চাঁদপুর। রোববার ১ জুন ২০১৮। ১৭ আষাঢ় ১৪২৫। ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস



৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৯। যার জন্যে শাস্তির হুকুম অবধারিত হয়ে গেছে আপনি কি সে জাহান্নামীকে মুক্ত করতে পারবেন ?

২০। কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্যে নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ। এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


চোখকে দেহের আলো বলা যায়।       

 -ইউলিয়াম পেন।


পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।



 


ফটো গ্যালারি
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরু দিয়ে ধান মাড়াই বিলুপ্তির পথে
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
০১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রূপ, রং আর ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। শস্যের শ্যামলতা, ভাটিয়ালী গান, রাখালের বাঁশি, কৃষাণের উদার জমিন, কৃষাণীর ধান ভানার উল্লাস, ছয় রূপের ছয়টি ঋতু সব মিলিয়ে এ যেনো কোনো শিল্পীর নিপুণ হাতে রং তুলিতে অাঁকা স্বপ্নের দেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। এদেশে সন্ধ্যে-সকালে ডাহুক, দোয়েল, কোয়েলের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। প্রকৃতির পালাবদলে আসে ছয়টি ঋতু।



কৃষকের সবুজ শ্যামল ধানের ক্ষেত সোনা রং ধারণ করে। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে বাতাস ভরে উঠে। মাঠে মাঠে, ঘরে ঘরে চলে ধান কাটার উৎসব। দিনেতো হাজারো ব্যস্ততা আছেই তার ওপর রাতভর চলে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এতো ব্যস্ততার পরেও কৃষক তার কৃষাণ বধূ মহাখুশি। ধান নিয়ে গোলা ভরে মেতে উঠে নবান্ন উৎসবে। নতুন চালের ভাত, পিঠা-পুলি, আর পায়েসের গন্ধ ভেসে আসে প্রায় প্রতিটি ঘর থেকে।



আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে অপার আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে আমাদের কৃষিক্ষেত্রে। ধান বপন, রোপণ, ধান কাটা, মাড়াই করা এমনকি ধান থেকে চাল করা নিয়ে প্রত্যেকটা কাজই সম্পন্ন হয় বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার দ্বারা। গরু আর লাঙ্গল টানা সেই জরাজীর্ণ কৃষককে এখন আর দেখা যায় না। হালের গরু ছেড়ে কৃষক এখন সাহায্য নেয় ট্রাক্টরের।



পাঁচ মিনিটেই জমি প্রস্তুত। বৃষ্টির জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। পাম্পের সাহায্যে সেচ কাজ করে পানির চাহিদা মিটানো হচ্ছে। প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন সব কীটনাশক বাজারে আসছে। এখন আর কৃষককে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে ধানের বীজ তার শস্যক্ষেতে ছিটিয়ে দিতে হয় না। জমিতে বীজ ছিটানোর জন্যে এখন আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। ধানের পাতা পরীক্ষা করে এ জমির উপযোগী কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ধানের আগাছা পরিষ্কার করার জন্যেও ব্যবহার হচ্ছে এক ধরনের দাঁতালো যন্ত্র। ধান কাটার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে ধান কাটার যন্ত্র। দিনব্যাপী চাষাকে আর গায়ের ঘাম ঝরিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে না।



ধান কেটেই কি শেষ, ধানতো ঘরে তুলতে হবে। মাড়াই করতে হবে। আগে গাঁয়ের বৌ ঝিরা পিটিয়ে, পা দিয়ে মাড়িয়ে ধান নিতো। কিন্তু এখন সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে সেই পিটিয়ে বা পা দিয়ে মাড়িয়ে ধান নেয়া গ্রামে-গঞ্জে নেই।



এখন হরেক রকমের ধান মাড়াইয়ের যন্ত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়ে আসছে। কাজ কিন্তু এখানেই শেষ হয় না। আরো কিছুটা ব্যস্ততা এখনো আছে। ধান থেকেতো চাল করতে হবে। তো চালটা কি মায়েরা, চাচীরা রাত জেগে ঢেঁকিতে দুলে দুলে করবে? মোটেই না। ধান থেকে চাল করার জন্যে মেশিনতো ঘরের সামনেই হাজির। তাহলে আর এতো কষ্ট কিসের? তাছাড়া শস্য রোপণ থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত সবকিছুই করা যায় শস্যের জমিতে। বিজ্ঞান এবং আধুনিকতা এই দুয়ে মিলে আমাদের কৃষি কাজে এসেছে আমূল পরিবর্তন। তবে এটাও ঠিক, বিজ্ঞানের এই নব নব আবিষ্কারের ভিড়ে আমরা হারাতে বসেছি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে, আমাদের স্বকীয়তাকে, আমাদের ভিন্ন সত্তাকে। এই বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির প্রত্যেকটিই খুবই ব্যয়বহুল। আর আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে। তারা এখনো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের অন্ন যোগান দেয়। তবে আস্তে আস্তে সবই আমাদের করায়ত্ত হবে। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে সহজ, সাবলীল আর অর্থনীতির চাকাকে করেছে সমৃদ্ধ।



ফরিদগঞ্জ ও শাহরাস্তির বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি পরিবারে এখনো গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে। নারীরাও পা দিয়ে ধান মাড়াই করছেন। কথা হয় শাহরাস্তির দক্ষিণ সূচীপাড়ার সংহাই গ্রামের কৃষক হোসাইন সহ গ্রামের একাধিক কৃষক-কৃষাণীর সাথে। সকলে বলেন, আগে প্রতি ঘরে ঘরে গরু দিয়ে ধান মাড়াই হতো। এখন মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই হয়। এতে ব্যয় একটু বেশি হলেও সময় বাঁচে। গরু দিয়ে ধান মাড়ানো সম্পর্কে তারা আরো বলেন, কেউ কেউ ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো গরু দিয়ে ধান মাড়াই করে থাকে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১
পুরোন সংখ্যা