চাঁদপুর। রোববার ১ জুন ২০১৮। ১৭ আষাঢ় ১৪২৫। ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস



৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৯। যার জন্যে শাস্তির হুকুম অবধারিত হয়ে গেছে আপনি কি সে জাহান্নামীকে মুক্ত করতে পারবেন ?

২০। কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্যে নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ। এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


চোখকে দেহের আলো বলা যায়।       

 -ইউলিয়াম পেন।


পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।



 


ফটো গ্যালারি
অধিকাংশ খাল ভরাট ফসলী জমি হুমকির মুখে
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
০১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চাঁদপুরে মুষলধারে বৃষ্টিতে অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফসলি জমিতেও স্থান ভেদে জমে হাঁটু পানি। মুষলধারে বৃষ্টির সাথে ঝড়ের কারণে এলাকার মৌসুমী ফল চাষীরা এবং ধান চাষীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এদিকে বিভিন্ন ফুটপাত ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ইলেকট্রিক ভ্যান চালকসহ অন্যান্য যানবাহন চালকরা ক্ষতির সম্মুখীন হন। এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ক্ষতি হয়। বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ পরিসেবা। বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে কাটা ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এদিকে জলাবদ্ধতা ক'দিন যাবৎ স্থায়ী হলেও পাউবো কর্তৃপক্ষ পানি সরানোর দ্রুত ব্যবস্থা না করায় ফসলহানি ঘটে। এভাবে প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় সেচ প্রকল্পের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্যে তথা জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান জরুরি বলে দাবি কৃষি পরিবারগুলোর। তা না হলে মূলধন হারিয়ে কৃষকরা পথে বসবে।

সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় ত্রুটি, খালগুলো আবর্জনা ও কচুরিপানা দিয়ে আবদ্ধ থাকায় এবং পাম্প দ্বারা দ্রুত বৃষ্টির পানি প্রকল্পের বাইরে না সরানোর ফলে ভয়াবহ এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

এদিকে এ জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে যে সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়েছে, সে সংগঠনের সদস্যরা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম মতলবের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আশা করবো, জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে তিনি কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।

চাঁদপুর পৌরসভার বিষ্ণুদী এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বিদ্যাবতী খালে বহু বছর যাবৎ কোনো ধরনের সংস্কার না থাকায় ময়লা-আবর্জনায় খালটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ময়লা-আবর্জনার কারণে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা মশা-মাছি ও দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তি এবং নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সরজমিন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদপুর মৎস্য বিভাগ গত ৪০ বছর পূর্বে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকার জন্যে এই খালটি খনন করে। এরপর থেকে এই খালটি ব্যবহার হয়ে আসলেও কোনো ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়নি। বর্তমানে এই খালটির বিশাল অংশ পৌরসভার ৯নং ও ১৫নং ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। শহর এলাকা বর্ধিত হওয়ার কারণে এই খালের দু পাশে বসতিও বেড়েছে। পৌরসভা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় বর্তমানে খালটির বিভিন্ন স্থান ভরাট করে চলছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী লোকজন। যার কারণে এই খালটি তার ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে এবং সরু হয়ে গেছে। নতুন করে এই খালের দুই পাশে বসতবাড়ি হওয়ার কারণে পৌরসভা থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্যে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেই ড্রেনের পানি ও ময়লাগুলো অধিকাংশ এই খালে গিয়ে পড়ছে। এতে করে এই খালটির গুরুত্ব এখন আরো বেড়েছে। বিষ্ণুদী এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক মোঃ আবু সায়েদ জানান, এই খালটি বহু বছরের পুরানো। আমরা এই খালে অনেক মানুষকে মাছ ধরা, পারিবারিকভাবে বিভিন্ন কাজে পানির ব্যবহার, ফসলী জমিতে সেচের জন্যে ব্যবহার দেখেছি। কিন্তু বেশ ক'বছর যাবৎ এই খালটি ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখন আর এই খালে পানি প্রবাহিত হয় না। এলাকাবাসী আরো জানায়, খালটিতে বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর অবস্থা বিরাজ করায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা দুর্গন্ধে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ খালটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণ করবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ধানদিয়া গ্রামের কৃষক ওবায়দুর রহমান বলেন, মাঠে ৩ বিঘা ধান কাটা হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার একাংশ ধরে হাজীগঞ্জের শ্রীপুর রাজারগাঁও হয়ে উত্তর পূর্ব হয়ে কচুয়ার দিকে চলে গেছে জমজমিয়া খাল। দক্ষিণে ডাকাতিয়া নদী থেকে শুরু হয়ে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বলাখাল পূর্ব বাজার হয়ে বলাখাল রেলসড়ক ধরে উত্তরে চলে গেছে কুচির বিল খাল। হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ ডাকাতিয়ার সম্মুখ থেকে শুরু হয়ে বোয়ালজুরি খালটি চৌধুরী পাড়া এলাকার রেলপথ পার হয়ে সুহিলপুর বাজার ও ধড্ডা খালপাড় ধরে উত্তরে রঘুনাথপুর হয়ে কচুয়ায় চলে গেছে। দক্ষিণে ডাকাতিয়া থেকে শুরু করে হাজীগঞ্জ পৌরসভার আলীগঞ্জ হয়ে রেলপথ পার হয়ে হাটিলা ধরে কচুয়ার দিকে চলে গেছে শৈলখালী খাল আর চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে পুরো উপজেলার সীমানা জুড়ে রয়েছে সড়ক বিভাগের খাল। এছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সকল ইউনিয়নের উপর দিয়ে ছোট বড় কমপক্ষে ২০ থেকে ২২টি খাল চলে গেছে। এর মধ্যে আবার পৌরসভার মধ্যে চলে গেছে বেশ কিছু খাল।

সরজমিনে দেখা যায়, উপরোক্ত বড় বড় খালের অংশবিশেষ বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার এলাকার দখলে চলে গেছে। সড়ক বিভাগের খালের অধিকাংশ ইতিমধ্যে দখল হয়ে গেছে। এর মধ্যে মাছ চাষ, বাড়ির রাস্তা তৈরি, দোকানপাট তোলার প্রয়োজনে দখলে নিয়েছে স্ব-স্ব এলাকার স্থানীয়রা। এ নিয়ে সড়ক বিভাগের টু শব্দটুকু করতে দেখা যায় না।

উপজেলার ছোট ছোট খালের মধ্যে রাজারগাঁও বাজারের পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে চলে যাওয়া খালের বেশ খানিকটা অংশ ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে একটি মহল। হাজীগঞ্জের ৫নং সদর ইউনিয়নের সড়ক বিভাগের খাল থেকে শুরু করে কৈয়ারপুল বাজার এলাকা ধরে দক্ষিণে ডাকাতিয়ায় গিয়ে মিশেছে খালটি। এই খালের কৈয়ারপুল বাজার এলাকায় খালের উপর শতাধিক টং দোকান তুলে খাল দখলে রেখেছে স্থানীয়রা। যদিও স্ব স্ব টং দোকানীরা কোনো না কোনোভাবে ভাড়াটিয়া বা মালিকানা দাবি করে আসছেন। কৈয়ারপুল এলাকার পূর্বে সড়ক বিভাগের শ্রী নারায়ণ ব্রিজের (কাজ চলমান রয়েছে) নিচ দিয়ে দক্ষিণে শ্রী নারায়ণপুর মাঠ হয়ে ডাকাতিয়ায় গিয়ে পড়েছে শ্রী নারায়ণপুর খালটি। এই খালের একেবারে মধ্যখানে পাকা দোকান আর রাস্তা করে খালটি বন্ধ করে রেখেছে শ্রী নারায়ণপুর এলাকার চিহ্নিত কিছু লোক। বলাখাল পশ্চিম বাজারস্থ বলাখাল চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ অংশে সড়ক বিভাগের (ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে) ব্রিজ ধরে খাস খতিয়ানের একটি খাল চলে গেছে দক্ষিণ আর পশ্চিমে। এ খালটি ইতিমধ্যে বেশ কয়েক ব্যক্তি দখলে নিয়ে খালের উপর পাকা স্থাপনা তুলে রেখেছে। বলাখাল পূর্ব বাজারের সড়ক বিভাগের ব্রিজ (ব্রিজের কাজ চলামান রয়েছে) ধরে বাজারের দক্ষিণ অংশে হয়ে রামপুর সড়কের পাশ দিয়ে চলে গেছে কুচিরবিল খাল। এই খালের বলাখাল বাজারস্থ সিএনজি স্কুটার স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে বলাখাল রেল স্টেশন পর্যন্ত অধিকাংশ অংশে খালের উপর টং তুলে ভাড়া দিয়ে সুবিধা ভোগ করছে স্থানীয়রা। হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ মিঠানিয়া খালটি দক্ষিণে ডাকাতিয়া নদী থেকে শুরু হয়ে সড়ক বিভাগের মিঠানিয়া সেতু হয়ে রেলপথ ধরে হাজীগঞ্জের উত্তরে বিস্তীর্ণ এলাকা অতিক্রম করেছে। খালটির হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার অংশসহ উত্তরে সুদিয়া গ্রামসহ তৎসংলগ্ন এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়েছে স্থানীয়রা। হাজীগঞ্জের আলীগঞ্জ এলাকার শৈলখালী খালটি বালু ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অস্তিত্ব হারিয়ে মৃতপ্রায়।

উপজেলার দক্ষিণে মৈশামুড়া বাজার এলাকা, বটতলা এলাকা, মালিগাঁও বাজার এলাকা, কাঁকৈরতলা কলেজ এলাকা, মোহাম্মদপুর বাজার এলাকা, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের হাজীগঞ্জ অংশের বেলচোঁ বাজার এলাকা ও সেন্দ্রা বাজার এলাকা দিয়ে চলে যাওয়া প্রতিটি খালের উপর টং ঘর তুলে কেউ ভাড়া আদায় করছে, কেউবা আবার নিজেরা দখলে নিয়ে রেখেছে। অথচ প্রতিটি খাল অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ইরিগেশন আর জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করছে।

বলাখাল এলাকার কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নারায়ণ চক্রবর্তী জানান, বলাখাল বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দখল আর পানি নিষ্কাশনের সমস্যার কারণে কিছুদিন আগে স্থানীয়রা মেয়র মহোদয়ের কাছে অভিযোগ দিয়েছে ।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, ডিসি স্যারের নির্দেশে অন্য সকল উপজেলার সাথে আমরা হাজীগঞ্জের খালগুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

পৌর মেয়র আ.স.ম. মাহবুব-উল-আলম লিপন বলেন, খাল উদ্ধারে প্রশাসন এগিয়ে আসলে আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। মিঠানিয়া খাল দখলের কারণে আমার ৮ কোটি টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট হুমকির মুখে পড়েছে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৭৪০৪৪
পুরোন সংখ্যা