চাঁদপুর। শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭। ৮ বৈশাখ ১৪২৪। ২৩ রজব ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ঘূর্ণিঝড় মোরা লঘু চাপে পরিনত হয়েছে।।এর প্রভাবে চাঁদপুরে ঘুরিঘুরি বুষ্টি ||  এখনও পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় মোড়া চাঁদপুরে আঘাত হাননি।। ঘুরিঘুরি বৃষ্টিরও ধমকা হাওয়া বইছে ||  এখনও পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় মোড়া চাঁদপুরে আঘাত হাননি।। ঘুরিঘুরি বৃষ্টিরও ধমকা হাওয়া বইছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৯২। আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন তিলাওয়াত করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসুরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্যে। আর কেহ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।   


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

একজন ভালো প্রশাসকই একজন ভালো রাজা হতে পারে।                      -মিচেল জিন। 


ধন দৌলত ফিরিয়া আসে এবং একটি শুধু কর্মই সঙ্গে থাকে।  


বিতর্কে বক্তব্যের সূচনা
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সকল কাজ সুন্দরভাবে সমাপ্ত করতে হলে তার শুভ সূচনা প্রয়োজন। গোড়ায় গলদ হলে সে কর্মে সুফল আসে না। বলা হয়ে থাকে 'অ্যা গুড স্টার্ট ইজ হাফ ডান'। অর্থাৎ সূচনা ভালো হলে কাজটি অর্ধ সমাপনই হয়ে যায়। বাকিটা জিতে নিতে আর কষ্ট হয় না। বিতর্ক যেহেতু নান্দনিক বাচিক শিল্প, তাই এতে শুভ সূচনার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের সূচনা সর্বদা চমকপ্রদ হওয়াই স্বাভাবিক। তেমনি বিতর্কে বক্তার বক্তব্যের সূচনাও চমৎকারিত্ব দিয়ে হওয়া উচিত। সূচনার ক্ষেত্রে চিন্তা করতে হবে-যেদিন বিতর্ক হচ্ছে সে দিনের কোনো গুরুত্ব আছে কি না। যদি দিনটি গুরুত্ববহ হয় তবে সূচনায় দিনটিকে বক্তব্যে নিয়ে আসা বুদ্ধিমানের কাজ। যে স্থানে বিতর্ক হচ্ছে সে স্থানের কোনো বিশেষ গুরুত্ব আছে কি না তা-ও দেখা জরুরি। যদি স্থানের গুরুত্বকে বিতর্কের প্রস্তাবনার কোনো প্রত্যয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করা যায়, তবে আরো চমৎকার। বিতর্ক আয়োজনে যদি কোনো উদ্দেশ্য থাকে তবে সেই উদ্দেশ্যকে বক্তার বক্তব্যের সাথে সমন্বয় করা যায় কি না। যদি সম্ভব হয় তবে সূচনায় সেই সমন্বয় উল্লেখ করলে বক্তব্য চমকপ্রদ হতে পারে।



বিষয়বস্তুর সাথে খাপ খায় এমন কোনো বিখ্যাত উক্তি যদি পাওয়া যায় তবে তা দিয়েও বক্তব্যের সূচনা করা যায়। কখনো কখনো কালজয়ী গানের কলি বা কবিতার পংক্তিমালা দিয়েও বক্তব্যের সূচনা করা যায়। তবে তা অবশ্যই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক কাব্যপ্রয়াস এড়িয়ে চলাই উত্তম। মাঝে মাঝে দেখা যায় কেউ কেউ নিজ প্রয়াসে দু-চার চরণ বানিয়ে বক্তব্যে ব্যবহার করেন। এটা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। বক্তব্যের সূচনায় কারও জীবনী কিংবা কারো লেখা চিঠির সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতিও ব্যবহার করা যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি যাতে দীর্ঘ না হয় এবং উদ্ধৃত অংশ যাতে যথাযথ হয়।



বক্তব্যের সূচনায় সম্বোধনে বেশি সময় ক্ষেপন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সম্বোধনে অতি বিশেষণ ব্যবহার করাও সমীচীন নয়। বিকর্কে সভাপ্রধান থাকলে অবশ্যই তাকে সম্বোধন করতে হবে। মডারেটরকেও সম্বোধনে আনতে হয়। অতঃপর বিচারকম-লী এবং প্রতিপক্ষ। এই চার ব্যক্তিবর্গের সম্বোধন করলেই যথেষ্ট। কুশলাদি বিনিময় বা আদাব-সালাম প্রদান বিতর্কে প্রয়োজন নেই। কারণ এতে প্রতিটা সেকেন্ড অতি মূল্যবান। কুশলাদি বিনিময়ের জন্যে কোনো পয়েন্ট বরাদ্দ নেই। বরং কুশলাদি বিনিময় করতে গেলে প্রমাদ আহ্বানের আশঙ্কা থাকে। কাজেই বিতর্কে বক্তব্যের সূচনা পরিমিত হয়াই বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে সূচনার জন্যে সর্বোচ্চ বিশ সেকেন্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সূচনার বক্তব্য যদি যুক্তি প্রদান বা যুক্তি খ-নের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয় তবে তাতে ত্রিশ সেকেন্ড পর্যন্ত সময় ব্যয় করা যেতে পারে। বিতর্কে আলটপকা কথার কোনো মূল্য নেই। সব কথাই একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করতে হয়। যদি কোনো চমকপ্রদ সূচনার সুযোগ না হয় তবে সরাসরি সম্বোধনের মাধ্যমে বক্তব্য সূচনা করে যেতে হয়। বক্তাকে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, সূচনায় যদি বিচারক এবং দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা না যায় তবে পরবর্তীতে তা আর সম্ভব হয়ে উঠে না। সে ক্ষেত্রে একটা গড় নম্বর কপালে জোটে। কাজেই বক্তব্যের সূচনা এমনই হোক যাতে উঠন্তি মূলো পত্তনেই চেনা যায়।



 



লেখক : উপদেষ্টা, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ ও সিকেডিএফ; অধ্যক্ষ, চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমী।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২৮২৯৫
পুরোন সংখ্যা