চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০১৯, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৪। যখন উহারা প্রতিশ্রুত শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে, বুঝিতে পারিবে, কে সাহায্যকারীর দিক দিয়া দুর্বল এবং কে সংখ্যায় স্বল্প।


২৫। বল, 'আমি জানি না তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা কি আসন্ন, না আমার প্রতিপালক ইহার জন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করিবেন।'


 


 


assets/data_files/web

ভিক্ষাবৃত্তি পতিতাবৃত্তির চেয়েও খারাপ।


-লেলিন।


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


চাকমাদের রাজ প্রাসাদ
মূল : এম মাহমুদ আলী, ভাষান্তর : মুহম্মদ সালাহউদ্দীন
১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উপজাতি জনগোষ্ঠী হলো চাকমা। তাদের রয়েছে অনেক বড় ইতিহাস। চাকমারা মূলত বার্মার (বর্তমানে মিয়ানমার) অপেক্ষাকৃত উঁচুঅংশের অধিবাসী ছিল। তাদের নিজেদের রাজা ছিল। ১৪১৮ সালে আরাকানি রাজা চাকমা রাজা মওউন তানিকে তাঁর রাজ্য থেকে বিতাড়িত করেন। রাজা তাঁর সমস্ত লোকজন নিয়ে চট্টগ্রামে (বর্তমানে চিটাগাং) প্রবেশ করেন। তখনকার মুসলিম শাসক মাতামুহুরি নদীর তীরে তাদেরকে আলিকদম নামক স্থানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেন। এছাড়াও তিনি রুমা ও টেকনাফের আরও এগারটি গ্রাম তাদেরকে দান করেন।

১৬৬২ সালে বান্দরবন জেলার আলিকদমে সর্বপ্রথম চাকমা রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৩৭ সালে চিটাগাং শহর থেকে ৪৫ কিঃ মিঃ দূরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজ নগরে একটা শহর গড়ে উঠে। ১৭৩৭ সাল থেকে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত ১৩৭ বছর চাকমা রাজাদের রাজধানী ছিল রাজানগর। রাজা ভুবন মোহন রায় তাঁর লেখা বই 'চাকমা রাজ বংশের ইতিহাস'-এ উল্লেখ করেছেন, ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর মধ্যে চাকমা রাজাদের রাজ প্রাসাদ চিটাগাং-এর পাহাড়ি এলাকায় বহুবার স্থানান্তরিত হয়েছিল।

১৭৮২ সাল থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে রাজা জানবঙ্ খান রাজানগরে সর্বপ্রথম চাকমাদের রাজকীয় প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সেটি ছিল আয়তাকার কাঠামোর দোতলা দালান। ঐ ভবনের ১০টি রুমের মধ্যে নিচতলায় ছিল সাতটি এবং দোতলায় ছিল তিনটি রুম। রাজপ্রাসাদের প্রতিটি দরজা ছিল ধনুকাকৃতির এবং দেয়ালে ছিল ফুল এবং দ্রাক্ষালতার কারুকাজ। রাণী কালিন্দিনি ১৮৪৪ সাল থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে সেখানে একটি বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণ করেন।

১৮৭৪ সালে রাজা হরিশ চন্দ্র রায় চাকমা রাজ্যের রাজধানী রাঙামাটি জেলায় স্থানান্তরিত করেন। রাজানগরের প্রাসাদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ধীরে ধীরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায়। এখন প্রাসাদের পুরো এলাকাটিই শেওলা ও ঘাসে আবৃত হয়ে আছে। রাজ প্রাসাদের মেঝে টুকরো টুকরো খ-ে পরিণত হয়ে গেছে এবং দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

১৯১৪ সালে রাজা ভুবন মোহন রায় ১২ বছর ধরে চেষ্টার পর দ্বিতীয় রাজ প্রাসাদটি রাঙামাটিতে স্থাপন করেন। তিনি দোতলা রাজ প্রাসাদটি একটি ছোট টিলার উপর নির্মাণ করেন। কিন্তু কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের ফলে ১৯৬২ সালে প্রাসাদটি কাপ্তাই লেকের পানির নিচে ডুবে যায়। ১৯৮৬ এবং ২০০৬ সালে প্রচ- খরার কারণে কাপ্তাই লেকের পানি অনেক কমে যায়। ফলে ডুবে থাকা প্রায় শতবর্ষ পুরানো প্রাসাদটি ভেসে উঠে। কিন্তু তখনো এটির রক্ষণাবেক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

১৯৬২ সালে বর্তমান রাজা দেবাশীষ রায়ের পিতা রাজা ত্রিবিদ রায় রাঙামাটি জেলার রাজদীপ গ্রামে অন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ১৯১০ সালে দুর্ভাগ্যক্রমে টিনের চাল এবং কংক্রিটের তৈরি ভবনটিতে আগুন লেগে মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। এক ঘন্টার মধ্যে অনেক মূল্যবান হস্তশিল্প ও ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণাদিসহ রাণী কালিন্দির তৈরি হাতির দাঁতের সিংহাসনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।

দেশের জন্যে এসব রাজ প্রাসাদের ঐতিহাসিক মূল্য অনেক বেশি। এসব ঐতিহাসিক রাজকীয় স্থাপনা সমূহগুলোকে রক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিত।

সূত্র : ইস্ট পাকিস্তান ডিস্ট্রিক্ট গেজেট চিটাগাং, ১৯৭০; চাকমা রাজ বংশের ইতিহাস, রাজা ভূবন মোহন রায়; চাকমা জাতি, শ্রী সতীস চন্দ্র ঘোষ; দেওয়ান পরগনার ইতিহাস, জামাল উদ্দীন; চাকমা জাতির ইতিবৃত্ত, বিরাজ মোহন দেওয়ান।

মুহম্মদ সালাহউদ্দীন কবি ও অনুবাদক।

মোবাইল ফোন : ০১৭১২১৫৩৬৮১

করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,২৩,৪৫৩ ১,৬২,২০,৯০০
সুস্থ ১,২৩,৮৮২ ৯৯,২৩,৬৪৩
মৃত্যু ২,৯২৮ ৬,৪৮,৭৫৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৯৩৬৮৯
পুরোন সংখ্যা