চাঁদপুর। বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৯। উহারা কি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে? বরং আমিই তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী।


৮০। উহারা কি মনে করে যে, আমি উহাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না? অবশ্যই রাখি। আমার ফিরিশতাগণ তো উহাদের নিকট থাকিয়া সবকিছু লিপিবদ্ধ করে।


 


গণতন্ত্র যেখানে নেই, স্বস্তি সেখানে থাকার কথা নয়। -এস বাল্ডউইন।


 


যে ধনী বিখ্যাত হবার জন্য দান করে, সে প্রথমে দোজখে প্রবেশ করবে।


 


ফটো গ্যালারি
পবিত্র জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম
২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সমস্ত প্রশংসা ঐ মহান আল্লাহর যিনি 'হও' নির্দেশ দ্বারা গোটা জাহান সৃষ্টি করেছেন। লক্ষ কোটি ছজুদ ঐ মহান আল্লাহর জন্য। অগণিত দরুদ শরীফ ঐ মহান নবীর উপর যিনি নবীগণের সরদার, গুনাহগারদেরও চিন্তায় চিন্তিত, শান্তি, বে-কারার দিলের স্বস্তি। এ মাস নবীর বেলাদাতা বা শুভ আগমন-এর মাস। মাহে 'রবিউল আউয়াল' হিজরী বর্ষেও তৃতীয় মাস। বছরে সবগুলো মাসের মধ্যে এ মাসের মর্যাদা ও তাৎপর্য অত্যাধিক। রবিউল আউয়াল বলতে প্রথম সঞ্জীবনের মাস বুঝায়। এ নামে নামকরণের তাৎপর্য হচ্ছে মক্কায় কাফের কোরাইশ সম্প্রদায় অনাবৃষ্টি ও অভাবের ফলে কঠিন বিপদের মাঝেও দিনাতিপাত করছিলো। মহানবী মোহাম্মদ (দঃ) যে বছর মা আমিনার কোলে 'তশরীফ আনলেন, সেই বছর মক্কায় শুষ্ক জমিনে সঞ্জীবিত হয়ে উঠলো। শুষ্ক বৃক্ষ তরতাজা ও ফলবন্তু হয়ে গেল এবং চতুর্দিকে একটি আনন্দ উৎফুল্লতার জোয়ার বয়ে যেতে লাগলো। একই হাছিদের পরিভাষায় 'ছানাতুল ফতেহ ওয়াল ইবতেহাজ' অর্থাৎ বিজয় ও আনন্দের বৎসর বলে। তাই এই মাস রবিউল আউয়াল হিসেবে সুপরিচিত। এই আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে মহানবী (দঃ) এর আগমনের ফলেই। কেননা প্রিয় নবী (দঃ) এই মাসে না আসলে রবিউল আউয়ালের কোনো মূল্য হতো না। এই মাসে উচ্চমর্যাদার কারণ হচ্ছে, ছাহেবে কোরআন ফখরে মওজুদাদ, হযরতে আহমদে মুজতবা মুহম্মদে মুস্তফা (দঃ) আগমন করেন ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফে। কোরআনে করিমের ১৭ পারা সূরা আম্বিয়ায় ঘোষণা হচ্ছে-'আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি"। এই রহমতের জন্য খুশি উদ্যাপন করার ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, 'কুল বে ফাদদিল্লাহে ওয়া বে রাহমাতিহী ফাবে জালিকা ফাল ইয়াফরাহু'। যার অর্থ হচ্ছে, হে নবী আপন উম্মতগণকে বলে দিন আল্লাহর ফজল এবং রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন খুশি প্রকাশ করে।' এই রহমত ও ফজল কে? এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বিশ্ব বরেণ্য মোফাচ্ছিরগণ রহমত বলতে হযরতে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) কে বুঝিয়েছেন। কোরআন শরীফের এই আয়াতে যদিও ফজল এবং রহমত অধিকাংশ তাফছিরে ঈমান ও ইসলাম অথবা কোরআন এবং ইসলামকে বলা হয়েছে তবুও ইমাম সাইয়দে মোহাম্মদ বিন আলুয়ী আব্বাছ মালিকী আল হাছানি বলেন, 'আন্না নবী (দঃ) হুয়া আয়জামুর রাহমাহওয়াকালল্লাহু আয়জান ওমা আরছালনাকা ইল্লা রাহমাতুলি্লল আলামীন। আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়ুতী (রাঃ) তাফছির দূররে মানছুরে রাহমাত বলতে মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহকে উল্লেখ করেছেন। আর যদি ঈমান ধরি তা' হলে ছাহাবা কিরামরা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ মাল ঈমান? হে আল্লাহর রাসূল ঈমান কি? আল্লাহর হাবীব উত্তর দিলেন-'আই ইয়াকুনাল্লাহা ওয়া রাসুল্লাহু আহাব্বা ইলাইহে মিম্মা ছেওয়াহুমা' (অর্থ-তোমার মধ্যে আল্লাহ এবং তার রাসূল ছাড়া আর কারও ভালোবাসা থাকবে না-এই অবস্থা যদি হয় তাহলে বুঝা যাবে তোমার মধ্যে ঈমান আছে'। আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়ুতী তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'বিইশবাইল কালামে ফি ইছবাতে মওলুদে কিয়াম'-এ বলেন, কারাতুল মওলুদ শরীফ ওয়াল কিয়াম ফিইহে মুস্তবাব্বাহা ওমান আনকারা জালিকা ফাহুয়া জুহুদুন লা ইয়ারেফু মেরাতেবুল রাসূল (দঃ)।



অর্থঃ মিল্লাদুন্নবী করা, কেয়াম করা মোস্তাহাব, যারা এটাকে অস্বীকার করল তারা রাসূলের মর্যাদা সম্বন্ধে অজ্ঞ, জাহেল। সুতরাং এই খুশির কারণে বৈধ পন্থায় প্রিয় নবী (দঃ) এর জন্ম উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা এবং দান খয়রাত করা অত্যন্ত ছোয়াবের কাজ। এ সম্পর্কে আহলে সুন্নাত এর ধারণা স্পষ্ট।



 



মিলাদুন্নবী (দঃ) এর রাত্রি কদরের রাত্রি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট



বিশ্ব বরেণ্য মোহাদ্দিস হযরত শাহ আবদুল হক মুহাদ্দেছ দেহলবী (রাঃ) তার বিখ্যাত কিতাব 'মাছাবাতা-বিচ্ছুনাহ' এর ৮১ পৃঃ লিখেন যে, 'মিলাদুন্নবী (দঃ) এর রাত্রি শবে কদরের রাত্রি হতে নিঃসন্দেহে উৎকৃষ্ট, কেননা মিলাদুন্নবী (দঃ) এর রাত্রি স্বয়ং নবীর আগমনের রাত্রি। আর শবে কদরতো তাকেই প্রদান করা হয়েছে।



প্রিয় নবী সরকারে দো আলম (দঃ) এ মহান আগমনে আনন্দ প্রকাশ করার কারণে কাফেরও ফায়দা পায়ঃ



এই হাদিস খানা বোখারী শরীফের সু-বিখ্যাত ব্যাখা গ্রন্থ " উমাদাতুল কারী শরহে বোখারীর" ১ম খ-ের ৯৫ পৃষ্ঠায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানফী (রাঃ) এবং হাফেজে হাদীস হযরতে ইবনে হাযর আসকালীন 'ফাতহুল বাবীর" ১ম খন্ডের ১০৮ পৃষ্ঠার মধ্যে লিখেন যে, আবু লাহাব মারা যায় তার কয়েক বছর পর আব্বাস বলেন, আমি তাকে স্বপ্নে দেখি যে, সে বড়ই বিপদে আছে এবং সে বলছিল যে, তোমাদের কাছ থেকে আসার পর হযরত আমার কোন শাস্তি নছিব হয়নি। হ্যা এতটুকুন অবশ্যই হয়েছে যে প্রত্যেক সোমবার আমার আযাব হালকা করে দেওয়া হয় এবং যে দুই আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত দিয়ে তাকে আযাদ করেছিল সে দু' আঙ্গুলের মাঝ থেকে পানি নির্গত হয়ে থাকে। সে পানি পান করেই আবু লাহাব কিঞ্চিত স্বস্তি বোধ করে। প্রিয় পাঠক সমাজ একবার চিন্তা করুন, আবু লাহাবের মত কাফের যদি শান্তি পেয়ে থাকে এই কারণে, তাহলে আমরা ঐ নবীর ঈমানদার উম্মত হয়ে আরো কত মূল্যবান প্রতিদান আল্লাহর থেকে পেতে পারি। তাই আমাদের উচিত ঐ নবীর আগমকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা, খুশি উদ্যাপন করা, দান-খয়রাত করা।



দুই ঈদের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হল ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)



ঈদ অর্থ খুশি। আমরা দুইটি ঈদ পালন করে থাকি। একটি ছিল শাওয়াল চাঁদের ঈদ। অপরটি হল জিলহজ্ব চাঁদের ঈদ। কিন্তু হাদিসের ইমাম যার উছিলায় আমরা নবীর হাদিস এই উপমহাদেশে পেয়েছি সেই হযরত আবদুল হক মহাদ্দেসে দেহলবী (রাঃ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ মাদারেজুন নবুয়ত এ বলেন, এক পাল্লার এক পাশে দুই ঈদকে যদি রাখা হয় আর অপরটিতে নবীর আগমনের ঈদকে রাখা হয় তাহলে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) এর পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। ঐ দুই ঈদ আমরা পেতাম না যদি আল্লাহর নবী না আসতেন। সুতরাং এই দিনে উম্মতের জন্যে ঈদ নয় কি? যদি ঐ দুই ঈদে এত খুশি উদ্যাপন করা হয় তা' হলে এই ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) তে আরো বেশি খুশি উদ্যাপন করা উচিত নয় কি?



ইমাম রাব্বানী হযরত মুজাদ্দেদে আলছেফানী (রাঃ) মাকতুবাত শরীফের ৩য় খন্ডের ৭২ পৃষ্ঠায় শরীয়ত সম্মত উপায়ে মিলাদুন্নবী (দঃ) এর মাহফিলকে জায়েজ বলেছেন। হযরত শাহ ওলিউল্লাহ মোহাদ্দেছ দেহলবী (রাঃ) জয়জুল হারমাইন কিতাবের ২৬ ও ২৭ পৃষ্ঠায় লিখেন 'আমি ইতিপূর্বে প্রিয়নবী (দঃ) আবির্ভাবের দিন মক্কা শরীফে হাজির ছিলাম। বহু লোক প্রিয়নবী (দঃ) এর উপর দরুদ ও ছালাম পাঠ করেছিলেন এবং সমস্ত অলৌকিক ঘটনাবলি আলোচনা করেছিলেন এমতাবস্থায় আমি কতগুলো নূর হঠাৎ প্রকাশ হতে দেখলাম আমি জানি না উক্ত নূরগুলি চর্মচোখে দেখেছিলাম না অন্তর চক্ষুতে দেখেছিলাম। এর মধ্যে প্রকৃত ব্যাপার কি ছিল আল্লাহ অধিক অবগত আছেন। তৎপর আমি উক্ত নূরগুলির বিষয় চিন্তা করে বুঝলাম যে, যে সমস্ত ফেরেস্তা এই মজলিশের মধ্যে নিয়োজিত ছিলো এই নূর তাহাদের । আরো দেখলাম যে ফেরেশতাদের নূরগুলির সহিত আল্লাহ তায়ালার রহমতের নূরগুলি মিলিত হচ্ছে। হযরত শাহ ওলীউল্লাহ মোহাদ্দেছে দেহলবী (রাঃ) মোবাশ্বারাতাণ নাবিউল করিম কিতাবের অন্য পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন যে, তার পিতা হযরত শাহ আবদুর রহিম দেহলবী (রাঃ) প্রতি বৎসর যথাযোগ্য মর্যাদার ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) পালন করতেন।



আখেরী মোহাদ্দেছ ইমাম জালাল উদ্দিন সিয়ুতী (রাঃ) শরহেসসুদূর কিতাবে লিখেছেন, হযরত নবী করিম (দঃ) এর তাশরীফ আনা ও দেখা সম্বন্ধে অবগত আছেন। নিশ্চয়ই তারা বহুবার মিলাদে মাহফিলে ও কোরআন খতমকালে হযরত নবী করিম (দঃ) কে দেখেছেন। ইমাম গাজ্জালী (রাঃ) মোনকেজ মিনাদ্দালাল কিতাবের ২৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, নিশ্চয়ই তরীকত পন্থী লোকগণ মিলাদুন্নবী (দঃ) এর মাহফিলে জাগ্রত অবস্থায় ফেরেস্তা ও নবীগণের রুহের সহিত সাক্ষাত করে থাকেন।



ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উদ্যাপন করা এবং রবিউল আউয়াল মাসে দান খয়রাত করার ফরিজলত ঃ



অনেক লোক ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠান করা, দান খয়রাত এবং আনন্দ প্রকাশ করাকে বেদআত মনে করে। কিন্তু তাদের এ ধারণা নিতান্তই ভুল। বরং সাহাবায়ে কেরামগণের কি আমল ছিলো একটু লক্ষ্য করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশ্ব বরণ্যে ঈমাম আল্লামা শেহাবুদ্দীন আহম্মদ বিন হাজার আল-হায়াতীমী আলশাফী তার প্রণীত কিতাব " আন নেয়ামাতুল কুবরা আলাল আলম ফি মাওলুদে সাইয়েদেল আনাম" নামক কিতাবের ৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন যে,



১। মুসিলম উম্মার প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রাঃ) বলেছেন যে, ব্যক্তি হুজুর (দঃ) এর মিলাদ শরীফে এক দিরহাম বা টাকা ব্যয় করবে সে আমার সাথে বেহেস্তে থাকবে।



২। হযরত ওমর (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হুজুর (দঃ) এর মিলাদ শরীফকে ইজ্জত ও সম্মান দিবে সে যেন ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করল।



৩। হযরত ওসমান (রাঃ) বলেছেন, প্রিয় নবী (দঃ) এর মিলাদ শরীফ উদ্যাপন করতে গিয়ে যে দিরহাম বা টাকা পয়সা ব্যয় করবে সে যেন বদর, হুসাইনের মত মহানযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করল।



৪। হযরত আরী মুরতাজা (রাঃ) বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উদ্যাপনকারী ঈমাদের সাথে মৃত্যুবরণ করবে এবং বিনা হিসাবে বেহেস্তে যাবে।



৫। হযরত আবদুল হক এলাহাবাদী (রাঃ) দুররে মুনজাম কিতাব উল্লেখ করেছেন। মিনাল আযালে ইলাল আবাদের লাআজেদু ওয়াক্তান আফযালুন মিন ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) । অর্থঃ দুনিয়া সৃষ্টির প্রথম থেকে কেয়ামত পর্যন্ত ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) চেয়ে উত্তম সময় সৃষ্টি করেন নাই।



৬। আননেয়ামাতু কুবরা আলাল আলামীন কিতাবে উল্লেখ করেছেন মা আমেনা (রাঃ) হইতে বর্নিতঃ তিনি বলেন ওয়ালমালায়েকাতু তাতানাজ্জালু আলাইয়া আফওয়াজান আফওয়াজান আছওয়াতাহুম বিচ্ছালাতে ওয়াচ্ছালোমে আলারাসূলে মোকাররাম (দঃ)।



অর্থঃ রাসুলেপাক (দঃ) এর পবিত্র বোলাদাতের সময় আমার ঘরে অসংখ্য ফেরেস্তারা মিছিল সহকারে অবতীর্ণ হন এবং তারা উচ্চ কণ্ঠে দরুদ ও সালাম পেশ করেন।



এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) এর ফজিলত কত বেশি। সুতরাং এই দিনে পুণ্যের কাজ করে দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াব হওয়া যায়। আল্লাহ সকল উম্মত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের হৃদয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) এর ভালোবাসা পয়দা করুক এবং কঠিন আযাবের দিবসে আমাদের জন্যে নাজাতের উছিলা হিসাবে কবুল করুক। পাঠক সমাজে পরিশেষে বলতে চাই যদি বণী ইসরাঈলীদের জন্য যেদিন তাদের জন্য বেহেস্তের খাবার আসত আর ঐ দিন যদি ঈদ হতে পারে, যেমনঃ কোরআনে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন কালা ঈছা ইবনে মারইয়ামা আল্লাহুম্মা রাব্বানা আনজিল আলাইনা মায়েদাতাম মিনাছ ছামায়ে তাকুন লানা ঈমান (সূরা মায়েদা) তাহলে রাহমাতুলি্লল আলামিনের আগমণকে আজকে যারা ঈদ মানে না তাদের জন্য অনুশোছনা করা ছাড়া কিছুই নাই।



জন্ম আলোচনা করা বা পালন করা ইসলাম সম্মতঃ



যেমন মুসলিম শরীফে আল্লাহর হাবীব বলেন 'ছুয়েলা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আন ছাওমিল ইছনাইন ফাকালা ফিদে উলেদতু ও ফিহে উনজিলা আলাইয়াল কোরআন"। অর্থঃ-সোমবারের দিন রোজা রাখা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে আল্লাহর হাবীব (দঃ) বলেন, তোমরা সোমবার দিন রোজা রাখো কারণ ঐদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। সূরা মারিয়ামে হযরত ঈছা (আঃ) তার জন্মদিনকে শান্তি ও বরকতের দিন উল্লেখ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেণ, 'আসছালামু আলাইয়াওমা ওলেদতু ওইয়াওম আমুতু ও ইয়াওমা উবআছু হাইয়া"। অর্থঃ-শাস্তি ঐদিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি ইন্তেকাল করব এবং যেদিন আমি জীবন্ত পুনরুত্থান লাভ করব। সুতরাং ঈছা (্আঃ) থেকে আমাদের নবীর মর্যাদা কত লক্ষগুণ বেশি তা এই অল্প পরিসরে শেষ করা যাবে না। হজ্বের মধ্যে আগাগোড়া ইব্রাহীম (আঃ), ইসমাঈল (আঃ) এবং বিবি হাজেরার স্মরণ করা হয়। তাদের স্মরণ আজ হজ্জেরও অঙ্গ হয়ে গেছে। আল্লাহ্ কোরআনে বলেন ইন্নাছ ছাপা ওয়াল মারওয়াতা মিন শায়াইরিল্লাহ-অর্থ (নিশ্চয়ই ছাফা এবং মারওয়া নিদর্শনসমূহের মধ্যে অনত্যম) ছাফা মারওয়াতে বিবি হাজেরার দৌড়াদৌড়ি এখন হজ্জেরও অংশ শায়ইরিল্লাহ হয়েছে। আল্লাহর নিদর্শন।



কোন নির্দিষ্ট দিনে কাউকে স্মরণ করলে কোন গুনাহ নাই বরং অফুরন্ত ছাওয়াবঃ



মদীনায় পেঁৗছে হুজুর (সাঃ) দেখলেন ইহুদীগণ আশুরার রোজা রাখে। হুজুর (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা আশুরার রোজা রাখে কেন? তারা বলল, এটা ঐ দিন আল্লাহ ফেরাউনকে নীল দরিয়ায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ মুছা (আঃ) কে নাজাত দিয়েছিলেন। আমরা এজন্যে এই দিন রোজা রাখি। এই কথা শুনে হুজুর (সাঃ) বললেন ঃ নাহনু আওয়া বেমুছা মিনকুম ফাছামাহু ওয়া আমরা বেছিয়ামিহি (বোখারী ও মুসলিম) অর্থঃ মুছা (আঃ) এর সাথে তোমাদের যে সম্পর্ক তাহা হতে অধিক সম্পর্ক আমার সাথে। তখন হুজুর (দঃ) নিজে আশুরার রোজা রাখলেন ও সাহাবাগণকে রোজা রাখতে বললেন। পাঠক সমাজ ফেরাউন কোন দিন ডুবিয়াছিল এবং কবে নাজাত পেয়েছিলেন, আজ পর্যন্ত সেই শুকরিয়া রোজার মাধ্যমে জারী আছে। তাই আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ওরাফায়না লাকা জিকরাক, (আমরা আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি। তাই রাসূল (দঃ) সেই স্মরণকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। অতএব প্রতি ঘরে ঘরে, মহল্লায় মহল্লায়, অফিসে অফিসে, মসজিদে মসজিদে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা এবং ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার সিম্পোজিয়াম এবং গরীব দুঃখীকে খাওয়ানো ও দান খয়রাত করা অতি উত্তম ও ছাওয়াবের কাজ।



ফতওয়ার কিতাবে আছে ঃ আন্নাল এহতেফাল বিল মাউলিদ আন নব্বী শরীফ তাবীরু আনিল ফারহে ওয়াছ ছরুরে বিল মোস্তফা (দঃ) ওকাদ ইনতেফা বিহি আল কাফের। (কিতাব হাউলিল ইহতেফাল বিজিকরা আল মাউলুদুন নব্বী আল মাউলুদুন নব্বী আল শরীফ) লেখক আল ইমাম সাইয়্যেদ মোহাম্মদ বিন আব্বাস আল মালিকা আল হাছানী অর্থ হুজুর কারীম (সাঃ) শানে অনুষ্ঠান করা, মিলাদুন্নবী করা আনন্দ প্রকাশ, যারা করেন তারা মোমীন, আর বিরোধীরা কাফির-কারণ কাফিররা রাসূলের আগমনকে বরদাশত করতে পারে না।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৪১৪৭১
পুরোন সংখ্যা