চাঁদপুর। শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭। ৮ বৈশাখ ১৪২৪। ২৩ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ ভোরে অ্যাডঃ এ.বি.এম. মোনাওয়ার উল্লা মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্নালিল্লাহে.....রাজেউন)। তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর রোটারী ক্লাব ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৯২। আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন তিলাওয়াত করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসুরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্যে। আর কেহ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।   


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

একজন ভালো প্রশাসকই একজন ভালো রাজা হতে পারে।                      -মিচেল জিন। 


ধন দৌলত ফিরিয়া আসে এবং একটি শুধু কর্মই সঙ্গে থাকে।  


হাজীগঞ্জ এখন বিতর্কের চারণ ভূমি পরিচর্যার উত্তম সময়
কামরুজ্জামান টুটুল
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

৯ম বারের মতো জেলাব্যাপী শুরু হয়েছে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চলছে এই বিতর্ক। চাঁদপুর কন্ঠের প্রতিনিধি বা হাজীগঞ্জের ব্যুরো ইনচার্জ হিসেবে শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই বিতর্কের সাথে জড়িত রয়েছি। বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে হাজীগঞ্জে অনুষ্ঠিত প্রান্তিক পর্বের আয়োজনগুলো আমাকে এককভাবে করতে হয়। আর এ আয়োজন করতে গিয়ে প্রতি বছর বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করি। ঠিক প্রতিটি মানুষের চেহারার যেমনি তফাৎ রয়েছে, ঠিক তেমনি বিতর্কে অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় বা কলেজগুলোর কথা-কাজ আর চলনে-বলনে আলাদা রূপ আছে। এতো কিছুর পরেও পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক চলছে আর চলবে। গত ১৫ এপ্রিল হাজীগঞ্জে আয়োজিত প্রান্তিক পর্বে অংশগ্রহণকারী ২০ দলের অধিকাংশ বিতার্কিক যেন একেকটা বিতর্কের অগি্নস্ফুলিঙ্গ-এটা বিতর্কের বিচারক ও অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

হাজীগঞ্জে এবারে বেশ কিছু বিতার্কিক পাওয়া গেছে, যারা আসলেই বিতর্ক মঞ্চে যে কোনো বিষয়ে ঝড় তুলতে পারে। এই বিতার্কিকদেরকে নিয়ে হাজীগঞ্জে একটি কর্মশালা আয়োজনের জন্য সিকেডিএফ সভাপতি কাজী শাহাদাত অনুরোধ করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার আর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলী রেজা আশরাফীকে। এই অনুরোধে সাড়াও পাওয়া গেছে, যা আমাদের হাজীগঞ্জের বিতর্কের জন্যে সত্যিই আশার আলো সঞ্চার করেছে। এই সকল কর্মকর্তার সহযোগিতা পেলে অন্য সকল উপজেলা থেকে হাজীগঞ্জের বেশি দল পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়।

বিতর্কের জন্যে কাজ করতে গিয়ে বারবার ছুটে যেতে হয় উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ কিংবা মাদ্রাসা গুলোতে। হাজীগঞ্জে বিতর্কে অংশগ্রহণের জন্য মাদ্রাসাগুলোর আগ্রহ একেবারে কম। প্রতি বছর দু-একটি মাদ্রাসা পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কিন্তু এই দলগুলোকে সঠিক পরিচর্যা না করার কারণে অঙ্কুরেই হারিয়ে যায়। তবে সর্বসাকুল্যে মাদ্রাসাগুলো যেন বিতর্কে অংশ নেয় এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ সচেতন হলে মাদ্রাসার দলগুলো স্কুল-কলেজের বিতার্কিকদের সাথে সমান তালে চলতে পারে।

পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু অফিসিয়াল নিয়মের মধ্যে আসতে হয়। এর মধ্যে প্রথম শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে বিতর্কে অংশ গ্রহণের সম্মতিপত্র । এরপরেই প্রতিষ্ঠানের প্যাডে বিতর্ক দলের সদস্যদের নাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম দিয়ে তালিকা দেয়া এবং প্রান্তিক পর্বে জিতার পর পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া। প্রান্তিক পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি বিতার্কিকের জন্য পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে ফাইল-ফোল্ডার, ক্যাপ, কলম, প্যাড, টি শার্ট মিলিয়ে প্রায় ৩শ' টাকা খরচ করা হয়। এ জন্য কখনো কোনো অংশগ্রহণকারী দল বা প্রতিষ্ঠান থেকে নূ্যনতম ফি নেয়া হয় না।

হাজীগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠের বিতর্কে আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। অনেকে অধিক আগ্রহী হয় আবার অনেকে কৌশলী ভূমিকা নিয়ে দূরে থাকে। বিশেষ করে স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের দলগুলোকে ভালোভাবে তৈরি করে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে। অনেকে সম্মতিপত্র দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে দল পাঠায় না। দল না পাঠানো এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র সম্পর্কে বেশ জানা আছে। মজার ব্যাপার হলো, বিভিন্ন সংস্থার বৃত্তির জন্য ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো অজ্ঞাত কারণে ১শ' বা ২শ' টাকা করে শত শত ফরম বিক্রি করে থাকে আর বিতর্কে নাম দিয়ে দল পাঠাতে কৌশলে শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়।

পরিশেষে বলবো, হাজীগঞ্জ হচ্ছে এখন বিতর্কের চারণ ভূমি। এখানকার বিতার্কিকদের পরিচর্যা করার জন্যে প্রয়োজন উচ্চারণ ও বিতর্ক বিষয়ক কর্মশালা করা এবং বিভিন্ন উপলক্ষে বিতর্ক চর্চা অব্যাহত রাখা। আশা করি উপজেলা প্রশাসনসহ অন্য সকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসবে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৪৪৯
পুরোন সংখ্যা