চাঁদপুর, রোববার ৮ মার্চ ২০২০, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ১২ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৫-সূরা তালাক


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১১। এক রাসূল, যে তোমার নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, যাহারা মু'মিন ও সৎকর্মপরায়ণ তাহাদিগকে অন্ধকার হইতে আলোতে আনিবার জন্য। যে কেহ আল্লাহে বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তিনি তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে; আল্লাহ তাহাকে উত্তম রিয্ক দিবেন।


 


প্রতিভাই শক্তি কিন্তু কৌশল হচ্ছে দক্ষতা।


-ডাবিস্নউ পি স্কারজিল।


 


অভ্যাগত অতিথির যথাসাধ্য সম্মান করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।


ফটো গ্যালারি
সাক্ষাৎকার : মুক্তা পীযূষ
রাষ্ট্র উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই
০৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মুক্তা পীযূষ। তিনি বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি এবং ইনার হুইল ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রালের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন তিনি চাঁদপুরের নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো তাঁর। ফলে সবসময় অন্যের জন্যে কিছু করতে পারার প্রবণতা ছিলো। বাবা-চাচাও সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। সেই ধারারই উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন এ নারী। তিনি মনে করেন সংসার ও সংগঠন দুটোই সমুদ্রের মতো বিশাল ও বিস্তৃত। দুটোই অখ- মনোযোগের দাবিদার। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি তাঁর মুখোমুখি হয় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল-আমিন হোসাইন।



 



আপনি দীর্ঘদিন চাঁদপুরের নানা সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা বলুন।



মুক্তা পীযূষ : ধন্যবাদ আপনাকে, নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের জন্যে আপনার এবং আপনার গণমাধ্যমের ভাবনার বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয়ে। যদিও প্রিয় এ বাংলাদেশে নারী প্রধানমন্ত্রী, নারী স্পীকার, নারী শিক্ষামন্ত্রী আমাদের প্রিয় ডাঃ দীপু মনি আপা, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরীকে নিয়ে সংসদ বেশ ক্ষমতা নিয়েই চলছে, তবু আজও এদেশে পিছিয়েপড়া সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠীর নাম নারী। আমরা বিভিন্ন সভা-সমিতি কিংবা উৎসব-অনুষ্ঠানে বর্ণিল সজ্জায় যাদের সরব উপস্থিতি দেখি তারা কিন্তু সমাজের সব নারীর প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা হলো পানিতে নিমজ্জমান বরফশৈলের মতো, যার ক্ষুদ্র শীর্ষই কেবল চোখে পড়ে কিন্তু বৃহৎ দেহখানা পড়ে থাকে পানির নীচে অদৃশ্যমানতায়। নারীদের নিয়ে কাজ করতে গেলে আজও সে রকম অভিজ্ঞতাই বেশি হয়, যা যুগ যুগ আগেও হতো আমার অগ্রজদের মতো। নারীরা আজও তার শারীরিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় নিমজ্জিত। এ অবস্থায় নারী হয়ে পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিরবচ্ছিন্ন সুখকর নয়। নারী হয়ে নারীদের ঘরের বাইরে আনা যেমন কঠিন, তেমনি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের তৈরি অচলায়তন ভেঙ্গে নেতৃত্বে আসাটাও কঠিন। নারী নেত্রীর যোগ্যতা পুরুষ নেতার চেয়ে যতো অধিকই হোক না কেনো, তাকে নারীর তকমা দিয়ে খাটো করে দেখার প্রবণতা এখনও বিদ্যমান।



 



অনুভূতির কথা যদি বলি তবে বলতে হয়, সমাজের জন্যে নিঃস্বার্থ ভালো কিছু করার অনুভূতি মর্ম দিয়ে অনুভব করা যায় কেবল। তা কোনো ভাষাতেই প্রকাশ করা যথেষ্ট নয়।



 



সামাজিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কী কী প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন?



মুক্তা পীযূষ : চমৎকার প্রশ্ন। সামাজিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নারী হওয়ার কারণে অনেককে তুচ্ছ করার প্রবণতা লক্ষ্য করেছি। অনেকেই মানতে চান না যে একজন নারী হয়ে কেউ দলের বা সংগঠনের হাল ধরবে। একজন পুরুষ নেতা হিসেবে যেমন জনসংযোগ বজায় রাখতে পারে একজন নারী নেতা সে রকমভাবে জনসংযোগ বজিয়ে রাখতে পারে না। এতে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বৃষ্টি শুরু হয়। পুরুষ সহকর্মীরা একজন নারী নেত্রীকে সে রকম সহযোগিতা করতে অনীহা থাকেন, কেননা নারীকে শীর্ষে দেখার সংস্কৃতি এখনও বাংলাদেশে তৈরি হয়নি।



 



সামাজিক কাজে নেতৃত্ব দেয়ার ইচ্ছে কবে থেকে জন্মালো?



মুক্তা পীযূষ : ছোটবেলা হতেই নিজেকে নেতা ভাবতে ভালো লাগতো। সবসময় অন্যের জন্যে কিছু করতে পারার প্রবণতা ছিলো। আমার বাবা-জ্যাঠা ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ। তাঁরা সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমি সেই ধারারই উত্তরাধিকার বহন করে চলেছি।



 



পরিবার, স্বামী, সন্তান-সবকিছু সামলিয়ে সামাজিক কাজ করার সুযোগ বের করেন কীভাবে?



মুক্তা পীযূষ : সংসার ও সংগঠন দুটোই সমুদ্রের মতো বিশাল ও বিস্তৃত। দুটোই অখ- মনোযোগের দাবিদার। তবে পরিবার, স্বামী-সন্তানদের দেখভাল করে সামাজিক কাজে ব্যয় করার সময় ও সুযোগ বানিয়ে নিতে হয়, আপনা আপনি আসে না। এক্ষেত্রে নিজের স্বাভাবিক চটপটে দক্ষতা, কিছু প্রিয়জনের অনুপ্রেরণা এবং লেখক ও সাংস্কৃতিক মননসম্পন্ন স্বামী পাশে থাকাতে কাজটা অনেকটুকুই সহজ হয়ে উঠেছে আমার জন্যে।



 



নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলুন।



মুক্তা পীযূষ : আমার সত্যিকার অর্থে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নেই। কোনো পদ-পদবী বা আর্থিক লাভের কিংবা কোনো পুরস্কারের উদ্দেশ্য নেই। সমাজ যদি পূর্ণ প্রগতিময় ও অসামপ্রদায়িক হয় এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধের চর্চা হয় তবেই আমার প্রাপ্তিযোগ ঘটেছে বলে ধরে নিবো।



 



সামাজিক নেতৃত্বদানে অন্যদের চেয়ে নিজেকে কীভাবে আলাদা মনে করেন।



মুক্তা পীযূষ : অন্যদের সাথে আমি আমার পার্থক্য খুঁজতে যাই না। এটা আমার কাজ নয়, এটা তাদের কাজ যারা আমার কাজকে মূল্যায়ন করবেন। তবে আমি ক্লিয়ার কনসেপশান নিয়ে কাজে নামি। নিজেকে নিজে ক্লিয়ার করি, আসলে আমি কী করতে চাই। এটাই আমার অগ্রগামিতা বলে আমি মনে করি।



 



বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সড়কে। নারী উন্নয়ন কেমন দেখছেন।



মুক্তা পীযূষ : আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতায় উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এসডিজিতে নারীদেরকে সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের দিকে জোর দিয়ে বেশি বেশি নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির দিকে মনোনিবেশ করেছে বর্তমান সরকার। নারী এখন পণ্যের অবস্থান হতে উত্তরণ ঘটিয়ে নিজেকে অপরিহার্যতার অবস্থানে নিতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই। আমি মনে করি সেই নিরিখে বাংলাদেশ সঠিক ট্র্যাকেই আছে।



 



যারা নেতৃত্ব দিতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।



মুক্তা পীযূষ : নেতৃত্ব একটি নিঃস্বার্থ চর্চা। নেতৃত্ব একটি উদার চেতনা। কাজেই যারা নেতৃত্ব দিতে চায় তাদের উদার ও নিঃস্বার্থ হওয়া জরুরি।



 



নেতৃত্ব দিতে কি কি গুণ থাকা আবশ্যক।



মুক্তা পীযূষ : এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কিছুটা আগের প্রশ্নে দেয়া হয়ে গেছে নেতা হতে হলে দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন হতে হয়। নিজেকে নির্মল ও আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। সর্বোপরি ভালো নেতার সকলকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি প্রণয়নে পারদর্শী হতে হয়।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৫৬৩১
পুরোন সংখ্যা