চাঁদপুর। শনিবার ২০ মে ২০১৭। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ২৩ শাবান ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৯। মূসা যখন তাহার মেয়াদ পূর্ণ করিবার পর সপরিবারে যাত্রা করিল, তখন সে তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পাইল। সে তাহার পরিজনবর্গকে বলিল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখিয়াছি, সম্ভবত আমি সেথা হইতে তোমাদের জন্য খবর আনিতে পারি অথবা একখন্ড জ্বলন্ত কাষ্ঠ আনিতে পারি যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পার।’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


প্রকৃতি বিধাতার অমূল্য দান।


-টমাস ফুলার।

যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবেনা।


বিতর্কের বাচনভঙ্গি
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাচিক শিল্পের রকমফের আছে। আছে কিছু বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য। সব বাচিক শিল্প একই ধাঁচের নয়। আজকাল আধুনিক নৃত্যের নামে প্রতিবন্ধী ধরণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনায় উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে মঞ্চ মাতানোর কৌশল তৈরি হয়েছে। এই কৌশলে দেখা যায় গান বা বাজনা যাই হোক না কেন, অঙ্গ সঞ্চালনা একই রকমের। পরপর তিনটি এমন ধরণের আধুনিক নৃত্য দেখলেই বুঝা যায়, মুদ্রার বা ভঙ্গির তেমন কোনো ভেদ নেই। অনেকটা পথ চলতি হোটেলগুলোর মাছের ঝোলের মতো। একই ঝোলের পাত্রে রুই, ইলিশ, কৈ, কাতল চুবানো থাকে। খদ্দেরদের চাহিদায় ভিন্ন ভিন্ন মাছের টুকরা আর গণঝোল পরিবেশন করা হয়। বাচিক শিল্প কিন্তু কণ্ঠনির্ভর হলেও পথ চলতি হোটেলের মাছের ঝোল বা আধুনিক উচ্চনাদী বাজনার সাথে নৃত্য নয়। এতে বাচনভঙ্গি ও পরিবেশনার অনেক পার্থক্য আছে।



উপস্থাপন ও সঞ্চালনা শৈলীতে প্রয়োজন হয় এক ধরণের কণ্ঠ। মূলত এই কণ্ঠ ও বাচিকতা আহ্বানের সুরে ধ্বনিত হয়। সংবাদ পাঠে কণ্ঠ সবসময় একই টোনে থাকতে হয়। নাট্য সংলাপে চরিত্রানুগ বাচিক শৈলী দেখাতে হয়। আবৃত্তিতে কবিতার ভেতরের রসকে বা ভাবকে আত্মস্থ করে সেই আবেদন ফুটিয়ে তুলতে হয়। বক্তব্যের ক্ষেত্রে শ্রোতা ও উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বক্তব্যে বাচিক শৈলী প্রদর্শন করতে হয়। বিতর্কের ক্ষেত্রে বাচনভঙ্গিতে অনন্য বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে হয়।



একজন বিতার্কিকের যুক্তি প্রদানকারী বক্তব্য যাতে সহজেই বিচারককে শুনতে ও হৃদয়ঙ্গম করতে উদ্বুদ্ধ করে সে জন্যে বিতার্কিকের কণ্ঠশীলন অত্যন্ত জরুরি। বক্তার কণ্ঠ হবে শ্রুতিসুখ দানকারী এবং মধুর। ভরাট হবে তার আওয়াজ। বক্তব্যের আবেগ ও চাহিদানুযায়ী কণ্ঠের উঠতি-পড়তি ঘটাতে হয়। একঘেঁয়েমি যাতে তৈরি না হয় সে জন্যে কিছুটা নাটকীয়তাও প্রয়োজনবোধে তৈরি করতে হয়। তথ্য ও তত্ত্ব প্রদানকালে যে টোন থাকে কণ্ঠের, প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা বা যুক্তিখ-নে খোঁচা দেয়ার সময় সেই টোন বজায় রাখা যায় না। আবার সম্বোধন করার সময় যে টোন, প্রস্তাবনার ব্যবচ্ছেদকালে সেই টোন বজায় রাখা যায় না। শব্দ প্রক্ষেপণের গতিও সর্বদা একই রাখার জো নেই। কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলো ধীরে আস্তে উচ্চারণ করতে হয়। কিছু কিছু শব্দ দ্রুত উচ্চারণ করলেও অসুবিধা নেই। বিচারকের দৃষ্টিতে যখনি মনে হবে বিতার্কিকের বাচনভঙ্গিটি নান্দনিক ও অনন্য, তখনি তার প্রতি তৈরি হবে সমীহ ও অখ- মনোযোগ। এতে নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশ্রয় তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ব্যবধান রচনা করে।



কেবল স্ক্রিপ্ট দেখে বলাটা বিতর্কে সমীচীন নয়। এতে বিতার্কিকের বাচনভঙ্গিও ভালোভাবে ফুটে উঠে না। স্ক্রিপ্ট দেখে বলতে গেলে তা রিডিং পড়া বা গবেষণা জার্নাল পাঠের মতো শোনা যায়। এটা বিতর্কের পর্যায়েও পড়ে না। তাই নিজস্ব বাচনভঙ্গি তৈরি করতে হলে স্ক্রিপ্ট আত্মস্থ করা চাই। নিজের বক্তব্য যদি নিজেই হৃদয়ঙ্গম বা আত্মস্থ করতে না পারি তবে তা অন্যের মরমে স্পর্শ করার যোগ্যতা অর্জন করে না। বাচনভঙ্গি তৈরি করতে হলে বার বার আয়নার সামনে অনুশীলন করতে হবে। চোখের দৃষ্টি কখনো শ্রোতা, কখনো বিচারক আর কখনো বা প্রতিপক্ষ দলের প্রতি নিবদ্ধ রাখতে হয়। কথার ভাব মোতাবেক মুখে হাসি বা গাম্ভীর্য এনে নিজের যুক্তি প্রক্ষেপন করতে হয়। ব্যক্তির বাচনভঙ্গি কেবল তার কণ্ঠস্বরের উপরই যে নির্ভর করে তা নয়। শারীরিক ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজও বাচনভঙ্গি তৈরিতে সহযোগিতা করে। বাচন ভঙ্গিতে কখনো প্রশ্নাত্মক, কখনো বিস্ময়াত্মক আর কখনো বা হাস্যাত্মক শারীরিক ভাষা তৈরি করতে পারা জরুরি। বাচন ভঙ্গিকে উপযুক্তভাবে দৃঢ়তা প্রদান করে বিতার্কিকের শিষ্টাচার। শিষ্টাচার এমন একটি বিষয় যা দ্বারা কাউকে যেমন সম্মান প্রদর্শন করা যায় তেমনি কাউকে ঘায়েল করা বা খোঁচা দেয়ার ক্ষেত্রেও শিষ্টাচার একটি কার্যকর অস্ত্র। ব্যক্তির বাচনভঙ্গির মূল শক্তি তার প্রায়োগিক সক্ষমতায়। কতটুকু প্রাবল্যের শব্দ উৎপাদন করতে হবে, কখন কণ্ঠস্বরকে তরঙ্গায়িত করতে হবে কিংবা কখন কণ্ঠে নম্রতা আনয়ন জরুরি তা বুঝতে পারাটা বিতার্কিকের অন্তর্গত গুণাবলির মধ্যে পড়ে। কেউ কাউকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাচন ভঙ্গি শিখতে পারে না। বাচন ভঙ্গি মূলত আত্মগত প্রজ্ঞা ও চর্চা দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।



যদিও বক্তার বক্তব্যে বাচনভঙ্গির জন্যে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে, তবুও এটি বিচারকের বিচারকার্যের স্তর নির্ধারণ করে দেয়। বাচনভঙ্গি হতেই বিচারকের অবচেতন মনে নির্ধারিত হয়ে যায় বক্তা কি উঁচুমানের না গড়মানের। যদিও বিতর্ক যুক্তিনির্ভর বাচিক শিল্প তবুও এতে পরিবেশনার ব্যাপারটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেউ খুব দ্রুত বেগে না থেমে বলে গেলে যেমন বিতর্ক হয় না, তেমনি থেমে থেমে আটকাতে আটকাতে বলাটাও বিতর্কের মূলধারা নয়। বিতর্ক হবে স্বতঃস্ফূর্ত প্রদর্শনীয় এবং আত্মোপলব্ধিজাত। তাই এতে নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বাচনভঙ্গি থাকাটা জরুরি। একই কথা বলার ঢংয়ের উপর নির্ভর করেই কেউ অনুকম্পা পায় আর কেউ দ- পায়। সুতরাং একজন আদর্শ ও সাফল্য অর্জনকারী বিতার্কিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে নিজের স্বতন্ত্র বাচনভঙ্গিতে সহজাত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়া জরুরি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৭৭৭৪
পুরোন সংখ্যা