চাঁদপুর, রোববার ৮ মার্চ ২০২০, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ১২ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৫-সূরা তালাক


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১১। এক রাসূল, যে তোমার নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, যাহারা মু'মিন ও সৎকর্মপরায়ণ তাহাদিগকে অন্ধকার হইতে আলোতে আনিবার জন্য। যে কেহ আল্লাহে বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তিনি তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে; আল্লাহ তাহাকে উত্তম রিয্ক দিবেন।


 


প্রতিভাই শক্তি কিন্তু কৌশল হচ্ছে দক্ষতা।


-ডাবিস্নউ পি স্কারজিল।


 


অভ্যাগত অতিথির যথাসাধ্য সম্মান করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।


ফটো গ্যালারি
আমার মায়ের কথা
আল-আমিন হোসাইন
০৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একজন মানুষের সবচেয়ে কাছের মানুষটি হলেন মা। মায়ের কাছ থেকেই আমরা প্রথম শিখি অ-আ-ক-খ-১-২। একজন মা যেমন তার সন্তানকে শিক্ষার প্রথম ভিত গড়ে দেন। তেমনি জীবনমুখী শিক্ষাও দেন। এ যেমন ধরুন, 'পড়ালেখা করে যে, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে।' এটা দিয়ে আমরা বুঝতে পারি-পড়াশোনা করা আমাদের জন্যে কতটা জরুরি। তাই তো নেপোলিয়ন বলেছিলেন, 'আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেবো।' বিখ্যাত এ উক্তিটি থেকে আমরা বুঝতে পারি-যে মা তার সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দেন তিনিই 'শিক্ষিত মা'।



 



আমার মায়ের হিসাবটা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আমার মা বাংলা-ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত নন। আরবি শিক্ষায় শিক্ষিত। আরবি শিক্ষাটা আমি আমার মায়ের কাছ থেকে পাই। আশ্চার্যের বিষয় হচ্ছে-আমার মা আমাকে কখনো পড়ার জন্যে কিংবা স্কুলে যাওয়ার জন্যে কোনোদিন তাগিদ দেননি। আমি নিজে থেকেই পড়তাম। আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি আমার ছোট বোনের হাতে।



মানুষের জীবনে যে কোনো খারাপ সময় আসতেই পারে। সে সময় নিজেকে মানিয়ে নেয়াটা জরুরি। এক্ষেত্রে মা যদি পাশে থাকেন তাহলে খারাপ সময় থেকে উত্তরণ হওয়া সম্ভব।



 



আমার অনার্স ২য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার একটি বিষয় নিয়ে আমি খুবই দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। কিছুতেই মাথা থেকে পড়ার চিন্তা দূর করতে পারছিলাম না। এমনকি ঘুমোতে গেলেও চোখের পাতায় বইয়ের পাতা ভেসে উঠতো। মাকে কথাটা বলার পর মা নামাজের পর সূরা ইয়াসিন পড়ে আমার গায়ে ফুঁক দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। পরে আমি সেই বিষয়ে খুবই ভালো পরীক্ষা দেই। এতো ভালো পরীক্ষা দেই যে, যা অন্য সব পরীক্ষার চেয়ে 'সেরা'।



সন্তানকে শিক্ষা দেয়ার জন্যে একজন মাকে মাস্টার-ডিগ্রিধারী হতে হবে এমনটি কিন্তু নয়। কারণ মা হচ্ছেন একজন সন্তানের প্রথম শিক্ষক যিনি সন্তানকে 'আদর্শিক সন্তান' হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দেন। যখন সন্তান বড় হয়ে দেশের জন্যে কল্যাণ বয়ে আনে তখন সে-ই মাকে দেয়া হয় 'রত্নগর্ভা' পরিচয়। আবার সন্তান যদি দেশ ও সমাজের ক্ষতি করে তখন সন্তানের জন্য মায়ের মন কাঁদে। একেক জনের কাছে 'মায়ের গল্প' একেক রকম। কারো মা তার সন্তানের কাছে 'কঠোর'। আবার কারো কাছে তার মা 'সহজ-সরল'।



 



আমার মা হচ্ছেন 'সহজ-সরল'। আমাকে না দেখে আমার মা থাকতে পারেন না। আমি যখন বাড়ির বাইরে থাকি তখন পুরোটা সময় আমার মা থাকেন উৎকণ্ঠায়। যার ফলে আমার কোথায় গিয়ে বেড়ানোর সুযোগ তুলনামূলক কম। আর এজন্যে আমি দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে মায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়। আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি-আমি যখন আমার মায়ের কোনো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছি, সেটার ফল ভালো হয়নি কখনো।



এক.



রাত গভীর। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু একজন মানুষ এখনো ঘুমোননি তিনি হলেন 'আমার মা'। যিনি তার সন্তানের বাসায় ফিরতে দেরি দেখে দু চোখের পাতা এক করতে পারেননি। এমন অনেক দিন হয়েছে যখন আমি রাতে দেরি করে অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছি দেখেছি মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ, বসে আসেন অপেক্ষায়। মায়ের এ মমতা-আদর-স্নেহ জীবনেও ভুলতে পারবো না।



 



দুই.



একদিন রাতে বাড়ি ফিরছি। শীতের রাত। কোনো যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই বাড়ির পথে রওনা হলাম। মা ফোনে জানতে চাইলেন আমি কীভাবে আসছি। জবাবে বললাম, 'মা আমি হেঁটে আসছি'। এ কথা শোনার পর দেখি হাতে চর্টলাইট নিয়ে আমার মাও অর্ধেক পথ হেঁটে এগিয়ে এসেছেন। সে পথে এখনো হাঁটার সময় মায়ের ছায়া অনুভব করি।



 



তিন.



আমার 'সাহসী মা'। আমার মাকে কখনো কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তা করতে দেখিনি। বিপদে-আপদে মায়ের মুখে একটি কথাই শুনি-বাবা, আল্লাহর উপর ভরসা রাখো। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যে করেন। দুনিয়ার মানুষ তোমাকে সাহায্য করে ফেরত নিতে পারে, কিন্তু আল্লাহ যা দেন তা ফেরত নেন না।



 



চার.



বাড়ির বাইরে থাকি মায়ের চিন্তা কোথায় যাচ্ছি, কার সাথে যাচ্ছি, কি খাচ্ছি-কত কিছু। এসব জানতে মা আমার কাছে বায়না ধরলেন একটা মোবাইল ফোন কিনে দিতে। বলে রাখা ভালো, আমার মা মোবাইল ফোন ব্যবহার জানতেন না, আমার খোঁজ রাখতেই মা মোবাইল ফোন ব্যবহার শেখেন। আর এ শেখানোর কাজটা আমি করে দেয়ার পর মায়ের মুখের রাজ্যজয়ের হাসি কি কখনো ভোলা যাবে?



 



এমন অসংখ্য-অগণিত স্মৃতি মাকে নিয়ে মনের ভেতরে জমা আছে। কবি বলেছেন, 'মা কথাটি ছোট্ট অতি,/কিন্তু জেনো ভাই,/ইহার চেয়ে নামটি মধুর/তিন ভূবনে নাই।



 



আল-আমিন হোসাইন : সমাজকর্ম বিভাগ, ৩য় বর্ষ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৩৮৭১
পুরোন সংখ্যা