চাঁদপুর। বুধবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ২৩ ভাদ্র ১৪২৩। ৪ জিলহজ ১৪৩৭
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৬। এবং বলিয়াছিলাম, ‘তোমরা সেই সম্প্রদায়ের নিকট যাও যাহারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করিয়াছে।’ অতঃপর আমি উহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্ব্স্ত করিয়াছিলাম।     

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মাটিকে ভালোবাসো, মাটিও তোমাকে ভালোবাসবে।    

-ইবনে আহম্মদ।


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়–ই পাখির ন্যায় একটি ছোট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্মন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।        

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


বিতর্ক ঋদ্ধ হোক উজ্জীবিত তারুণ্যে
মোঃ মেহেদী হাসান সোহেল
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কেন বিতর্ক করব? বিতর্ক করলে কী লাভ? জিপিএ-৫ পাবে তো? এ রকম হাজারটা প্রশ্ন শুনতে হত বিতর্ক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কাজী শাহাদাতকে। জান্নাতুর রাফেয়া, রাসেল হাসান, আজিজুর রহমান ইজাজ, ভিভিয়ান ঘোষ, মরিয়ম আক্তার শ্রাবণী, ফয়সাল তাহসান, সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া, ফাতেমা বিনতে নূর ঐশী, মুসলিমা বিনতে খান বিতর্কের কিছু উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। এ রকম হাজারটা নক্ষত্রের উদাহরণ দেয়া যাবে যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি বিতর্ক করেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমি ২০১৪ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং বিতর্কেও অংশগ্রহণ করি। অনেকেই বলেছিল, বিতর্ক করলে জিপিএ-৫ পাওয়া যাবে না। অথচ ফলাফলে দেখা গেল আমি জিপিএ-৫সহ টেলেন্টপুলে বৃত্তি পাই। শুধু কি বিতর্ক! এছাড়াও সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ, জাতীয় জ্বালানি সপ্তাহসহ একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করি। এরপরেও কিছু অভিভাবক বলবেন, তোরা যে যা বলিস্ ভাই, আমার সোনার হরিণ (জিপিএ-৫) চাই!!! আমি তাদেরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বলতে চাই, জিপিএ ভিত্তিক পড়ালেখার কারণে আমরা পরিণত হয়েছি সময়ের গিনিপিগে।



সম্প্রতি সারা বিশ্বে চলমান জঙ্গি হামলায় জড়িয়ে পড়ছে তরুণ-তরুণী, চারিদিকে মাদকের আস্ফালন, তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারে আজ তাদের সুন্দরের পথ চলা বিধ্বস্ত। অন্তত বিতর্ক আন্দোলনের সাথে জড়িত যারা তারা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়বে না এ বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। চাঁদপুর আজ বিতর্কের উর্বর ভূমি। এই ভূমি এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। এর পিছনে রয়েছে শত শ্রম, ঘাম, ত্যাগ তিতিক্ষা আর নিরলসভাবে কাজ করার মানসিকতা। চতুর্থ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের পর যখন একঝাঁক বিতর্কপ্রেমী এ আন্দোলন ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তখন সবচাইতে বেশি কষ্টের দিন পার করতে হয়েছে বিতর্ক শ্রমিক কাজী শাহাদাতকে। প্রশ্ন উঠেছিল কী পান তিনি এসব করে? এগুলো করে লাভটাই বা কী? তবুও তিনি ছেড়ে যাননি বিতর্ক আন্দোলন।



চাঁদপুর ইলিশের রাজধানী। কিন্তু সেদিন মনে হয় আর সুদূর নয় যেদিন চাঁদপুর হবে বিতর্কের রাজধানী। ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী আমি। পরীক্ষা শেষে চলে যেতে হবে রাজধানী ঢাকায়। বুঝতেই পারছেন, আর আসা হবে না চাঁদপুরের বিতর্ক মঞ্চে। তবুও থাকতে চাই বিতর্ক শ্রমিকের শিষ্য হয়ে। পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক শৈশব শেষে কৈশোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিতর্ক শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে। শ্রদ্ধাভাজন মাহমুদা খানম, মুক্তা পীযূষ আন্টি, যার প্রেরণায় আমার পথ চলা শাণিত হয়েছে সেই পীযূষ আঙ্কেল, রাজন দা, আবু সালেহ ভাইয়া, এএইচএম আহসান উল্লাহ, গিয়াসউদ্দিন মিলন আঙ্কেল, প্রবীর দা সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।



জয়যাত্রা পর্ব শেষে বাড়ি ফিরে কেঁদেছিলাম। এ কান্না হারবার কান্না নয়, এ কান্না বিভক্তির। আর কি কখনো মিলিত হতে পারব যুক্তির মোহনায়? হয়তো চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কে এটিই আমার শেষ বছর। তবুও এ আন্দোলন কখনো যেন থেমে না যায়। শ্রদ্ধেয় কাজী শাহাদাতের ডাকে শত প্রতিকূলতাসহ অতীতে ছিলাম, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও থাকতে চাই। ভালোবাসি বিতর্ককে, ভালোবাসি বিতর্কের মানুষগুলোকে। আমার প্রথম বিতর্কের শ্লোগান ছিল আজকের শিরোনামটি। আজ বিদায়লগ্নে বলতে চাই বিতর্ক ঋদ্ধ হোক উজ্জীবিত তারুণ্যে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯৫০৮
পুরোন সংখ্যা