চাঁদপুর। বুধবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ২৩ ভাদ্র ১৪২৩। ৪ জিলহজ ১৪৩৭
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৬। এবং বলিয়াছিলাম, ‘তোমরা সেই সম্প্রদায়ের নিকট যাও যাহারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করিয়াছে।’ অতঃপর আমি উহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্ব্স্ত করিয়াছিলাম।     

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মাটিকে ভালোবাসো, মাটিও তোমাকে ভালোবাসবে।    

-ইবনে আহম্মদ।


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়–ই পাখির ন্যায় একটি ছোট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্মন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।        

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


বিতর্ক আলোর পথে নিয়ে যাবেই
অভিজিৎ রায়
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমি অভিজিৎ রায়। হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সিকেডিএফ আয়োজিত পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রতিযোগিতা পূর্ব অনুভূতি প্রকাশ কালীন সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী শাহাদাত স্যারের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলাম, আমি চ্যাম্পিয়ন হতে আসিনি, আমি সেরাদের সেরা হতে আসিনি, আমি এসেছি যুক্তির মাধ্যমে অন্যায়ের বিপক্ষে ন্যায়ের জয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামিল হতে। এ কথাটা একেবারে অন্তরের বিশ্বাস থেকে বলতে পেরেছিলাম বলেই সেমি-ফাইনাল জিতে ফাইনালে উঠতে না পারার ব্যর্থতাকে হতাশায় রূপ না দিয়ে নিজ আবেগ-অনুভূতি কালির অক্ষরে বসানোর চেষ্টা করতে পারছি।



পারিবারিক পরিবেশে বাবা-মায়ের যুক্তিনির্ভর কথা-বার্তা এবং অন্যায়ের বিপক্ষে তাদের শক্ত অবস্থান দেখে ছোটবেলা থেকেই বিতর্কচর্চার প্রতি আকৃষ্ট হই। এক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় ৬ষ্ঠ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সৌভাগ্য হয়ে যায়। সনাতন পদ্ধতির বিতর্কচর্চার পূর্ব অভিজ্ঞতা খুব একটা না থাকলেও নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাবা-মায়ের উৎসাহ ও সহযোগিতায় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। প্রথম সুযোগেই পেয়ে যাই প্রান্তিক ও অভিযাত্রা পর্বে দলীয় বিজয়। এতে মানসিক শক্তি বেড়ে গেলেও পরবর্তী বছরে প্রান্তিক পর্বে বিজয়ী দলের সদস্য হয়েও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অভিযাত্রা পর্বে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। ২০১৬ তে এসে দলনেতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ হলো। শ্রদ্ধেয় আতিক স্যারের সহযোগিতা এবং বাবা-মায়ের উৎসাহ ও সহযোগিতায় প্রান্তিক পর্ব শুরু করে পাঁচটি পর্বে বিজয়ী হয়ে জয়ধ্বনি নামের সেমি-ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়। সেমি-ফাইনালে বিজয়ী হয়ে ফাইনালে যেতে পারিনি। কিন্তু তাতে হতাশ হইনি। বরং সিকেডিএফ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যা কিছু শিখেছি, যা কিছু অর্জন করেছি তাতেই আমার আনন্দ। আগামী দিনের স্বপ্ন দেখার সঠিক দিক নির্দেশনাও পেয়েছি বিতর্কের কাছ থেকে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিখেছি কিভাবে পরস্পর প্রতিপক্ষ হয়েও একে অপরকে সম্মান করে ভালোবাসা আদায় করতে পারে, একে অপররে সহযোগিতা করে, সহমর্মিতা প্রকাশ করে আপন মানুষ হয়ে যেতে পারে। বিতর্ক চর্চায় জড়িত হয়ে বুঝতে শিখলাম এটা কেবলমাত্র যুক্তির নির্ভরতায় অন্যায়ের বিপক্ষে সত্যের লড়াই নয়, এটা শুধুমাত্র বিনোদনমূলক সুস্থ সংস্কৃতিই নয়, এটা জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় নিজ দক্ষতার উন্নতির মাধ্যমও। যেটা নিজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা প্রবাহে কাজে লাগবে। বিতর্ক চর্চাই সাহস যোগাবে বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে নেতৃত্ব দেয়ার।



সিকেডিএফ-এর আয়োজনে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সফলতায় 'অবক্ষয় লয় হোক বিতর্ক প্রয়াসে' এই শ্লোগান চাঁদপুর জেলার সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে এ কামনায় আমার সকল সহপাঠী বন্ধু ও অনুজদের আহ্বান কর্রিছ নিজেদের মেধা ক্ষুরধার করে বিচক্ষণতার সহিত অন্যায় ও অসত্যের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে বিতর্ক চর্চার মত সুস্থ সংস্কৃতিতে সামিল হতে। বন্ধুরা বিতর্ক চর্চায় এসে যেটুকু শিখেছি তাতেই দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপলব্ধি করে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, শুধুমাত্র জিপিএ-৫ লেখা সনদপত্র দিয়ে অসত্যের বিপক্ষে সত্যের জয় নিশ্চিত করা যাবে না। অযোগ্যদের বিপরীতে যোগ্যতার প্রমাণ দেয়া যাবে না। সেটার জন্যে প্রয়োজন মাধ্যম বিতর্ক চর্চাকে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম হিসেবে অপরিহার্য ভাবা।



সিকেডিএফ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রতিযোগী দলের বন্ধু ও বড়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালবাসা, উৎসাহ কোনোদিন ভুলতে পারবো না। রাসেল হাসান ভাইয়া, সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া আপুসহ অন্যান্য স্বনামখ্যাত অগ্রজ বিতার্কিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা, উৎসাহ এবং সহযোগিতা আজীবন মনে থাকবে। তাদের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা। সিকেডিএফ কর্তৃপক্ষের আয়োজনের আন্তরিকতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা একটি প্রতিযোগিতাকে, একটি দায়বদ্ধতাকে কতটা উচ্চতায় পেঁৗছে দিতে পারে সেটাও একটি শিক্ষণীয় বিষয়। আসলে বিতর্ক চর্চাই তো এমন। এটার মায়াজালে জড়ালে অন্ধকার ঠেলে আলোর পক্ষে নিয়ে যাবেই। সিকেডিএফ-এর সভাপতি কাজী শাহাদাত স্যার, উপদেষ্টা ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া স্যার, সেক্রেটারী রাজন দে, অতিথি হিসেবে দেখা চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ইকবাল-বিন-বাশার স্যারসহ সুধীজনদের সুন্দর উপস্থাপনা, হাসিমুখে নিরলস পরিশ্রম করার মানসিকতা দেখে বিতর্ক চর্চার প্রতি মুগ্ধতা ও আকর্ষণ অনেক বেড়ে গেছে। আগামী দিনগুলোতেও যেন তাঁদের সাহচর্য পেয়ে কিছু শিখতে পারি সেই কামনা রইল।



 



লেখক : অভিজিৎ রায়, দলপ্রধান, রাজারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় বিতর্ক দল, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯৮২৩
পুরোন সংখ্যা