চাঁদপুর। শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭। ৮ বৈশাখ ১৪২৪। ২৩ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৯২। আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন তিলাওয়াত করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসুরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্যে। আর কেহ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।   


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

একজন ভালো প্রশাসকই একজন ভালো রাজা হতে পারে।                      -মিচেল জিন। 


ধন দৌলত ফিরিয়া আসে এবং একটি শুধু কর্মই সঙ্গে থাকে।  


যত দিন বাঁচবো বিতর্কের পাশে থাকবো-এ আমার শিল্প
রাবেয়া আক্তার
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় অবস্থিত শাহারপাড় ছোট্ট একটি গ্রাম। খুব বেশি ধনী পরিবারের সন্তান নই। গ্রামের সাধারণ পরিবারেই আমার জন্ম। আমার জীবনের সূচনা অর্থাৎ আমার জন্ম হয় ২০০২ সালের ১২ ডিসেম্বর। আমার ভালো বন্ধু আমার মা। আর আমার ভালোবাসার সুবিশাল ভা-ার আমার বাবা। তাদের অনুপ্রেরণায় আমার ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠা এবং ৫ম শ্রেণীতে এ+ পেয়েছিলাম। তারপর ভর্তি হই রহিমানগর বি.এ.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ে। তখন ৫ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক চলছিল। আমাদের বিদ্যালয় থেকে তিন জন বিতার্কিক বিতর্ক করতে যায়। সেখানে দর্শক হিসেবে আমাদের ক্লাস থেকে গিয়েছিল আব্দুল্লাহ ইবনে হান্নান। সেখান থেকে সে বিতর্ক দেখে এসে আমাদের ক্লাসে একটি বিতর্ক করার কথা বললে সাথে সাথেই ক্লাসে থাকা আমাদের বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন স্যার একটি বিতর্ক শুরু করেন। আর সেই থেকেই আমার জীবনে বিতর্কের সূচনা হয়। জীবনের প্রথম বিতর্কে তখন ফলাফল ঘোষণা দেয়ার সময় স্যার বলেছিলেন, আব্দুল্লার পর যে ভালো বিতর্ক করেছিল সেটা ছিলাম আমি। সেদিন থেকেই স্বপ্নের জাল বোনা শুরু করি। আমি ৬ষ্ঠ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক করার স্বপ্ন দেখি। সেমতে আমি বিতর্কে অংশগ্রহণ করি। হ্যাঁ, যার অনুপ্রেরণায় আমি পাঞ্জেরী বিতর্কের মধ্যে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য হয় তিনি হচ্ছেন আমাদের বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহীউদ্দীন মানিক স্যার। তেমন ভালো করতে পারিনি সেই বছর। মাত্র ২টি পর্ব করেই হেরে যাই। সেই বছর আমাদের স্কুলে ২টি দল ছিল। 'ক' দলের দলনেতা আমি ছিলাম। 'খ' দলটি মোটামুটি ভালো করেছিল। ৩টি পর্ব করেছিল তারা। তারপর সেই বছর নিয়মিত চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকা পড়তে থাকি এবং স্বপ্নের বীজ বোনা শুরু করি। ৭ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক করার সৌভাগ্য আমার হয়নি। কারণ ১০ম শ্রেণীর আপুরা চেয়েছিল তারা বিতর্ক করবে। তাই আর করা হয় নি। যখন শুনতাম আমাদের স্কুল থেকে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক করার জন্য যাচ্ছে তখন মনের মাঝে অনেকটাই আঘাত অনুভব করতাম। তারপরও আশা ছাড়ি নি। বিশ্বাস রেখেছিলাম ৮ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক করবই। আর আমার অবুঝ মন যখন বারবার আমাকে প্রশ্নের জোয়ারে ভাসাত তখন নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য বলতাম, জেএসসিতে যদি ভালো ফলাফল করি তখন অবশ্যই বিতর্ক করতে পারব। আল্লাহর রহমতে আমি জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলাম। তারপর ৯ম শ্রেণীতে ৮ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক দিয়ে বয়ে আনা সম্মান আর নিজের নামের পাশে যোগ করা বিতার্কিক শব্দটি আমার কাছে মনে হয়েছিল জীবনের বড় প্রাপ্তি, বড় অর্জন, বড় সুখ। আমার মনে হয়েছিল আমার জেএসসি-এর রেজাল্ট থেকেও এই সম্মান আমার জীবনে বয়ে আনে নতুন কিছু, যা ভাবলেই মনে প্রশান্তির অবিরাম বাতাস বয়। কচুয়াতে ৮ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের প্রান্তিক পর্বটি করে আমাদের দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে ছিল আমাদের দলীয় সহযোগিতা এবং মহীউদ্দিন মানিক স্যারের অক্লান্ত পরিশ্রম। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আমার স্বপ্ন আমার আশাগুলো দিনরাত ছোটাছুটি করেছিল আমার মনের আঙ্গিনায়। কল্পনা আর বাস্তবতায় ছিল বিতর্কের বসবাস। ২য় পর্ব অর্থাৎ অভিযাত্রা পর্বটিতে বিতর্ক করতে যাই অনেক প্রস্তুতি নিয়ে। অনেক বেশি শ্রম দেই বিতর্কের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের প্রতিপক্ষ আসেনি। মনটা ছিল অনেক খারাপ। প্রতিপক্ষ ছাড়া কিসের বিতর্ক? পারব না সুন্দর বাচনভঙ্গিতে কথা বলতে, পারব না কোনো প্রশ্ন করতে, পারব না প্রতিপক্ষ শব্দটি ব্যবহার করতে। জানি না আমার দলের সেই দুই বক্তার মনে কতটা আঘাত লেগেছিল। তবে হ্যাঁ, তাদের মুখগুলো ফ্যাকাসে হয়ে যায়। প্রথম বক্তা ছিলাম আমি। এতটাই খারাপ বিতর্ক করি যে, সেদিন মাত্র ৩৩ পেয়েছিলাম। কিন্তু প্রান্তিকে ছিল ৮০। বেদনায় কাতর হয়ে যাই। আমার দলের ২য় বক্তা আব্দুল্লাহ ইবনে হান্নান একেবারে কেঁদেই ফেলেন। অগ্রযাত্রার ১ম পর্বে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেই। অনেক সময় ছিল তখন। খুঁটিনাটি সকল বিষয় আয়ত্ত করে নেই আমি। মেহেদী হাসান সোহেল আমাদের দলের দলনেতা ছিলেন। তিনি ১০ম শ্রেণীর। তার সাথে তেমন আলাপ আলোচনা করার সুযোগ হতো না। তবে ২য় বক্তা আব্দুল্লাহ ইবনে হান্নান আমাকে অনেক সাহায্য করে বিতর্কের তথ্যাবলি, বাচনভঙ্গি শিখিয়ে দেন। অগ্রযাত্রা ১ পর্বে আমরা ৩য় স্থান অধিকার করি সারা চাঁদপুরে। এবার নিজেকে প্রস্তুত করি অগ্রযাত্রা ২ পর্বের জন্য। ১ সপ্তাহ পর অগ্রযাত্রা ২ পর্বে যাই। চাঁদপুরে কি সৌভাগ্য আমার, নাকি এটা আমার চেষ্টার ফল? আমি শ্রেষ্ঠ বক্তা হই। নামকরা দল হিসেবে পরিচয় হয় আমাদের। বাড়ি ফিরে কতই না খুশি ছিলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একা ঘরে নিজেকে প্রস্তুত করতাম কিভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেকে উপস্থাপন করবো। আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল আল-আমিন স্কুল। অনেক ভালো করে প্রস্তুতি নিতে থাকি। অবশেষে দেখা গিয়েছিল ৮৪ নম্বর পেয়েছিলাম কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দলটি হেরে যায়। রাজন দে যখন আমাদের দলটির ফলাফল ঘোষণা করেন তখন আমার হৃদয়ভাঙ্গা কান্না শুরু হয়। সনদ এবং পুরস্কার আনার সময় কান্না করতে করতে গিয়েছিলাম। এখনও দুচোখ বেয়ে পানি পড়ছে। আমাদের হেরে যাওয়ার জন্য দায়ী আমরাই। তবে হ্যাঁ, বিচারকরা ভুল বিচার করেন নি। আমরা যত নম্বর প্রাপ্ত ছিলাম তা-ই পেয়েছি।



আমি পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ককে ভালোবাসি। তার কারণ, তারা সময়ের কাজ সময়ে করে এবং তারা প্রাপ্ত নম্বরই বিতার্কিকদের দেয়। সকল রীতি, নীতি সম্পর্কে অবগত। যখন কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাই, তখন বাড়ি ফেরার পথে শুধু কেঁদেছিলাম। এই হারটাকে মেনে নেয়া আমার জন্য ছিল কষ্টসাধ্য। সেদিন সারা রাত কেঁদেছিলাম। সান্ত্বনা দিলেও দুচোখ নীরবে কাঁদত। আমার বাবা আমাকে বুঝিয়েছিল হারকে মেনে নাও। ধৈর্য রাখ মা। আমি অনেক স্বপ্ন দেখি ফাইনালে বিতর্ক করার। তবে হারটাই সব স্বপ্নের অবসান ঘটায়। আমার মনে হয় জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলি। তখনই উপলব্ধি করি, আমি নিজের অজান্তে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি বিতর্ককে। বিতর্ক আমার আত্মার খোরাক, বিতর্ক আমার শিল্প। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর আমি অসুস্থ হয়ে যাই। তারপরও মনকে বোঝাই আমি অনেক ভালো বিতার্কিক হবো একদিন। বিতার্কিক রাবেয়া হিসেবে সারাদেশ আমাকে চিনবে। হঠাৎ একদিন আবু সালেহ ভাইয়া জানান, আমি একজন প্রতিশ্রুতিশীল বিতার্কিক, আমাকে পুরস্কার এবং সনদ দেয়া হবে। সামান্য কষ্টের লাঘব হয় সেদিন। আবার স্বপ্নের জাল বোনা শুরু হয় ৯ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক করার। আশা করছি বিতর্ক করবো, তবে কোনো প্রকার উৎসাহ পাচ্ছি না। কারণ আমি এসএসসি পরীক্ষার্থী। আমার মনে হয় না বিতর্ক আ মার ফলাফলের কোনো ক্ষতি করবে। আশার বীজ মনে যখন বুনেছি, তাই আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেই যাব ৯ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক করার। জীবনের কিছু বাস্তব উদাহরণ আজ আমাকে শিক্ষা দেয়। 'জীবন খেলনাও নয় জীবন ফেলনাও নয়'। জীবন একবারই, যেখানে থাকবে



'সুখ-দুঃখ'



'হাসি-কান্না'



'প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি'



'অর্জন-বিসর্জন'



'ভুল-শুদ্ধ'



এসব থেকেই আমরা শিক্ষা নিব। বিতর্ক অঙ্গনে জীবন নিয়ে যেসব বিতর্ক হয়, আমার অনুরোধ, বিতার্কিকরা তা শুনবে এবং বাস্তব জীবনে উপলব্ধি করবে। আমার জীবনের একটা ভুল থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছি এবং আজ উপলব্ধি করছি বাস্তবতাকে। আমি সকলের কাছে দোয়া চাচ্ছি। আল্লাহ যাতে আমাকে কোনো দিনও বিপথগামী না করে। বিতর্ককে ঘিরে থাকা স্বপ্নগুলো যেন বাস্তব হয়। আমি যেন নতুন নতুন বিতার্কিকের জন্ম দিতে পারি নিজের যোগ্যতা দিয়ে। পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক আমার জীবনকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই নিয়ে আমার ছোট্ট একটি কবিতা লেখা_



 



জীবনে যদি কোন কিছুকে এতটা ভালোবাসি



তবে তা বিতর্ক



কোন কিছুকে ঘিরে যদি আমার এত স্বপ্ন থাকে



তবে তা বিতর্ক



যদি কিছু না পাওয়ার কষ্টে এতটা কেঁদে থাকি



তবে তা বিতর্ক



যদি কোন কিছু অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি



তবে তা বিতর্ক



শুধু বিতর্ক-বিতর্ক-বিতর্ক



বিতর্ককে ঘিরে আমার অনেক স্বপ্ন



বিতর্ককে ঘিরে আমার আশা



শুধু বিতর্কের মাঝে লুকিয়ে আছে



আমার সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না



ভালোবাসি বিতর্ককে ভালোবাসি বিতার্কিকদের



ভালোবাসি বিতর্ক চর্চায় যারা শ্রম দিচ্ছে তাদের



আরও বেশি ভালোবাসি



কাজী শাহাদাত আঙ্কেলের বক্তব্যকে



আঙ্কেল তুমি সুবক্তা



তোমার বক্তব্য শুনে বিতর্ক অনুরাগী হওয়া



ভালোবাসি পীযূষ আঙ্কেলের বিতর্কায়নের প্রতিটি উপদেশ



ভালোবাসি মডারেটরের আসনে বসা সেই চেনা মুখগুলো



ভালোবাসি রাজন দের উত্তেজিত কণ্ঠে সেই ফলাফল ঘোষণা



ভালোবাসি বিচারকদের আসনে বসা সেই বিজ্ঞ বিচারকদের



ভালোবাসি প্রমিত উচ্চারণ করা সেই সামীম আঙ্কেলের বক্তব্যকে



ভালোবাসি বিতার্কিকদের বন্ধু সেই প্রবীর সাহাকে



বিতর্ক আমাকে শিখিয়েছে সুন্দর করে কথা বলা



বিতর্ক আমাকে শিখিয়েছে যুক্তি দিয়ে তর্ক করা



তাইতো বিতর্ককে ঘিরে আমার এত স্বপ্ন



বিতর্ককে ঘিরে আমার এত আশা



বিতর্কের জন্য আমার সকল ভালোবাসা



আমি কবি নই তারপরও বিতর্কের জন্য আজ



লিখেছি কবিতা।



অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি বিতর্ককে তাই



সব সময় বিতর্কের পাশে থাকতে চাই



বিতর্কের প্রতিটি যুক্তি জীবনে প্রয়োগ করতে চাই



কারণ আমি বিশ্বাস করি-



বিতর্ক করে যারা



অকালে ঝরে পড়ে না তারা।



গত বছর বিতর্কের হার না মেনে নেয়ার কষ্টে আমি যে অসুস্থ হযেছিলাম আর সেই ভয়ে আমার আব্বু-আম্মু আমাকে বিতর্ক করতে দিচ্ছে না। তবুও চেষ্টা করছি, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যাতে আমাকে ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা দেয়। যাতে আমার আব্বু-আম্মুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারি এবং নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি। এসএসসি পরীক্ষায় যাতে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারি। আর জীবনে যখন যেভাবে থাকি যেন আমার ভালোবাসার বিতর্ককে জয় করতে পারি। আমি চাই না অহঙ্কার শব্দটি আমার মনে বাসা বাঁধুক। জীবনের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমি যেন ভেবেই নিতে পারি। অতীতের ফেলে আসা দিনগুলোতে আর ফিরে যেতে চাই না। অতীতের সকল ভুল, দুঃখ বেদনাকে ভুলে গিয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। সবার মাঝে পরিচিত হতে চাই নতুন রাবেয়া নামে। যেই নামের পাশে সবসময় ছোট্ট একটি শব্দ যোগ করে বাঁচতে চাই-বিতার্কিক রাবেয়া। আমার আব্বুকে দেয়া কথা যেন আমি পূরণ করতে পারি। আমি আমার আব্বুকে বলেছিলাম, এসএসসিতে অনেক ভালো ফলাফল করব এবং কোনো দিনও ভুল, অসৎ, খারাপ পথে পা দিব না এবং অসৎ মানুষদের সাথে সঙ্গ দেব না। আমার পিতা একজন আদর্শ পিতা এবং আমার মা আমার ভালো বন্ধু। আর আমার ছোট্ট একটি ভাই-এই নিয়ে আমার পরিবার। জীবনের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমি যেন ভেবেই নিতে পারি। অতীতের ফেলে আসা দিনগুলোতে আর ফিরে যেতে চাই না। অতীতের সকল ভুল, দুঃখ, বেদনাকে ভুলে গিয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। সবার মাঝে পরিচিত হতে চাই। আমার আব্বু আমার সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করে এবং আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে বক্তব্য দিতে হয়। আমি এক সাধারণ বিতার্কিক। তারপরও সকল বিতার্কিককে উদ্দেশ্য করে দুটি কথা বলব_



* পাঠ্য বই হোক আর বিতর্কের মঞ্চের কোনো যুক্তি হোক নিজের জ্ঞানকে প্রসারিত করার জন্য সকল কিছু পড়া এবং বলার পাশাপাশি উপলব্ধি করার চেষ্টা। দেখবে আল্লাহর রহমতে নিজের কোনো বিপদ হবে না। আমি আগে ভাবতাম কেবল সম্মান এবং ভালো ফলাফলের জন্যই লেখাপড়া এবং বিতর্ক, তবে হ্যাঁ আজ বিশ্বাস করছি, যারা উপলব্ধি করার চেষ্টা করবে না তারা বাস্তবতার কাছে হেরে যাবে। * প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন আত্মসচেতনতা, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা। কেননা লেখাপড়ার পাশাপাশি আমরা বিতর্ক করছি-এটাই আল্লাহর বড় নিয়ামত। কারণ বিতর্কে যে আসে সে হারে না-এই বিশ্বাস রেখে তুমি মঞ্চে হেরে যাবে তাতে কী? বিতর্কের যুক্তিগুলো জীবনে প্রয়োগ করবে।



বিতর্কের জন্য লেখালেখি করতে বসলে আর থামতে ইচ্ছে হয় না। মনের সকল কথা লিখতে ইচ্ছে হয়। যাই হোক, তারপরও আজ থামতে হবে। সর্বশেষ একটি কথাই বলব, আমরা বিতার্কিক আমরা সত্যের পথে চলব, সত্য প্রতিষ্ঠিত করবো, অন্যায় করবো না, অন্যায় প্রশ্রয় দিব না। আল্লাহ যাতে আমাদের সহায় হোন। আমি আমার আব্বু-আম্মুর মুখে জীবনের সেরা হাসিটা ফুটিয়ে তুলতে চাই। আমার জন্য তারা যেমন কেঁদেছিলেন আমি যেন নিজের যোগ্যতায় তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। আমার স্বপ্ন আমি আইনজীবী হবো, ইকবাল-বিন-বাশার আঙ্কেলের মতো নামকরা আইনজীবী হবো এবং পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক যেন যুগ যুগ ধরে চলতে থাকে। আমি ইকবাল-বিন-বাশার আঙ্কেলের মতো পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ককে সাহায্য করব। সেই লক্ষ্যে পেঁঁৗছানোর জন্যই আমি এখন মানবিক বিভাগের ছাত্রী। অনেক বেশি শুভ কামনা রইল ৯ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ শুরু করার জন্য এবং সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য।



 



লেখক : রাবেয়া আক্তার, বিতার্কিক, রহিমানগর বি.এ.বি. উচ্চ বিদ্যালয়, কচুয়া।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৪৩৩৭
পুরোন সংখ্যা