চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল ২০১৮। ৪ বৈশাখ ১৪২৫। ২৯ রজব ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭- সূরা আস-সাফফাত


১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩২। আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম।


৩৩। তারা সবাই সেদিন শান্তিতে শরীক হবে।


৩৪। অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।


৩৫। তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


উৎকৃষ্ট বীজ থেকেই উত্তম বৃক্ষ জন্ম নেয়।


-জনগে।


 


 


 


 


পিতার আনন্দে খোদার আনন্দ এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি


 


 


ফটো গ্যালারি
বিতার্কিকের বিচক্ষণতা
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানুষের জীবনে 'বিচক্ষণতা' বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কী সমাজ-জীবন, কী রাষ্ট্রীয় জীবন-জীবনের সকল ক্ষেত্রেই বিচক্ষণতা একটি অপরিহার্য অঙ্গ। বিচক্ষণতা ব্যতিরেকে ব্যক্তির পক্ষে সার্থক হতে পারাটা হার্কিউলিসের কাজের চেয়েও কঠিন। এই বিচক্ষণতা কোনো পাঠ্য হতে তৈরি হয় না। এই বিচক্ষণতা কোনো গুরুর পাঠশালায় নির্মিত হয় না কিংবা এই বিচক্ষণতা কোনো সনদের দ্বারা সুলভ নয়। কেবলমাত্র নিরন্তর চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমেই বিচক্ষণতার নির্মাণ ঘটে। বিতর্ক একটি নান্দনিক শিল্প মাধ্যম, যার চর্চায় বিচক্ষণতার উন্মেষ ও বিকাশ ঘটে।



 



বিতর্কের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অনুকূল প্রপঞ্চ তৈরি করতে হলে বিচক্ষণতার সাথে প্রত্যয়সমূহের সংজ্ঞায়ন করা জরুরি। সংজ্ঞাসমূহের ঠিক কতটুকু বিস্তার করতে হবে কিংবা বিশ্লেষণকে কতটুকু বিস্তার দিতে হবে তা নির্ধারণ করতে বিচক্ষণতার ভূমিকা অপরিহার্য। শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সঠিক শব্দ নির্বাচন করতে হলে বিচক্ষণতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। এমন শব্দ আমাদের নির্বাচন করতে হয় যা দ্বারা সঠিক কথাটি সঠিক মাত্রায় বেজে উঠে এবং প্রমিত ও শিষ্ট প্রয়োগসম্পন্ন হয়। বিষয়বস্তুতে বিদ্যমান কথার প্যাঁচকে খুলতে হলে বিচক্ষণতা জরুরি। নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ ও বিতর্কের রণকৌশল তৈরি করতে হলে বিচক্ষণতার জুড়ি নেই। একটি বিতর্কে সমগ্র বিষয়বস্তু নিয়ে দ্বিমত করার প্রয়োজন নেই। প্রস্তাবনার অংশবিশেষ নিয়েই বিতর্ক হতে পারে। কোন্ অংশটুকু ধরে বিতর্ক করলে রণকৌশল সহজ হয়



তা পরিমাপ করতে হলে বিতার্কিককে বিচক্ষণ হতে হয়।



 



বিতর্কে যুক্তি প্রদর্শনের বিষয়টি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। কোন্ যুক্তিটি অকাট্য, কোন্ যুক্তিটি নিজেদের জন্যে বুমেরাং হবে তা বুঝে নেওয়া জরুরি। আরো জরুরি হলো সমৃদ্ধ যুক্তিটি বেছে নেওয়া। যুক্তির ডালি হতে সতেজ ও প্রাঞ্জল যুক্তিটি বেছে নিতে না পারলে বিতর্কের মঞ্চে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যায়। যুক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তথ্য ও তত্ত্ব প্রয়োগে অধিক পরিশীলিত হওয়া প্রয়োজন। পরিশীলিত তথ্য ব্যতীত যুক্তি শক্তিমান হয় না। এক্ষেত্রে উপযুক্ত তথ্য ও তত্ত্ব বাছাইকরণে বিচক্ষণতার প্রয়োজন দেখা দেয়।



 



কেবল যুক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রেই নয়, যুক্তিখ-ন করার ক্ষেত্রেও বিচক্ষণতার প্রয়োজন হয়। প্রতিপক্ষের সব যুক্তি খ-নযোগ্য নয়। সব যুক্তি খ-াতে হয়ও না। কোন্ যুক্তিটি খ-ালে প্রতিপক্ষ কোনো সুবিধা পাবে না কিংবা কোন্ যুক্তি খ-ালে প্রতিপক্ষের জন্যে চাপ হয়ে যাবে তা নির্বাচন করতে হলে দরকার বিচক্ষণতা। এমনকি, দলনেতার বক্তব্যে সমাধান দেয়ার প্রয়োজন হলে তাতেও বিচক্ষণতার দরকার হয়। বিচক্ষণতার মাধ্যমে নির্বাচিত সমাধানে পূর্ণাঙ্গ বিধান বিধৃত থাকে। কাজেই বিচক্ষণতার কোনো বিকল্প নেই।



 



বিতর্ক কেবল নিছক একটি বাচিক শিল্প নয়। এর মাধ্যমে জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে আনা হয়। বিতর্কের প্রয়োজনই হলো সমস্যার সমাধানকল্পে বিবাদ ও বিসংবাদ নিরসন। কাজেই এক্ষেত্রে বিচক্ষণতাই মূল হাতিয়ার। বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ হতে শুরু করে সমাধান দেওয়া অব্দি বিচক্ষণ বিতার্কিকই এগিয়ে থাকে সর্বদা। তাই একজন বিতার্কিক যতটা না বাচিক শিল্পী, তার অধিক একজন বিচক্ষণ যুক্তিধারী।



 



লেখক : অধ্যক্ষ, চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি; উপদেষ্টা, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬০৩১৯
পুরোন সংখ্যা