চাঁদপুর। বুধবার ২৯ নভেম্বর ২০১৭। ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩২-সূরা সেজদাহ 


৩০ আয়াত, ৩ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৯। বলো, ফয়সালার দিনে কাফিরদের ঈমান আনয়ন উহাদের কোনো কাজে আসিবে না এবং উহাদিগকে অবকাশও দেওয়া হইবে না। 


৩০।  অতএব তুমি উহাদিগকে অগ্রাহ্য করো এবং অপেক্ষা করো, উহারাও অপেক্ষা করিতেছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

সংসারে যে সবাইকে আপন ভাবতে পারে, তার মতো সুখী নেই।              -গোল্ড স্মিথ।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ফটো গ্যালারি
৩ একর জায়গা জুড়ে মাছে-গাছে দর্শনীয় সাম্রাজ্য বানিয়েছেন মমিন বাড়ি মাদ্রাসা প্রধান
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
২৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ইসলামে কৃষি ও বনায়নের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। আমরাও পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি কাজের উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করি। যাতে তাদের একটু জমি থাকলে তারা চাষাবাদ করতে পারে, যেহেতু কৃষি কাজও হালাল রুজির মাধ্যম। মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের ও আমাদের ৩ একর জায়গা জুড়ে কৃষি বনায়ন করেছি। আর এ কাজে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণ আমাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা আগে এতো কিছু জানতাম না। আমাদের অনেক জায়গা আগে খালি পড়ে থাকতো। এখন আল্লাহর রহমতে বাড়ির আঙ্গিনা, পুকুরের পাড়, কৃষি জমির আইল এবং আমাদের বাসার ছাদের উপরও সবজি বাগান করেছি। কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফারুক আহমেদ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের কৌশল শিখিয়েছেন। এখন আমরা এই চিন্তা-চেতনা নিয়েই মূলত পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষির উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এ আয় দিয়েই আমাদের চাহিদা পূরণ হয়।



চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কুমুরুয়া গ্রামের মমিন বাড়ি মাদ্রাসার মোহতামিম আলহাজ্ব মাওঃ ক্বারী আশরাফ আলী এ প্রতিনিধির সাথে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।



তাঁর এমন সাফল্যের গল্প যেন স্বপ্নকে হার মানায়। কৃষিভিত্তিক অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বায়োগ্যাস প্লান্ট, আম বাগান, লিচু বাগান, কলাবাগান ও সবজি বাগান। নিজের বাড়ির পুকুরে তিনি মাছ চাষের সূচনা করেন। বর্তমানে মাছ চাষের ৫টি পুকুর রয়েছে।



অল্প কিছু টাকা পুঁজি নিয়ে নিজের বাড়ির পুকুরে পোনা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই দিনের সেই স্বপ্ন এখন পূরণ হতে চলছে। এখন মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন আয় করার সুযোগ হয়েছে। তবে এ মাছ মাদ্রাসা ছাত্রদেরই খাওয়ানো হয় বেশি। আর বাকিগুলো পাশের বাজারেই বিক্রি করা হয়।



সরজমিনে মমিন বাড়ি :



চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়ক। এই সড়ক ধরে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে ফরক্কাবাদ বাজার অতিক্রম করে কিছু দূর গেলেই রাস্তার দুই পাশে সারি সারি মৎস্য খামার ও নানান রকমের সবজির বাগান। যে কাউকে প্রশ্ন করলেই সবাই এক বাক্যে এই সব মাছের খামার আর বাগানের মালিকের নাম বলে দিতে পারেন। মমিন বাড়ি হুজুরের সবগুলো বাগান, খামার একদিনে পরিদর্শন করে শেষ করতে পারবেন না কেউই। তিনি এ এলাকায় নীরবে ঘটিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য বিপ্লব।



যেভাবে শুরু :



১৯৯৯ সাল থেকেই মমিন বাড়ি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাবা মরহুম আলহাজ্ব মাওঃ ক্বারী আবুল বাশারের ইন্তেকালের পরই তিনি মাদ্রাসা প্রধানের দায়িত্ব নেন। নিজেদের বাড়ির মাদ্রাসায় লেখা-পড়া শুরু করেন। পরে উচ্চ শিক্ষা শেষে নিজ বাড়ির মাদ্রাসায় শিক্ষকতার খেদমতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, নিজে করে নিজের পায়ে দাঁড়াব-এটাই ছিল আমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে রূপ দিতেই আমি গ্রামেই আছি। গ্রামের বাড়ির সামনের পুকুরে মাছের পোনা ছেড়ে সেগুলো বড় করে বিক্রি করি। মাছের পোনা সংগ্রহ করে গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে অবমুক্ত করি। এক মাছের খামারের আয় দিয়ে আমি প্রতি বছর নতুন মাছের খামার তৈরি করি। এসব খামারে রুই, কাতলা, নাইলোটিকা, চিংড়ি, পাঙ্গাস, বস্ন্যাক কার্প, কই, শিং, রুই ইত্যাদি মাছ চাষ করা হয়। এরপর নিজে বাড়িতে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে সেই পোনার জন্য খাবার সংগ্রহ থেকে পরিচর্যা, পাহারা দেওয়া সবই আমি একাই করতে থাকি। আমাকে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।



তিনি গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদেরকে নিয়মিত বয়স্ক শিক্ষা দেন। প্রকল্পের আয়কৃত টাকায় গঠন করা হয়েছে শিক্ষা ফান্ড এবং চিকিৎসা ফান্ড। মাদ্রাসার দরিদ্র ছাত্রদের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিংবা আসবাবপত্রের জন্য আয়কৃত অর্থ ব্যয় করা হয়। আয়কৃত অর্থ সবুজায়ন, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, গাছের চারা উৎপাদনে ব্যয় করা হয়। তৈরি করা হয় ফলজ ও বনজ বাগান। তাঁর সবজি বাগান পরিদর্শন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার।



মমিন বাড়ির ফলজ ও বনজ বাগান :



শুধু একের পর এক মৎস্য খামার করেই নিজেকে থামিয়ে রাখেননি মমিন বাড়ির হুজুর । মৎস্য খামারের পাশাপাশি রয়েছে ৭টির অধিক ফলজ ও বনজ গাছের বাগান। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান। এ সব বাগান থেকে প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার টাকার ফল বিক্রি হয় বলে কেয়ারটেকার আলমগীর জানান।



এ ব্যাপারে কথা হয় বালিয়া ইউনিয়নের গুলিশা বস্নকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ ফারুক আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, মাওঃ ক্বারী আশরাফ আলী ৩ একর জায়গা জুড়ে মাছে-গাছে দর্শনীয় সাম্রাজ্য বানিয়েছেন। তাঁর কৃষির উপর জেলা ব্র্যান্ডিং হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি তাদের কার্যক্রমগুলো চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার দিল আতিয়া পারভীন স্যারকে দেখিয়েছি। তিনি বলেছেন, জেলা সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৭৭৮৮
পুরোন সংখ্যা