চাঁদপুর, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। আল্লাহ বলিবেন, ‘আমার সম্মুখে বাগ্-বিত-া করিও না; তোমাদিগকে আমি তো পূর্বেই সতর্ক করিয়াছি’।

২৯। ‘আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোনো অবিচার করি না।’

৩০। সেই দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করিব, ‘তুমি কি পূর্ণ হইয়া গিয়াছ? জাহান্নাম বলিবে, ‘আরও আছে কি?’


assets/data_files/web

খ্যাতিমান লোকের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে গোপন থাকে। -বেন জনসন।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর কণ্ঠের নিরবচ্ছিন্ন প্রকাশনা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা
মোঃ মঈনুল ইসলাম কাজল
১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিতর্ক বিষয়টি আমাদের কাছে এক সময় টিভির পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিলো। আমাদের ছাত্রজীবনে কখনো দেখতে পাইনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে। সেই সময় শুধু উপস্থিত বক্তৃতার প্রচলনই চোখে পড়ার মতো ছিলো। সেই সাথে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিতর্ক বিষয়টি কখনো সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার মতো কাউকে এগিয়ে আসতে দেখিনি। দুঃখের সাথে বলতে হয়, বিতর্ক বিষয়টি তখনো যথাযথভাবে চালু হয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগের কথা, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। চাঁদপুর কণ্ঠ প্রতিষ্ঠা হওয়ার প্রায় দুবছর পর যুক্ত হই তার সাথে। প্রতি বছর যখন পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘনিয়ে আসে তখন প্রতিনিধি সম্মেলন, প্রশিক্ষণ, উপজেলা পর্যায়ে কেক কাটা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতো কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করেই সকল আয়োজন বাদ দিয়ে চালু করা হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এ আয়োজনটি করতে গিয়ে প্রায় ৫/৬ মাস ব্যস্ত থাকতে হয় পত্রিকা কর্তৃপক্ষের। সেই সাথে কাজের পরিধি বাড়তে থাকে আমাদের মতো উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের। বিতর্ক প্রতিযোগিতাটির আয়োজনের প্রায় দুমাস পূর্ব থেকেই এর প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয় এবং চাঁদপুরের পর্ব পর্যন্ত আমাদের সেই কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। একটি পত্রিকা যেটি চাঁদপুরের গর্ব, প্রকাশিত হয় নিয়মিত, পাঠকদের চাহিদাও প্রচুর, তাদের চাহিদা মিটিয়ে এ ধরনের একটি প্রতিযোগিতাকে দিনের পর দিন কী ভাবে চালিয়ে নেয়া যায় তা চিন্তার বিষয়। এ কাজটি তো কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনের হাতে নেয়ার কথা। যাদের সময় থাকে অফুরন্ত, চিন্তা, বুদ্ধি খাটিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিছনে তাদের লেগে থাকা সম্ভব। আমরা অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠনকে দেখতে পাই জাতীয় ও সামাজিক কোনো দিবসে দু-চারটি গান করেই ক্ষান্ত হন। প্রকৃতপক্ষে যাদের বিতর্কের এ কাজটি করার কথা, তারা কি তা করতে পারছে ? সমাজের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা কী তাও আমাদের জানা দরকার।



একটি জেলা পর্যায়ের পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশনা করতেই হিমশিম খেতে হয়। অর্থের অভাবে যেখানে অনেক পত্রিকা বন্ধ অথবা সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করে সেখানে এ বিশাল আয়োজন কীভাবে সম্ভব, এ আত্মবিশ্বাস, সাহস, কীভাবে পেলো দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ তা জানবার বিষয়। যদিও স্বল্প পরিসরে তা জানানো সম্ভব নয়। আমার মতো একজন খুদে সংবাদকর্মীর তা চিন্তা করাও বাহুল্য। তবে এক কথায় বলা যায়, যে পত্রিকায় কাজী শাহাদাতের মতো সাহসী, উদ্যমী, কর্মঠ প্রধান সম্পাদক রয়েছেন সে পত্রিকার পক্ষে এ আয়োজন করা সম্ভব।



যাই হোক এবার বলতে চাই, আমাদের ফেলে আসা বিগত ১০ বছরের কিছু কথা। বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করতে গিয়ে বিগত ১০ বছরে নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা আমাকে এ কাজে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগায়। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতা আমাকে মাঝে মাঝে কষ্ট দেয়। তখনই বুঝতে পারি, সকল ভালো কাজের পিছনে মন্দতো থাকবেই, নাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাবো কী করে। বিতর্ক করার মতো কখনো সুযোগ পাইনি, কিন্তু বিতর্ক সংগঠনের সাথে জড়িয়ে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে একজন ভালো বিতার্কিক হয়ে উঠি। সেই সুযোগ কি আর আমাদের আছে? এখন ছোট ছোট সোনামণিরা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে একে অপরকে ঘায়েল করার দৃশ্য দেখতে ভালোই লাগে। তখনই মনটা ভরে উঠে, এই বুঝি আমাদের কষ্ট সার্থক হলো। তারাইতো আমাদের আগামীদিনের বাংলাদেশ।



আমরা একটি প্রবাদ বাক্য সকলেই জানি, মুখেই জয়, মুখেই ক্ষয়। এও জানি, অস্ত্র নয় মুখ দিয়েই অপরকে কাবু করা সম্ভব। যুক্তি তর্কের মাধ্যমে অপরকে হারাতে জানাতে হবে। শিক্ষিত লোকেরা কখনো হাত দিয়ে নয়, মুখ দিয়ে নিজেকে জয়ী করে। আর তা জানতে হবে। যেটি শিখার একমাত্র মাধ্যম বিতর্ক চর্চা। এ বছর শাহরাস্তি উপজেলার প্রান্তিক পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু। তিনি বিতর্ক প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনুধাবন করে বলেন, যদি রাজনীতির অঙ্গনে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতো তাহলে আমাদের সমাজে এতোটা হানাহানি হতো না।



তাঁর কথাটি খুবই যুক্তিসংগত। তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। আজ আমাদের যুক্তিতর্কের ব্যবহার নেই বলেই আমরা অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে সমাধান খুঁজছি, অপর পক্ষকে ঘায়েল করার জন্যে যুক্তি ছাড়াই একরোখা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা অনেকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয় আপনি কেনো ওই দলকে ভালোবাসেন তাহলে তার সঠিক উত্তর অনেকেই দিতে পারবে না। আর নীতি আর আদর্শের কথা নাইবা বললাম। যখন যুক্তি তর্কের কথা আসবে তখনই দলের আদর্শ ও নীতিমালা জানার প্রয়োজন পড়বে, সকল নেতা-কর্মীর মাঝে শিখার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে শুধু দলই নয়, দেশও উপকৃত হবে। আমরা অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিকে দেখেছি, তারা শুধু মুখের কথাতেই হেরে গেছেন, আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন। রাবিশ, খামোশ, হেলে পড়াসহ নানান উক্তির সাথে আমরা পরিচিত। আমরা এও দেখেছি, শুধু মুখের ভাষায় জনগণকে জয় করেছেন সফল বিতার্কিক আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি।



আমরা অনেকেই দেখে থাকি, কোনো অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বক্তৃতা রাখেন আর সামনে বসা দর্শকবৃন্দ ঘুমান, নয়তো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। মাঝে মাঝে সঞ্চালককে বলতে শুনি হাততালির জন্যে আহ্বান করতে। বক্তা যদি তার বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করতে না পারেন তাহলেতো শ্রোতারা ঘুমাবেই। এমন অনেক অনুষ্ঠান আমরা দেখে থাকি, যেখানে বক্তার বক্তব্য যেনো মন কেড়ে নেয়, শুধু শুনতেই মন চায়। যুক্তিতর্কের মাধ্যমে প্রতিটি বাক্যই যেনো আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগী। যাদের বিতর্ক চর্চা রয়েছে তাদের দ্বারাই সম্ভব শ্রোতাদের মন জয় করা। অফিস আদালত, কর্মক্ষেত্র, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বিতর্কের বিকল্প নেই। আমাদের রাজনীতিতে আজ বিতর্ক চর্চা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। হানাহানি নয়, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে জনগণকে জয় করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন ও বিরোধী পক্ষের দাবি বাস্তবমুখী করে তুলতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তুলতে হবে। ছাত্র রাজনীতিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে তাদের আগামীদিনের জন্যে প্রস্তুত করতে হবে। যাতে তারা ভালো-মন্দের তফাৎ বুঝতে শিখে, জনগণের জন্যে নিরাপদ হিসেবে গড়ে উঠে। চাঁদপুর কণ্ঠের বিতর্ক আন্দোলনে শরিক হয়ে প্রত্যেকের উচিত এ প্রতিযোগিতাকে সামনে এগিয়ে নেয়া। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক এ আয়োজন যুগ যুগ ধরে অব্যাহত থাকুক এ প্রত্যাশা রইলো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৩৪৯৯৯
পুরোন সংখ্যা