চাঁদপুর, রোববার ১২ মে ২০১৯, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • অনিবার্য কারণে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আজকের চাঁদপুর সফর স্থগিত করা হয়েছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

১২। উহাদের পূর্বেও সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল নূহের সম্প্রদায়, রাস্স ও ছামূদ সম্প্রদায়,

১৩। আদ ফিরআওন ও লূত সম্প্রদায়

১৪। এবং আয়কার অধিবাসী ও তুব্বা সম্প্রদায়; উহারা সকলেই রাসূলদিগকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল, ফলে উহাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হইয়াছে। 


assets/data_files/web

মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে আমি নিজের অভিভাবক। -নিকেলাস রান্ড।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর কণ্ঠ পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে
মাহবুবুল আলম চুন্নুু
১২ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


যুগে যুগে, কালে কালে একটি দায়িত্বশীল অবস্থান থেকেই দেশে দেশে পত্রিকা প্রকাশ পেয়ে আসছে। দায়িত্বশীলতার মূল বিষয়টি দৃঢ় অঙ্গীকার; যার পেছনে কাজ করে সামাজিক দায়বদ্ধতা। সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখ-হাসি-কান্না-ব্যথা-বেদনা এ মানবিক বিষয়গুলো সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়। অসত্য-অসুন্দর-অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদপত্র জনমত তৈরি করে মানুষকে সচেতন করে। জাগিয়ে তোলে। চেতনাকে শাণিত করে। কল্যাণের পথে এগিয়ে নেয়।



চাঁদপুর কণ্ঠ তার কঠিন পথচলায় এ ২৫ বছরে গণমানুষের পত্রিকা হিসেবে নিজেকে কতটুকু তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে অর্থাৎ মানুষের কাছাকাছি থেকে সমাজ সচেতনতা সৃষ্টিতে চাঁদপুর কণ্ঠের অবদান কী_এ ভাবনাটা খুব গভীর থেকে অনুধাবন করার বিষয়।



প্রতিদিন পত্রিকা বেরুলো, খবর এলো, পাঠক পড়লো আবার পরদিন তা বাসি হয়ে গেলো, পত্রিকার এ স্বাভাবিক পরিণতি কিন্তু একটি পত্রিকার সার্থকতা নয়। চাঁদপুর কণ্ঠ কি সেই মাত্রিকতার পত্রিকা? আমার ধারণা এবং দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ কিন্তু সে কথা বলে না। চাঁদপুর জেলায় প্রকাশিত সংবাদপত্রসমূহের মধ্যে চাঁদপুর কণ্ঠকে চাঁদপুরের বিদগ্ধজন মূলধারার পত্রিকা বলেই জ্ঞান করে থাকেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলিকে গণমানুষের দ্বারে পেঁৗছে দিয়ে এর পরিত্রাণে ভূমিকা রাখায় চাঁদপুর কণ্ঠের অবদান অনস্বীকার্য।



প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই 'পাঠক ফোরাম' গঠন করে চাঁদপুর কণ্ঠ একটি সুচিন্তত্মক পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করে সমাজ সচেতনতায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছে। চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাকালে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় পত্রিকার সংখ্যা ছিলো হাতেগোণা ২/১টি মাত্র। ২৫ বছর পূর্বে মানুষকে পত্রিকামুখী করা, মানুষের মাঝে পাঠাভ্যাস সৃষ্টি করার মতো সৌন্দর্যম-িত কাজটি চাঁদপুর কণ্ঠ নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করেছে। তাইতো চাঁদপুর কণ্ঠের অবস্থান পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই চাঁদপুর কণ্ঠ অদ্যাবধি সে দায়িত্ব পালন করে আসছে।



বিশাল পাঠকগোষ্ঠী তৈরির পাশাপাশি চাঁদপুর কণ্ঠ কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক তথা সৃজনশীল মুক্তচিন্তার উদার মানুষ তৈরিতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছে। চাঁদপুর জেলার প্রতিথযশা সম্পাদক সাংবাদিকদের মধ্যে অধিকাংশই চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে পাঠ নিয়েছেন-গর্বের সাথে এ সত্য উচ্চারণ করা যায়। চাঁদপুর কণ্ঠ তথা এর সুযোগ্য প্রধান সম্পাদক আমাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব কাজী শাহাদাত সম্পাদক-সাংবাদিক-কবি-সাহিত্যিক তৈরিতে শিক্ষক তথা পথ-প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছেন। পত্রিকাটির প্রতি সপ্তাহের পাঠক ফোরাম ও পাক্ষিক সাহিত্যপাতা সে সাক্ষ্য বহন করে।



পাঠ্যপুস্তকনির্ভর আত্মকেন্দ্রিক বর্তমান প্রজন্মকে সমাজমুখী করে প্রতিশ্রুতিশীল জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলতে চাঁদপুর কণ্ঠ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।



'পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ্ল' বিতর্ক অনুষ্ঠানের কথাই ধরি। চাঁদপুর কণ্ঠ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে আনন্দধারা সৃষ্টির মাধ্যমে বিতর্ক অনুষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালনা করে আসছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায় থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিতার্কিক তৈরি করায় চাঁদপুর কণ্ঠ সফলতার স্বাক্ষর রেখে আসছে। একজন বিতার্কিককে বিষয়ভিত্তিক পাঠার্জন করতে হয়। গভীরে প্রবেশ করে বিষয়ের নির্যাস আহরণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে হয়। তিনি উচ্চারণ, শারীরিক ভাষা, বাচনভঙ্গি ইত্যাদি গুণাবলি রপ্ত করে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠেন। সমাজের নেতিবাচক বিষয়গুলো দ্বারা মোহগ্রস্ত না হয়ে একজন বিতার্কিক বিজ্ঞানমনস্ক বাস্তববাদী হিসেবে পরিবার-রাষ্ট্র-সমাজে অবদান রাখেন। সেজন্যেই চাঁদপুর কণ্ঠ 'তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠ' হিসেবে প্রশংসনীয়।



নারী বিদ্বেষ এবং নারী জাগরণ-দুটি বিপরীত ধারার দ্বন্দ্ব আমাদের সমাজে বিরাজমান। ধর্মীয় মৌলবাদ, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, কুসংস্কার, পেশীশক্তি, কুরুচি প্রভৃতি নারীর ক্ষমতায়ন তথা নারী জাগরণের পথে প্রধান অন্তরায়।



চাঁদপুর কণ্ঠ 'নারীকণ্ঠ' প্রকাশ করে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ এবং যথাযথ অবদান রেখেছে। অাঁধার ভেদ করে নারীকে আলোয় নিয়ে এসে মানবতার বারতায় জাগ্রত করার প্রত্যয়ে চাঁদপুর কণ্ঠ অনন্য।



মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে বর্তমানে শিক্ষা এবং চিকিৎসা অন্যতম। বাংলাদেশে এখন আর ভাত (অন্ন) কাপড়ের (বস্ত্র) অভাব নেই। কিন্তু গরিবের জন্যে সুশিক্ষা এবং সুচিকিৎসার বড় অভাব। ধনীরা অর্থ দিয়ে বিদ্যা কিনে। ফলস্বরূপ আমলার (ধনাঢ্য) সন্তান আমলা হচ্ছে। কামলার (গরিব) সন্তান কামলা। মরণব্যাধি নিয়ে চিকিৎসার অভাবে গরিব মরছে ধুঁকে ধুঁকে। সামান্য কাশি হলে ধনীরা যাচ্ছে বিদেশে। এই কঠিন বাস্তবতায় চাঁদপুর কণ্ঠ 'শিক্ষাঙ্গন' এবং চিকিৎসাঙ্গন বিভাগ প্রকাশ করে 'গণমানুষের কণ্ঠে' পরিগণিত হয়েছে।



বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা এবং বিকাশে চাঁদপুর কণ্ঠের অবদান অপরিসীম। প্রযুক্তির অপব্যবহারে স্মার্টফোনের মোহগ্রস্ততা এবং মাদকের ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করে কল্যাণের পথে নিয়ে আসতে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধনে উদ্বুদ্ধ করে কল্যাণকর সমাজ নির্মাণে চাঁদপুর কণ্ঠের আন্তরিক অঙ্গীকার পত্রিকা প্রকাশের সার্থকতার পরিচায়ক।



বিগত শতকের নব্বই দশকে চাঁদপুর কণ্ঠ যখন প্রকাশ পায়, তখনো পত্রিকা বের হওয়ার পেছনে সামাজিক স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেতো। চাঁদপুর কণ্ঠের কাছে আমাদের প্রত্যাশা শুভবোধের এবং কল্যাণের। সমাজদেহ থেকে সকল অমঙ্গল ও অকল্যাণ দূর করার দৃঢ় প্রত্যয়ে চাঁদপুর কণ্ঠ এগিয়ে যাবে_এ শুভকামনা রইলো চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের সবার প্রতি।



লেখক : প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, চাঁদপুর কণ্ঠ পাঠক ফোরাম; সভাপতি, হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৩৪৩১
পুরোন সংখ্যা