চাঁদপুর, রোববার ৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১ পৌষ ১৪২৬, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬০-সূরা মুমতাহিনা


১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮। দীনের ব্যাপারে যাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই এবং তোমাদিগকে স্বদেশ হইতে বহিষ্কার করে নাই তাহাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায় বিচার করিতে আল্লাহ তোমাদিগকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদিগকে ভালোবাসেন।


 


 


ভীতুরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাপে জড়িয়ে পড়ে। -উলিভার হারফোড।


 


 


পিতার আনন্দে খোদার আনন্দ এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ওসির শখের সবজি বাগান
মোঃ আবদুর রহমান গাজী
০৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফুলে-ফলে আর সবজিতে ভরপুর চাঁদপুর রেলওয়ে থানা। এ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সারওয়ার আলম যেখানেই যান সেখানেই গড়ে তোলেন ফুল-সবজির বাগান। এমনকি তিনি তার কুমিল্লা নিজ বাসভবনে ফুলকপির চাষ করেছেন। নিজেই সাতসকালে বাগান পরিচর্যার কাজে নেমে পড়েন। একবার বাগান পরিচর্যা করতে গিয়ে তিনি হাতে পোকার কামড়ে কিছুদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবুও পিছু হটেননি শখের বাগান তৈরির কাজে। নির্দ্বিধায় তিনি বলেন, 'সব খাবার ফরমালিন মুক্ত পাই আর খাই।'



তরতাজা সবজি, ফুল আর ফলের বাগান তৈরি করা এই মানুষটির দেশের বাড়ি কুমিল্লা শহরের মুরাদপুরে। তিনি ১৯৯৬ সালে সরাসরি সাব ইন্সপেক্টর পদে পুলিশে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে তিনি যেখানেই যান সেখানেই তার সবজি বাগান এবং নানামুখী বনায়ন গড়ে তুলেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি কৃষি কাজ করতেন। যা কর্মজীবনেও অব্যাহত রয়েছে। তিনি বিভিন্ন জায়গায় সবজি চাষে মানুষের উৎসাহ পেয়েছেন এবং নিজে স্বাচ্ছন্দ ভাবে টাটকা সবজি খেতে পারেন বলেই তিনি এই কাজটি নিয়মিত করছেন।



সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলেছে, থানা প্রাঙ্গণে স্বল্প ভূমিতে দৃষ্টিনন্দন সবজির বাগান। ফুল-ফল আর সবজির প্রায় ৪০টি প্রজাতি। স্বল্প এই অফিস আঙ্গিনায় এতো প্রজাতির ফসলের পরিচর্যায় তার আন্তরিকতা সত্যি অবাক করার মতো। নিষ্পয়োজনীয় ভূমিতে ফুল-ফল আর সবজির এমন আবাদ করতে একজন মাটির মানুষের প্রয়োজন। আর এমন একজন মানুষ ওসি মোঃ সারওয়ার আলম। এখানে সবচেয়ে বেশি রয়েছে সবজির বাগান। এগুলো হচ্ছে : লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়ো, টমেটো, ঢেড়শ, মুলা, শিম, লালশাক, পালং শাক, পাট শাক, পুইশাক, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ধনিয়া পাতা, সরিষা, বোম্বাই মরিচ, তুলসী পাতা, স্কোয়াশ ও ২ প্রজাতির আনাজি ও সফরি কলা



এছাড়া ফুলের মধ্যে রয়েছে গোলাপ, গাঁদা, রঙ্গনা, কচমচ, গন্ধরাজ, পাথরকুচি, পাতা বাহার ও ঢালিয়া। ফলের মধ্যে রয়েছে কাঁঠাল, নারকেল, বেল, আম ও পেয়ারা গাছ। এসবের পাশাপাশি তিনি হাস-মুরগি পালন করেন।



জানতে চাইলে ওসি মোঃ সারওয়ার আলম বলেন, 'আমি খুব শখে এই সবজির চাষাবাদ করছি। কর্মের তাগিদে যেখানে যাই, সেখানেই সবজি আর ফল-ফুলের বাগান করেছি। এতে করে ফরমালিনমুক্ত খাবার খেতে পারি। নিয়মিত নিজেই ভোরে উঠে বাগানগুলো পরিচর্যা করি।'



এমন শখের দৃষ্টিনন্দন কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'সবার বসত ভিটার আশপাশে পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে। একটু উদ্যোগী হলে পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়া সম্ভব।' আমার বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মাস্টার পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করতেন। ১৯৮৯ সালে অবসরে আসেন। আমার বাবার অনেক জমিজমা রয়েছে সেগুলোতে আমরাই কৃষি কাজ করতাম, এখন চাকরির কারণে আর করতে পারি না। স্থানীয় লোকজনরাই সেখানে কৃষি কাজ করেন। মানুষ আগে ধান চাষের প্রতি আগ্রহী ছিল এখন ধানের উপযুক্ত দাম না থাকায় নিজের ঘরে খাবার তুলতে কষ্ট হয়, তাই মানুষ এখন ধান চাষ বাদ দিয়ে সবজি চাষে ঝুঁকেছে। আমি মনে করি কৃষকের মূল্যায়ন যথাযথ হওয়া উচিত। যদি তাদের মূল্যায়ন না হয় কৃষি অবস্থা একসময় ভেঙ্গে পড়বে। এখন থেকেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।



উল্লেখ্য, কুমিল্লার এই কৃতী সন্তান এর আগে কঙ্বাজার উপজেলার রামু থানায় এমন সবজির বাগান করেছিলেন।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১৬৭০৯
পুরোন সংখ্যা