চাঁদপুর । বৃহস্পতিবার ০২ অাগস্ট ২০১৮ । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫ । ১৯ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৫। তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে।

১৬। যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজস্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।

১৭। আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


যে দীর্ঘ সময় ঘুমাতে পারে, সেই সবচেয়ে সুখী।

 -এ.ই. হাউসম্যান।     


পরিচ্ছন্নতার উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হইয়াছে।  

                    


ফটো গ্যালারি
মৈশাদীতে বীর প্রতীক মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী একাডেমি
শিক্ষার্থীদের সবজি বাগান এক মডেল
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
০২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রাথমিক স্তর থেকেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক তথা হাতে-কলমে শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্যে এমন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে স্বনির্ভর হতে সহায়তা করে এবং জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সেই শিক্ষা যেনো কাজে লাগে। এমন ভাব ধারা নিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বীর প্রতিক মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী একাডেমি।



শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাগান থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীরা কৃষি বিষয়ক বাস্তব ধ্যান ধারণা ও অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষা হওয়া উচিত আনন্দময়। আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির মূল শর্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্বল্প পরিসরে বাগান তৈরি করার কলাকৌশলসমূহ শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে শিক্ষকদের। এই বাগানে মালী বা কৃষকের ভূমিকা পালন করবে শিক্ষার্থীরা। তারা রুটিন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ধরে বাগান ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে। তারা বীজতলা তৈরি, বীজ সংগ্রহ, চারা উৎপাদন, সার প্রয়োগ, পানি সেচ, পরিচর্যা, পরিবহন, বিপণন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে অংশ নেবে। এই বাগানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক কৃষি শিক্ষার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে পারে।



বর্তমানে মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী একাডেমির ৩টি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা সবজি বাগান করেছে। তাদের মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা করল্লা, ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পুঁই শাক ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কুমড়া চাষ করেছে। একাডেমির শিক্ষক মাওঃ আব্দুর রাউফ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় চাচ্ছেন এখানে শিক্ষার্থীরা কৃষি বিষয়ক বাস্তব জ্ঞান অর্জন করবে এবং হাতে-কলমে তাঁর প্রতিফলন ঘটাবে। পাঠ্যসূচির আলোকে বাগানে চাষাবাদ করতে এবং বাগানের উৎপাদিত ফসল ও গাছ রক্ষায় তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আসলে বাগান ছাড়া স্কুল হয় নাকি? বাগান না থাকলে বাচ্চারা কী শিখবে? এটাও (বাগান) তো একটা শিক্ষণীয় বিষয়।



একাডেমির ৭ম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে আয়মা, আয়শা, তামান্না ও পলক কৃষিকণ্ঠকে জানায়, আমরা শুধু স্কুলেই কৃষি কাজ করছি না, আমাদের বাড়িতেও করি। আগে বাবা-মায়ের সাথে কাজ করতে বিরক্ত লাগতো এবং লজ্জাবোধ করতাম। এখন আমরা বুঝতে পেরেছি নিজের কাজে লজ্জা-শরম নাই। টাটকা ও ভালো শাক-সবজি খেতে হলে নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে কৃষি শিক্ষার প্রতি অত গুরুত্ব দিতাম না। এখন দেখি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কৃষির গুরুত্ব বেশি। তাই বাড়িতেও আমরা নিজ আঙ্গিনায় সবজি বাগান করেছি।



এ ব্যাপারে কথা হয় একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী বীর প্রতীক মমিন উল্লাহ পাটোয়ারীর সাথে। তিনি বলেন, আমি গ্রামের ছেলে। আমি জানি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা পাড়া-লেখায় সব সুযোগ-সুবিধা পায় না। তাদের পরিপূর্ণ সুযোগ দিতে আমি এ একাডেমি প্রতিষ্ঠাতা করেছি। এখানের শিক্ষার্থীরা শুদ্ধ বাংলা শিখবে। তার পাশাপাশি ইংলিশ ও কম্পিউটারে পারদর্শী হবে। ছেলে-মেয়েরা যাতে এক সাথে কম্পিউটার ক্লাস নিতে পারে আমি সে ব্যবস্থাও করেছি। তিনি আরো জানান, আমরা যখন লেখা-পড়া করেছি, তখন স্কুলেও যেতাম এবং বাবা-মায়ের সাথে কাজ করতাম। এখনকার ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়, কিন্ত বাবা-মায়ের সাথে কোনো কাজ করছে না। তারা হাতের কাজ সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাদের জানাতে কৃষি শিক্ষা পাঠদানের প্রতি আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কৃষির অত্যাধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে জানতে পারবে। অল্প জমিতে অধিক ফসল ফলানোর পদ্ধতি উদ্ভাবন করবে। এটি এমন একটি বিষয় যা তাদের বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তাদের স্বনির্ভর হতে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার জনগণও বৃক্ষরোপণ এবং কৃষি আধুনিকীকরণে এগিয়ে আসবে। তাঁর মতে, সুসজ্জিত ও সমৃদ্ধ বাগান হতে পারে একটি সুন্দর বিনোদনের মাধ্যম। বাগানকে লক্ষ্য করে বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানের জন্যে একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার অনুপ্রেরণা পাবে। বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে এলাকায় গণজাগরণ সৃষ্টি হবে, কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। দেশ স্বনির্ভর হবে, অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হবে। আর খাদ্য সমস্যা থাকবে না। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, বেকারত্বের মতো বহু জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।



চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মৈশাদী বস্নকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ আবদুর রশিদ বলেন, আমি প্রায়ই এ একাডেমিতে যাই। এখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের শেখাতে আন্তরিক। তাদের আন্তরিকতাতেই ছাত্র-ছাত্রীরা কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আমি তাদেরকে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। তারা একাডেমির আঙ্গিনায় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল-ফল এবং একাডেমির ছাদের উপর নানা রকমের সবজি চাষ করেছে। যা আমাদের দেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের জন্যে এক মডেল সবজি বাগান।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪৬২৭৬
পুরোন সংখ্যা