চাঁদপুর, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। আল্লাহ বলিবেন, ‘আমার সম্মুখে বাগ্-বিত-া করিও না; তোমাদিগকে আমি তো পূর্বেই সতর্ক করিয়াছি’।

২৯। ‘আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোনো অবিচার করি না।’

৩০। সেই দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করিব, ‘তুমি কি পূর্ণ হইয়া গিয়াছ? জাহান্নাম বলিবে, ‘আরও আছে কি?’


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সাংবাদিক তৈরির অনন্য প্রতিষ্ঠান দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ
রাকিবুল হাসান
১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৯৮ সালের শুরুর দিকের কথা। আমি কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। দেশের খবরাখবর জানার জন্যে ছোট বেলা থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। তাই প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ে পেঁৗছার পূর্বে ১৫ মিনিট আর টিফিন পিরিয়ডে ১৫ মিনিট-রুটিন মাফিক পত্রিকা পড়ি কচুয়া বাজারের জ্ঞানার্জন লাইব্রেরীতে। লাইব্রেরীর মালিক আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। এ লাইব্রেরীতেই প্রতিনিয়ত সময় কাটাতেন চাঁদপুর কণ্ঠের কচুয়া প্রতিনিধি জনাব মানিক সরকার। লাইব্রেরীতে আসা-যাওয়ার সুবাদে তার সাথে আমার পরিচয় হয়। ওই সময় তিনি ও জনাব জাহাঙ্গীর আলম মাস্টার দুজনেই চাঁদপুর কণ্ঠের কচুয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। সে সময়ে যে বিষয়টি সংবাদ হওয়ার মত মনে হতো, সে বিষয়ে মানিক সরকারকে খবর দিতাম। আর তিনি সেই সংবাদ চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশ করতেন। প্রকাশিত সংবাদ পড়ে খুবই খুশি হতাম। এভাবে চলতে থাকলো বেশ কিছুদিন। আমাদের বাড়ির পাশে জুয়া খেলা হতো, একদিন সংবাদটি দিতেই আমার আগ্রহ দেখে জনাব মানিক সরকার আমাকে চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করার প্রস্তাব করেন। সাথে সাথে আমিও রাজি হয়ে যাই। তিনি আমাকে বললেন, জুয়ার যে ঘটনাটি তুমি তা লিখিতভাবে সংবাদ আকারে জমা দাও। আমি তাকে সেভাবেই লিখিত দেই। তিনি আমার লেখাটিকে ৫/৭ দিন পর সংবাদ আকারে নিজস্ব সংবাদদাতা নামে প্রকাশ করান। সে সংবাদে এলাকায় প্রচ- তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর আমার প্রেরিত বেশ ক'টি সংবাদ সংবাদদাতা হিসেবে প্রকাশিত হয়। আমার আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পায়। এরপর রকিবুল হাসান নামে (নিজ নামে) সংবাদ প্রকাশ শুরু হয়। যেহেতু আমার নামের ইংরেজি উচ্চারণ জধশরনঁষ ঐধংধহ, পরে এক সময় 'র'-এর সাথে আকার দিয়ে রাকিবুল হাসান নামে সংবাদ প্রকাশ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পত্রিকার তরফ থেকে প্রথম নিয়োগপত্র পেলাম এবং ২০০০ সালে প্রথম পরিচয়পত্র পেলাম। প্রথম পরিচয়পত্র পেয়ে খুবই আনন্দ লেগেছে।



এখনও খুব মনে পড়ে তখনকার সময়ের সংবাদ প্রেরণের ধরণগুলোর কথা। প্রথম প্রথম ডাকযোগে ও কুরিয়ার সার্ভিসে সংবাদ পাঠাতাম। যে সংবাদ তৈরি থেকে প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় ৩/৪ দিন সময় লাগতো। তারপর শুরু হলো ঈগল সার্ভিসের কন্ডাক্টরকে ১০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে খামে করে সংবাদ প্রেরণ, যা অফিস নিজ দায়িত্বে চাঁদপুরের বাস স্ট্যান্ড থেকে সংগ্রহ করে নিতো। এরপর শুরু হলো টেলিফোনে সংবাদ প্রেরণ। প্রতিদিন সংবাদ সংগ্রহ করে তা কাগজে লিখে টিএন্ডটি অফিসে গিয়ে অফিসার অথবা অপারেটরের সাথে খাতির-যত্ন করে তাদের ১০টাকা ধরিয়ে দিয়ে টিএন্ডটি অফিসের নিজস্ব টেলিফোনে অফিসের সাথে সংযোগ নিয়ে এ প্রান্ত থেকে সংবাদ পড়তাম আর অপর প্রান্ত থেকে তা লিখে নিতেন অফিসে কর্মরত সিনিয়র কোনো স্টাফ রিপোর্টার। টিএন্ডটি অফিসে প্রবেশের গেইট আর মূল ভবনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় গেইট থেকে ডাকলেও অফিসের লোকজন তা শুনতো না। তাই বহুবার, বহুদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাউন্ডারী ওয়াল টপকে প্রবেশ করে সংবাদ প্রেরণ করতে হয়েছে। ২০০১ সালের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে প্রায় ০১ মাস যাবৎ সারাদিন কচুয়ায় সংবাদের খুঁজে ঘুরে বেড়াতাম। বিকেলে প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয় তালুকদার মার্কেটের ২য় তলায় ইন্স্যুরেন্স অফিসে বসে সর্বজনাব আবুল হোসেন, মানিক সরকার, মনির মুন্সী, প্রিয়তোষ পোদ্দারসহ অন্যরা যার যার সংবাদ লিখে খামে ঢুকিয়ে দিতেন। সবাই মিলে আমার গাড়ি ভাড়া ভাগ করে দিতেন, আর আমি সন্ধ্যার পর চাঁদপুর চলে যেতাম। চাঁদপুর গিয়ে কালার ল্যাবে ইয়াসিকা ক্যামেরার ফিল্ম কাটিয়ে ছবি প্রিন্ট করে প্রত্যেক অফিসে যার যার খাম সহ পেঁৗছে দিতাম। আমার ও মানিক সরকারেরটাও অফিসে পেঁৗছে দিয়ে প্রায় দিন অফিসের সম্পাদক ও প্রকাশকের রুমে ঘুমিয়ে থাকতাম। আবার সকালে কচুয়া চলে আসতাম।



শুরুর দিকের কথা। ছাত্র মানুষ, রক্ত গরম, যেখানেই অন্যায় অসংগতি মনে হতো আর তা-ই তুলে ধরতাম। সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কচুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আবুল হোসেন মাঝে মাঝে এ বিষয়গুলোতে ভর্ৎসনা করতেন আর বলতেন, তোমার কিছু হলে অফিস থেকে সহমর্মিতা জানানো ছাড়া আর কিছুই করবে না। অল্প দিনে অনেক শত্রু সৃষ্টি হলো, অনেকে বেশ ক'বার মৃত্যুর হুমকি দিয়েছে। যার ফলে আমিও কয়েকবার থানায় জিডি করতে হয়েছে। এরপর চলে আসলো কম্পিউটার ও ফ্যাঙ্ মেশিন। কম্পিউটারে কম্পোজ ও প্রিন্ট করে অথবা হাতে লিখে ফ্যাঙ্রে মাধ্যমে সংবাদ প্রেরণ করা শুরু হলো। ক্রমান্বয়ে দেশ ডিজিটালাইজড্ হলো। চলে আসলো ই-মেইলের যুগ। আর এখনতো একটি স্মার্ট ফোন হাতে থাকলেই আর কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন পড়ে না। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করতে করতে একদিন একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নিজেকে যথাসম্ভব গুছিয়ে নিয়েছি। শুরু করলাম জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজে কাজ করা। সর্বশেষ গত ৮ বছর দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে কচুয়া ব্যুরো ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছি। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ কখনো আমাকে বেতন দেয়নি, কিন্তু দিয়েছে অনেক। দিয়েছে কোনো ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বা কর্মকর্তার মুখের উপরে সত্য বলার সাহস। সাদা কে সাদা, আর কালো কে কালো বলার শিক্ষা দিয়েছেন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ১৯৯৯ সালে কচুয়া প্রেসক্লাবের সদস্য হই। তারপর যথাক্রমে সহ-দপ্তর সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দু'বার সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সর্বোপরি কচুয়া প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বহু অর্থকড়ির মালিক হইনি, কিন্তু সামাজিক মর্যাদা ও কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী চাঁদপুরের সাংবাদিকতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। মনে পড়ে এ পত্রিকায় যাদের সাথে কাজ করেছি, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন সর্বজনাব শহীদ পাটোয়ারী, শাহ মোহাম্মদ মাকসুদ, রোকনুজ্জামান রোকন, বিএম হান্নান, এসএম আনওয়ারুল করিম, রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, গিয়াস উদ্দিন মিলন ও জিএম শাহীন। যাদের অনেকেই চাঁদপুরের বেশির ভাগ পত্রিকাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদে রয়েছেন কিংবা ছিলেন।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ চাঁদপুরের প্রথম দৈনিক পত্রিকা। শুরুর দিকে চাঁদপুর কণ্ঠ যেমন ছিল, কিছু বিষয়ে এখনও তেমনই রয়েছে। পাঠকের দৃষ্টিতে বিশেষ করে নিরপেক্ষ বা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রকাশনায় এ পত্রিকাটি কচুয়া তথা চাঁদপুরের পাঠকদের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে। কচুয়ার নবীন-প্রবীণ সকলের একই কথা, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ তাদের অবস্থান সৃষ্টি করেছে এবং ধরে রেখেছে।



'চাঁদপুর কণ্ঠের ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে এ পত্রিকাটি সম্পর্কে কিছু বলুন' এ কথা বলতেই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মুন্সী প্রায় ৩০ সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলতে শুরু করেন, চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকাটি যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন (অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার) এক সময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। কিন্তু তিনি পত্রিকাটিকে সেভাবে ব্যবহার করেননি। আমরা বিরোধী দলে থাকাবস্থায় আমার কাছে মনে হয়েছে পত্রিকাটি মনে হয় শুধু আমাদের কথাই লিখছে, আর দল ক্ষমতায় আসার পর মনে হলো শুধু আমাদের দোষ খুঁজছে। আসলেই পত্রিকাটি তার নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পেরেছে।



উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও কচুয়া পৌরসভার দুবারের নির্বাচিত সাবেক পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর প্রধান বলেন, পত্রিকাটির মালিক অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার আমার দল বিএনপির জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। কিন্তু পত্রিকার সংবাদগুলো বেশির ভাগই আমাদের বিরুদ্ধে যেতো। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমার দলের কিছু উশৃঙ্খল কর্মী তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় পত্রিকাটিকে কচুয়ায় আসতে বাধা দিয়েছিল। এমনকি একাধিক দিন পত্রিকার বান্ডেল পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সিনিয়ররা কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়মিত পত্রিকা কচুয়ায় আসতে সাহায্য করেছি। পত্রিকাটি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে তাদের প্রকাশনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করছে। তাই পত্রিকাটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।



কচুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আবুল হোসেন বলেন, পত্রিকাটি তাদের নিয়মিত কাজ প্রকাশনার পাশাপাশি বেশ কিছু সৃজনশীল কর্মকা- পরিচালনা করে থাকে, তন্মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন অন্যতম। এ প্রতিযোগিতা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ ধারাবাহিক আয়োজন খুবই প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া পত্রিকাটি যত্ন সহকারে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে থাকে।



কচুয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা পাক্ষিক কচুয়া কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক হাবিব উল্লাহ হাবিব বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি পত্রিকাটির নিয়মিত গ্রাহক। প্রতিদিন সকাল বেলা পত্রিকাটি না পেলে দিনই যেন শুরু হয় না। চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে গুণমত মানের দিক থেকে এ পত্রিকাটি সেরা। আশা করি এ পত্রিকাটি গেল ২৫ বছরের ন্যায় আরো ২৫ যুগ বেঁচে থাকবে।



কচুয়া থেকে প্রকাশিত অপর পত্রিকা কচুয়া বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক আলমগীর তালুকদার বলেন, আমি এখনো নিয়মিত দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পড়ি। কোনো কারণে প্রিন্টিং কপি পড়তে না পারলে অনলাইনে হলেও এক নজর দেখি। আমার দেখা এ পত্রিকাটির প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ চমৎকার এবং ধারাবাহিক। এ পত্রিকাটির গুণগত মান অনেক জাতীয় পত্রিকার চেয়েও ভালো। আমি পত্রিকাটির সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পাদকসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই।



লেখক : রাকিবুল হাসান, চাঁদপুর কণ্ঠের ব্যুরো ইনচার্জ, কচুয়া



ও সভাপতি, কচুয়া প্রেসক্লাব।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০১৫৫০
পুরোন সংখ্যা