চাঁদপুর, সোমবার ১৮ মার্চ ২০১৯, ৪ চৈত্র ১৪২৫, ১০ রজব ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৭-সূরা মুহাম্মাদ

৩৮ আয়াত, ৪ রুকু, ‘ মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩১। আমি অবশ্যই তোমাদিগকে পরীক্ষা করিব, যতক্ষণ না আমি জানিয়া লই তোমাদের মধ্যে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদিগকে এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে পরীক্ষা করি।  





 


লাইব্রেরিই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ভ্রমণ করাতে পারে।

-জন ব্রাইট।


দয়া ঈমানের প্রমাণ; যার দয়া নেই তার ঈমান নেই।



 


ফটো গ্যালারি
বিতর্কমঞ্চে অনুপস্থিতি
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


যে কোনো প্রতিযোগিতা মানেই কেবলমাত্র শিরোপা বিজয় নয়। প্রতিযোগিতা মানেই সুশৃঙ্খল কিছু নিয়মের মধ্য দিয়ে প্রতিভাবান ও যোগ্যতম নির্বাচন। এই নিয়মাবলি শুধু প্রতিযোগীকে শৃঙ্খলা শেখানো তা-ই নয়। নিয়মাবলির মাধ্যমে প্রতিযোগীকে শিষ্টাচারসম্পন্ন করে গড়ে তোলার নান্দনিক প্রয়াস যেমন লক্ষ্যণীয় তেমনি প্রতিযোগিতাকে সুসম্পন্নতা দান করাও একটি উদ্দেশ্য বলে পরিগণিত। অনেক চড়াই উৎরাই পার করে বাঘা বাঘা বিতর্ক দলগুলোকে হারিয়ে একটি দল ক্রমশ প্রান্তিক পর্ব অতিক্রম করে সামনের পর্বগুলোতে অগ্রসর হয়। এক একটি পর্বে বিজয়ী হওয়া মানেই শিরোপা শ্রেষ্ঠত্বের কুসুমে এক একটি পাপড়ি দল মেলে হেসে ওঠা। আবার এই দলগুলোর কেউ কেউ যখন বিতর্কের মঞ্চে অনুপস্থিত থাকে তখন ফাঁকা আসনগুলো বিতার্কিকের দক্ষতাকে উপহাস করে। বিতার্কিকদের এই পলায়নপর মনোবৃত্তি বিতার্কিকসুলভ সৌজন্যবোধের সম্পূর্ণ উল্টোধর্মী। অথচ আগের পর্বে বিজয়ী হয়ে তারাই কর্তৃপক্ষের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছে এই বলে যে, পরবর্তী পর্বে এবং পরবর্তী ভেন্যুতে তারা যোগদান করবে। এই অনুপস্থিতি তাই বাস্তবিকই আইনসম্মত নয় মোটেও। অথচ তারা অপারগতা প্রকাশ করলে অন্য একটি দল নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেত। এই অনুপস্থিতির মাধ্যমে কেবল ওই দলটিই বঞ্চিত হলো তা' নয়, এ রকম আরো একটি দলের ভাগ্যকে বঞ্চিত করা হলো।



 



কেনো দলগুলো এগিয়ে যাওয়ার পর্যায়ে অনুপস্থিত থাকে :



 



যদি নিবিড়ভাবে চিন্তা করি তবে দেখতে পাই, অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে বিতার্কিকদের দোষ বা দায় থাকে কম। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়টা এখানে বেশি। কেননা :



১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিতর্ক দলের যাতায়াত ব্যয় বহন করে না



২. কোনো রকম নাস্তার ব্যয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন করে না



৩. দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক তার দলকে নিয়ে কোনোরকম চিন্তা-ভাবনা করেন না এবং প্রায় ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন



৪. দল নির্বাচনে নিজেরা হস্তক্ষেপ করেন এবং পছন্দের ব্যক্তিকে দলনেতা বানিয়ে দেন



৫. ক্ষেত্রবিশেষে শ্রেণী শিক্ষক বিতার্কিকদের পীড়নকথা বলেন। বিতর্কের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে ছাত্রদের পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করেন।



৬. ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির ভুল প্রয়োগ ঘটিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মনে বিতর্ক বিষয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি করেন।



৭. বিতর্কের পরবর্তী বিষয় নিয়ে বিতার্কিকদের মেন্টরিং করা হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বিরত থাকেন।



৮. বিতার্কিকবৃন্দের অভিভাবকরা একটা পর্যায়ে নিরুৎসাহ প্রদর্শন করেন। অনেকক্ষেত্রে আর বিতর্কে অংশগ্রহণ না করার চাপ দিয়ে থাকেন।



৯. দীর্ঘসময় ধরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা চলমান থাকে বিধায় বিতার্কিকরা অসুস্থতাজনিত ও ভ্রমণজনিত কারণে পরবর্তী পর্যায়ে আর অংশগ্রহণ করে না।



১০. অনেক অভিভাবক পড়াশুনার সাথে বিতর্ককে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন যার ফলস্বরূপ মাঝপথে বিতর্কে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ হয়।



যতোই আমরা আলোকিত সমাজ গঠনের কথা বলি না কেন, আমাদের মনের গভীরে এখনও অন্ধকারের হাতছানি। আমরা এখনও ধর্মান্ধতা আর অসুস্থ শিক্ষার চাপ হতে বের হয়ে আসতে পারিনি। জিপিএ-কে সোনার হরিণ ভেবে সোনার মানুষ তৈরির পথকে আমরা এখনও আপন ভাবতে শিখিনি। অথচ বিতর্কই হচ্ছে একমাত্র পথ যেখানে জ্ঞান চর্চা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে সোনার মানুষ নির্মাণের মহান ব্রতকে সফল করে তোলা যায়। যতদিন না পর্যন্ত আমাদের সবার মনের মধ্যে বিতর্কের চর্চাকে শিক্ষার অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে মেনে নেয়ার প্রবণতা তৈরি না হবে ততদিন পর্যন্ত বিতর্কের মঞ্চে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পলায়নপর মনোবৃত্তি বন্ধ হবে না। পাশাপাশি এক পক্ষীয় বিতর্কের উপহাস ঘুমে-জাগরণে আমাদের তাড়িয়ে বেড়ানোও বন্ধ হবে না। আমরা পড়ার চাপের ভীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বিতর্ক চর্চাসমৃদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং সর্বস্তরে বিতর্ক শিল্পের চর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। তবেই জ্ঞানঋদ্ধ মুক্তবুদ্ধির আধুনিক সমাজ নির্মিত হবে। নচেৎ সকলই অরণ্য রোদনমাত্র।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৫৩৫৯
পুরোন সংখ্যা