চাঁদপুর, শনিবার ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫, ১৫ রজব ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৭-সূরা মুহাম্মাদ

৩৮ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী

৩৭। তোমাদের নিকট হইতে তিনি তাহা চাহিলে ও তজ্জন্য তোমাদের উপর চাপ দিলে তোমরা তো কার্পণ্য করিবে এবং তখন তিনি তোমাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করিয়া দিবেন।

 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
হ্যাপি ডিবেট ডে!
রাসেল হাসান
২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পৃথিবীতে কত রকম দিবসইতো আছে। গোলাপ দিবস, চকলেট দিবস, টেডি দিবস, হাত ধোয়া দিবস আরো কত কী! কিন্তু বিতর্ক দিবস কি আছে? থাকলে তা কবে, কখন, কোথায় পালিত হয়? প্রশ্নটি বেশ ক'দিন ধরেই মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাচিক শিল্পীদের জন্যে, বাচিক শিল্পের জন্য কি এমন একটি দিন উদযাপনের জন্যে রাখা যেতো না যে দিনটি থাকতো শুধুই বিতর্কের! অন্তত এই দিনটিতে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই যুক্তি দিয়ে কথা বলতো। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় এক যোগে বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো। মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ডে লিখা থাকতো 'হ্যাপি ডিবেট ডে!'



বিতর্ক দিবসের ভাবনাটি আমার মাথায় একদম আসেনি। বিতর্ক দিবস নামে যে কোনো দিবস হতে পারে সে ভাবনাটিও মাথায় আসেনি কখনও। খুদে তিন বিতার্কিকের দিবসটি উদ্যাপন করা দেখে বিস্মিত হই! দিনটি ছিলো ৩ মার্চ রোববার। একাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রাথমিকের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল পর্ব। বিতর্ক শুরুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট উত্তেজনা ছিলো সদর উপজেলার সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালকে ঘিরে। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন দল উত্তর শ্রীরামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মুখোমুখি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাবুরহাট শাখা এবং গত বছরের রানার্স আপ দল চাঁদপুর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেনের মুখোমুখি হয় মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগ। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্কের সেমি-ফাইনালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনালের যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় চ্যাম্পিয়নরা। ২য় সেমি-ফাইনালে রানার্স-আপ দল রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন হারায় শক্তিশালী মাতৃপীঠ সরকারি স্কুলকে। ফাইনালে যখন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন তখন উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে গুঞ্জন চলছিলো ঘন্টাখনেক পর শুরু হওয়া প্রাথমিক ফাইনালে কে হবে চ্যাম্পিয়ন? আন্তঃউপজেলার শীর্ষ আটের লড়াইয়ে টিকে থাকবে কোন্ দল? ড্যাফোডিল নাকি রেলওয়ে? এমন প্রশ্নের চেয়েও বড় প্রশ্ন-দুই দলপ্রধানের মধ্যে শেষ হাসি হাসবে কে? রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেনের ওয়ারিয়া, নাকি ড্যাফোডিলের সামিহা? শেষ পর্যন্ত সেদিনকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিতর্কে প্রথমবারের মত বিতর্কের কোনো ফরমেটে চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পায় বাবুরহাট ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। অসাধারণ বক্তব্যের জন্যে শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় দলপ্রধান সামিহা রহমান।



বিতর্ক শেষ। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলকে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সনদ বিতরণও শেষ। অনুষ্ঠান সঞ্চালক সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের ইতি টেনেছেন বহু পূর্বে। ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা! সব বিতর্ক দল রোটারী ভবন ছেড়ে গেলেও ছেড়ে যায়নি সদর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন দল বাবুরহাট ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। কৌতূহল নিয়েই তাদের দেখতে রোটারী ভবনে প্রবেশ করলাম। গিয়ে দেখলাম দলটি তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষকের সাথে পর্যায়ক্রমে ছবি তোলায় ব্যস্ত। চ্যাম্পিয়ন ক্রেস্ট সকল ছবির কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষকদের হাসিমাখা মুখ, খুদে বিতার্কিকদের উচ্ছ্বাস দেখে দূর থেকে সুখানুভূতি অনুভব করলাম।



মিনিট দশেক পর বিতর্ক দলটি রোটারী ভবন মিলনায়তন থেকে বের হলো। বিতার্কিকরা তখনও নাচছে। বিতর্ক নিয়ে কাজ করেন বা করছেন এমন যাকে সামনে পাচ্ছেন তাকেই ধন্যবাদ জানিয়ে দোয়া চাচ্ছেন। কিছু সময় পর দৌড়ে গিয়ে রোটারী ভবন চত্বরের সামনের পশ্চিম পাশের বেষ্টনী দেয়া ফুল গাছের ছোট্ট বাগানটিতে তারা প্রবেশ করলো। তিন বিতার্কিক আনন্দে ঘাসের উপর শুয়ে পড়লো। স্কুলের সকল শিক্ষক তাদের আনন্দ উপভোগ করছেন। কেউ একজন ছবি তুলছেন। এবার মৃদু অন্ধকারে তাদের নজর কাড়লো সাদা কিছু ঘাসফুল। ধবধবে সাদা, আকারে ছোট কিন্তু দৃষ্টিনন্দন কতগুলো ঘাসফুল হাতে নিয়ে বাগান থেকে বেরিয়ে আসলো বিতার্কিকরা। সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই ছোট্ট একটি ফুল ধরিয়ে দিয়ে বলছে, 'হ্যাপি ডিবেট ডে স্যার', 'হ্যাপি ডিবেট ডে স্যার'। শিক্ষক ও বিতর্ক অনুরাগীগণ খুদে বিতার্কিকদের ফুল গ্রহণ করছেন আর তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিতার্কিকরা কারো কারো পা ছুঁয়ে সালামও করছে।



আগামীদিনের অপার সম্ভাবনাময় বিতার্কিক দলপ্রধান সামিহা রহমানের আনন্দের মাত্রা যেন সবাইকে ছাড়িয়ে। দূর থেকে দৃশ্যটি দেখে নিজের ভালোলাগা থেকেই সামিহা রহমানকে প্রশ্ন করলাম, আজতো বিতর্ক দিবস নয়। বিতর্কের জন্যে আলাদা কোনো দিবসও নেই। তবে তুমি বিতর্ক দিবস পালন করছো কেন? প্রতিউত্তরে সামিহা জানালো, বিতর্ক দিবস থাকুক আর না থাকুক আমাদের জন্যে আজকেই বিতর্ক দিবস। আজকে আমাদের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এত বেশি আনন্দের, যা বলে বুঝাতে পারবো না। কথা শেষ না করতেই দূর থেকে স্কুলের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বাড়ি ফেরার তাড়া দিলেন। সামিহা ও তার দল সালাম দিয়ে বিদায় নিচ্ছিলো। যাওয়ার সময় হাতের অবশিষ্ট সাদা ফুলগুলো আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, এই নিন এই সবগুলো ফুল আপনার। হ্যাপি ডিবেট ডে!



রোটারী ভবনের সীমানা পেরিয়ে চাঁদপুর পৌর পাঠাগারের সীমানা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে যাচ্ছিলো ওরা তিন বিতার্কিক। যাওয়ার সময় লক্ষ্য করলাম দলপ্রধান সামিহা রহমান দৌড়াচ্ছে আর নাচছে। পেছনে তার দলের দুই বিতার্কিকও। এমন সময় ভেসে আসলো ওদের কচি কণ্ঠের একটি গান..... 'আহা কী আনন্দ, আকাশে বাতাসে...'।



জানি না বিতর্ক দিবস নামের কোনো দিবসের যাত্রা শুরু হবে কিনা। তবে প্রাথমিকের সদর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে ছোট্ট বিতার্কিকরা শুভ্র ফুল বিনিময়ের মাধ্যমে যে দিনটিকে ছোট্ট পরিসরে হলেও 'হ্যাপি ডিবেট ডে' নামে উদযাপন করলো সে দিনটি নিঃসন্দেহে ইতিহাস হয়ে থাকবে। তাই সামিহাদের বাঁধ ভাঙা উল্লাসের দিনটির সাথে সংহতি প্রকাশ করে দেশের লাখো বিতর্কপ্রেমীদের বলছি 'হ্যাপি ডিবেট ডে'।



 



লেখক : উপাধ্যক্ষ, চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৩৯০৩
পুরোন সংখ্যা