চাঁদপুর। বুধবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ২৩ ভাদ্র ১৪২৩। ৪ জিলহজ ১৪৩৭
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৬। এবং বলিয়াছিলাম, ‘তোমরা সেই সম্প্রদায়ের নিকট যাও যাহারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করিয়াছে।’ অতঃপর আমি উহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্ব্স্ত করিয়াছিলাম।     

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মাটিকে ভালোবাসো, মাটিও তোমাকে ভালোবাসবে।    

-ইবনে আহম্মদ।


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়–ই পাখির ন্যায় একটি ছোট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্মন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।        

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


আমারও বিতর্ক-জ্বর
শাহাদাত আহমদ সিফাত
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিজ্ঞানের এই যুগে মানুষের নানা ধরনের বিশ্বাসের গ্রন্থি শিথিল হচ্ছে আর বিতর্কের পরিধিও বাড়ছে। মানুষ আজ অকুণ্ঠিত চিত্তে কিছুই মেনে নিতে রাজি নয়। আজ মোরা যুক্তিবাদী, যুক্তির প্রখরতায় হচ্ছে সত্যের প্রতিষ্ঠা আর মিথ্যার বিলুপ্তি। আর এই যুক্তির রাজ্য প্রতিষ্ঠায় বির্তক এক কার্যকর উপাদান।



চাঁদপুরে আছে ইলিশ, আছে নদী, আছে মনোরম প্রকৃতি, আছে নানা পল্লীর ছোঁয়া, আছে হাজীগঞ্জের মতো শহরের আধুনিকতা, আছে সুষ্ঠু পরিবেশ। আর সবচেয়ে দামী যে জিনিসটা আছে, তা হলো বিতর্ক। চাঁদপুরে বিতর্ক আছে, আছে বিতর্ক চর্চা, আছে কাজী শাহাদাত। আজ চাঁদপুর ধন্য বিতর্ককে পেয়ে। চাঁদপুরের আশেপাশে আছে কয়েকটি জেলা যেমন-কুমিল্লা, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর ইত্যাদি। এরা সবাই এক বড় উপাদান থেকে বঞ্চিত আর তা হল বিতর্ক। মানছি যে, অন্যান্য জেলায়ও কম-বেশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা আছে কিন্তু তা কি চাঁদপুর কণ্ঠের বিতর্কের মতো সুষ্ঠু? অবশ্যই না। অন্যান্য জেলায় বিতর্ক হয় খামখেয়ালিভাবে। নেই সেখানে নিয়মানুবর্তিতা, নেই সময়ানুবর্তিতা, নেই সুষ্ঠুতা, নেই বিতর্ক শ্রমিক। আর চাঁদপুর কণ্ঠের বিতর্কের আছে সুষ্ঠু সময়, সঠিক নিয়ম, অক্লান্ত বিতর্ক শ্রমিক। চাঁদপুর কণ্ঠের বিতর্ক কত সুন্দরই না হয়! নির্দিষ্ট দিন, তারিখসহ চিঠি প্রেরণ করা হয়। কাজী শাহাদাত আঙ্কেল যদি বলে সাড়ে ৯টায় বিতর্ক হবে তবে তা ২ মিনিটও এদিক সেদিক হয় না। কতই না সময়ানুবর্তী চাঁদপুর কণ্ঠ। আবার কোনো ফি ছাড়াই নিঃস্বার্থভাবে চাঁদপুর কণ্ঠ বিতার্কিকদের দেয় সনদ, বই, কলম, খাতা, প্যাড, ফাইল, টি-শার্ট, ক্যাপ আর অমূল্য জ্ঞানের ভা-ার। টানা একমাস বিদ্যালয়ে ক্লাস করে যে জ্ঞান অর্জিত হয় তার চেয়ে একদিন প্রেসক্লাব বা রোটারী ভবনে বসে বিতর্ক দেখলে বা অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার, কাজী শাহাদাতসহ অন্যান্য জ্ঞানীগুণীদের কথা শুনলে অধিক জ্ঞান অর্জিত হয়। সত্যিই বিতর্ক এক অমূল্য শিল্প। চাঁদপুরে এই শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজী শাহাদাত। আর এই শিল্পের নিপুণ শিল্পী হলেন পীযুষ কান্তি বড়ুয়া। বিতর্ক সংগঠক হিসেবে রয়েছেন রাজন চন্দ্র দে, আবু সালেহ, রাসেল হাসান, আজিজুর রহমান ইজাজসহ আরও অনেক বিতার্কিক ও বিতর্ক শ্রমিক। যারা চাঁদপুর কণ্ঠের বিতর্ক নিয়ে কাজ করছেন তারা আজ সবাই ধন্য। বিতর্কপ্রেমীরা তাদের আজীবন মনে রাখবে।



শুনেছি মানুষ যা নিয়ে বেশি ভাবে তা-ই স্বপ্নে দেখে। সেদিন রাত ১টায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে বিতর্ক নিয়ে অনেকক্ষণ ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম টেরই পেলাম না। দেখতে লাগলাম, আমি প্রেসক্লাবে বসে আছি। বসে বসে বিতার্কিকদের জন্য সনদ, ফাইল ইত্যাদি রেডি করছি, আবার দেখলাম আমি প্রেসক্লাবে এক বিতর্কের মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি দেখলাম যে, আমি নিজে চাঁদপুরকণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের একজন সদস্য। সকালে হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গল। কিছুক্ষণ পর রাতের স্বপ্নের কথা মনে পড়ল। নিজে নিজেই হাসলাম আর বললাম যে, যা দেখেছি তা হবার যোগ্যতাতো আমার নেই। তবে হ্যাঁ, অনেক আনন্দ যে পেয়েছি। এ জগতে ক্যারিয়ারের অভাব নেই। চাকুরিরও অভাব নেই। তবে যারা চাঁদপুর কণ্ঠের বিতর্কের সাথে কাজ করতে পারছে তারা খুবই ভাগ্যবান।



বিতর্ক হল শ্রেষ্ঠ বাচিক শিল্প। কোন্ জাতি কেমন, তাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, বাস্তবিক প্রেক্ষাপট সবই বিতার্কিকদের যুক্তির স্রোতে উঠে আসে। তাই একটি জাতি কেমন তা জানতে সে জাতির বিতর্ক দেখলেই বোঝা যাবে। তাই বলেছিলাম যে, বিতর্ক নান্দনিক শিল্প ও সাহিত্য। তার এই শিল্প পালন করছেন আজ চাঁদপুর কণ্ঠ। সেদিন কাজী শাহাদাত আংকেলকে ফোন করে বললাম, "আংকেল একটা মেইল করেছিলাম।" আংকেল বললেন, বিতর্কের মেইল? আমি বললাম, হ্যাঁ, সত্যি। কাজী শাহাদাত আংকেলের সাথে ফোনে কথা বলতে আমার গলা অনেক কাঁপে। আংকেল বললেন, "সারাদিন কি শুধু এসবই করো, নাকি পড়াশুনাও আছে?" আমি একজন বিতার্কিকের মত নয় বরং একজন ভীরুর মত কাঁপা স্বরে বললাম, "না আংকেল, পড়াশুনাও করি, তবে অবসরে করি সাহিত্য চর্চা।" তিনি আমাকে খুবই আন্তরিকভাবে উপদেশ দিয়ে কথা শেষ করলেন। একবার ভেবে দেখুন, কতই না আন্তরিক চাঁদপুর কন্ঠ, কতই না আন্তরিক কাজী শাহাদাত আংকেল। তারা বিতর্কের পাশাপাশি বিতার্কিকদের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে।



বাস্তবিকই বিতর্কের পাশের মানুষগুলো হয় মহৎ, হয় আন্তরিক। আজ কাজী শাহাদাত আংকেলের মত আমিও খুব গভীরভাবে বিতর্ক জ্বরে আক্রান্ত। শুধু জ্বর নয়, আমি বিতর্কের টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত। মন চায় দিনরাত চবি্বশ ঘণ্টা বিতর্ক করি, বিতর্ক দেখি আর বিতর্কায়নে লেখি। বিতর্কায়নে সারাদিন লিখতে মন চায়, কিন্তু তাতো সম্ভব নয়। কারণ শাহাদাত আংকেল বললেন পড়ালেখাও চালাতে। তাই সবই একসাথে চালাই। আসুন আজ বিতর্ক জগতে। আসুন বিতর্ক করি, দেখি, ভালবাসি। আসুন করি বিতর্কীয় সাহিত্যচর্চা। আজ প্রজন্মের অবক্ষয় রোধে, প্রজন্মের পরিশুদ্ধতা আনয়নে বিতর্কই সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। তাইতো মোরা সকল বিতার্কিকই ভালবাসি বিতর্ককে। ধন্যবাদ সবাইকে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯২৩৬৩১
পুরোন সংখ্যা