চাঁদপুর, সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা সূরা তূর

৪৯ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৯। ‘তোমরা যাহা করিতে তাহার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সহিত পানাহার করিতে থাক।’

২০। তাহারা বসিবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়া; আমি তাহাদের মিলন ঘটাইব আয়তলোচনা হূূরের সংগে;


assets/data_files/web

জাতীয় সংসদ আদর্শ লোকজনের এক বিরাট সমাবেশ ব্যতীত আর কিছু নয়।

 -ওয়াল্টার বেজইট।


দুষ্কর্মের প্রকৃত অনুতাপকারী এবং যে কখনো দুষ্কর্ম করেনি-এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।


ফটো গ্যালারি
বিতর্ক সৃজনশীল মেধার অন্বেষণে সহায়ক
কবিরুল ইসলাম মজুমদার
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কোথায় নেই বিতর্ক? আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সর্বত্রই বিতর্ক প্রভাব বিস্তার করে আছে। প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনে, পরিবারে, শিক্ষাক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে, অফিস-আদালতে, শিল্প-কলকারখানায়, বাসে, ট্রেনে, দোকানে, হাটে, বাসায়, সমাজে, নির্বাচনে, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে এমনকি মহান জাতীয় সংসদেও বিতর্ক প্রভাব বিস্তার করে আছে। বিতর্ক হচ্ছে এক ধরনের শিল্প। কথার শিল্প, যার মাধ্যমে একজন বিতার্কিক কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সঠিক, স্বচ্ছ, যৌক্তিক, নিরেট সিদ্ধান্তে তার অভিমত প্রতিষ্ঠিত করে।



বিতর্ক অহেতুক কোনো তর্ক নয়। প্রতিপক্ষের জোরালো যুক্তিকে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে ইতিবাচক শাণিত যুক্তির মাধ্যমে খ-ন করে নিজের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করাই হচ্ছে বিতর্ক। বিতর্ক শিল্প 'জোর যার মুল্লুক তার অথবা পেশী শক্তি যার ক্ষমতা তার' এমন কথার অবসান ঘটায়। একজন সফল বিতার্কিক শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন ভালো ছাত্র এবং ভালো মানুষ, তেমনি পারিবারিক ক্ষেত্রে ও কর্মক্ষেত্রেও তিনি একজন সফল সংগঠক। ভালো বিতার্কিক হলে যে কেউ শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো শিক্ষক হিসেবে, হাসপাতালে রোগীর নিকট ভালো ডাক্তার হিসেবে, আদালতে একজন বিচারপ্রার্থীর নিকট ভালো আইনজীবী হিসেবে, ভালো বিচারক হিসেবে, রাজনৈতিক কর্মীর নিকট আদর্শ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। যুক্তির মাধ্যমে যেমনি পরিবারের চাহিদাগুলো মেটানো যায়, তেমনি কর্মক্ষেত্রে এবং জাতীয় জীবনে অধীনস্থদের এবং জনগণের যৌক্তিক চাহিদাগুলো পেশী শক্তি বা দমন নীতি ব্যবহার না করে সমাধা করা সম্ভব।



বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল কারিকুলাম চলমান। বিতর্ক চর্চা সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার সহায়ক। কোনো বিতার্কিক তার নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিতর্ক করার সময় রীতিমত গবেষণায় মনোনিবেশ করে। তার নিজের বক্তব্য কী হতে পারে, প্রতিপক্ষের প্রশ্নের উত্তর কী হতে পারে, কিভাবে প্রতিপক্ষের যুক্তি খ-ানো যেতে পারে সেই বিষয়ে তাকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হয়। এ প্রস্তুতি নিতে তাকে (বিতার্কিককে) ওই বিষয়ের ওপর ব্যাপক গবেষণা করতে হয়। এ ধরনের গবেষণা করতে গিয়ে তাকে অনেক তত্ত্ব, তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ এবং যাচাই-বাচাই করতে হয়। এভাবেই একজন বিতার্কিকের মেধার, সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটে। বাস্তব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কমীদের মাঝে যদি বিতর্ক চর্চার প্রসার ঘটানো যেতো, তাহলে আমাদের দেশে রাজনীতি নিয়ে হানাহানি, মারামারি হতো না। সবাই পরমতসহিষ্ণু হতো, প্রতিপক্ষের যৌক্তিক মতামতকে প্রাধান্য দিতো এবং নিজেদের মাঝেও মুক্ত চিন্তার প্রসার ঘটাতো।



বিতার্কিক সৃষ্টি করতে হলে প্রয়োজন উন্নত প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই ভালো বিতার্কিক সৃষ্টি করা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে 'চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন' (সিকেডিএফ) প্রতিষ্ঠা করেছে চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি। চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির আদলে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও এ ধরনের বিতর্ক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রয়োজন। এ ধরনের একাডেমিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলেও মেধাবী বিতার্কিক সৃষ্টি করা সম্ভব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'বিতর্ক ক্লাব' গঠন আবশ্যক। চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ) বিতর্ক শিল্পের চর্চা ও বিতার্কিক সৃষ্টির অনন্য প্রতিষ্ঠান। এ শিল্পের কারিগরদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের সহযোগিতায় প্রতি বারের মত এ বছরও একাদশ চাঁদপুর কণ্ঠ-পাঞ্জেরী বিতর্ক প্রতিযোগিতা সফল ও সার্থক হোক_এ কামনা নিরন্তর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮২১৩৩৯
পুরোন সংখ্যা