জির নেতৃত্বে চারা রোপণ করা হয়। এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সানাউল্লা মোল্লা, ইউপি সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ সোহেলসহ ইউপি মেম্বার আব্দুস ছাত্তারসহ মেম্বারগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সকল ইউনিয়ন পরিষদে একযোগে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।



তাল গাছের উপকারিতা এবং এর গুরুত্ব নিয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়ার আব্দুল লতিফ পাটোয়ারী জানান, পাকিস্তান আমল থেকেই এসব এলাকায় তাল গাছের কদর ছিলো বেশি। আমরা আমাদের এলাকায় তালের কোন্দা (নৌকা) বানাতাম। এখন আগের মতো বড় বড় তালগাছ পাওয়া যায় না। বর্তমানে মানুষজন তালগাছ কেটে ফেলে। কিন্তু নতুন করে কেউ আর রোপণ করে না। আমার অনেক তালগাছ ছিলো। নিজ প্রয়োজনে বাড়ি-ঘর করতে গিয়ে অনেক গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে। আব্দুল লতিফ পাটোয়ারীর মতে, প্রকৃতি থেকে একটি প্রয়োজনীয় গাছ হারিয়ে যাবে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তাল গাছের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত করতে এবং সরকারিভাবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য তাল গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়ায়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৫৩৩৩
পুরোন সংখ্যা