চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল ২০১৮। ৪ বৈশাখ ১৪২৫। ২৯ রজব ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭- সূরা আস-সাফফাত


১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩২। আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম।


৩৩। তারা সবাই সেদিন শান্তিতে শরীক হবে।


৩৪। অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।


৩৫। তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


উৎকৃষ্ট বীজ থেকেই উত্তম বৃক্ষ জন্ম নেয়।


-জনগে।


 


 


 


 


পিতার আনন্দে খোদার আনন্দ এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি


 


 


ফটো গ্যালারি
মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে সবার আগে প্রয়োজন সাহস
প্রবীর চক্রবর্তী
১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সময়কাল সম্ভবত ১৯৯৬ বা ১৯৯৭ সালের হবে। চাঁদপুর কণ্ঠে লেখালেখির কারণে উপজেলার প্রশাসনিক পর্যায়ে একটু একটু সম্পর্ক তৈরি হচ্ছিল। পত্রিকাটির নানা সংবাদ সংগ্রহে অথবা তথ্য সংগ্রহের জন্য যেতে হতো উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) শশাংক শেখর ভৌমিকের কাছে। সেহেতু সংবাদকর্মী হিসেবে জাতীয় একটি অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পাই। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সন্ধ্যার পর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বেশ ক'জন বক্তা বক্তব্য রাখেন। হঠাৎ করেই মঞ্চ থেকে আমার নাম ঘোষণা করা হয় বক্তব্য রাখার জন্যে। আমি রীতিমত হতভম্ভ। হাত-পা কাঁপা শুরু হয়েছে, আমি বক্তব্য দেব! অসম্ভব!! জীবনে কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাইনি। শুধু পড়ালেখা ও লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। হয়ত শখের বসে সংবাদকর্মী হিসেবে নাম লিখিয়েছি। তাই বলে এতগুলো লোকের সামনে, তাও একটি বিশেষ দিবস বা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কথা বলতে হবে, তা কল্পনাতীত। আমি বারংবার নিষেধ করছিলাম।



এমন সময় এসিল্যান্ড সাহেব এগিয়ে আসলেন, অভয় দিলেন এবং বললেন, মঞ্চে যান। ভয় না পেয়ে প্রয়োজনে চোখ বন্ধ করে আজকের অনুষ্ঠান নিয়ে আপনি যা খুশি তাই বলুন। আমরা আপনাকে কিছু না বললেই তো হবে।



তাঁর কথায় বুকে সাহস নিয়ে মঞ্চে উঠলাম। চোখ বন্ধ করে নয়, চোখ খুলেই সম্ভবত ২মিনিট কিছু একটা বললাম। পরে দেখলাম দর্শক সারি থেকে উৎসাহ দিতে হাততালি পড়লো। সেই থেকে শুরু । তবে এখনো বক্তব্য দিতে উঠলে ভয় লাগে। যদি তালগোল পাকিয়ে ফেলি। হালে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ হয় না।



যে জন্যে এতো কথা বলা। পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বির্তক প্রতিযোগিতাটি দেখতে দেখতে আজ ১০ বছরে পা দিলো। প্রথম প্রথম আমি ভাবতাম, কীভাবে সম্ভব এতো সুন্দরভাবে কথা বলা। ১ম বছর থেকে শুরু করে যতোই এর সাথে জড়িয়েছি, ততই যেন মুগ্ধ হয়েছি স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাচনভঙ্গি দেখে। কীভাবে তারা যুক্তিগুলো কোনো জড়তা ছাড়াই উপস্থাপন করে চলছে। কেউ কেউ তাদের কথার যাদু দিয়ে মোহিত করছে সকলকে। উদহারণতো অভাব নেই, আমার সস্নেহের রাসেল হাসানতো এর জন্যে একটি বড় ক্যানভাস। যে আবার কৃতী বিতার্কিক হিসেবে আজ ১৭ এপ্রিল ২০১৮ ১০ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ের প্রান্তিক পর্বের উদ্বোধক।



আজ এই এত বছর ধরে এই কাজটি করতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়, একজন সফল বিতার্কিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মেধার পাশাপাশি নিয়মিত চর্চার প্রয়োজন। সাথে অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের আগ্রহ। কারণ এমন অনেক প্রতিষ্ঠান দেখেছি, শিক্ষার্র্থীদের আগ্রহ থাকলেও শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক বা অন্য শিক্ষকদের অনাগ্রহের কারণে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে সমর্থ হয়নি। গত ৯ বছরে কাজ করতে গিয়ে অনেক সুখের এবং বিড়ম্ভনার শিকার হতে হয়েছে। এমন কা-ও ঘটেছে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোনো সহযোগিতা করেনি, কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের অর্থ ব্যয় করে বিতর্কে অংশ নিয়েছে, নিজেরা লাভবান হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন করেছে।



দশ বছরে এ বাচিক শিল্পটির পদার্পণে বলতে ইচ্ছে করে, আমরা তথা চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবার যে উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, তা সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। ফরিদগঞ্জ এ আর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তবে আমরা চাচ্ছি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধার উন্মেষ ঘটাতে ফরিদগঞ্জসহ জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি সপ্তাহে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা অনুষ্ঠানের আয়োজন।



আজ যারা নতুন করে এই আয়োজনের মাধ্যমে বির্তক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে তাদের কাছে আমার লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, মঞ্চে তথা মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে সবার আগে প্রয়োজন মনের সাহস। তাহলে আস্তে আস্তে সকল কিছু্ই আয়ত্ত করা সম্ভব । তাই এই কথা নির্ধিদ্বায় বলতে পারি, বির্তক শুধু কথা বলতে শেখায় না, জানার জগৎটাকে আরো বিস্তৃত করে এবং মনে সাহসের সঞ্চার করে। যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্যে আশীর্বাদ স্বরূপ। পরিশেষে চাঁদপুরের বিতর্কের প্রাণপুরুষ কাজী শাহাদাত ভাই, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ শিক্ষকম-লী এবং এবারসহ দশটি বছর বির্তক প্রতিযোগিতা আয়োজনে যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, চাঁদপুর কণ্ঠের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত আমার সহযোদ্ধা মামুনুর রশিদ পাঠান, এম কে মানিক পাঠান, রাসেল হাসান, জসিম উদ্দিন, এমরান হোসেন লিটন, সানাউল হক এবং সিকেডিএফ সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দের প্রতি।



 



লেখক : সাধারণ সম্পাদক, সিকেডিএফ, ফরিদগঞ্জ; চাঁদপুর কণ্ঠের ব্যুরো ইনচার্জ, ফরিদগঞ্জ এবং চাঁদপুর কণ্ঠের অনলাইন সাব এডিটর।



 



 



 



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২১৬০
পুরোন সংখ্যা