চাঁদপুর, সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৫। তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলি কর্তন করিয়াছ এবং যেগুলি কা-ের উপর স্থির রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এবং এইজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন।


 


 


assets/data_files/web

আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
বিতর্কে দ্বিতীয় বক্তার করণীয়
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিতর্কে দ্বিতীয় বক্তার ভূমিকা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বস্তুত বিতর্কের মঞ্চে দ্বিতীয় বক্তার আবির্ভাবের পর হতেই বিতর্ক হয়ে উঠে জমজমাট। দ্বিতীয় বক্তার বাচনভঙ্গিতে রক্ষণের চেয়ে আক্রমণের সুরই প্রাধান্য পায়। প্রথম বক্তার তৈরি করে যাওয়া প্রপঞ্চের বিস্তার হতে দ্বিতীয় বক্তা পূর্ণ ফায়দা মন্থন করেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় বক্তা প্রথম বক্তার বক্তব্যের অপূর্ণতা পূর্ণ করেন এবং তৃতীয় বক্তার বক্তব্যের ভিত নির্মাণ করেন।



বিষয়বস্তুর বিস্তার বৃদ্ধি :



দ্বিতীয় বক্তা প্রথম বক্তার কৃত সংজ্ঞায়নের ফলিত উদাহরণ টেনে বিষয়বস্তুকে বিস্তৃত করেন এবং বিষয়বস্তুতে বিদ্যমান ফাঁক-ফোকর চিহ্নিত করে তার সুবিধা নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করেন। উদাহরণস্বরূপ আমরা আগের বিষয়বস্তুটিকে ধরি। 'নারী শিক্ষায় নারীরাই সবচেয়ে বড় শত্রু' এই প্রস্তাবে কোন্ বয়সের নারীদের শিক্ষার কথা বলা হয়েছে এবং বাধাদানকারী নারীদের বয়সসীমা কী তা উলি্লখিত হয়নি।



আক্রমণের সূচনা :



দ্বিতীয় বক্তা তার বক্তব্যে চটুল আক্রমণের সূচনা করতে পারেন। তবে তা শিষ্টতা বা শালীনতা অতিক্রম করে নয় কখনো। দ্বিতীয় বক্তার বাচনভঙ্গিতে প্রদর্শনীর বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করা যায়। তিনি তার বক্তব্যকে প্রতিপক্ষের মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয়ার কাজে যেমন ব্যবহার করবেন তেমনি নিজের দলের যুক্তির সমৃদ্ধি ঘটিয়ে যাবেন। যে রকম কথা প্রতিপক্ষ ভাবেনি কখনো, ঠিক তেমন পয়েন্টের অবতারণা করে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলতে হবে। উপরের উদাহরণে আমরা দেখতে পাই, 'নারী শিক্ষায় নারীরাই সবচেয়ে বড় বাধা' এই প্রস্তাবে কোন্ নারী সবচেয়ে বেশি বাধা তৈরি করে তা চিহ্নিত করে বিস্তারিত বলবেন দ্বিতীয় বক্তা।



নিজের বক্তব্যকে বাস্তব উদাহরণে সম্পৃক্ত করা :



তথ্য বা তত্ত্ব যা-ই দেয়া হোক না কেনো, বক্তব্যকে বাস্তব উদাহরণে সম্পৃক্ত করতে হবে। যতো বেশি বক্তব্যকে হাইপো থিসিস্ হতে মুক্ত করে এনে বাস্তবতার কাছাকাছি নেয়া যায় বিতর্ক ততোই প্রাণবন্ত হয়। যেমন : বাংলাদেশে নারীরা শাশুড়ির সহযোগিতা না পেলে বিবাহ পরবর্তী জীবনে শিক্ষার সাথে যুক্ত থাকতে পারেন না। আবার মায়েদের প্রণোদনা না পেলে বিবাহপূর্ব জীবনে উচ্চ শিক্ষিত হতে পারেন না।



দ্বিতীয় বক্তার বক্তব্যে শ্লেষ এবং বাগধারার ব্যবহার অধিক থাকে। দ্বিতীয় বক্তা মূলত বক্তব্যকে প্রতিপক্ষের কাছে অসহনীয় করে তোলেন। দ্বিতীয় বক্তা তার বক্তব্যে নিজেদের অবস্থান বিন্দুর সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সেই যুক্তিকে অধিকতর শক্তিমান করে তুলবেন।



বক্তব্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা :



বক্তব্যের শেষদিকে এসে দ্বিতীয় বক্তা আগের বক্তার বক্তব্যের মূলসুরকে বজায় রেখে তিনি নিজে কী বললেন এবং দলনেতা এসে কী বলবেন তা সংক্ষেপে তুলে ধরবেন। অতঃপর নিজ বক্তব্যের উপসংহার টানবেন। দ্বিতীয় বক্তা প্রয়োজনে বক্তব্যে রসের সৃষ্টি করবেন। যেমন : মাননীয় সভাপতি, স্বপক্ষীয় প্রথম বক্তা নারী শিক্ষায় কোন্ ধরনের নারীরা বাধা দেয় তা পরিষ্কার করে উল্লেখ করে গেছেন। আর আমি আমার যুক্তি দিয়ে সেই সত্য প্রমাণ করে গেলাম। স্বপক্ষীয় দলনেতা এসে প্রতিপক্ষের ভুলত্রুটি শুধরে দিয়ে যাবেন।



দ্বিতীয় বক্তা তার বক্তব্যে দুই মিনিটে চারটি যুক্তি প্রদান করবেন এবং এক মিনিটে দুটো যুক্তিখ-ন করবেন।



একটি বিতর্ক দলে দ্বিতীয় বক্তা হচ্ছেন প্রাণ। তার সক্রিয়তা এবং সাফল্যের উপরই নির্ভর করে দলীয় সংহতির নিরেট অবস্থান। কাজেই দ্বিতীয় বক্তার করণীয় সঠিকভাবে সম্পন্ন হলেই দলের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অক্ষুণ্ন থাকে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫০২৬৮
পুরোন সংখ্যা