চাঁদপুর। বুধবার ২৪ মে ২০১৭। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ২৭ শাবান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৩। মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো উহাদের একজনকে হত্যা করিয়াছি। ফলে আমি আশংকা করিতেছি উহারা আমাকে হত্যা করিবে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


নম্রতা-ভদ্রতা গুন দু’টি মানুষের জীবনের পুরাতন ঐশ্বর্য।          -জন স্টুয়ার্ড মিল।


 


 

ধন থাকিলেই ধনী হয় না। ওই ব্যাক্তিই প্রকৃত ধনী যাহার হৃদয় প্রশস্ত।


বিতর্ক সংগঠক সাক্ষাৎকার-৬
বিতর্ক যেন রক্তের সাথে মিশে গেছে : রেদওয়ান আহমেদ জাকির
বিতর্কায়ন প্রতিবেদন
২৪ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রেদওয়ান আহমেদ জাকির, মতলব ব্যুরো ইনচার্জ, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ ও সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন, মতলব দক্ষিণ। বিতর্কের জন্যে অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। আন্তরিকতার সবটুকুন ঢেলে দিয়ে তিনি তার উপজেলায় পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রান্তিক পর্ব আয়োজন করে থাকেন। কিছুটা আবেগপ্রবণ তিনি। বিতর্কায়নের সাথে কথা বলতে গিয়ে অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবে তিনি তার আবেগের আত্যন্তিক বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। নিম্নে তুলে ধরা হলো তার সাক্ষাৎকার :-



বিতর্কায়ন : পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার এ আয়োজনে আপনি কি উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত না বিরক্ত?



রেদওয়ান আহমেদ জাকির : পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহবোধ করছি। বিতর্ক প্রতিযোগিতা আমার কাছে খুবই ভাল লাগে। প্রতি বছর বিতর্ক প্রতিযোগিতা কবে শুরু হবে সেই প্রতীক্ষায় থাকি। যদিও প্রথমে বিরক্তিকর মনে হয়েছে। কিন্তু এখন বিতর্ক না হলে মনে হয় এ বছরে কিছু একটা হয়নি। মনে হয় বিতর্ক যেন রক্তের সাথে মিশে গেছে।



পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যার উৎসাহ, উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছি, যার জন্য চাঁদপুর কণ্ঠ বির্তক প্রতিযোগিতার সংস্পর্শে এসে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, যার সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতা আমাকে মুগ্ধ করেছে তিনি হলেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও সিকেডিএফ সভাপতি রোটাঃ কাজী শাহাদাত। বর্তমানে চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে যে সম্পৃক্ততা রয়েছে, বিতর্কের স্বার্থে এ সম্পর্ক সবসময় অটুট থাকুক। বিতর্ক প্রতিযোগিতা সবচেয়ে ভালো লাগে। কারণ মতলব দক্ষিণ উপজেলায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল মেধা বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সে সাথে আমি চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের সাথে সম্পৃক্ততায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। আরো ভালো লাগে, যখন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ বলেন, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন না করলে হয়তো গ্রামাঞ্চল থেকে এসে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে আমরা নিজেদের জানার পরিধি, জ্ঞানের ভা-ার সমৃদ্ধ করতে পারতাম না। অন্য দিকে অনেকের সামনে নিজে কিছু বলার দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টিও থেকে যেত আড়ালে। কিন্তু পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ আমাদেরকে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যতের একটি সোপানে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে বলে আমরা মনে করি।



বিতর্কায়ন : একটি পত্রিকা প্রকাশনার বাইরে জেলা পর্যায়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত বলে আপনি মনে করেন?



রেদওয়ান আহমেদ জাকির : সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের, যাদের কণ্ঠস্বর সমাজের উঁচু শ্রেণির দরবারে পেঁৗছায় না, যারা সমাজে শোষিত ও নিপীড়িত, তাদের প্রতিবাদের ভাষা ও বলার অধিকারের স্থান হলো মফস্বল পর্যায়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা ও পত্রিকা সংশ্লিষ্টজন। এক্ষেত্রে পত্রিকা প্রকাশনার গতিপথ যেমন আমার কাছে ভিন্ন মনে হয় তেমনি বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিশাল কর্মসূচি পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ হাতে নিয়ে আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজকে বদলে দিয়েছে বলে আমি মনে করি। এটা যেমন একটি ভাল দিক, অন্য দিকে বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অজানাকে জানার যে স্পৃহা শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে তা আগামীতে শিক্ষার্থীদের জীবনে ভাল ফলাফল বয়ে আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।



বিতর্কায়ন : সহযোগী পত্রিকা, সমাজসেবক ও সমাজের সুধীবৃন্দ এ আয়োজনকে কোন্ দৃষ্টিতে দেখছেন বলে মনে করেন?



রেদওয়ান আহমেদ জাকির : চাঁদপুর জেলা তথা সমগ্র বাংলাদেশে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা একটি মডেল। আমার জানা মতে, বাংলাদেশের কোথাও এত দীর্ঘ বছর একনাগাড়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়নি। আমাদের সহযোগী পত্রিকাগুলো বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম আমাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। এ বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে উপস্থিত থাকার জন্য মুঠোফোনে কথা বলে সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তারা সকলে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এবং চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদক আলহাজ্ব অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার ও প্রধান সম্পাদক রোটাঃ কাজী শাহাদাতকে তারা অভিনন্দনও জানিয়েছেন। এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা যাতে বন্ধ না হয়, চলমান থাকে এ জন্য তারা সহযোগিতা করারও আশ্বাস প্রদান করেছেন। এ বিশাল কর্মযজ্ঞের মহান কারিগর চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক, সাহিত্য একাডেমীর মহাপরিচালক ও চাঁদপুরের সাংবাদিকদের পথিকৃৎ রোটাঃ কাজী শাহাদাত সাহেব প্রায় এক দশক ধরে গ্রামীণ জনপদ চষে বেড়িয়ে এ বিতর্ক আন্দোলনকে যে বেগবান করেছেন তার জন্যও সমাজের সুধীজন তাকে আলাদা আলাদাভাবে অভিবাদন জানিয়েছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি রোটাঃ কাজী শাহাদাত সাহেব চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিতর্ক প্রতিযোগিতার শুরু ও অদ্যাবধি চলমান রেখে তাদের মনে যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছেন তার জন্যে সব শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আগামী অনেক বছর তার কথা হৃদয়ে ধারণ করবে।



বিতর্কায়ন : আপনি কি চান আপনার উপজেলার কোনো স্কুল বা কলেজ এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হোক? রোটারী ক্লাব অব মতলবের চার্টার প্রেসিডেন্ট যে প্রশিক্ষণের কথা বলেছিলেন সে ব্যাপারে আপনি কতটুকু চেষ্টা চালিয়েছেন?



রেদওয়ান আহমেদ জাকির : মতলব দক্ষিণ উপজেলায় দীর্ঘ বছর ধরে চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে কাজ করেছি। এর মধ্যে বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের আন্তরিকতা বিদ্যমান রয়েছে। প্রধান শিক্ষকগণ ও অধ্যক্ষবৃন্দ তাদের চাকুরিকালীন সময়ে চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সাথে থাকার বিষয়ে একত্মতা ঘোষণা করেছেন। গত কয়েক বছর পূর্বে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কলেজ পর্যায়ে 'মতলব ডিগ্রি কলেজ' চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে 'স্কুল পর্যায়' ও 'কলেজ পর্যায়ে' যে কোন স্কুল এবং কলেজ চ্যাম্পিয়ন হোক। যাতে আমাদের এ মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিতর্কের একটি উর্বর ভূমি হিসেবে জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, মতলব জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শিক্ষাবিদ মরহুম ওয়ালী উল্যাহ পাটোয়ারীর সময়ে এ মতলব এক সময় এলেমগঞ্জ নামে পরিচিত ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত খুশি হবো, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার উৎসাহে একটু হলেও এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অবদান রাখবে। কেননা, তারা লেখাপড়ায় মনোযোগী হলে মতলবের হারানো ঐতিহ্য যেমন ফিরো পাবো, তেমনি এ বিতর্ক আন্দোলনে মতলবের এ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভাল ফলাফলের সুযোগ সৃষ্টি হবে।



রোটারী ক্লাব অব মতলবের চার্টার প্রেসিডেন্ট রোটাঃ ডাঃ এ.কে.এম. মাহাবুবুর রহমানের সাথে বিতর্ক প্রশিক্ষণের ব্যাপারে কথা হয়েছে। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের সভাপতি রোটাঃ কাজী শাহাদাত ও সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে'র সাথে কথা বলে দিন-তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার যে সকল শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে চায় তাদের সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চেয়েছেন। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র ও সার্বিক সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন।



বিতর্কায়ন : এ প্রতিযোগিতার উন্নয়ন ও এ প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী করতে আপনার বক্তব্য কী?



রেদওয়ান আহমেদ জাকির : পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ধারা যুগ যুগ ধরে অব্যাহত থাকুক। শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্কের অংশগ্রহণের তাগিদে তাদের যে প্রচেষ্টাটুকু থাকবে তা বিনির্মাণে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক মঞ্চ আগামী বছরগুলোতে সমান তালে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর শিক্ষার যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি দিনে দিনে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীর মানোন্নয়ন ঘটবে। আমি চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের কাছে প্রত্যাশা করি, এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা যাতে কখনও বন্ধ না হয়। এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার উন্নয়ন ও দীর্ঘস্থায়িত্বে আমার সকল ধরনের প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সামনের বছরগুলোতে বিতর্কের নূতন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আবার উপজেলা ও জেলায় সমাগম ঘটবে, শিক্ষার্থীদের প্রাণের অফুরান উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসিত হবে এ চিন্তা-চেতনায় মনোনিবেশ করে আগামী বছরের বিতর্কের অপেক্ষায় রইলাম।



সিকেডিএফ-এর উপদেষ্টা ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি, 'যে আসে বিতর্কে সে হারে না।' বিতর্কের জয় হোক। সবাইকে ধন্যবাদ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৫১১৮
পুরোন সংখ্যা