চাঁদপুর। বুধবার ২৪ মে ২০১৭। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ২৭ শাবান ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৩। মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো উহাদের একজনকে হত্যা করিয়াছি। ফলে আমি আশংকা করিতেছি উহারা আমাকে হত্যা করিবে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


নম্রতা-ভদ্রতা গুন দু’টি মানুষের জীবনের পুরাতন ঐশ্বর্য।          -জন স্টুয়ার্ড মিল।


 


 

ধন থাকিলেই ধনী হয় না। ওই ব্যাক্তিই প্রকৃত ধনী যাহার হৃদয় প্রশস্ত।


বিতর্কে তথ্য উপস্থাপন
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৪ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিতর্ক হচ্ছে যুক্তিপ্রধান বাচিক শিল্প। নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করতে যুক্তিই প্রধান হাতিয়ার। বিতর্ক এই যুক্তির ব্যবহারকে হাতিয়ারে পরিণত করে। হাতিয়ার হলো কর্ম সম্পাদনের যন্ত্র। যুক্তিকে হাতিয়ারে পরিণত করতে চাই উপযুক্ত তথ্য। সঠিক ও মান সম্মত উপযুক্ত তথ্যই বক্তার যুক্তিকে হাতিয়ার বানায়। তথ্য হচ্ছে বিবিধ উপাত্তকে প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিচার-বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই-এর পর প্রাপ্ত ফলাফল। তথ্য ব্যক্তির মস্তিষ্কে অধিষ্ঠান গ্রহণ করে ব্যক্তির জ্ঞান বৃদ্ধি করে। ব্যক্তির এই জ্ঞানই ফলিতভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তিতে পরিণত হয়। মানসম্মত তথ্য অকাট্য যুক্তির পূর্ব শর্ত।



বিতর্কে তথ্যের ব্যবহার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো তথ্য ব্যবহৃত হলে তার উৎস উল্লেখ করা জরুরি। তথ্যে উপাত্তের পরিমাণ অধিক না হলেই ভালো। কেননা শুধুমাত্র সাংখ্যিক উপাত্ত বক্তব্যকে নিরস ও শুষ্ক করে তোলে। তথ্যকে হুবহু তুলে না ধরে যথার্থতা বজায় রেখে নিজ ভাষ্যে বক্তব্যে আত্মীকরণ করা উচিত। অতিদীর্ঘ তথ্য ধৈর্যচ্যুতি ঘটায়। তথ্য হবে নাতিদীর্ঘ, যথা উপাত্ত সমৃদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট উৎস হতে পাওয়া। কিছু তথ্য যুক্তিতে ব্যবহার করে কিছু তথ্য সহায়ক হিসেবে পরবর্তীতে যুক্তিখ-নের বিপরীতে উপস্থাপনের জন্যে সংরক্ষণ করা জরুরি। তথ্য যাতে কেবল সংখ্যা মাত্র না হয়। তথ্যের যেন প্রাণ থাকে। তথ্যের ধারাবাহিকতা পরবর্তী বক্তার মধ্যে বজায় রাখতে হবে।



বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তত্ত্ব ও তথ্যের জন্যে দশ পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে। কাজেই বক্তা তার বক্তব্যে যথেষ্ট তথ্য ব্যবহার করে যুক্তি নির্মাণ করতে হয়। সর্বদা গাণিতিক তথ্য বা পরিসংখ্যানই ব্যবহার করতে হবে তা নয়। তথ্যে কোনো উদ্ধৃতি বা উক্তিও ব্যবহার করা যেতে পারে। কোন্ প্রস্তাবনায় কী তথ্য ব্যবহার করতে হবে তা বিতার্কিক নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।



তথ্য ব্যবহারের কতিপয় উদাহরণ



* কোনে যুদ্ধই শান্তির জন্যে নয়।



এই প্রস্তাবনার বিপক্ষে বক্তার যুক্তিতে তথ্য উপস্থাপন হতে পারে এ রকম :-গীতার সূত্রে পাই, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো শান্তি ও ধর্ম সংস্থাপনায়। চিকিৎসা বিজ্ঞান সূত্রে পাই, যমে-মানুষের টানাটানির যুদ্ধে চিকিৎসক লড়াই করেন রোগীকে আরোগ্য করে তোলার জন্যে। দেহের অনুপ্রবিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে দেহের শ্বেত কণিকাগুলোর যে লড়াই বা যুদ্ধ তাতে জীবন বাঁচে, পরিণামে ধ্বংস হয় জীবাণু। তেমনি পশ্চিম পাকিস্তানীদের অত্যাচার হতে বাঁচার জন্যেই আমরা লড়েছি মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের দলিল আমাদের সেই তথ্যই দেয়।



* দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ পদ্ধতি অকার্যকর



এই প্রস্তাবনার পক্ষে তথ্য উপস্থাপনের নমুনা নিম্নে দেয়া হলো :-



প্রিয় প্রতিপক্ষ দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঋণ যে অকার্যকর তার কিছু চিত্র তুলে ধরি। অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকু্জ্জামান ২০০৬ সালে দুই হাজার পাঁচশ' একজন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতার উপর গবেষণা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ঋণ গ্রহীতার ৯৯% নারী যারা কোনো উৎপাদনশীল কর্মে জড়িত নয়। ৯৬% ঋণ গ্রহীতা বলেছেন, এক সপ্তাহ পর ঋণ কিস্তি পরিশোধে তারা চাপ অনুভব করেন। ৯০% নারী তাদের ঋণের টাকা পুত্র বা স্বামীর হাতে তুলে দেন, যাদের আয়ের কোনো উন্নতি ঘটে নি। সুতরাং এ থেকে এ কথা পরিষ্কার, ক্ষুদ্র ঋণ পদ্ধতি দ্বারা বাজার অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটলেও দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়।



কাজেই উপরোক্ত আলোচনা হতে এ কথা পরিষ্কার, বিতর্কে তথ্য উপস্থাপন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যকীয় বিষয় এবং তথ্য বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়। ব্যবহৃত তথ্যের গুণগত মানই বক্তার বক্তব্যকে দৃঢ়তা দেয়, যুক্তিকে অকাট্য করে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৯৫৬৭৬
পুরোন সংখ্যা