চাঁদপুর, রোববার ১২ মে ২০১৯, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

১২। উহাদের পূর্বেও সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল নূহের সম্প্রদায়, রাস্স ও ছামূদ সম্প্রদায়,

১৩। আদ ফিরআওন ও লূত সম্প্রদায়

১৪। এবং আয়কার অধিবাসী ও তুব্বা সম্প্রদায়; উহারা সকলেই রাসূলদিগকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল, ফলে উহাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হইয়াছে। 


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


প্রাপ্তিটা অনেক
পাপ্পু মাহমুদ
১২ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি এবং সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি ছিলো গভীর মনোযোগ। সে আগ্রহ আর সখ থেকেই পত্রিকায় প্রবেশ আমার। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে আমি ২০১৩ সালের জুনে যোগ দেই। তখন মনে হয় আমিই ছিলাম চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। চাঁদপুর কণ্ঠ ২৫ বছর পেরিয়ে ২৬ বছরে পদার্পণ করছে। সেই সাথে চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে আমার পূর্ণ হলো ৬টি বছর। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা করার যোগ্যতা আমার নেই। সত্য প্রকাশে সমঝোতায় না এসে দীর্ঘ ২৫ বছর নিয়মিত প্রকাশ করে পত্রিকাটি যে পরিমাণ পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সৃষ্টি করেছে তা সত্যি অনেক গর্বের এবং আনন্দের। আমি নগণ্য সে গর্ব এবং আনন্দের অংশীদারিত্ব পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর নেই।



একদিন হাজীগঞ্জে পেপার স্টলে বসে আছি। প্রচ- গরম ছিলো, প্রখর রোদে শরীর মোমের মতো গলে যেনো ঘাম ঝরছিল। সময়টা তখন মধ্য দুপুর। ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি পেপার স্টলে এসে বিক্রেতার কাছে চাঁদপুর কণ্ঠ চেয়েছে। বিক্রেতা চাঁদপুর কণ্ঠ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়ে দেয় এবং অন্য পত্রিকা নিতে বলে। লোকটি হতাশ ভঙ্গি নিয়ে বলেন, চাঁদপুর কণ্ঠ ছাড়া অন্য পত্রিকায় মন ভরে না এবং চাঁদপুর কণ্ঠের অনেক গুণকীর্তন করলেন। আমার তখনো মনোযোগ সেদিকে শতভাগ ছিলো না। কিন্তু যখন তিনি বললেন, শুধু পেপারটির জন্যে বাজারে এসেছিলাম। এ কথা শুনেই আমি কিছুটা বিস্মিত হই। লোকটি চলে যাচ্ছিলেন। আমি লোকটিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কি কোনো নিউজ বা বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে? তিনি বললেন, আমি চাঁদপুর কণ্ঠ নিয়মিত পড়ি। আমি আর কোনো কথা না বলে আমার সাথে থাকা একটা পত্রিকা লোকটিকে দিয়ে দেই। এমন হাজারো গ্রাহক আছে, যারা চাঁদপুর কণ্ঠ খোঁজে। এমন দৃশ্য প্রতিদিনই দেখা যায় পেপার স্টলে বসলে। হাজীগঞ্জ প্রভাতী নিউজ এজেন্সির মালিক চাঁদপুর কণ্ঠকে ভালোবেসেই হোক তার ব্যবসায়িক কৌশলের কারণেই হোক, পত্রিকাটি একটু আড়ালেই রাখেন। পাঠক সে আড়াল থেকেই প্রতিদিন খোঁজ করে চাঁদপুর কণ্ঠ ক্রয় করেন। পাঠকের এমন আগ্রহ হয়তো কখনো দেখা হতো না যদি স্টলে বিক্রেতা চাঁদপুর কণ্ঠ আড়ালে না রাখতেন।



চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে থেকে আমি একজন স্পষ্টভাষী সাহসী মানুষের দেখা পেয়েছি। সে মানুষটির সাথে কাজ করা কতটা সৌভাগ্যের সেটা শুধু আমিই জানি। সৌভাগ্য এজন্যেই বললাম, একজন দক্ষতাপূর্ণ, মেধাবী ও সৎসাহসী মানুষের পরশ পাওয়াটা আমার যোগ্যতা নয়, ভাগ্য। আমি সবসময় অনুভব করি সে সাহসী মানুষটির ছায়া আমার ওপর আছে। সে ছায়া চোখে দেখা যায় না শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়। চাঁদপুর কণ্ঠ যে কতটা পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকে সেটা আমার একটা অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি।



প্রায় ৫ বছর আগের কথা। আমার একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশ না করতে প্রচ- চাপ ছিলো। তারপরও আমি প্রতিবেদনটি পত্রিকায় পাঠিয়ে দেই। রাত যতো বাড়ছে আমার উপর চাপ ততো বাড়তে থাকে। আমি গভীর রাতে প্রধান সম্পাদককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি খুলে বলি। সবকিছু বলার পর আমি যে উত্তর পেয়েছি, সে উত্তরে সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়ে অন্য কোনো পেশায় জড়ানোর আগ্রহ চিরতরে হারিয়ে ফেলি। উত্তরটা এখনো আমার কানে বাজে "সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে না পারলে সাংবাদিকতা করা যাবে না, কারো হুমকিতে চাঁদপুর কণ্ঠ সত্য প্রকাশে বিরত থাকে না। তুমি সিদ্ধান্ত নাও কী করবে"। ৩০ সেকেন্ডের সে উত্তরটা পেয়ে আমৃত্যু সাংবাদিকতায় থাকার অঙ্গীকার করি। সেদিন এমন অর্থপূর্ণ উত্তর না পেলে হয়তো সাংবাদিকতায় থাকতাম কিন্তু পেশাদারিত্বটা হারিয়ে যেতো। সেদিনই অনুধাবন করেছি সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও কর্তব্য কত প্রকা-। আর সাংবাদিকতা করতে হলে একজন ব্যক্তির সৃজনশীল ও মননশীল কাজের দক্ষতা থাকতে হয়।



আমার অনেক পিছুটান ছিলো পারিবারিক কারণে। কিন্তু যে ভালোবাসার কথাগুলো আজ প্রকাশ করলাম, এগুলোর জন্যে আমার চাঁদপুর কণ্ঠ ও সাংবাদিকতা ছাড়া হয়নি। অবশেষে সখটাকেই পেশা করে নিলাম। কারণ, কিছু না থাকুক, অনেক গর্ব তো আছে এই পেশায়।



লেখক : নিজস্ব প্রতিনিধি, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ, হাজীগঞ্জ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৯৬৯৫৫
পুরোন সংখ্যা