চাঁদপুর, রোববার ১২ মে ২০১৯, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

১২। উহাদের পূর্বেও সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল নূহের সম্প্রদায়, রাস্স ও ছামূদ সম্প্রদায়,

১৩। আদ ফিরআওন ও লূত সম্প্রদায়

১৪। এবং আয়কার অধিবাসী ও তুব্বা সম্প্রদায়; উহারা সকলেই রাসূলদিগকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল, ফলে উহাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হইয়াছে। 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর কণ্ঠ ও আমার প্রত্যাশা
প্রবীর চক্রবর্তী
১২ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা ২৪ মিনিট, তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৯। ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে সভাপতি নুরুন্নবী নোমানের সাথে প্রেসক্লাব বিষয়ে কথা বলছি। ঠিক তখনি ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক রাধ্যেশ্যাম কুরী পাঞ্জেরী-চাঁদপুরকণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ১১তম আসরের নতুন সংযোজন ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে বিচারক হিসেবে তাকে নির্বাচিত করার জন্য পত্রিকার প্রাণ পুরুষ কাজী শাহাদাত ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার জন্যে মুঠোফোনে কল করেন। কথা শেষ না হতেই যাকে নিয়ে আলোচনা সেই প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাতের মুঠোফোন থেকে কল। 'পত্রিকা পেয়েছো কি না'। তারপরের কথা অনর্গল বলে গেলেন। যার সার সংক্ষেপ হলো : আগামী ১৭ জুন চাঁদপুরকণ্ঠের রজতজয়ন্তী উৎসব পালিত হবে। সেখানে আমার লেখা চাই। সময় ৩০ এপ্রিল। অবশ্যই লেখায় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ইকবাল-বিন-বাশার ও কাজী শাহাদাতকে নিয়ে প্রশংসা করা যাবে না। এই ২৫ বছরে চাঁদপুরকণ্ঠের প্রতি আমার, আমার নিজ উপজেলার পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতাসহ মানুষের ভাল মন্দ কথা থাকলে আপত্তি নেই। সময় ২৭দিন। সময় অনেক। কিন্তু কী নিয়ে লিখবো, তাই নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।



দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার জন্ম থেকেই আমাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রাখা হতো। পত্রিকার নানা সংবাদ আমাকে আলোড়িত করতো। আমার মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়ালেখার একেবারে শেষের দিকে আমার একজন হাউজ টিউটরের (নাম এই মূহূর্তে মনে নেই) হাত ধরেই সাংবাদিকতায় দৈনিক জাতীয় নিশান পত্রিকায় আমার প্রথম হাতেখড়ি। তিনি ওই পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তার সহযোগিতায় ওই পত্রিকায় আমার লেখা কয়েকটি সংবাদ ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা দিয়ে ছাপা হয়। যদিও সংগ্রহে না থাকার কারণে এখন তার প্রমাণ নেই। পরবর্তীতে নিজে জনকণ্ঠ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ঢাকার কয়েকটি অখ্যাত পত্রিকায় (এখন বুঝতে পারছি) আবেদন করি। ক'দিন পর আমার আরেক হাউজ টিউটর (জনতা ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা)-এর প্রযত্নে আইডি কার্ডও পত্রিকা চলে আসে। বর্তমানের প্রেক্ষাপটে তখন আমি জাতীয় পত্রিকার সংবাদিক। কিন্তু আসলে মূল ধারায় কি তখনো যেতে পেরেছি। আমার কাছে তা মনে হয় নি। বর্তমানে সাপ্তাহিক ফরিদগঞ্জ পত্রিকার প্রকাশক মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হাসান আলী (আমার পিতা প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ নারায়ণ চক্রবর্তীর বন্ধু হওয়ার কারণে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াত করায় তার সাহচর্য পাই) আমাকে এসব কাজে উৎসাহ দিতেন। চাঁদপুরের একটি পত্রিকায় কাজ করার ইচ্ছে ছিল। পরে ১৯৯৪ সালের জুলাই মাসের কোনো এক সময়। আমার নিজের হাতের লেখা একটি আবেদন নিয়ে চাঁদপুর শহরের পালবাজারের বকুলতলা রোডে রত্না ডেন্টালের চিকিৎসক প্রয়াত ডাঃ শেখর মজুমদারের সহযোগিতা নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশারের বাসায় যাই। সেখানেই ওই সময়ের বার্তা সম্পাদক আমার অন্যতম পছন্দের মানুষ মির্জা জাকিরকে পাই। তার হাতেই সাপ্তাহিক চাঁদপুরকণ্ঠ পত্রিকায় ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্যে আবেদন জমা দেই।



সেই থেকে শুরু। আজও রয়েছি পত্রিকাটির সাথে। চলে এসেছে ২৫ বছর পূর্তি উৎসব। এরই মধ্যে পত্রিকাটি লেটার প্রেস থেকে অফসেট প্রেসে ছাপা হয়েছে। সাপ্তাহিক থেকে হয়েছে দৈনিক। এসেছে নিজস্ব ছাপার মেশিন। ছোট পত্রিকা থেকে ব্রডশীটের পত্রিকা হয়েছে। সর্বশেষ সংযোজন ঢাকা থেকে ছাপানোর উদ্যোগ। যদিও এর আগে স্থানীয় অনেক দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা ঢাকা থেকে নিয়মিত বের হচ্ছে। কিন্তু পত্রিকার সার্কুলেশন ও সামগ্রিক অনেক কিছু চিন্তা গত ৬ মাস পূর্বে থেকে শুরু করার পর নূতন আরেকটি অধ্যায়ের কাজ শুরু হলো।



নিখুঁত ছাপা, শুদ্ধ বানান ও পত্রিকার মেক আপের জন্যে প্রথম থেকেই চাঁদপুর কণ্ঠ পাঠকের হৃদয় আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়েছে। এ কথা কেবল আমার মুখের নয়। চাঁদপুর জেলার প্রতিটি অঞ্চলে পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, পত্রিকা বিক্রেতা, এজেন্ট, সাংবাদিক, সুধীজনসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে কথা বললেও এই কথাটিই ভেসে আসবে।



শুরুর দিকের কথা। সরকারি বিজ্ঞাপন তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে চাঁদপুরকণ্ঠ'র জন্য সরকারি বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। তখন এলজিইডির বিজ্ঞাপন নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় দেয়ার নিয়ম ছিল। এলজিইডির ফরিদগঞ্জ অফিসে প্রায়ই যেতে হতো। সেখানকার কয়েকজন কর্মকর্তাকে তখন চাঁদপুরকণ্ঠের নাম মুখস্থ করাতে গিয়ে বারংবার ব্যর্থ হয়েছি। সকলেই বলতো চাঁদপুরের জনকণ্ঠ। তাদের সামনে কিছু না বললেও ওই সময়ের প্রভাবশালী পত্রিকা জনকণ্ঠের সাথে মিল রেখে চাঁদপুর কণ্ঠের নাম বলায় নিজের কাছে একটু ভালই লাগতো।



পত্রিকার ব্যাপ্তি বেড়েছে। আমার সাথে যুক্ত হয়েছেন অনেকেই। আবার সময়ের তালে অনেকেই চলে গেছেন। কিন্তু আমি চাঁদপুরকণ্ঠকে আজও ছাড়ার চিন্তা করিনি। চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আজ অনেক গুণী সাংবাদিকই পত্রিকার সম্পাদক। চাঁদপুরকণ্ঠ পত্রিকায় কাজ শুরু করে মহিউদ্দিন সরকার জাতীয় দৈনিক প্রাণ-আরএফএলের পত্রিকা জাগো বাংলা পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। চাঁদপুরের বেশ ক'টি পত্রিকার সম্পাদক চাঁদপুরকণ্ঠ থেকেই তাদের আলোর দীপ্তি ছড়িয়েছেন। যা চাঁদপুরকণ্ঠের জন্য একটি ভাল দিক। এই পত্রিকার হাত ধরে আজ অনেকেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল ।



গ্রামে এখনো এক ডাকে লোকজন প্রথমেই চাঁদপুর কণ্ঠকে চিনে। যদিও আস্তে আস্তে অন্যান্য পত্রিকা নিজেদের স্থান করে নিচ্ছে। পত্রিকা বিক্রেতারা এখনো চাঁদপুর কণ্ঠ বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তা তাদের সাথে কথা বললেই বোঝা যায়। সময়ের সাথে সাথে চাঁদপুর কণ্ঠের অনেক বিভাগ হয়েছে। পাঠকদের চাহিদা পূরণে চেষ্টা চলছে অবিরত। কিন্তু সমস্যা একটাই, পত্রিকাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো বিজ্ঞাপন। এক সময় চাঁদপুর কণ্ঠ একাই রাজত্ব করেছে এই স্থানে। পত্রিকা সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি বিজ্ঞাপন। বরং হ্রাস পেয়েছে। এলজিইডির বিজ্ঞাপন স্থানীয় পত্রিকাকে দেয়া বন্ধ হয়েছে। প্রাইভেট বিজ্ঞাপনগুলো ভাগ হয়ে গেছে।



ফরিদগঞ্জ উপজেলা দিয়েই উদাহরণ দেই । সপ্তাহের অন্তত ৪/৫দিন বিজ্ঞাপন আমার হাতে চলে আসতো কোনো রকম তদবির ছাড়াই। এখন এটা দুরূহ। স্থানীয় দৈনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিযোগিতা দিয়েই তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই এখন পত্রিকার অবস্থান বুঝেন না। বোঝেন কে কত টাকা কম রাখলো (কাউকে হেয় করার জন্য নয়)। ফলে বিজ্ঞাপন মার্কেটে একটি অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও বলতে দ্বিধা নেই, প্রাইভেট বিজ্ঞাপন সংগ্রহে এখনো চাঁদপুর কণ্ঠ শীর্ষে। এতদিন পত্রিকার ছাপা নিয়ে অনেকেই নানা অভিযোগ দিলেও এখন অন্তত এই অভিযোগ থেকে মুক্তি মিলবে মনে করছি।



গত ২৫ বছরে চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করতে গিয়ে আমার সহকর্মী হিসেবে ফরিদগঞ্জে যারা কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন : মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, এম কে মানিক পাঠান, মামুনুর রশিদ পাঠান, নাছির উদ্দিন পাঠান, এম হেদায়েত উল্ল্যা মানিক, মরহুম সেলিম মিয়া, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, কামরুজ্জামান, আবদুস ছোবহান লিটন, এমরান হোসেন লিটন, জসিম উদ্দিন মিজি, রাসেল হাসান, সানাউল হক ও নুরুল ইসলাম ফরহাদ (যাদের নাম স্মরণে রয়েছে) । এছাড়া আমি যখন ঢাকায় ছিলাম, তখন অনুজ তাপস চক্রবর্তী (বর্তমানে চাঁদপুর বার্তার অফিস প্রধান) আমার অবর্তমানে পত্রিকার দায়িত্ব পালন করেছে। যাদের নাম বলেছি, তাদের মধ্যে নাছির পাঠানের নাম বলতেই হচ্ছে। কারণ সে যখন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ শুরু করে, তখন ফরিদগঞ্জ থেকে আমি একজন পত্রিকা বিক্রেতা দিয়ে এবং রূপসা এলাকা থেকে তার একজন পত্রিকা বিক্রেতা দিয়ে পত্রিকা বিলি হয়েছে। এভাবে সেই সময়ে প্রায় ৪ শ কপি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। যা চাঁদপুরের যে কোনো পত্রিকার জন্য মফস্বলে এখনো বিরল দৃষ্টান্ত বলে আমার কাছে মনে হয়। ফলে পত্রিকাটির নাম গ্রাম থেকে গ্রামে পেঁৗছে যায়।



আরেকটি কথা বলতে হয়, ১৯৯৪ সালে পত্রিকায় কাজ শুরুর পর থেকে ডাক যোগে পত্রিকা আসতো। দিনটি ছিল রোববার। যেদিন পত্রিকা আসবে সেদিন ডাকঘরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পুরো বান্ডিল নিয়ে নির্দিষ্ট গ্রাহকের হাতে পেঁৗছে দিয়েছি। পরে অবশ্য ডাকযোগে আলাদা করে গ্রাহকদের নামে পত্রিকা আসা শুরু হয়। পত্রিকার সম্পাদক মহোদয় আমি নিজে টাকা দিয়ে গ্রাহক হয়েছি শুনে পরের সপ্তাহ থেকে আমাকে ৫ কপি পত্রিকা দিতে শুরু করেন। আমি নিজে এককপি রেখে বাকিগুলো দিয়ে নতুন গ্রাহক সৃষ্টি করেছি। পরে যখন দৈনিক হয় এবং এজেন্টের মাধ্যমে পত্রিকা আসতো তখনও আমার নামে ৫ কপি করে পত্রিকা আসতো। আমি তখনো এক কপি রেখে বাকি কপি হকার ইসমাইল (চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম ফরিদগঞ্জের এজেন্ট) কে দিয়ে দেই । তাকে বলি প্রথম একসপ্তাহ ৪ কপি পত্রিকা ৪ জন নতুন গ্রাহককে দিবেন । এক সপ্তাহ পর এমনিতেই টাকা দিয়ে পত্রিকা কিনবে ওই গ্রাহক। কারণ চাঁদপুর কণ্ঠের তখন শ্লোগান ছিল, 'চাঁদপুর কণ্ঠ টানা এক সপ্তাহ পড়ুন, ভাল না লাগলে পড়বেন না '। জানি না হকার আমার এই কথা রেখেছিল কিনা, তবে এই ২৫ বছরে আমরা চাঁদপুর কণ্ঠকে পাঠকপ্রিয় করতে সমর্থ হয়েছি।



ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে চাঁদপুর কণ্ঠের বিষয়ে কথা বললে অনেককেই বলতে শোনা গেছে, তাদের প্রথম পছন্দ চাঁদপুর কণ্ঠ। তারপর সেটি না পেলে তখন অন্য পত্রিকা কিনি। উপজেলা সদরে জাতীয় পত্রিকা বিলি শুরুর পূর্বেই দুটি স্থানীয় পত্রিকা বিলি হয়। ফলে পাঠকরা সকালে পত্রিকা পাওয়ার কারণে অন্য পত্রিকা কিনতে বাধ্য হচ্ছে, একথা তাদের নিত্যদিনের। কিন্তু আমরা এজেন্টের বাইরে কাজ করি না বিধায় তাদের চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে বঞ্চিত করছি। তাছাড়া আরেকটি সমস্যা হচ্ছে পুরো উপজেলা সদরে মাত্র একজন হকারই পত্রিকা বিলি করছে গত ৩৫ বছর ধরে। বাজারের পরিধি বাড়ার কারণে তিনি এক অঞ্চলে পত্রিকা বিলি করতে গিয়ে অন্য অঞ্চলে বিলি করতে করতে দুপুর হয়ে যায়, ফলে পত্রিকার গ্রাহকরাও হতাশ হয়ে অন্য পত্রিকা লুফে নেয়।



আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, পুরো জেলার মধ্যে ফরিদগঞ্জ এবং হাজীগঞ্জের চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠকরা একটু বেশি সচেতন বলে মনে হয়েছে। কারণ পত্রিকার কোনো ভুল বা অসংগতি ধরা পড়লে এই দুটি উপজেলার পাঠকরা সবচেয়ে বেশি ফোন করে অফিসে। আমাদের প্রধান সম্পাদক মহোদয় প্রায়ই এ কথা বলতেন।



আমি চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দৈনিকে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। প্রথম আলোতে কাজ করার সুযোগ পাই, কিন্তু ওই পত্রিকার এক প্রতিনিধির কারণে আমার শুরু করেও শুরু করা হয়নি। পরে এম কে মানিক পাঠানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করতে বলি। তিনিও তার প্রয়াত সাংবাদিক মামার সহায়তায় তা বাগিয়ে আনতে সমর্থ হন। পরে যুগান্তর বের হবে এ ধরনের আভাসে পত্রিকা অফিসে যোগাযোগ করি। সেখানে গেলে আবেদন দেই, পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা বার্তা সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম বুলবুল আমাকে অপেক্ষা করতে বলেন এবং জেলা প্রতিনিধি ইকরাম ভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলেন। আমি বিষয়টি চাঁদপুরকণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাতকে জানালে তিনি নিজে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে ইকরাম ভাইকে গিয়ে এক পত্রিকার সহকর্মী হিসেবে আমাকে সহযোগিতা করতে বলেন, যদিও তিনি সেকথা রাখেন নি। পরবর্তীতে প্রয়াত সাংবাদিক আহমেদ ফারুক হাসানের সহযোগিতা নিয়ে আমি যুগান্তরে নিয়োগ লাভ করি। এত কথা লেখার উদ্দেশ্য, যুগান্তরে কাজ শুরুর পিছনেও চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের অবদান রয়েছে।



এই ২৫ বছরে চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করতে গিয়ে ফরিদগঞ্জসহ পুরো জেলায় যতটুকু পরিচিত হয়েছি, তার জন্যে চাঁদপুরকণ্ঠ পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। কয়েক বছর পূর্বের কথা। হঠাৎ করেই উপজেলা পর্যায়ে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের সিদ্ধান্ত হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় উপস্থিত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার আমার বিষয়ে তার কাছে থাকা তথ্য ভুল বলে স্বীকার করে নেন। এটি একটি বড় পাওয়া। আবার পত্রিকার দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর আনুষ্ঠানিক সংখ্যা বেরুনোর পূর্বে প্রধান সম্পাদক মহোদয়ের কাছে আমি ব্যুরো ইনচার্জ হিসেবে কাজ করতে পারবো কিনা তা নিয়ে একটু সন্দেহ ছিল। কিন্তু আমি কাজ করে সর্বাধিক বিজ্ঞাপন, সংবাদ এবং সার্কুলেশন দেখিয়ে তা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। পত্রিকার কর্তৃপক্ষ আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখিয়ে আমাকে অনলাইন ভার্সনের সহ-সম্পাদক করেছেন। কর্তৃপক্ষ চাইলে হয়তোবা ভবিষ্যতে পত্রিকার আরো কোনো বড় দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করবো।



সর্বশেষ কথা হলো, এতদিন একটি পত্রিকার সাথে কাজ করতে করতে আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে চাঁদপুর কণ্ঠ। নচেৎ জাম্প করলে হয়ত অন্য পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে ভাল স্থানে নাম চলে আসতো। কিন্তু আমার কাছে বার বার মনে হয়েছে, কেন চাঁদপুর কণ্ঠকে ছেড়ে যাবো, কী দোষ পত্রিকাটির। প্রথম ভালবাসাইতো শ্রেষ্ঠ প্রেম।



এতক্ষণ চাঁদপুরকণ্ঠ নিয়ে না কথা বলেছি, কিন্তু চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করার কারণে যে সম্মান পেয়েছি, তা যদি না বলি, তাহলে এটাও বেঈমানি হবে বলে মনে করি। মনে পড়ে চাঁদপুর কণ্ঠ দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর বছর খানেক পর চাঁদপুর দর্পণ বের হলে পত্রিকার অন্যতম কর্মকর্তা মুনীর চৌধুরী ফরিদগঞ্জে আসেন। সেই সময়ের চাঁদপুর দর্পণের অফিস প্রধান নুরুন্নবী নোমানের সাথে কথা বলার সময় সেখানে আমি উপস্থিত হই। তখন পরিচয় জেনে বলেন, এতদিন চাঁদপুর কণ্ঠে শুধু নাম দেখেছি। আর এত সংবাদ কিভাবে পায় সেই চিন্তা করতাম । আজ তাকে দেখলাম। এই কথা বলার অর্থ চাঁদপুর কণ্ঠ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আজও সংবাদের বিষয়ে যেখানেই যাই চাঁদপুরকণ্ঠের পরিচয়টা বড় হয়ে উঠে।



বিভিন্ন অফিসে গেলে বা কোনো বড় মাপের নেতা বা কর্মকর্তার বাসায় গেলে দেখা যায়, তাদের ড্রয়িং টেবিলে ঢাকার একটি বড় পত্রিকার সাথে আমার চাঁদপুর কণ্ঠও রয়েছে। তার মানে চাঁদপুর কণ্ঠের জন্য এখন পুশিং সেল প্রয়োজন হয় না। তবে আমাদের মতো যারা মাঠ পর্যায়ে রয়েছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের সংবাদটুকু যাতে অধিক মানুষ পড়তে পারে সেজন্যে পত্রিকার বাজারজাতকরণে নিজেদের গরজেই ভূমিকা বাড়াতে হবে।



রজতজয়ন্তী উৎসবে সকলেরই কিছু না কিছু আশা থাকে। আমারও সেরকম কিছু রয়েছে। প্রাপ্তিটা কর্তৃপক্ষের নিকট রেখে দিলাম। তবে বড় প্রাপ্তির বিষয় হবে তখনই যদি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয় চাঁদপুরকণ্ঠের জন্য। ২০১৮ সালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রায় ৪০জন সংবাদকর্মীর জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করি আমরা । সেখানে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বার্তা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন প্রশিক্ষক হিসেবে আসেন। তিনি একান্ত আলোচনার সময় জানান, তিনি দীর্ঘ দিন প্রথম আলোতে কাজ করেছেন। প্রথম আলোর সাফল্যের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা করে রাখে। ফলে প্রিন্ট সংস্করণ পত্রিকার চাহিদা অন্যদের কমলেও প্রথম আলো তার অবস্থান ধরে রাখছে এবং এর সাথে অনলাইনেও খুব ভাল করছে। আরেকজন প্রশিক্ষক জানান, মফস্বলের সংবাদ জাতীয় সংবাদের সাথে সমান গুরুত্ব দিয়ে যুগান্তর ছাপা শুরু করে । যা মফস্বল সাংবাদিকদের জন্যে একটি ভাল দিক। এসব কথা বলার উদ্দেশ্য হলো, চাঁদপুরকণ্ঠকে এত ভালবাসি যে মাঝে মাঝে নিজেই রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখি তাকে নিয়ে। পত্রিকার সার্কুলেশন হবে প্রায় ৫০ হাজার, প্রতিদিন অন্তত ৮ পাতা বেরুবে। জেলার গ-ি পেরিয়ে আশেপাশের জেলা ও ঢাকা ও চট্টগ্রামেও এটির প্রসার ঘটবে। সেই স্বপ্ন কখন বাস্তব হবে সেই প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের কাছে করতেই পারি। আবার সেখানে আমাকে কোনো কাজে লাগবে কিনা তা হয়ত ভেবে দেখবে কর্তৃপক্ষ।



বিভাগীয় পাতা গুলো বিশেষ করে পাঠক ফোরাম, শিশুকণ্ঠ, সাহিত্যপাতা নিয়ে প্রয়োজন মাস্টার প্ল্যান । এতে সার্কুলেশন ও পাঠকপ্রিয়তা বাড়বে। পাঠক ফোরাম পাতা নিয়ে কথা বলতে হয়। এই পাতা বের করার জন্যে আমি প্রধান সম্পাদক মহোদয়কে বারংবার উৎসাহ দিয়েছি। আমার সাথে শাহাদাত হোসেন শান্ত থেকে এতে বাড়তি মাত্রা যোগ করতেন। শান্ত ভাই অফিসে দায়িত্ব পালন করতেন। এক পর্যায়ে রাজি হয়ে যান শাহাদাত ভাই। তিনি শান্ত ভাইকে বিভাগীয় সম্পাদক ও আমাকে সহকারী বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে পাতাটি বের করার দায়িত্ব দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আমার আর দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে শান্ত ভাই কথা রেখেছেন। তিনি পাঠক ফোরামটিকে চালু করে পত্রিকার নূতন মাত্রা এনেছিলেন। পাতাগুলো নিয়ে নূতন করে ভাববার সময় এসেছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ চাইলে আমি আবারো সহায়তা করতে পারি।



পরিশেষে চাঁদপুর কণ্ঠের অনলাইন নিয়ে একটু বলতে চাই। এখন অনলাইনের যুগ। প্রতিদিনই একটি করে অনলাইন পত্রিকার জন্ম হচ্ছে। তারপরও মানুষের ভরসার স্থল প্রিন্ট পত্রিকাগুলো। তাই চাঁদপুর কণ্ঠের অনলাইন ভার্সনকে তীব্র বেগে গতিশীল করতে হবে। কমপক্ষে দুই জন অপারেটর কাম সহ-সম্পাদক রেখে নিয়মিত আপডেট দিতে হবে। তার সাথে যোগ করতে হবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ। চাঁদপুরকণ্ঠ শুধু চাঁদপুরের জন্য পুরো বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠুক রজন্ত জয়ন্তীতে-এ প্রত্যাশা আমার এবং হয়তবা পত্রিকার সকল পাঠকের।



লেখক : সহ-সম্পাদক, অনলাইন বিভাগ ও ফরিদগঞ্জ ব্যুরো ইনচার্জ, চাঁদপুর কণ্ঠ; ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর ; চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি, অনলাইন পোর্টাল দেশসংবাদ ; ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক ফরিদগঞ্জ কণ্ঠ ও সাধারণ সম্পাদক, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৭৮৫৮
পুরোন সংখ্যা