চাঁদপুর। বুধবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ২৩ ভাদ্র ১৪২৩। ৪ জিলহজ ১৪৩৭
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৬। এবং বলিয়াছিলাম, ‘তোমরা সেই সম্প্রদায়ের নিকট যাও যাহারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করিয়াছে।’ অতঃপর আমি উহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্ব্স্ত করিয়াছিলাম।     

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মাটিকে ভালোবাসো, মাটিও তোমাকে ভালোবাসবে।    

-ইবনে আহম্মদ।


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়–ই পাখির ন্যায় একটি ছোট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্মন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।        

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
আমি যতটুকু না বিতর্কের তার চেয়ে অধিক বিতর্ক আমার
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া ্ একজন চিকিৎসক, একজন সুলেখক। আপাদমস্তক বিতর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট যেনো তাঁর পুরো সত্তা। চাঁদপুরে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক আন্দোলনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। চাঁদপুরে বসেই তিনি রচনা করেছেন 'বিতর্ক বিধান' ও 'বিতর্ক বীক্ষণ' নামের বিতর্ক বিষয়ক দুটি গ্রন্থ। এছাড়া চাঁদপুর কণ্ঠের 'বিতর্কায়ন' নামক ক্রোড়পত্র ও গ্রন্থিক প্রকাশনায় তিনি যেনো দু হাতে লিখে চলছেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবেও রয়েছে তার বেশ কদর। বিতর্ক নিয়ে তিনি বেশ ভাবেন, গবেষণা করেন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনায় থাকেন প্রায় সর্বদা মুখর। আজ ৮ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার 'উল্লাস' (ফাইনাল) পর্ব উপলক্ষে তাঁর একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। প্রশ্নোত্তর আকারে নিম্নে তা হুবহু পত্রস্থ করা হলো।



বিতর্কায়ন : চাঁদপুরের বিতর্ককে নিয়ে আপনি কেমন আছেন?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : ধন্যবাদ প্রশ্নের জন্যে। বেশ বিতার্কিকসুলভ প্রশ্ন। আমি যতটুকু না বিতর্কের তার চেয়ে অধিক বিতর্ক আমার। অর্থাৎ বিতর্ক শিল্পটি আমার নিজের মধ্যেই আমি ধারণ ও লালন করি। চাঁদপুরের বর্তমান বিতর্ক বেশ সমৃদ্ধ। জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা হতে শুরু করে দুদক আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কেও চাঁদপুরের বিতর্ক ও বিতার্কিকরা তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার নিয়মিত মঞ্চের মাধ্যমে বিতর্ক চর্চা এখানে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। পাশাপাশি আরো দু-একটি সংগঠন চাঁদপুর-এর বিতর্ককে নিয়মিত চর্চার মধ্যে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তাই সার্বিকভাবে বলা যায়-চাঁদপুরের বিতর্ক বর্তমানে আমাকে বেশ ব্যস্ত রেখেছে এবং স্বস্তিতেও রেখেছে।



বিতর্কায়ন : তার্কিক ও বিতার্কির্কের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে কি? বক্তৃতা ও বিতর্কের পার্থক্য ব্যবচ্ছেদ করুন।



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : তার্কিক এবং বিতার্কিকের মধ্যে অবশ্যই মৌলিক পার্থক্য আছে। যে কারণে তর্ক করাটা শিল্প নয় কিন্তু বিতর্ক করাটা শিল্প। একজন তার্কিকের উচ্চারণ ও উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। নয় তার শিষ্টাচার। তার্কিকের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা থাকে না। বিচারকের প্রতি মান্যতার সংস্কৃতিও তৈরি হয় না। তার্কিকের তর্কে জ্ঞানের চেয়ে ছিদ্রানুসন্ধানী প্রবণতা বেশি থাকে। কিন্তু একজন বিতর্ক শিল্পী অবশ্যই পরমতসহিষ্ণুতা মেনে তার মত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। তার্কিকের বক্তব্যপ্রবণতা একতরফা কিন্তু একজন বিতার্কিক প্রতিপক্ষের যুক্তিকে সম্মান করেন। তার্কিকের ভাসা জ্ঞান কিন্তু গলা উঁচু। বিতার্কিকের প্রমিত জ্ঞান এবং কণ্ঠ পরিশীলিত।



বক্তৃতা হচ্ছে কোন বিষয়বস্তু সম্পর্কে বক্তার একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি। বক্তা তার নিজের মতো করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে তথ্যের শুদ্ধতা খুব বেশি না-ও থাকতে পারে। আবেগের মাত্রা কখনো কখনো বক্তৃতার মূল উপজীব্য। বক্তব্যে যুক্তি নয়, তথ্য ও আবেগের প্রাধান্য অধিক। অবশ্যই বক্তৃতাকে মর্মস্পর্শী করতে প্রমিত উচ্চারণ ও উপস্থাপন সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বিতর্কে কেবল সুন্দর উচ্চারণ ও উপস্থাপন হলেই চলে না, এতে সময়, নিয়ম কাঠামো মেনে অন্যের যুক্তিকে সম্মান দিয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করতে হয়। বক্তব্যে অন্যের যুক্তি খ-নের খুব বেশি প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিতর্কে অন্যের যুক্তিখ-ন করতেই হবে। বক্তৃতায় যুক্তি উপস্থাপন ও যুক্তিখ-নের বিষয় থাকলেই তা বিতর্ক হতে পারে।



বিতর্কায়ন : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভালো বিতার্কিক খুঁজে পেতে পারে এবং আদর্শ বিতর্ক দল গঠন করতে পারে বলে আপনি মনে করেন?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : ভালো বিতার্কিক খুঁজে পেতে হলে এবং আদর্শ একটি বিতর্ক দল গঠন করতে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি সপ্তাহে এক পিরিয়ড নান্দনিক চর্চার জন্যে রাখতে হবে। এই নান্দনিক চর্চায় বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, নির্ধারিত বক্তৃতা ও আবৃত্তি এবং স্মরণীয় গ্রন্থ হতে পাঠ ইত্যাদি থাকতে পারে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বলার ক্ষমতা তৈরি হবে। ক্লাসে ক্লাসে সপ্তাহে এক পিরিয়ড বিতর্ক চর্চা হলে ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাধীনভাবে নিজে নিজে চিন্তা করতে শিখবে। পাশাপাশি তাদের উচ্চারণ শুদ্ধ হবে ও অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার প্রবণতা তৈরি হবে।



নির্ধারিত বক্তৃতায় যে ভালো করে তাকে বিতর্ক দলের প্রথম বক্তা রাখা যায়। কেননা প্রথম বক্তার বক্তব্য অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত বক্তব্যের মতোই মনে হয়। এরপর অপেক্ষাকৃত আক্রমণাত্মক বক্তাকে দ্বিতীয় বক্তা এবং ধীর-স্থির বক্তাকে দলনেতা করা যেতে পারে। এভাবে প্রতি সপ্তাহের চর্চা থেকে একটি আদর্শ বিতর্ক দল গঠন করা যায়।



বিতর্কায়ন : আপনাকে বিতার্কিক, বিচারক, স্পীকার, বিতর্ক-গবেষক, বিতর্ক গুরু, বিতর্ক বিষয়ক সুলেখক, বিতর্ক সংগঠক-কোন্ বিশেষণে অভিহিত করলে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : ভালোবেসে অনেকেই অনেক নামে ডাকে। একসময় স্পীকার নামের মধ্যে একটা প্রীতি তৈরি হতো। তবে সার্বিকভাবে একজন সাবেক বিতার্কিক বললেই মোটামুটি একটা পরিচয় দাঁড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে কোনো নামে ডাকলেই বিব্রত হই না, তবে বিতার্কিক পরিচয়টাতেই স্বাচ্ছন্দ্য অধিক মিলে। আপনার প্রশ্নের সূত্র ধরে একটি পরিচয় ভবিষ্যতে হতে পারে-তা হলো বিতর্ক-সাহিত্যিক। এই পরিচয়টাও আমাকে মোটামুটি ভালোভাবেই উপস্থাপন করে।



বিতর্কায়ন : বিতর্কের প্রতি আপনার ভালোবাসা ভীষণ প্রবল।-এটা কেন?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : খুব ছোটবেলায়, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন আমি খেলাঘরের সদস্য হই। খেলাঘর প্রতি শুক্রবারের নিয়মিত আসরে আমাকে দিয়ে বিতর্ক, নির্ধারিত বক্তৃতা, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতা পাঠ ইত্যাদি বিষয়ে কিছু না কিছু পরিবেশন করাতো। এইভাবে এক সময় আমার মধ্যে বলার নিজস্ব ঢং ও সাহস তৈরি হয়ে যায়। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াকালীন শ্রদ্ধেয় বাবুল আইচ স্যার স্কুলের নবম-দশম শ্রেণীর বিতর্ক দলে নবম শ্রেণীর দলনেতাকে দুর্বল ভেবে স্নেহের বশে আমাকে দলনেতা বানিয়ে দেন। ওই বিতর্কের বিষয় ছিলো 'টেলিভিশন জাতীয় জীবনে আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ।' এভাবে বিতর্কের মধ্য দিয়ে নতুন করে সম্পূর্ণ স্কুলের নজরে চলে আসি। সেই থেকে ধীরে ধীরে কখন যে আমার রক্তে বিতর্কের স্রোত বইতে শুরু করল তা টের পাইনি। এরপর স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে মেডিকেল কলেজ, জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক, আন্তঃ মেডিকেল কলেজ বিতর্ক-ইত্যাদি সকল কিছুর মাধ্যমে বিতর্কের প্রতি আমার গভীর প্রেম তৈরি হয়ে গেছে।



বিতর্ক আমাকে দিয়েছে অনেক। মৌসুমী বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জাতীয় শিশু বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রথম আলো-এসকেএফ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আন্তঃবর্ষ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং আন্তঃমেডিকেল কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমার ও আমার দলের অর্জন অনেক। এতো অর্জন যে শিল্পের মধ্য দিয়ে, সেই শিল্পতো ভালোবাসার প্রবল টান তৈরি করবেই।



বিতর্কায়ন : বিতর্কে অতিরিক্ত সময় দিতে গিয়ে স্ত্রী-পুত্র, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, বিশেষ করে রোগীদের নিকট বিতর্কিত হয়ে যাচ্ছেন না তো?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : স্ত্রী-পুত্র-বন্ধুবান্ধব-আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে আসলে বিতর্কের জন্যে তেমন কোন বাধা পাইনি। যদিও মাঝে মাঝে অনুযোগ করে কেউ কেউ, তবে তাতে প্রশ্রয় ঝরে পড়ে।



মজার ব্যাপার হলো, ফেসবুকে গতবছর বিতর্কের বিচারক হিসেবে আমার একটা ছবি পোস্ট করেছিলাম এক লাইনের স্ট্যাটাস দিয়ে। আমাদের মেডিকেল কলেজের আমার এক সিনিয়র ভাইসহ অন্যরা তাতে মন্তব্য করে-'ওটাই তোর আসল জায়গা।' অর্থাৎ আমার পেশা যাই হোক, সবাই আমাকে একজন বিতর্ক-সংশ্লিষ্ট হিসেবেই জানে ও মেনে নিয়েছে।



রোগীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তারা আমার মাঝে মাঝে চেম্বারে যাওয়ার বিলম্ব মেনে নিয়েছেন স্নেহভরে। তবে যারা দূর পথের যাত্রী তারা একটু অভিযোগ করেন-স্যার আজ অনেক দেরি হয়ে গেলো। আসলে ভালো কিছু করতে গেলে কিছু না কিছু ব্যাঘাত তৈরি হতেই পারে। সবাই তা মেনে নিয়েই আমাকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন নিয়মিত। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। পরিবার, পুত্র-পরিজন-আত্মীয়-বন্ধু-বান্ধব রোগী-সবার কাছে আমার অপার ঋণ।



বিতর্কায়ন : চাঁদপুরে বিতর্ককে আন্দোলনে রূপ দিতে সিকেডিএফ তথা চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের যে ধারাবাহিক প্রয়াস, এটির দীর্ঘস্থায়িত্বে কমপক্ষে কী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্যে। চাঁদপুরের বিতর্ক শিল্পকে আন্দোলনে রূপ দিতে গিয়ে সিকেডিএফ তথা চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের যে ধারাবাহিক প্রয়াস, যে ত্যাগ, যে শ্রম তার জন্যে প্রথমেই সাধুবাদ জানাই এর কর্তা ব্যক্তিদের বিশেষত একজনের নাম শ্রদ্ধাভরে নিতেই হয়। তিনি হলেন আলোর ফেরিওয়ালা, বিতর্ক-স্বাপি্নক জনাব কাজী শাহাদাত। তিনি আগ্রহী না হলে চাঁদপুরে বিতর্ক বিকশিত হতো কিনা তা কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে যেতো। যাই হোক, স্রষ্টাকে ধন্যবাদ তাঁর মতো একজন কর্মবীর স্বাপি্নক এই শিল্পের প্রচারের প্রয়াসে শক্ত হাতে হাল ধরে আছেন। বিতর্ক শিল্পে অবদানের জন্যে যেদিন তিনি জাতীয় পুরস্কার পাবেন-সেদিন পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নিজেই ধন্য হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।



চাঁদপুরের বিতর্ক আন্দোলনের ধারাবাহিক প্রয়াসকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দেয়ার জন্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি :-



ক. চাঁদপুরে বিতর্ক শিল্পের প্রশিক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা দরকার। এরজন্যে একটা আদর্শ বিতর্ক একাডেমী জরুরি। বিতর্ক একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হলে নতুন বিতার্কিক তৈরি হবে। পুরানো বিতার্কিকরা প্রশিক্ষক হিসেবে বিতর্কের সাথে যুক্ত হতে পারবে। তরুণদের মধ্যে সামাজিক অস্থিরতা, জঙ্গিবাদের হুমকি, মাদকাসক্তি দূরীভূত হবে এবং সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা বাড়বে। প্রতি বছর এক ঝঁাঁক নতুন বিতার্কিক তৈরি হয়ে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিতর্কের পতাকা উড়িয়ে চাঁদপুরের বিতর্ক আন্দোলনকে প্রসারিত করবে ও দীর্ঘজীবী করে তুলবে।



খ. জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলাব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতার নিয়মিত আয়োজন থাকতে হবে। এই আয়োজনকে আলাদাভাবে সংগঠিত করতে হবে। অর্থাৎ একটা মাস উদ্যাপন হবে বিতর্ক মাস হিসেবে। কেবল ফেব্রুয়ারি মাসটাই এমন বিতর্ক চর্চার মাস হতে পারে।



গ. পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মহৎ আয়োজনে স্থায়ী পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি করতে হবে।



ঘ. একজন কাজী শাহাদাতের অনুপ্রেরণায় তাঁর মতো আরো বেশ কয়েকজন জুনিয়র কাজী শাহাদাত গড়ে তুলতে হবে, যারা বিতর্ককে সাংগঠনিকভাবে শক্ত করে হাল ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নিবেদিতপ্রাণ কর্মী না হলে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন। তাই এই কাজে নতুন কর্মী সৃজন প্রকল্প তৈরি করতে হবে।



ঙ. পাড়ায় পাড়ায় কিংবা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব বিতর্ক ক্লাব গঠন করতে হবে এবং তাকে জেলার শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই বিতর্ক ক্লাবের আওতায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারবে।



চ. সর্বশেষে অভিভাবক মহলে সচেতনতার প্রচারণা চালাতে হবে যে, যারা বিতর্ক করে তারা আরো মেধাবী, আরো শাণিত হয় এবং বিতার্কিকরাই পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করে। অভিভাবক মহলকে সচেতন করে তুলতে হলে স্কুল-কলেজে অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিতর্ক চর্চায় উৎসাহী করে তুলতে হবে।



বিতর্কায়ন : ৮ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আপনার দৃষ্টিতে কোন্ কোন্ দলের হেরে যাওয়াকে আপনি অঘটন বলে মনে করেন?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : আসলে আমি সকল দলের বিতর্ক কিংবা সবগুলো বিতর্ক প্রতিযোগিতা মূল্যায়ন করা কিংবা অবলোকন করার সুযোগ পাইনি। তবুও যে কয়টি পেয়েছি তাতে মনে হয়, ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট, চাঁদপুর সরকারি কলেজের সিনিয়র দল-এই দুটো দলের হেরে যাওয়াটা আমার কাছে অঘটন। আসলে এগুলো অঘটন বলা ঠিক না। বিতর্কের সার্বিক বিচারে প্রতিযোগিতার দিন যে ভালো করেনি সে হেরেছে। হয়তো পরবর্তীতে ভালো করলে তারা জিততে পারতো।



বিতর্কায়ন : অনেক পূর্বে বিষয় দিয়ে, না তাৎক্ষণিক বিষয় দিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে বিতর্ক বেশি জমে বলে আপনি মনে করেন?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : প্রান্তিক পর্যায়ে যেহেতু অনেক নবীন বিতার্কিক থাকে, তাই এক্ষেত্রে অনেক পূর্বে বিষয় দিয়ে বিতর্ক করাটা সমীচীন।



তবে অভিযাত্রা পর্ব থেকে তাৎক্ষণিক বিষয় দিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে বিতার্কিকরা নিজেদের দক্ষতা যথাযথভাবে দেখতে পারবে এবং প্রকৃত বিতার্কিক তৈরি হবে।



নির্দ্বিধায় বলতেই হয়, তাৎক্ষণিক বিষয়ের উপর বিতর্ক হলে তা অনেক জমজমাট হয়। পক্ষান্তরে অনেক পূর্বে বিষয় দিলে অনেক ক্ষেত্রে বিতর্ক পানসে হয়ে যায়।



বিতর্কায়ন : চাঁদপুরে সনাতনী ধারায় বিতর্কের চর্চায় আপনার কাছ থেকে বিতার্কিকরা উদ্ভাবনী কিছু আশা করে। সেটা কী হতে পারে?



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : চাঁদপুরে সনাতনী ধারায় বিতর্ক চর্চায় আসলেই নতুন কিছু উদ্ভাবন করা জরুরি। কারণ দিনকে দিন প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং নতুন নতুন অনুষঙ্গ যোগ হচ্ছে।



আমি মনে করি, কেবল দলনেতা নয়, প্রত্যেক বক্তাই দ্বিতীয় বার বক্তব্যের সুযোগ পাওয়া দরকার। এজন্যে-প্রতিজন বক্তা ৩ মিনিটের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং ছয়জন বক্তার বক্তব্য শেষ হয়ে গেলে প্রত্যেক বক্তা ক্রমানুসারে ২ মিনিট করে যুক্তি খ-নের সুযোগ পাবে। এতে মোট সময় লাগবে (৩?৩?২+২?৩ ?২)=৩০ মিনিট বা আধাঘণ্টা। এতে প্রত্যেক বক্তা সমান দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবে এবং কেবল দলনেতা নির্ভর না হয়ে প্রতিটি দলকে সকল বক্তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এভাবে একটি বিতর্ক সভা সর্বোচ্চ ৩৫ মিনিটে সমাপ্ত হবে।



বিতর্কায়ন : উপরোক্ত প্রশ্নমালার বাইরে একান্ত কিছু বলার থাকলে আমরা খুশি হবো।



ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া : বিতর্ক একটি জ্ঞানঋদ্ধ প্রজন্ম নির্মাণের আদর্শ শিল্প মাধ্যম। যারা বিতার্কিক এবং যারা অভিাভাবক, সংগঠক-প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে আমার আহ্বান-এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন-যাতে বিতর্কের মতো একটি শিল্প আহত না হয়। পাশাপাশি অভিভাবকবৃন্দের প্রতি আমার আবেদন-আপনারা আপনাদের সন্তানকে বিতর্ক চর্চা করতে শিখান। দেখবেন-একদিন আপনার সন্তানটিই বিভিন্ন মঞ্চে নেতৃত্ব দিচ্ছে গঠনমূলক কর্মকা-ে। এভাবে সকল অভিভাবক যদি তাদের সন্তানকে বিতর্ক চর্চায় নিমগ্ন রাখেন, তবে শিষ্টাচার আর মূল্যবোধ নিয়ে মুক্তবুদ্ধির জ্ঞানঋদ্ধ আদর্শ প্রজন্ম আমরা পাবোই পাবো।



খুব মূল্যবান ও সৃজনশীল প্রশ্নমালার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানাই চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারকে এবং চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানাই সকল পাঠক ও বিতর্ক অনুরাগীকে।



বিতর্কের জয় হোক।



যে আসে বিতর্কে সে হারে না।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২০৫৫১
পুরোন সংখ্যা