চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২০ ভাদ্র ১৪২৫। ২৩ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস







৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০১। হা-মীম।

০২। এটা দয়াময়, পরম দয়ালুর নিকট হতে অবতীর্ণ।

০৩। এটা (এমন) এক কিতাব, বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এর আয়াতসমূহ, আরবী ভাষায় কুরআন-রূপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে।

০৪। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিমুখ হয়েছে। সুতরাং তারা শুনবে না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


শিক্ষা ও বুদ্ধি সদা সর্বদাই আশীর্বাদ।

 -জন. এ. শেড।


মজুরের গায়ের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।



 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুরে বিতর্ক চর্চার প্রসারে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ
রাজন চন্দ্র দে
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সকাল প্রায় ১০টা, একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখছি। হঠাৎ স্ক্রীনের নিচে একটি লেখা ভেসে উঠলো। লেখা ছিলো পরের প্রোগ্রামটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। ঠিকঠাক হয়ে বসলাম। বিতর্কের জন্যে সব সময় আমার মধ্যে একটা দুর্বলতা কাজ করতো। অনুষ্ঠান দেখছি, বাহ্ বাহ্! এ কী! এতো দেখি ফাইনাল। ঢাকার নামকরা দুটি কলেজের বিতর্ক। চমৎকার বিতর্ক চলছে। একা একা দেখতে ইচ্ছে হলো না। তখন সাবি্বর ও ফাহিমকে ফোন করে অনুষ্ঠানটি দেখতে বলি। একটি বহুজাতিক কোম্পানী প্রতিযোগিতার সেরা ৫ জনকে কানাডা পড়াশোনার সুযোগ করে দেয়। বুকটাতে একটা অাঁচড় লাগলো। আমরা মফস্বলে আছি বলে হয়তো আয়োজকরা প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের বিবেচনাও করেন না। এ বিষয়টা নিয়ে সাবি্বর আজম ও ফাহিমের সাথে আলোচনায় বসলাম। সাবি্বর আজম ও ফাহিম বহু গুণে গুণান্বিত, এমনকি রসিকও বটে। সাবি্বর ও ফাহিম বহু আগে থেকে বিতর্ক করেন। দুজনেই খুব ভালো। সাবি্বর আলোচনার মধ্য থেকেই ঢাকায় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেন। চাঁদপুরে বিতর্কের দৈন্যদশা নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বললেন।



আমরা প্রথমে তিনজনে মিলে চিন্তা করলাম কী করা যায়। বিষয়টা নিয়ে আমরা আশিক বিন ইকবাল আনন্দ, মাহিনুর আক্তার সুমি, ইব্রাহীম খান ইবু, জহিরুল ইসলাম, উজ্জ্বল হোসাইন, এহছান ফারুক ছন্দের সাথে আলোচনা করলাম। সবাই বিষয়টা অনুধাবন করলো। আমরা চিন্তা করলাম চাঁদপুরের মেধাবী বিতার্কিকরা যদি একটু জানার সুযোগ পায়, শেখার সুযোগ পায় তাহলে হয়তো বেশ ভালো হতো। এতে চাঁদপুরে বিতর্কের প্রসার বৃদ্ধি পাবে বলে মনে হলো। বিতর্ককে আন্দোলনে পরিণত করার প্রয়াস নিলাম। চাঁদপুরে বিতর্ক নিয়ে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিটির সাথে আলোচনা করলাম তিনি হলেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি প্রফেসর মনোহর আলী। স্যারকে আমরা ভাবনার কথা জানাতেই তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন এবং অনুপ্রাণিত করলেন। তারপর স্যার আমাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে বললেন, এ উদ্যোগটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সফল করতে হলে দুজন ব্যক্তির সহযোগিতা তোমাদের নিতেই হবে। একজন হলেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত এবং আরেকজন হলেন পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (বর্তমানে বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ) মোশারেফ হোসেন।



আশিক বিন ইকবাল আনন্দকে সাথে নিয়ে আমরা দুজনের সাথেই দেখা করে আমাদের ভাবনার কথা জানালাম। দুজনেই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন। কাজী শাহাদাত বললেন, চাঁদপুরে যে কোনো ভালো কাজ সেটা বিতর্ক হোক বা অন্য কিছু হোক, আমি সাথে আছি। তিনি আমাদের শতভাগ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। যেই কথা সেই কাজ। তিনি তা-ই করলেন। সবসময় তিনি দিক নির্দেশনা দিতেন এবং আমাদের কার্যক্রমের খোঁজ খবর নিতেন।



কয়েকদিন পর সভা বসলো। প্রফেসর মনোহর আলী, কাজী শাহাদাত ও অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন স্যারকে সেই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হলো। পূরণ হলো আমাদের স্বপ্ন। সভার শুরুতে এই তিন গুণী ব্যক্তিই সংগঠনটি সম্পর্কে এবং কীভাবে সংগঠনটি পরিচালনা করতে হবে তার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখলেন। পূর্বের আলোচনা মোতাবেক সভায় সংগঠনটির নাম দেওয়া হলো 'চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন'। উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে ইবনে আজম সাবি্বরকে সভাপতি ও ওমর ফারুক ফাহিমকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলো। পাশাপাশি প্রফেসর মনোহর আলী স্যারকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি উপদেষ্টা প্যানেল গঠন করা হলো। উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন শাহিদুর রহমান চৌধুরী, প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন, কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন ও সামীম আহমেদ খান। এছাড়াও ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি এলিট প্যানেল গঠন করা হলো। এঁরা হলেন মাসুদুর রহমান শিপু, সাহেদুল হক মোর্শেদ, খাদেমুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, মোঃ ইউনুছ উল্লাহ ও নাজিমুল ইসলাম এমিল। উপস্থিত সকলেই সংগঠনটি করতে পেরে খুবই আনন্দিত। বিশেষ করে আমাদের সকলের প্রিয় আশিক বিন ইকবাল আনন্দের চোখেমুখে দেখলাম আশার নতুন ঊষা। আমাদের সাহসটা বেড়ে গেলো।



তারপর গঠনতন্ত্র, ওয়েবসাইট, সংগঠনের রুলস্সহ নিয়মতান্ত্রিক দারুণ এক সংগঠনে রূপান্তরিত হলাম আমরা। একটি সংগঠন এতো তাড়াতাড়ি গোছানো সম্ভব হতো না যদি একজন ব্যক্তি আমাদের সাথে না থাকতেন, সে ব্যক্তিটি হলেন কাজী শাহাদাত। তারপর পরবর্তী সভায় চাঁদপুরে বিতর্কের প্রসারে কী করা যায় সে সকল বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সভায় প্রস্তাবনা আসলো চাঁদপুরে বিতর্কের প্রসারের জন্যে এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি মিডিয়া পার্টনার প্রয়োজন। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে বহুল প্রচারিত দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের নাম প্রস্তাবিত হলো। সভায় উপস্থিত উপদেষ্টা কাজী শাহাদাত বললেন, পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশারের সাথে আলোচনা করা হবে। পরবর্তীতে কাজী শাহাদাত অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। আমরাও দেখা করলাম। আমাদের আশা ছিলো অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশারের ছেলে আশিক বিন ইকবাল আনন্দ যেহেতু আমাদের সাথে আছেন সেহেতু তিনি না করবেন না। তা-ই হলো। তিনি কাজী শাহাদাত ও আমাদের এই প্রস্তাবনাকে সাদরে গ্রহণ করলেন এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিলেন। সিদ্ধান্ত হলো দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ ও চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন যৌথভাবে চাঁদপুরে বিতর্কের প্রসারে কাজ করে যাবে।



আমরা দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে সাথে পেয়ে খুবই আনন্দিত হলাম। বিতর্ক নিয়ে কাজ করার আগ্রহ সকলের মধ্যে আরও বেড়ে গেলো। সাবি্বর প্রচ- পরিশ্রমী ছেলে। যেমন তার উপস্থাপনা, বাচনভঙ্গি, তেমনি তার কর্মদক্ষতা। সাথে ওমর ফারুক ফাহিম। ওই সময় চাঁদপুরে যে ক'জন হাতেগোণা ভালো বিতার্কিক ছিলো তার মধ্যে অন্যতম ছিলো ওমর ফারুক ফাহিম। সাথে ছিলো আশিক বিন ইকবাল আনন্দ। সেও প্রচুর কাজ করে। নাম বলে আর কাউকে ছোট করবো না। কম-বেশি কাজ সবাই করেছে। সকলের লক্ষ্য একটাই আমাদের চাঁদপুরের বিতর্কাঙ্গন আর যেন অবহেলিত না হয়।



যোগ্যতা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা সংগঠনের প্রথম বছরেই অর্থাৎ ২০০৮ সালে হাতেগোণা চাঁদপুরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক কর্মশালা ও কর্মশালা শেষে প্রদর্শনী বিতর্ক করলাম। এরপর সকলের মধ্যেই একটা আনন্দ-চাঁদপুরে বিতর্কের প্রাণ ফিরে এসেছে। বিতর্কের সকল কার্যক্রমে প্রফেসর মনোহর আলী ও অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন স্যারের পাশাপাশি যে ব্যক্তিটি সবসময় আমাদের সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহ যুগিয়েছেন, তিনি হলেন বহু গুণে গুণান্বিত একজন ব্যক্তি, যার পদচারণায় মুখরিত বিতর্ক অঙ্গন, শ্রদ্ধেয় কাজী শাহাদাত। তারপর আমরা ভাবলাম চাঁদপুরে বিতর্ক উৎসব করলে হয়তো বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কের উপর আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শুরু হলো আমাদের উৎসব করার পরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সভায় মিলিত হলাম। সকলের মতামতের ভিত্তিতে বিতর্ক উৎসব করার সিদ্ধান্ত হলো। উৎসবের চেয়ারম্যান করা হলো সংগঠনের সভাপতি ইবনে আজম সাবি্বরকে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হলো চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশারকে এবং উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা করা হলো চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাতকে। অনেক টাকার বাজেট। প্রায় ১ হাজার লোকের সমাগম। ব্যাপক আয়োজন চলছে। অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার আমাদের বললেন, টাকা কোনো সমস্যা না, তোমরা এগিয়ে যাও, টাকার ব্যবস্থা আমি করবো। ঠিক তাই হলো। উৎসবে যত টাকা বাজেট ছিল তার প্রায় আশি ভাগ টাকা জোগাড় করলেন তিনি। সমাজে এমন দৃষ্টান্ত বিরল। তখনই বুঝতে পারলাম আসলে তিনি একজন উদার মনের ও দায়িত্ববান ব্যক্তি। প্রধান পৃষ্ঠপোষকের আশ্বাস পেয়ে চেয়ারম্যানসহ আমরা খুবই উৎফুল্ল। তখন আমরা অনেকটা চিন্তামুক্ত ছিলাম এ কারণে যে, কাজী শাহাদাতের মতো একজন দায়িত্ববান ও সাংগঠনিক ব্যক্তি আমাদের সাথে আছেন। আমাদের এই আন্দোলন ও উৎসবে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন, এফএম ৮৯.২ এবিসি রেডিও, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ ও 'নদী' একটি ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি ডাঃ আব্দুন নূর তুষার। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামস্থ শাহরাস্তি সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন ও বিএমএ-র সাবেক সভাপতি ডাঃ এস.এম. সহিদ উল্লাহ। এছাড়াও উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চাঁদপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক বিশ্বাস মুহম্মদ আজিম উদ্দীন, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তাজুল ইসলাম প্রধান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত প্রাণবন্ত একটা উৎসব হলো। জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে প্রায় ৬শতাধিক শিক্ষার্থী এ উৎসবে অংশগ্রহণ করলেন। উৎসব থেকে একটা দাবি আসলো, জেলাব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স-এর টাইটেল স্পন্সর হিসেবে থাকা। দাবিটি শুনে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক তা সাদরে গ্রহণ করলেন এবং সিদ্ধান্ত হলো চলতি বছর থেকেই এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে। প্রতিযোগিতার নাম হবে চাঁদপুর কণ্ঠ-পাঞ্জেরী বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন। যদিও পরবর্তীতে এর নাম হলো পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এরপর আর থেমে থাকেনি চাঁদপুরে বিতর্কের প্রসার।



২০০৯ সালে শুরু হলো ১ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। পরপর ক' বার চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের ব্যবস্থাপনায় চাঁদপুরের ৮টি উপজেলার স্কুল, কলেজ ও সমমনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চাঁদপুরে বিতর্কের প্রসারে তথা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং তাদেরকে যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে চাঁদপুর কণ্ঠের যে নিরলস প্রচেষ্টা তা থেমে থাকেনি। চাঁদপুরের বিতার্কিকদের জন্যে চাঁদপুর কণ্ঠ ও পাঞ্জেরী একটি প্লাটফর্ম। অনেক বিতার্কিকের অভিমত, চাঁদপুর কণ্ঠ ও পাঞ্জেরী এগিয়ে না আসলে হয়তো বিতর্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোনে কথা বলা হতো না।



কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রদ্ধেয় কাজী শাহাদাত, নজরুল ইসলাম স্বপন, গিয়াসউদ্দিন মিলন, মির্জা জাকির, এএইচএম আহসান উল্লাহ, রাজন চন্দ্র দে, মোঃ আরিফ হোসেন, উজ্জ্বল হোসাইন ভাবলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যদি এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায় তাহলে আরও ভালো হতো। ঠিক তা-ই হলো। এর মধ্যে নামও ঠিক করা হলো। নাম দেয়া হলো চাঁদপুরকণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ)। এবার সমাজসেবা থেকে রেজিস্ট্রেশন নেয়ার পালা। রেজিস্ট্রেশনটি আনার দায়িত্ব পড়লো কর্মদক্ষ ব্যক্তি নজরুল ইসলাম স্বপনের উপর। রেজিস্ট্রেশনের জন্যে আবেদনের পূর্বে সিকেডিএফের কমিটি গঠন করা হলো। চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাতকে সভাপতি ও সহকারী সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হলো। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো সিকেডিএফের পদাধিকার বলে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকার জন্য একটি চিঠির মাধ্যমে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। তার কয়েকদিন পর মাননীয় জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে সম্মতিসূচক একটি চিঠি আসলো। একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হলো। প্রায় ৪৫ জনকে আজীবন সদস্য করা হলো। এরই মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করা হলো। সমাজসেবা অধিদপ্তর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের সকলের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই করলো। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে আয়োজন করা হলো চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের আয়োজন ৬ষ্ঠ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। তারপর ২০১৫ সালে সিকেডিএফ সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন লাভ করে। রেজিঃ নং চাঁদ-৭৩৭/২০১৫। রেজিস্ট্রেশন আনার পেছনে যে লোকটি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, যিনি সহযোগিতা না করলে হয়তো এতো তাড়াতাড়ি রেজিস্ট্রেশন লাভ করা সম্ভব হতো না, তিনি হলেন আমাদের সকলের প্রিয় নজরুল ইসলাম স্বপন। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন আনার পেছনে মেধা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন শ্রদ্ধেয় কাজী শাহাদাত ও ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া একজন কর্মব্যস্ত মানুষ হয়েও চাঁদপুরে বিতর্কের প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত যতগুলো প্রতিযোগিতা হয়েছে, এমনকি চাঁদপুরে প্রায় বিতর্ক প্রতিযোগিতাতেই তিনি বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করেন। তিনি একজন বিচক্ষণ বিচারক। এর সাথে গিয়াসউদ্দিন মিলন, মির্জা জাকির ও এএইচএম আহসান উল্লাহর অবদান কম নয়। সিকেডিএফের জন্যে আমরা যা কিছু করেছি, সকল কাজে পর্দার আড়াল থেকে আমাদেরকে যিনি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, যাকে কেউ বলে আংকেল, কেউ বলেন কাকা, কেউ বলেন মামা, আবার কেউ বলেন স্যার, তিনি হলেন অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার।



আমরা নৈতিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে নিয়ে ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়ে সিকেডিএফ নিয়ে পথচলা শুরু করেছি। আমরা বিগত ৯টি বছর ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সমমনা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তাদের যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি। এ বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ১০ বছর পূর্তি। চাঁদপুরে বিতর্কের পথচলার পিছনে যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, বিগত ৯টি বছর ধরে যিনি চাঁদপুরের বিতর্ক আয়োজনকে জাগ্রত করে রেখেছেন, যিনি এভাবে বিতর্ক আয়োজনকে জাড়িয়ে না রাখলে এবং আমাদেরকে আগলে না রাখলে হয়তো এ রকম একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেত না, তিনি চাঁদপুরে বিতর্কের পুরোধা, যার সংস্পর্শে এসে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, তিনি হলেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত। দশ বছর ধরে এ প্রতিযোগিতার আয়োজনে যে প্রতিষ্ঠানটি টাইটেল স্পন্সর হয়ে সহযোগিতা করছে সে প্রতিষ্ঠানটি হলো পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিঃ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট সমাজসেবক, প্রগতিশীল চিন্তা চেতনা যার মধ্যে রয়েছে, একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব কামরুল হাসান শায়ক। ৯ম পাঞ্জেরী চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বে তিনি বলেছেন, পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা যতদিন চলবে ততদিন টাইটেল স্পন্সর হবে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। আমরা তাঁর আশার বাণীটা পেয়ে খুবই আশান্বিত হলাম। কামরুল হাসান শায়ক সাহেবের সাথে শ্রদ্ধেয় কাজী শাহাদাতের রয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম গভীর সম্পর্ক। বিতর্কের স্বার্থে এ সম্পর্ক অটুট থাকবে এই প্রত্যাশা করছি। বিতর্কের সকল কার্যক্রমে অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার ও ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার অবদান অনস্বীকার্য। ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ)। ১০ বছর যাবৎ প্রতিযোগিতায় উপজেলা কেন্দ্রিক প্রান্তিক পর্বে চাঁদপুরের সকল উপজেলার ইউএনও, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মেয়র, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিনিধিবৃন্দ সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো।



কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি, যারা আমাদের এই প্রতিযোগিতায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে প্রফেসর মনোহর আলী, অধ্যাপক রতন কুমার মজুমদার, গিয়াসউদ্দিন মিলন, মির্জা জাকির, এএইচএম আহসান উল্লাহ, ইসমত আরা সাফী বন্যা, অধ্যাপক মোঃ আবুল কালাম, সামীম আহমেদ খান, মোঃ আব্দুল মালেক, প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন, কল্পনা সরকার, অধ্যক্ষ মোঃ মোশারেফ হোসেন, আফরোজা আক্তার মেরী, আব্দুল মান্নান আকন্দ, মাসুদ রানা, মোঃ শাহজাহান সিদ্দিকী, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ মাসুদুর রহমান, উজ্জ্বল হোসাইন, কুমার গৌরব, মোঃ ইলিয়াছ মজুমদার, মোঃ হাবীবুর রহমান পাটওয়ারী, রাসেল হাসানসহ আরও অনেকে। এছাড়াও মোঃ আরিফ হোসেন, মোঃ আবু সালেহ, শামীম হাসান, কাজী আজিজুল হাকিম নাহিন, জায়েদুর রহমান নিরব সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।



শ্রদ্ধেয় কাজী শাহাদাতের একটি স্বপ্ন ছিলো চাঁদপুরের বিতার্কিকদের তথা উদীয়মান যে সকল বিতার্কিক আছেন, এমনকি যাদের বিতর্ক শেখার আগ্রহ আছে তাদের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা। পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। চাঁদপুরে 'চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি' নামে বিতর্ক প্রশিক্ষণের একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন। আমার জানামতে একাডেমি আকারে সমগ্র বাংলাদেশে বিতর্কের উপর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তিনি এ একাডেমিটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়াকে অধ্যক্ষ, রাসেল হাসানকে উপাধ্যক্ষ এবং আমাকে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেন। এই একাডেমির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ)। বর্তমানে এ একাডেমির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮৬ জন। ৪টি বিষয়ের উপর একাডেমিতে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে সনাতনী ও সংসদীয় ধারার বিতর্কের উপর প্রশিক্ষণ চলছে। সত্যিই যদি চাঁদপুর কণ্ঠ ওই সময় এগিয়ে না আসতো তাহলে হয়তো চাঁদপুরে এতো বিতার্কিক সৃষ্টি হতো না, ১০ বৎসর ধরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হতো না, বিতর্ক একাডেমি সৃষ্টি হতো না। আমার শুধুই মনে পড়ে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার-এর সেই কথাটি, তিনি বলেছিলেন, চাঁদপুর কণ্ঠ যতদিন থাকবে এই প্রতিযোগিতা ততদিন চলবে। আমার মৃত্যুর পরও চাঁদপুর কণ্ঠের দায়িত্বে যারা থাকবে তারা এই প্রতিযোগিতা চালিয়ে নিয়ে যাবে। শ্রদ্ধেয় ইকবাল-বিন-বাশারের সেই কথাটিই যেন সত্যি হয়। এজন্যে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।



চাঁদপুর কণ্ঠের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকুক-এই আশীর্বাদ করছি।



 



লেখক : সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ), চাঁদপুর ও প্রধান সমন্বয়কারী, চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯২৮২৩
পুরোন সংখ্যা