চাঁদপুর, রোববার ২ জুন ২০১৯, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৭ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৫। যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল, 'সালাম।' উত্তরে সে বলিল, 'সালাম।' ইহারা তো অপরিচিত লোক।


২৬। অতঃপর ইব্রাহীম তাহার স্ত্রীর নিকট গেল এবং একটি মাংস গো-বৎস ভাজা লইয়া আসিল।


২৭। ও তাহাদের সামনে রাখিল এবং বলিল, তোমরা খাইতেছ না কেন?


 


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকের অবস্থান ভেবে দেখবেন কি?
মোঃ শাহীন সরদার
০২ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের দাম নিজেরা নির্ধারণ করলেও কৃষকরা তা পারে না। তারা একতাবদ্ধ হতে পারে না, তারা আন্দোলন করতে পারে না। তারা শিক্ষিত নয়, তারা তাদের অধিকার নিয়ে সচেতন নয় বলেই কি আমরা তাদের পরাধীন দেশের শোষক গোষ্ঠীর মতো শোষণ-নিপীড়ন করব! আমরা এখন শিক্ষিত, স্বাধীন, সভ্য জাতি।

আমাদের দেশের অধিকাংশ উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত পরিবার কৃষক পরিবার থেকেই আসা। তবু কেন আজ আমরা ভুলে গেলাম কৃষকের দুর্দশা? সবকিছুরই দাম বাড়ে, বাড়ে না শুধু কৃষিপণ্যের দাম! কৃষকের উৎপাদিত আলু, পেঁয়াজ, ধান ইত্যাদির দাম একটু বাড়লেই সুশীল ও শিক্ষিতদের আন্দোলন, টক শো চলে; অথচ তখনও কৃষকের উৎপাদন খরচই ওঠে না।

বর্তমানে পেঁয়াজের মণ ৪০০-৫০০ টাকা, ধানের মণ ৩০০-৫০০ টাকা। আলু, পেঁয়াজ কৃষক ঘরে সংরক্ষণ করতে পারে না। বাধ্য হয়েই ফসল তোলার পরই বিক্রি করে দিতে হয়। এছাড়া ফসল ঘরে রাখার সামর্থ্যও কৃষকের নেই। কারণ এই ফসল ফলাতে তাকে ধার-দেনা করতে হয়েছে। তার সংসার খরচ এগুলো বিক্রি করেই উঠবে।

কৃষককে সারাবছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করে ক্ষতিতে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের কখনোও লস হয় না, তারা কয়েক মিনিটের হাতবদলেই কয়েকগুণ টাকা পকেটে ঢোকায়। ঝড়, বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শারীরিক অসুস্থতা যত যাই হোক, মাস গেলে ঠিকই টাকা পান সুশীল, মধ্যস্বত্বভোগী, রাজনীতিক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা। আর কৃষক? এত ঝুঁকি নিয়ে যদি কোনো বার ফসল একটু ভালো ফলে, বাজারে চাহিদা হারিয়ে সেগুলো নষ্ট হয়।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে আজ কৃষকের অবস্থান কোথায় ভেবে দেখবেন কি ? দেশের কৃষি খাতকে ধ্বংস করতে আর কতদিন লাগবে? গরিবরা চিরদিন গরিবই থেকে যাবে। গ্রাম শহর হলেও এদেশের কৃষকের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। বাজারে বিদেশি চালের, বিদেশি পেঁয়াজের অভাব নেই, বিদেশি গরুর অভাব নেই; অথচ দেশের কৃষকরা প্রতি বছর লোকসান গুনছে। আমরা বিদেশি স্বার্থ রক্ষা করছি; অথচ আমাদের স্বার্থের ঠিক নেই।

বর্তমানে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এত বড় জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে একটি দেশ কিভাবে এগোবে? কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে কৃষকরা বাঁচবে। সমাজে কিছুটা হলেও ভারসাম্য রক্ষা পাবে। বেকারত্বের হার কমবে। আমাদের দেশের প্রধান প্রধান কৃষিপণ্য পাট, ধান, পেঁয়াজ, ডাল, আখ, সবজি ইত্যাদির আমদানি বন্ধ করা হোক।

কিন্তু এসবে কারও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। কারণ কৃষক মরলে কার কী? কারও কিছু যাবেও না, আসবেও না। দেশের সব কৃষক জানে, উৎপাদন করলে লস হয়; কিন্তু তবু তারা করে, কারণ তারা নিরুপায়। চাষ না করলে খাবে কী আর করবেই বা কী! তাদের নিয়ে কথা বলার কি কোনো কর্তৃপক্ষই নেই? আমরা সুশীল, শিক্ষিত সমাজ আর কত স্বার্থপর হব? আসুন সুশীল-শিক্ষিত সমাজ, তাদের নিয়ে ভাবি, কথা বলি, যথাযথ পদক্ষেপ নেই।

শাহীন সরদার : শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮০৮৫৩
পুরোন সংখ্যা