চাঁদপুর। শুক্রবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২ পৌষ ১৪২৩। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত  || ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৩০। এবং যখন তোমরা আঘাত হান তখন আঘাত হানিয়ে থাক কঠোরভাবে। 


১৩০। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।   


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সফলতা কখনো অন্ধ হয়  না। 


                           -টমাস ফুলার।   


সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী যে স্বল্পাহারে সন্তুষ্ট থাকে অল্প হাসে এবং লজ্জাস্থান ঢাকিবার উপযোগী বস্ত্রে পরিতুষ্ট।     


  

স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এক সেনা পরিবারের পুনর্বাসন হয়নি
বাবার বাড়িতেও বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন মনোয়ারা বেগম!
আরিফুল ইসলাম শান্ত
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও '৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ (তৎকালীন সেনা সদস্য নং-১৩৪০৩২৬) আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের পুনর্বাসন হয় নি। বাবার বাড়িতে ঠাঁই নিলেও সেখানেও তাঁর সুখ নেই। নিজের ভাই-ই তাঁকে অনেকটা গৃহবন্দী করে রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দল বর্তমান সরকার। যে দলের হাত ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। এ দলটি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে '৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন করতে সরকারি বাড়ি, খাস জমি বরাদ্দ, বিদ্যুৎ বিল মওকুফসহ তাদের সন্তানদের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটা বরাদ্দ করেছে, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা ও রেশনের ব্যবস্থা করেছে। কারণ, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিকামী বাঙালি অনেকেই অনেক কিছু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন। তাই মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারকে এমন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া সরকারের একটা গুরু দায়িত্ব। এতো সব দায়িত্বের পরও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির অগোচরে কেউ কেউ থেকে যায়। তাঁদেরই একজন হলেন বয়োবৃদ্ধ মনোয়ারা বেগম। যাঁর স্বামী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়ার পরও তিনি দেশ মাতৃকার জন্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই শহীদ পরিবারের একমাত্র সদস্য হচ্ছেন মনোয়ারা বেগম। শহীদ আব্দুল মান্নানের বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ নং ম-৭৬৫২৮।

১২ মে ১৯৯৭ তারিখে প্রকাশিত গেজেট (সরকারি) নীতিমালা অনুযায়ী খাসজমি বন্দোবস্তের ছয় ক্যাটাগরি হচ্ছে : ১। দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ২। নদী ভাঙ্গা পরিবার ৩। বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা পরিবার ৪। কৃষি জমি নেই ও বাস্তুভিটাহীন পরিবার ৫। অনধিক .১০ একর বসতভিটা আছে কিন্তু কৃষি জমি নেই এমন কৃষি নির্ভর পরিবার ও ৬। অধিগ্রহণের ফলে ভূমিহীন হয়ে পড়েছে এমন সব পরিবার। সরকার দরখাস্তের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বাড়ি/ভূমি প্রদান করলেও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা সদস্যের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাবার বাড়িতে থেকে উল্লেখিত ১ ও ৪নং ক্যাটাগরিতে আবেদন করলেও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এখনো আসেনি।

কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনা পল্লী প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নীতিমালায় আবেদন করেও কোনো ফল হয়নি। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হলেও এ অসহায় শহীদ পরিবারের সদস্যের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, জোটেনি পুনর্বাসনের জন্যে এক শতক জমিও।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এ শহীদ পরিবারের একমাত্র সদস্য মনোয়ারা বেগমকে সরকারিভাবে পুনর্বাসন না করায় বর্তমানে তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বেলতী গ্রামের (হাজী বাড়ি) বাবার বাড়িতেই বন্দী জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি তার এক ভাই (রুহুল আমীন ওরফে রুলা) মনোয়ারা বেগমের বসতঘরের চার পাশে বেড়া দিয়ে অনেকটা গৃহবন্দী করে রেখেছে। এ ব্যাপারে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মনোয়ারা বেগম। কিন্তু কোনো সুফল পান নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধাবান্ধব বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, '৭১-এর রণাঙ্গনের বীব মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম), চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট সুধীবৃন্দের বিনীত প্রার্থনা-'৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা সদস্য আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে সরকারিভাবে পুনর্বাসন করা হোক।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৫২১৩
পুরোন সংখ্যা