চাঁদপুর। রোববার ১৩ মে ২০১৮। ৩০ বৈশাখ ১৪২৫। ২৬ শাবান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭-সূরা সাফ্ফাত


১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৪৩। যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন,


১৪৪। তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।


১৪৫। অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ-বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপকরি, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন।


১৪৬। আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম।


১৪৭। এবং তাঁকে, রক্ষক বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করলাম।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


চরম ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়ে মানুষ মহৎ দৃষ্টান্ত রেখে খেতে পারে। -হান্নামুর।


 


 


যে কোন ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দোয়া করলে তা অতিসত্বর কবুল হয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
বিতর্ক-ভ্রমণ
কাজী শাহাদাত
১৩ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এক



পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৩ এপ্রিল থেকে উপজেলা পর্যায়ে আমার ও সফরসঙ্গীদের উপভোগ্য বিতর্ক-ভ্রমণ শুরু হয় এবং ২৮ এপ্রিল শেষ হয়। গত ৯ বছরেও এমন বিতর্ক-ভ্রমণ করেছি, কিন্তু এবার অর্থাৎ ১০ম বছরে যে বিতর্ক-ভ্রমণ করেছি, সেটা পূর্বের সকল বছরের চেয়ে ছিলো ভিন্ন মাত্রার এবং ভিন্ন স্বাদের। এবারকার প্রতিযোগিতা নিয়ে আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি ছিলো অতীত অভিজ্ঞতার ভিতে দাঁড়িয়ে অনেকটা গোছানো। এক্ষেত্রে চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ)-এর সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আরিফ হোসেন, কার্যকরী সদস্য মোঃ আবু সালেহ প্রমুখের নিরলস শ্রম রয়েছে। আমার নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সঠিকভাবে কাজ করায় চাঁদপুর জেলা সদরের বাইরের ৭টি উপজেলায় গিয়ে আমি ছিলাম অনেকটা ফুরফুরা মেজাজে এবং নির্ভার। র‌্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেরেই আমি বিতর্ক-ভেন্যু ছেড়ে ঘুরতে বেরিয়েছি এবং অনেক কিছু দেখে, শুনে বিপুল আনন্দ আহরণ করেছি। সে আনন্দের রেশ কিছুতেই কাটছে না বলে এবারকার বিতর্ক-ভ্রমণটাকে বিতর্কায়নে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছি।



 



৩ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোর ৪টায় শয্যাত্যাগ করে কচুয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেই। রাজনসহ অন্যরা আমাদের পছন্দের ড্রাইভার আলমগীরের মাইক্রোবাসে এবং আমার পরিবার চাঁদপুর কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি সাইফুল আজমের প্রাইভেটকারে চড়ে সাড়ে ৫টায় চাঁদপুর শহর ত্যাগ করে। সূর্যোদয় দেখতে দেখতে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে বিতর্ক-ভেন্যু কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আমরা পেঁৗছে যাই। চাঁদপুর কণ্ঠের কচুয়া ব্যুরো ইনচার্জ ও সিকেডিএফ কচুয়ার সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান ততক্ষণে ভেন্যুতে পেঁৗছাতে পারেননি। তবে দেখলাম, ভেন্যুটি সুসজ্জিত এবং বিতর্কের জন্যে একেবারে প্রস্তুত। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে ২/১টি বিতর্ক দলও এসে গেছে। রাকিবের আগে ভেন্যুতে পেঁৗছলেন সিকেডিএফ কচুয়ার সভাপতি ডাঃ আব্দুল হাই, চাঁদপুর কণ্ঠের কচুয়া উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও রহিমানগর প্রতিনিধি ফরহাদ চৌধুরী এবং কৃতী বিতার্কিক মেহেদী হাসান সোহেল। তারা আমাদেরকে নিকটবর্তী একটি রেস্তোরাঁয় নাস্তা খাওয়াতে নিলেন এবং খাওয়ানোর চেয়ে যথেষ্ট সৌজন্যবোধে আমাদেরকে তৃপ্ত করলেন। এরই মধ্যে ভেন্যুতে বিতর্কের দলগুলো সব নিবন্ধন সম্পন্ন করলো এবং কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যান্ডদল চলে আসলো। রাকিবও তার একমাত্র কন্যাকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে হাজির। রাকিব নিকটবর্তী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০-৬০জন শিক্ষার্থীকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে আসতে বলেছিলেন, যাতে তারা র‌্যালিতে অংশ নিতে পারে। কিন্তু একজন শিক্ষক পূর্বে এসে রাকিবকে দেখতে না পেয়ে শিক্ষার্থীদের আসতে দিচ্ছিলেন না। পরে রাকিবকে দেখতে পেয়ে তার সাথে কথা বলে ৭টা ৫৫ মিনিটে ওই শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসে র‌্যালিতে যোগ দিলেন। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক আটটা বাজতেই শুরু হয়ে গেলো বর্ণাঢ্য র‌্যালি। নেতৃত্ব দিলেন ইউএনও নীলিমা আফরোজ। র‌্যালিশেষে তিনিসহ আমরা সকলে মিলে আকাশে উড়িয়ে দিলাম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের দশ বছরপূর্তির বেলুন। তারপর মঞ্চে গেলাম। সঞ্চালনা করতে গিয়ে অনুভব করলাম আমার চোখ জলে ছলছল। আনন্দাশ্রু ঠেকাতে না পারলেও কান্না ঠেকিয়ে মাইকে গিয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠেই মহান সৃষ্টিকর্তা পরম করুণাময় আল্লাহতা'লার শোকরিয়া আদায় করলাম, যিনি আমাকে জীবদ্দশায় বিতর্ক প্রতিযোগিতার দশ বছরপূর্তির মাইলফলক ছোঁয়ার সামর্থ্য দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে কৃতী বিতার্কিক রাবেয়াকে বক্তৃতা দেয়ার আহ্বান জানাতে গিয়ে আমার কণ্ঠকে বাষ্পরুদ্ধ মনে হলো। এর পেছনেও ছিলো প্রচ- আনন্দ-আবেগ। পিনপতন নীরবতায় চললো রাবেয়ার বক্তৃতা। রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় বিতর্ক দলের সাবেক দলপ্রধান রাবেয়া আক্তার এতোটা সাবলীলভাবে বক্তব্য দিচ্ছিলো যে, শ্রোতারা নিষ্পলক তাকিয়ে রইলো তার দিকে। প্রধান অতিথি নীলিমা আফরোজসহ পুরো মঞ্চ ও শ্রোতা সকলে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলো তার ১০ মিনিটের বক্তৃতায়। বিতর্ক নিয়ে স্মৃতিচারণ, আনন্দ-বেদনা, সাফল্য-ব্যর্থতা এবং সকলের করণীয় নিয়ে রাবেয়ার বক্তব্য ছিলো অসাধারণ, যা সহজে ভোলার নয়। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে রাবেয়ার বক্তৃতার প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। সবশেষে রাবেয়া রাকিবের কন্যাসহ কেক কেটে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলো।



 



নিবন্ধনকৃত সকল অর্থাৎ দশটি দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জোহর নামাজের পূর্বেই আমরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ করতে সক্ষম হলাম। তারপর কচুয়া বাজার লাগোয়া রাকিবের বাসায় গেলাম দুপুরের খাবার খেতে। তার সুগৃহিণী স্ত্রী এতো রকমের রান্না আমাদের সামনে পরিবেশন করলো যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বললো, আগে জানলে তো সকালের নাস্তাই খেতাম না। এই রান্নায় বিভিন্ন রকমের ভর্তা, গরু ও মুরগির মাংস, পাবদা মাছসহ আরো মুখরোচক কিছু আইটেমের সাথে বিশেষ আইটেম ছিলো কচুয়ার দেশখ্যাত বড় সাইজের দেশি কই মাছ। জিহ্বাকে সামলিয়ে সীমিত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করলাম। কারণ, বিকেলে সেজো বোনের বাড়িতে গিয়ে অন্তত নাস্তা খেতে হবে তো, তাই।



 



রাজন এবং তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে এএইচএম আহসান উল্লাহ (সিকেডিএফ সহ-সভাপতি), আঃ মালেক স্যার, আরিফ হোসেন, মোঃ আবু সালেহ, আমাদের ব্র্যান্ডেড মাইক অপারেটর প্রবীর তিনটার আগেই কচুয়া থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। আর আমি রওনা দিলাম কচুয়ার পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার উদ্দেশ্যে। গন্তব্য হলো এই উপজেলার কৈলাইন মিয়া বাড়ি। এ বাড়িতে আমার সেজো বোন রওশন আপা নিভৃত পল্লীতে একেবারে প্রকৃতির নিবিড় সানি্নধ্যে সপরিবারে থাকেন। নিয়মিত ড্রাইভার সুমনকে ছুটি দিয়ে সাইফুল নিজেই তার গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন। কচুয়া থেকে আপার বাতলে দেয়া সংক্ষিপ্ত রাস্তায় বিকেল ৪টার পূর্বেই চলে এলাম তার বাড়ি। রহিমানগর-মাধইয়া সড়ক থেকে একটি পিচঢালা মসৃণ সড়ক চলে গেছে আপার বাড়ির উঠোন পর্যন্ত। সাইফুলের কোনো অসুবিধা হয়নি তার গাড়ি নিয়ে সেখানে পেঁৗছুতে।



 



আমার বোনের বাড়ি বলেই বাড়িয়ে বলা নয়, একেবারে ছবির মতো সাজানো-গোছানো কৈলাইন মিয়া বাড়ি। নিজ এলাকায় সর্বজনশ্রদ্ধেয় বলে খ্যাতিমান আমার দুলাভাই (আবুল কালাম) এবং আমার একমাত্র ভাগ্নে মুরাদ (টিভির সাবেক ক্যামেরাপার্সন) তাদের বাড়িকে আদর্শ বাড়িরূপেই সাজিয়েছেন। ফলের বাগান ও টিনের বেষ্টনী গিয়ে ঘেরা বাড়ির সামনে শান বাঁধানো ঘাটসহ পুকুর, কাচারি ঘর, পাকা সমজিদ, সবুজ ধানক্ষেত, মৎস্য চাষের সারিবদ্ধ পুকুরসহ বাড়িটিকে মনে হয় শিল্পীর নিপুণ তুলিতে অাঁকা একটি দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম। আমার ভাগ্নে বাড়ির সামনে পুকুর পাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছে কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যেখানে প্লে থেকে একেবারে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। তার বিদ্যোৎসাহ দেখে আমি, আমার স্ত্রী ও সাইফুলসহ অন্য সকলে অভিভূত না হয়ে পারিনি। আপা নিজ হাতে তার ক্ষেত থেকে তাজা শাক-সবজি তুলে আমাদের গাড়িতে ঢোকালেন। তার ঘরের ওপর বিশালাকৃতির লিচু গাছ দেখে তো সাইফুল রীতিমতো বিস্ময়ই প্রকাশ করলেন। আপা জানালেন, আমাদেরকে খাওয়ার জন্যে ২-৩ হাজার লিচু দেয়ার শর্তে পুরো গাছের বাকি সব লিচুই বেপারীদের কাছে আগাম বেচে দিয়েছি। তারাই চোর ও বাদুরের হাত থেকে লিচু রক্ষায় পাহারাদার নিযুক্ত করেছে।



 



আমার যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় আপাকে দেখার তৃষ্ণা জাগলো কচুয়ায় গিয়ে। সে তৃষ্ণা মেটাতে পেরেছি বলে অসম্ভব মানসিক স্বস্তি নিয়ে বিকেল ৫টার পূর্বেই রওনা দিলাম চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে সাইফুলকে বললাম, তুমি কষ্ট করে আসতে রাজি না হলে অনেক দিন পর আমার হয়তো আপার সাথে দেখা করা এবং পরম শ্রদ্ধায় পা ছুঁয়ে সালাম করার সুযোগই হতো না। সত্যিই আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে সাইফুল বিনয়-শোভন হাসিতে যা বললো, তাতে আমার মন ভরে গেলো। (চলবে)



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩১৬৯৮
পুরোন সংখ্যা