নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
চাঁদপুর, বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১১ আশ্বিন ১৪১৯, ৯ জিলকদ ১৪৩৩
প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক : রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার, পিএইচএফ
প্রধান সম্পাদক : রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত, পিএইচএফ
 
ব্রেকিং নিউজ
চাঁদপুরে একের পর এক চির বিদায় নিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা
শহীদ পাটোয়ারী
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভু্যত্থানসহ তৎকালীন চাঁদপুর মহকুমায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বদানকারী নেতারাই মূলতঃ মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর মহকুমার সংগঠকের দায়িত্বে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন| এঁদের দিক নির্দেশনায় এবং তদারকিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিলো| চাঁদপুরের এ সকল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একের পর এক চিরবিদায় নিচ্ছেন| যাঁদের রাজনীতির দীর্ঘ কর্মময় ইতিহাস এখনকার জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীই জানে না| কেউ কেউ এ সকল নেতার কর্মময় রাজনৈতিক জীবন জানলেও তা প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেননি| চিরবিদায় নেয়া এ নেতাগণ জীবদ্দশায় মানুষের সেবাই করে গেছেন| তাঁদের ছিলো না কোনো উচ্চাভিলাষী চিন্তা-ভাবনা| তাঁদের মাঝে সর্বদাই ছিলো দেশপ্রেমের মৌল চেতনা| কখনো তাঁদের মাঝে দেখা যায়নি হিংসাপরায়ণতা| জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া চাঁদপুরের এ সকল শীর্ষ নেতাকে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের নেতারা গর্ব করতেন| বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চাঁদপুরের আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের যথেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন| তার প্রমাণ হচ্ছে যতবার তিনি চাঁদপুর সফরে এসেছেন, ততবার এ সকল নেতার তিনি খোঁজ-খবর নিয়েছেন|

গৌরবগাঁথা মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী এ সকল সংগঠক ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা মরেও যেনো অমর হয়ে আছেন চাঁদপুরবাসীর কাছে| অথচ এখানকার শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতারা দলের কর্মকাণ্ডে ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে প্রবীণ ত্যাগী নেতাদের নাম তেমন উচ্চারণ করেন না| বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কর্তব্যহীনতার সামিল| এমনকি প্রবীণ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবরও তেমন নিচ্ছেন না| পালন করেননা দলীয়ভাবে এঁদের মৃত্যুবার্ষিকী| পারিবারিকভাবে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মাধ্যমেই তাঁদের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়ে আসছে| চিরবিদায় নেয়া আওয়ামী লীগের ওই সকল নেতা সাধারণ মানুষজনকে যথেষ্ট ভক্তি এবং মূল্যায়ন করতেন| প্রবীণ নেতাদের সময়কালে অর্থের তেমন দৌরাত্ম্য ছিলো না| ছিলো শুধু আদর্শ ও নীতির দাপট|

একের পর এক চাঁদপুরবাসীর কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন জাতীয় নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী, চাঁদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ও সাবেক এমএলএ আবদুল করিম পাটোয়ারী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক গভর্নর অ্যাডঃ আবদুল আউয়াল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি অ্যাডঃ সিরাজুল ইসলাম, তৎকালীন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি, সাবেক সাংসদ আবদুর রব, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অ্যাডঃ আবু জাফর মোঃ মাঈনুদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এম সফিউল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ ফ্লাঃ লেঃ (অবঃ) এ.বি. সিদ্দিক, রফিউদ্দিন আখন্দ ওরফে সোনা আখন্দ, অ্যাডঃ মকবুল আহমেদ, অধ্যাপক মোল্লা রিয়াছত উল্যাহ, আবুল কাশেম চৌধুরী ও শেখ মুজাফ&ধসঢ়;ফর আলী| এদের মধ্যে ২/১ জন ছাড়া সবাই মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর মহকুমা সংগ্রাম পরিষদসহ যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সমš^য় সাধন করে বিভিন্ন দায়িত্বে থেকেছেন|

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বর্ষীয়ান জননেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষাসৈনিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী ২০০৬ সালের ২ ফেব্র“য়ারি রাত ৩টা ৫ মিনিটে ঢাকাস্থ বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান| পরে ঢাকা ও চাঁদপুরে বেশ ক’টি জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুরাণবাজারস্থ চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়| বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী ছিলেন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব| রসাত্মক অথচ জ্ঞানগর্ভ বাগ্মিতা ও অপূর্ব সাংগঠনিক দক্ষতায় তাকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পার্লামেন্টেরিয়ান হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো| ছাত্রাবস্থায় তিনি রাজনীতি শুরু করেন| ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিলস্না জেলার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন| মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন| ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীসভায় তিনি তথ্য ও বেতার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন| ১৯৭৩, ১৯৭৯ ও ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন| এক সময়ে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার পর ডাক-তার, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন| মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী মূলতঃ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ক্রাইসিস লিডার| আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুঃসময়ে তিনি দলের হাল ধরেছেন| তাঁর জন্ম হয়েছিলো ১৯২৮ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারস্থ পূর্ব শ্রীরামদী গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে| তাঁর পিতা মরহুম মোঃ হাফিজ চৌধুরী ও মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ মাহমুদা বেগম|

চাঁদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত, সাবেক গণপরিষদ সদস্য, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বলিষ্ঠ সংগঠক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহচর, ভাষা আন্দোলনে তৎকালীন চাঁদপুর মহকুমার নেতৃত্বদানকারী অন্যতম নেতা মরহুম আবদুল করিম পাটোয়ারী| চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে তিনি সবচে’ বেশি পরিচিত ছিলেন| দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি চাঁদপুর মহকুমা প্রশাসক ও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে| তিনি তৎকালীন চাঁদপুর মহকুমা এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন| তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন নীতি নির্ধারক| ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে চাঁদপুর আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়ার পূর্ব মুহূর্তে চাঁদপুর মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের একজন বলিষ্ঠ দিক নির্দেশকের ভূমিকা পালন করেছিলেন| চাঁদপুরবাসী তাঁকে শান্তির প্রতীক হিসেবে সর্বদা আখ্যায়িত করতেন| জীবদ্দশায় তিনি কখনো মানুষের ক্ষতি হোক এমন কোনো কাজে কাউকে সহযোগিতা তো দূরের কথা, সেগুলোকে প্রশ্রয় দিতেন না| তিনি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর তালতলাস্থ পাটোয়ারী বাড়িতে ২০০০ সালের ২১ জানুয়ারি মারা যান| চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে স্মরণাতীতকালের বৃহৎ জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়| তিনি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তালতলাস্থ পাটোয়ারী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন| তাঁর পিতা ছিলেন মরহুম রৌশন আলী পাটোয়ারী|

ভাষা আন্দোলনের অগ্র সৈনিক, তৎকালীন চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক এমএলএ ও সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের বলিষ্ঠ সংগঠক মরহুম আবদুর রব মিঞা| যিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বহুবার জেল খেটেছেন| সেই আবদুর রব মিঞা তখন অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও পরে পরিচিতি লাভ করেন ব্যাপক| মরহুম আবদুর রব মিঞা ১৯৩৪ সালের ১৮ জুন হাজীগঞ্জ উপজেলার মকিমাবাদ মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন| মরহুম খান বাহাদুর আমীন মিঞা ছিলেন তাঁর গর্বিত পিতা| ১৯৫২ সালে ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা অবস্থায় সালাম, রফিক ও বরকতের সাথে তিনিও বাংলা ভাষার দাবিতে মিছিল বের করেন| ওই মিছিলে পুলিশ এলোপাতাড়িভাবে গুলি ছুঁড়তে থাকে| মুহূর্তের মধ্যেই সালাম, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে| কিন্তু ভাগ্যগুণে সেদিনকার ছাত্রনেতা আবদুর রব মিঞা বেঁচে যান| পরবর্তীতে মাস্টার্স পাস করে ফিরে এসে চাঁদপুর মহকুমায় শুরু হয় তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন| ১৯৮৫ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন| এর পূর্বে ১৯৭০ সালে একই আসন থেকে গণ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন| জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন একনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন সাবেক সাংসদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তথা চাঁদপুর মহকুমা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মরহুম আবদুর রব মিঞা|

স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য ভূমিকায় ভাস্বর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, চাঁদপুর মহকুমা এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মনোনীত চাঁদপুর মহকুমার গভর্নর অ্যাডঃ আবদুল আউয়াল| তিনি মরেও চাঁদপুরবাসীর কাছে আজো অমর হয়ে আছেন| তিনি ১৯২৫ সালে কচুয়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন| তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে| এরপর থেকে তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি| তাঁর রাজনৈতিক জীবন বর্ণাঢ্য| চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারক ও প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে অ্যাডঃ আবদুল আউয়ালও ছিলেন একজন| দু’বার জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন| মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিলো তাঁর অসামান্য অবদান| রাজনীতি করতে এসে জেল খাটার পাশাপাশি পেয়েছিলেন মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা| সেজন্যে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে সম্মানিত করলেন বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে| জাতির এই বীর সন্তান অ্যাডঃ আবদুল আউয়াল ১৯৯৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ঈদুল আযহার দিনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে চিরবিদায় নিলেন|

মরহুম অ্যাডঃ সিরাজুল ইসলাম একজন দেশপ্রেমিক আদর্শবান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকের নাম| এ ধরনের সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক নেতা পাওয়া খুবই দুষ্কর| মরহুম আবদুল করিম পাটোয়ারীর ন্যায় মরহুম অ্যাডঃ সিরাজুল ইসলাম শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামেই অবদান রাখেননি, স্বাধীনতা উত্তর চাঁদপুর মহকুমাকে ঢেলে সাজানোয় অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন| যিনি সরকারি চাকুরি ছেড়ে আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতিকে তাঁর আমৃত্যু নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন| রাজনীতি করতে এসে অনেক মর্যাদা, সম্মান ও পুরস্কারের পাশাপাশি অনেক কিছু হারিয়েও ছিলেন| জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একান্ত আপনজন হিসেবে তিনি সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন| অ্যাডঃ সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালে দলের বৃহত্তর স্বার্থে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন| আওয়ামী লীগের একজন কাণ্ডারী হিসেবে তিনি সর্বদা একনিষ্ঠ ছিলেন| চাঁদপুর জেলাধীন ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরকুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই চাঁদপুর শহরের পুরাণ আদালত পাড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন|

মরহুম অ্যাডঃ আবু জাফর মাঈনউদ্দিন, যাঁর নাম চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে| ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন| তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন| এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি ৭ মাস কারাবরণ করেন| জাতীয় সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য হিসেবে তিনি সর্বদা বিরাজ করতেন রাজপথে সাধারণ নেতা-কর্মীদের সাথে| অ্যাডঃ আবু জাফর মাঈনউদ্দিন দলের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সাথে শুধু সম্পর্কই রাখেননি, তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ-খবরও নিতেন| চাঁদপুর শহরবাসী তাঁকে ডায়নামিক নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করতেন| ১৯৩৯ সালের ২৮ অক্টোবর হাজীগঞ্জ উপজেলার ছয়ছিলা গ্রামে তাঁর জন্ম হয়| বর্ণাঢ্য রাজনীতির অধিকারী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা চিরবিদায় নিলেন ১৯৯২ সালের ৪ অক্টোবর| (চলবে)
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত

Fatal error: Class 'SQLiteDatabase' not found in /home/cnews/public_html/archive/lib/mostViewNews.php on line 2