চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৪ জুন ২০১৮। ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ২৮ রমজান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৭০। যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাগণকে বললেন, আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করব।

৭২। যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সম্মুখে সেজদায় নত হয়ে যেয়ো।

৭৩। অতঃপর সমস্ত ফেরেশতাই একযোগে সেজদায় নত হল,

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


একজন কবির ঐশ্বর্য হচ্ছে তাঁর কবিতা সম্ভার।

 -এডমন্ড স্পেনসার।


নম্রতায় মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় আর কড়া মেজাজ হলো আয়াসের বস্তু অর্থাৎ বড় দূষণীয়।


ফটো গ্যালারি
চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী
ডাল, চিনিসহ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার
বিমল চৌধুরী
১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে এখনো বাড়েনি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। আর এই দাম না বাড়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ীই হতাশ। অবশ্য ব্যবসায়ীগণ হতাশ হলেও রোজাদার ও সাধারণ মানুষ বেজায় খুশি। রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে সকল সময়ই আমদানির দোহাই দিয়ে আমাদের দেশে বিশেষ করে তেল, চিনি, আটা, ময়দা, সুজিসহ অতি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রের দাম কিছুটা হলে বৃদ্ধি পায়। আর এই বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগে অধিক লাভের আশায় অনেক ব্যবসায়ীই রোজাকে সামনে রেখে তেল, চিনিসহ অতি প্রয়োজনীয় মালামাল অধিক পরিমাণে কিনে গুদামজাত করেন। নিজের অর্থে না হলেও অন্যের কাছ থেকে বা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে তা করে থাকেন অনেক ব্যবসায়ী। কারণ অধিক আমদানি মানেই অধিক মুনাফা। এখনো নিত্য প্রয়োজনীয় তেল, আটা, চিনি, চাল-ডালের দাম আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়ায় অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা অনেকেই অখুশি। অন্যান্যবারের রোজা বা ঈদের তুলনায় এ বছর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার রয়েছে স্থিতিশীল এবং গত বছরের রোজার সময়ে যে দাম ছিলো তার চেয়ে এ বছর চিনি, তেল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কিছুটা হলেও কম রয়েছে।



চাঁদপুর জেলার একমাত্র বৃহৎ পাইকারী বাজার পুরাণবাজার ঘুরে সে রকম চিত্রই চোখে পড়লো। চোখে পড়লো অনেক ব্যবসায়ীর হতাশা। তাদের এই হতাশার মূল কারণ আমদানিকৃত ডাল, তেল, চিনির বাজার মূল্য দিন দিন নিম্নমুখী হওয়ায়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী দোকানে চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫২ থেকে ৫৩ টাকা, সয়াবিন তেল লিটার ৮৫ টাকা, কোয়ালিটি তেল লিটার ৭৫ টাকা, পাম তেল লিটার ৬৮ টাকা, সরিষার তেল লিটার ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, আটা কেজি ২০ থেকে ২১ টাকা, তীর ময়দা কেজি ৩০ টাকা, সুজি কেজি ৩০ টাকা, ছোলার ডাল কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা, অ্যাংকর ডাল কেজি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা, মসুরির ডাল কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, খেসারি ডাল কেজি ৪০ টাকা, সেমাই কেজি ৪০ টাকা, লাচ্ছি সেমাই কেজি ৬২ থেকে ৬৫ টাকা, চিড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মুড়ি (চিকন) ৫০ টাকা, মোটা মুড়ি ১২০ টাকা, জিরা কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, দারুচিনি কেজি ২৮০ টাকা, এলাচি কেজি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৯৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা, বনস্পতি (ডালডা) কেজি ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, শুকনা মরিচের গুঁড়া কেজি ১৫০ টাকা, হলুদ গুঁড়া কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, পেঁয়াজ এলসি কেজি ১৮ থেকে ১৯ টাকা, দেশী পেঁয়াজ কেজি ৩৫ টাকা, আদা এলসি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, রসুন এলসি কেজি ৩৫ টাকা, রসুন দেশী কেজি ৪০ টাকা, আলু কেজি ১৭ টাকা।



নিত্যপ্রয়োজনীয় ডাল, তেল, চিনি নিয়ে প্রতি বছরই রোজার মাস আসার এক সপ্তাহ আগ থেকেই মোকামে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির পাঁয়তারা করেন আমদানিকারকগণ। কৃত্রিম সঙ্কটের কারণে যদি কেজিতে ১ টাকা বেড়ে যেতো তাহলে তা লোকাল পাইকারী মোকামে ৫-৭ টাকা বেড়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তা এবার বেড়ে যায়নি। রোজার পূর্ব থেকে এখন পর্যন্ত একইভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে এখন পর্যন্ত বাজার রয়েছে স্থিতিশীল। এই স্থিতিশীল বাজার থাকায় একদিকে রোজাদারসহ সাধারণ মানুষ যেমন খুশি, অপরদিকে কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীগণ হয়েছেন অখুশি। এ বছর পেঁয়াজের দাম ছিলো অনেকটাই কম। কাঁচা মরিচের দামও ছিলো নাগালের মধ্যে। ।



এদিকে তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে ১০/১৫ টাকা। বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে তরল দুধ। দুধের আমদানি রয়েছে চাহিদা অনুযায়ী। তাতে পানি বা ভেজাল যা-ই থাকুক তা নিয়ে কারো চিন্তা নেই। এবার রোজায় আশাতীতভাবে দাম কম ছিলো আমের। ইফতারের সময় অন্যান্য ফল তেমন প্রাধান্য না পেলেও আমের প্রাধান্য ছিলো বেশি। ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দামে বাজারে বিক্রি হয়েছে ভালো ভালো জাতের আম। তবে এ আমে ফরমালিন রয়েছে কিনা তা জানার অবকাশ নেই ক্রেতা সাধারণের। বিগত বছরে ফলের ফরমালিন নিয়ে যেভাবে প্রচার প্রচারণা ছিলো, এ বছর তা তেমনভাবে চোখে পড়েনি। কাঁচা মরিচসহ বেগুন রোজার প্রথম দিকে কিছু বেশি দামে বিক্রি হলেও এখন তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে তুলনামূলকভাবে শাক-সবজির দাম তেমন কমেনি।



রমজানের একেবারে শেষদিকে এসে চালের বাজার বেড়ে যায় প্রতি কেজিতে ২ হতে ৩ টাকা। ঈদের আগমুহূর্তে হঠাৎ করে চালের বাজার বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাসাধারণ অনেকটাই হতাশ। অবশ্য চাল ব্যবসায়ীগণ চালের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্যে সরকারের আমদানি শুল্ককে দায়ী করেন। গত ৫/৬ মাস পূর্বে হাওড় এলাকায় বন্যার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় চালের দাম কেজিপ্রতি ১০/১২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার চাল আমদানি শুল্ক তুলে দিলে চালের বাজার একেবারে নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। ফলে ক্রেতাসাধারণের মাঝে সন্তুষ্টিভাব পরিলক্ষিত হলেও গত ২/৩ দিন পূর্বে পুনরায় চালের আমদানি শুল্ক পূর্বের ন্যায় আরোপিত হলে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ে। ঈদের আগমুহূর্তে চালের এই বাজার বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়সম্পন্ন মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। চাল আমদানিকারক কয়েকজন ব্যবসায়ী মনে করেন চালের দাম আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রোজার শেষ দিকে কেজিতে ২/৩ টাকা বৃদ্ধি পেলেও ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম স্থিতিশীল থাকায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষই খুশি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৩৩৯৩
পুরোন সংখ্যা