চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০১৯, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪১। ফির'আওন সম্প্রদায়ের নিকটও আসিয়াছিল সতর্ককারী ;


৪২। কিন্তু উহারা আমার সকল নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করিল, অতঃপর পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমানরূপে আমি উহাদিগকে সুকঠিন শাস্তি দিলাম।


 


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
রাতের অাঁধারে যে দেশে নারীরা নিরাপদ
জমির হোসেন
১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এক যুগেরও বেশি প্রাচীন সভ্যতার দেশ ইতালিতে বসবাস। কিন্তু এ দেশে নারীদের নিরাপত্তার অভাব আছে বলে মনে হয় না। চবি্বশ ঘণ্টাই নিরাপদ একটি জীবন নিয়ে এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করছে নারীরা। কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না তাদের। এমনকি ঘুটঘুটে রাতের অাঁধারেও একাকী পুরো শহর চষে বেড়ালেও বলার ও উত্ত্যক্ত করার এমন কেউ নেই।



ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট কোনো ঘটনা হওয়া তো দূরের কথা, একাকী একজন নারীকে দেখলে কেউ কাছে এসে কথা বলার মতো সাহস নেই। আবার একেবারে ধর্ষণের মত ঘটনা নেই একথা পুরোপুরি অস্বীকার করা যাবে না। তবে তুলনামূলক অনেক অনেক কম। বছরে সম্ভবত হাতেগোনা কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা সংবাদপত্রে চোখে পড়ে। যা দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা যেতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে মনমালিন্য হলে যা হয় সেটি তার নমুনাস্বরূপ। এ দেশে ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ এক যুগে দেখা যায় যা আমার সোনার বাংলাদেশে একদিনে তার চেয়ে বেশি ঘটনা দৃশ্যমান। সত্যিকারার্থে যা কারো কাম্য নয়।



উন্নত দেশে এসব নিকৃষ্ট, জঘন্য কর্ম না ঘটার কারণ অবশ্যই আছে। তা হলো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এবং পাশাপাশি আইনের সুশাসন। অপরাধীর বিচার হয় সংবিধানের নিয়ামানুসারে। ফলে অপরাধ করতে সবাই ভয় পায়। অন্যদিকে জন্মের পরপরই দেশী অথবা বিদেশী প্রতিটি নাগরিকের জন্যে একটি ষোল ডিজিটের নাম্বার দেয়া হয় স্থানীয় ভাষায় (কডিছেফিসকালে), যে নাম্বার দ্বারা একজন ব্যক্তিকে দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব।



এই ষোল ডিজিটের কার্ডটি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক। এই কার্ডের এতো গুরুত্ব যে, এটি ছাড়া ব্যবসাসহ কোনো প্রকার কাজ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে এ কার্ডটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অপরাধী যেই হোক না কেনো শাস্তি বাধ্যতামূলক পেতেই হয়। কোনো হস্তক্ষেপ কাজে আসে না। হোক সে ক্ষমতাসীন কোনো দলের অথবা বিরোধী দলের কেউ, আর নয়তো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি। সবাইকে আইনের কাছে অসহায় থাকতে হয়। ক্ষমতা একক তা হলো সংবিধান। এর বাইরে কারো কোনো আপত্তির মূল্য নেই। পেশীশক্তি, মুখ দেখে বিচার, আত্মীয় দেখে ক্ষমা করে না আদালত। আইন সবার জন্যে সমান।



এজন্যে স্থানীয় নাগরিক ও অভিবাসীর শেষ ঠিকানা আইনের আশ্রয়। যেখানে কারো কোনো অবৈধ আবদার রাখা হয় না। ফলে আইনের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল। ৩৬৫ দিনের হিসাব টানলে দেখা যাবে অপরাধী নেই। প্রশাসন সংবিধানের বাইরে কারো কথা রাখতে বাধ্য নয়। সে হোক প্রধানমন্ত্রী এবং যে কোনো ক্ষমতাবান রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাই অপরাধ তেমন দেখা যায় না। প্রচলিত একটি কথা আছে, আইনের হাত অনেক লম্বা।



যা ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত ইতালিতেও দেখা যায়।



এখানে মায়ের কোলে সন্তান যেমন নিরাপদ তেমনি বাসার বাইরে নারীরাও নিরাপদ। কোনো মাকে মেয়ের জন্যে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় না। সমপ্রতি বাংলাদেশের একটি জাতীয় সংবাদপত্রে এক নারী শ্লীলতাহানির পর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে দেশে মায়ের কোলে সন্তান নিরাপদ নয়, সে দেশ আর যাই হোক স্বাধীন দেশ হতে পারে না। মুখে সবাই স্বাধীন বলে, আসলে কেউ স্বাধীন নয়। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা কোনো সরকার সঠিকভাবে দিতে পারেনি।



আমরা বড় অসহায় জাতি, বিশেষ করে নারীরা। ইতালিতে প্রশাসনের তৎপরতার কারণে নারীদের কাছে রাতদিন সমান। প্রতিটি কাজে নারীদের অবাধ বিচরণ চোখে পড়ার মতো। একজন নারী ট্রেন, বাস, ট্রামসহ সকল প্রকার যানবাহন দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কোনো উত্ত্যক্ত বা বলার সাহস নেই। স্বাধীন জীবনে অবিরাম সুখ ভোগ করে যাচ্ছে। তবে এটাও সত্য, কোনো ভালো কিছু একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এখানে জনগণ অনেক সচেতন। ফলে নিয়মের বাইরে কোনো কাজ কেউ করে না। তারা সুন্দর কাজ দিয়ে সরকারকে সর্বদা সহযোগিতা করছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে। প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। ফলে নারীদের সম্ভ্রম হারানোর কোনো ভয় নেই।



বাংলাদেশে নারীরা অসহায় না হলে নুসরাত জাহান রাফিকে অকালে চলে যেতে হতো না। গত বছর ঈদে পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছিলো নুসরাত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বর্বরতার শিকার হয়ে না-ফেরার দেশে চলে যেতে হয় তাকে। কী অপরাধ ছিলো তার? এতোটাই দুর্ভাগা সে ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে এ বছর ভাগ করে নিতে পারলো না। বর্বরের দল তার হাসি-আনন্দ সব কেড়ে নিল। সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি এ বছর নেই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকারীর আগুনে ঝলসে প্রাণ দিতে হলো তাকে।



এ রকম নির্মম চিত্র কার-ই দেখার সাধ জাগে। আর কোনো বাবা-মার বেলায় যেনো এ রকম দৃশ্য দেখতে অপেক্ষায় থাকতে না হয়। আলোচিত ঘটনাটি যতোই নৃশংস হোক না কেনো, প্রধানমন্ত্রী এর সঠিক বিচারের জন্যে যে নির্দেশ দিয়েছেন এতে করে নুসরাতের পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বলে কিছুটা অনুমান করা যায়। প্রতিটি অপরাধীকে এভাবে বিচারের আওতায় আনা হলে অপরাধ প্রবণতা কমতে থাকবে বলে নিশ্চিত করে বলা যায়।



জমির হোসেন ইতালি প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮১০৮৫
পুরোন সংখ্যা